সেলিনা জাহান প্রিয়া
গল্প কবিতা আর আমার ভাল লাগা সময়ের কথা
Wednesday, February 22, 2017
গল্প।। অরন্যের নীলাচল
নীলা চলে পাহাড়ের উঁচু আর সরু আর আঁকাবাঁকা পথ ধরে অরন্য হাটছিল। আজ এত কঠিন দিন গেল তার । মানুষের জিবনে শুধু পরীক্ষা আর পরীক্ষা । আজ একটা পরীক্ষা ছিল তার অরন্য যাকে ভাল বাসে সে পরীক্ষা নিতে চায় যে কতটা ভালবাসে অরন্য তাকে তাই পরীক্ষা দিতে হবে । , সারা রাত জেগে ভালবাসার কি কি পরীক্ষা এই পর্যন্ত প্রেমিক রা দিয়েছে তাই গুগলে দেখতে দেখতে একেবারেই ক্লান্ত সে। তাই বান্দরবান স্বর্ণ মন্দির থেকে সে হাঁটছে । বান্দর বান শহর হয়ে নীলাচলে আসবে হেঁটে । একটা মাহেন্দ্র গাড়ি করে তার প্রিয় ভালবাসার মানুষ নীলা চলে অপেক্ষা করছে । হাঁটার গতি কিছু টা স্থির। মাথার ওপর রোদ আছে বেশ। একজন কে বলল ভাই কোন চায়ের দোকান হবে । পাহারি ছেলে বলল আর মিনিট পাঁচেক পর চা এর দোকান। মনে মনে একবার ভাবে সেখানে বিশ্রাম নিয়ে নেবে কি না ? কিন্তু তাকে ঠিক টাইমে পৌছাতে হবে । অরন্যের হাতে কোন ঘড়ী নেই । রাস্তার এমন দূরঅবস্থা যে কোন দিন পাহাড়ি রাস্তায় হাটে নাই সে বুঝবে না। একটা উছু পাহাড়ের কি করে যে গাড়ি গুলো উঠে অরন্য তাই চেয়ে চেয়ে দেখে । তার কোন গাড়িতে উঠা চলবে না
। কোন গাড়ী করে যে যাবে সে তার সাথে ছলনা করা হবে ।অরণ্য হাটতে লাগল। হঠাৎ, বাঁ দিকে তাকিয়ে পাহাড়ের নিচে সে কিছুটা অবাক হল । আরে নীলার সেই স্কাফ টা । আরে এত নিচে পরে গেল কিভাবে ? কত বার নীলা কে বলেছি, নীলা খুব বাতাস স্কাফ টা ভাল করে বাধো । ভাগ্য ভাল যে আমার চোখে পড়েছে । কিন্তু এত নিচে নামি কি করে ? অরণ্যের দেখল বেশ খানিক দূর এক অদ্ভুত আকৃতির মায়া নিয়ে মাটিতে পড়ে আছে স্কাফ টা । কখন এসে পড়লো এটা, কিছুই জানে না হয়ত পাগলী মেয়েটা । কিছু বুঝতেই পারে নি সে হয়ত । অরণ্য খুব ধীর গতিতে পাহাড়ে নিচে নামছে । কিছু গাড়িতে অনেক পর্যটক হু হু শব্দ করে যাচ্ছে । অরণ্যের কোন ভয় নেই । গাছের শিকড় ধরে ধরে ঠিকেই নেমে গেল পাহাড়ের নিচে । যদি কোন কারনে সে এই খানে মারা যায় হয়ত তার লাশ কেউ খুঁজে পাবে না। ঝোপঝার আর পাহাড়ি গাছ । শীত কাল বলে পাহাড়ের মাটি খুব শক্ত । স্কাফ টা হাতে নিল । কিন্তু অবাক হয়ে দেখে স্কাফের পাশেই
কি না কি এক জিনিস, !! ভাল করে দেখল কোন মহিলার হাত বেগ ।। কারই বা এটা, কিছুই তো জানে না সে । বিনা কারনে অন্যের কিছু দেখা ঠিক না । আবার কোন বিপদ হয় । আর না ভেবে সামনে না আগানোই ভাল। পাশ কাটিয়ে সামনে গেলেই হবে। এক পা দুই পা সামনে দিয়ে এগোতেই অরণ্য লক্ষ্য করলো, এই অদ্ভুত আকৃতি মায়া থেকে কোনভাবেই সে পাশ কাটাতে পারছে না। ব্যাগটা যেন তাকেই ডাকছে ।
কিছুটা আশ্চর্য হল অরণ্য কারো কোন জিনিসের প্রতি তার তো কোন লোভ নেই ! আচ্ছা যারেই হউক তাকে ফিরিয়ে দিব যদি ঠিকানা থাকে আর ঠিকানা না থাকলে থানায় জমা দিব ।। আমি তো আর চুরি করি নাই ।। দেখে মনে হচ্চে, ব্যাগটা যেন মাটিতে শুয়ে আছে। অরণ্য আরো একটু অবাক হল। আশে পাশে তাকিয়ে দেখল, কেউ আছে কি না, দেখার চেষ্টা করছে কি না তাকে । নাহ ! কেউ কে তো দেখলো না।
হাত দিয়ে ছুঁয়ে দেখল ব্যাগটা । বাহ সুন্দর ।। মহিলার চয়েস আছে । কিছুটা ঘাবড়ে গেল আশে পাশে এখন না হয় কেউ নেই, কিন্তু আর কিছু পথ পরে তো জনকোলাহল এর মাঝেই যাবে সে। তখন মানুশ এই লেডীস ব্যাগ দেখলে কি ভাববে !! আকৃতি তার সাথে দেখলে কি হবে, কি ভাববে ! কি জবাব দেবে সে সবাই কে। মহা মুশকিল এ পড়া গেলো তো !
অরণ্য পাহাড়ের নীচ হতে ধীর গতিতে উপরে আসতে লাগলো স্কাফ টা পকেটে নিল আর ব্যাগটা হাতে ...
২
অরণ্য পাহাড়ির এক বালিকার চায়ের দোকানে এসে বসলো । মেয়েটা দোকানের পেছনে কিছু একটা ধোয়ার কাজ করছেন।অরণ্য চিন্তিত ভঙ্গিতে, মাটির দিকে তাকিয়ে আছে।
পাহাড়ি মেয়ে বলল দাদা কিছু লাগবে ।।
--- একটু পানি দাও তো ?
---- বোতলের পানি দেব না কি আমাদের ঝর্নার পানি দিব ।
----- দাও তোমাদের ঝর্নার পানি ?
পাহাড়ি মারমা মেয়ে বাঁশের একটা গ্লাসে পানি দিল । অরণ্য বলল চা দাও । পাহাড়ি মেয়ে বলল দাদা কিসে দিব বাঁশের মগে না কি চিনামাটির কাপে । অরণ্য বলল দিবেই যখন তাহলে বাঁশের মগেই দাও । অরণ্য খুবেই অবাক হল । বাঁশের মগে চা তো দারুন মজা । অরণ্য মেয়েটির দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে, মাটির দিকে তাকালো । পাহাড়ি মারমা মেয়েটা বলল দাদা এটা কি বউ দিদির ব্যাগ । খুব সুন্দর কিন্তু ।
অরণ্য বলল না আমার বন্ধুর । চা শেষ করে দাম দিয়ে অরণ্য আবার হাঁটতে লাগলো । সারা রাত ইন্টার নেটে পরিশ্রম করাতে, সত্তিই বেশ ক্লান্ত। আবার শুরু করলো সেই হাটা । চার পাশ বেশ সুন্দর আর মাত্র চার কিলোমিটার পথ । পাহাড়ে উচু রাস্তা আর হেঁটে চলা এক বিরাট কষ্ট । নীলা কে আমি অবাক করে দিব । নীলা হয়ত আমাকে বলবে আমি চান্দের গাড়িতে করে আসেছি । আমার মা আমাকে আদর করে বড় করেছে । আমি পরিশ্রম করতে জানি না। কিন্তু ব্যাগের কথা কি বলব ??? জাই হউক এটা রাস্তায় পেয়েছি বলা যাবে না ।। বলব এটা রহস্য ঢাকা গিয়ে বলব । নীলা চলে সূর্য ডুবা দেখতে নাকি খুব ভাল লাগে । শীত শেষ হয়েছে কিন্তু পাহাড়ের গাছে শীতের পাতা ঝরার শব্দ রয়ে গেছে । চার দিক শুধু পাহার আর পাহার অনেক দূরে দূরে কিছু পাহাড়ি গ্রাম । পাহাড়ের উপরে কিছু ঘর । অরণ্য হেঁটে যাচ্ছে আর তার পা গুলো যেন ক্লান্ত হয়ে আসছে ।।
৩
নীলা দারিয়ে আছে নীলাচলের শেষ পাহাড়ের উপর সিঁড়িতে । নীলার সাথে কায়েস জিম কেয়া । সবাই এক সাথে হা হা হা করে হেসে উঠলো ।
অরণ্য বলল হাসির কারন কি ? আমি একটু দম নিয়ে নেই তার পর শুনি । কেয়া বলল থাক আর অভিনয় করতে হবে না। আমারা দূরবীন দিয়ে বার বার দেখছি কিন্তু তোমাকে একবার ও দেখি নাই । অরণ্য বলল দূরবীন ধরা আগে শিখে নাও । আমাকে কি তোমাদের সন্দেহ হচ্ছে যে আমি ঐ স্বর্ণ মন্দির থেকে হেঁটে আসি নাই , জিম বলল দেখ তুমি টাইম মতো আসতে পার নাই । তিন ঘণ্টা লাগিয়েছ । নীলাচলে আমরা বসতে বসতে নীলাচল দেখার সাধ মিটে গেছে । এবার কিছু খেতে হবে । নীলা বলল আসার পথে কোন খাবার হোটেল দেখেছ । অরণ্য বলল হ্যা দেখেছি ফানুস নামে একটা তবে ভাত পাওয়া যায় কি না জানি না ? নতুন হয়েছে । নীলা বলল সবাই গাড়িতে উঠ । অরণ্য বলল আমি তো নীলা চল কিছুই দেখি নাই । নীলা বলল দেখতে হবে না আমরা ছবি তুলেছি তুমি দেখে নিও । সব কিছুইতেই তুমি অলস তমার মা আদর দিয়ে দিয়ে একে বারে অকর্মা করেছে ।। আমার বাকি জীবনে যে কি আছে কে জানে । অরণ্যের মনটা খারাপ হয়ে গেল । মাহেন্দ্র গাড়িতে উঠে বসলো । এবার নীলা বলতে লাগলো গাড়িতে উঠে আমার মনটা কিন্তু খুবেই খারাপ অরণ্য ।
---- কেন নীলা ।
----- আর বল না ? গাড়ি পাহাড়ের ঢাল থেকে উঠার সময় আমার স্কাফ টা বাতাসে উড়িয়ে নিয়ে গেল । কিন্তু কেউ এত নিচুতে যেতে সাহস পায় নাই । সে কি ঢালু পাহাড় । ---- অরণ্য এখন কি হবে ?
------ কি আর হবে তুমি আর একটা কিনে দিবে !
------ কিন্তু ঐ রকম কি আর পাওয়া যাবে নীলা বল ? আমি কত কষ্ট করে মামাকে দিয়ে কাশ্মীরী স্কাফ তোমার জন্য আনিয়েছি ।
------- আমার তো আর কাজ নেই তোমার সেই স্কাফ আনতে গিয়ে জিবন হারাই ।
-------- ভালই করেছ না এনে । তোমার জিবন চলে যায় এমন কোন কাজ করা ঠিক না।
কেয়া একটু রাগের মাথায় বলল আমি কোন দিন আর নীলা আর অরণ্যের সাথে কোথাও আসব না । পেটের খিদে জিবন যায় তারা আছে স্কাফ নিয়ে । ফানুস আর কত দূর । জিম বলে ঐ তো দেখা যায় । কায়েস বলল আরে অরণ্য তোর হাতে এই লেডীস ব্যাগ কেন ? এটা তো নীলার না। নীলা বলল এটা কি আমার জন্য নিয়েছ অরণ্য ।
অরণ্য বলল না এটা তোমার জন্য না।
----- তাহলে এই ব্যাগ কার জন্য ? পিলিস এটা আমাকে দাও দেখি ?
------ না এটা দেয়া যাবে না। আর কার ব্যাগ বলা যাবে না।
------- অরণ্য কাজটা কি ঠিক ?
------ নীলা দেখ আমাকে আর বোকা বানিয়ে লাভ নেই । সেই রাত থেকে সবাই মিলে প্ল্যান করে আমাকে বোকা বানাচ্ছো ।
সবাই এক সাথে হাসি দিয়ে জিম বলল এটা কায়েসের প্ল্যান । কেয়া আর কায়েস মিলে করেছে । অরণ্য বলল উপর ওয়ালা যায় করে ভালোর জন্য করে ।।
নীলা একটু অবাক হয়ে বলল দেখ অরণ্য তুমি আসলেই বোকা । আমরা বান্দর বান এসেছে সবাই মিলে মজা করতে আর তুমি হ্লে সেই মজার একমাত্র মধ্য মনি । তুমি আমাকে ভালবেসে সেই স্বর্ণ মন্দির হতে হেঁটে এই নীলাচল পাহাড়ে এসেছ । আর সারা রাত নেটে পড়েছ কে কি করেছে কার জন্য ভালবেসে !! দেখ এটা আধুনিক যুগ লাইলি মজনুর যুগ না। একটু সিরিয়াস হও । এত অবেগ ভাল না ।।
সবাই খাবার নিয়ে যে যার খেয়ে যাচ্ছে । কায়েস একটু হেসেই বলল অরণ্য তুই সেই আগের মতো বোকাই আছিস । নীলা কিন্তু তকে পছন্দ করে কিন্তু নীলা তুই যেই ভাবে ভালবাসিস নীলা কি তকে সেই ভাবে ভালবাসে কিনা একবার নীলার পরীক্ষা নেয়া দরকার ? সবাই কি বলিস ? নীলা একটু হেসে বলে মানুষ কে বোকা বানাতে তোর ভাল লাগে আমার না। আমি প্রেম ভালবাসার কোন পরীক্ষা দিতে পারব না । কপালে মজনুই থাক আর অরন্যেই থাক আমি আগে আমার । কারো জন্য ম্রতে পারব না।
কায়েস বলল আচ্ছা দেখি কে কার জন্য মরে । অরণ্য যদি অন্য কোন মেয়ের প্রেমে পরে যায় তখন তোর কেমন লাগবে ? নীলা বলল দেখ এই নীলাচল আর ঐ দূরে নীলগিরি সব খানেই অরণ্য আছে । অরণ্য ছাড়া নীলা আর নীলগিরির কোন মুল্য নেই তবে হয়ত অরণ্য কাউকে একটু বেশি বৃষ্টি ঝরাবে ? আমি জানি না কায়েস প্রেম কি ? তবে যারা কবি তারা ই প্রেমের উপমা দিয়ে গেছে । প্রেম হল দুরের মিতালী কাছে আসলেই প্রেম আরও দূরে ।। অরণ্য একটু হেসে বলল আসলেই তো নীলা আমি কি তোমাকে ভালবাসি ? একবার নতুন করে ভাবতে হবে ।
জিম বলল যাই ভাব নিল গিরি গিয়ে কাল ভাববে । আকাশে দেখ মেঘ করেছে । কেয়া একটু হেসে এবার বলল মেঘ হয়ত কোন পর্যটককে বৃষ্টি দিয়ে বোকা বানাতে চায় ।।
অরণ্যের ফোন বেজে উঠলো । বাংলালিংক বান্দর বানে খুবেই খারাপ অবস্থা । অরণ্য হ্যালো বলতেই ওপাশ থেকে তোর কোন বিবেক হবে না কোন দিন ।
------ সরি মা । বান্দর বানে বাংলা লিংক নেট ওয়ার্ক খুবেই.........।
------ তা অন্য বন্ধুদের তো অন্য ফোন আছে ।
-------সরি মা ভুল হয়ে গেছে ।
-------- ভুল তো হবেই । নীলা সাথে থাকলে এখনি মায়ের কথা ভুলে যাস আর বিয়ের পরে তো মনে হয় আমি যে মা আছি এটা মনেই থাকবে না।
------- তা ফোন কি এই জন্য করেছ ।
------ না বাবা ফোন করেছি নীলার মা বাথ রুমে পরে গিয়ে পা মচকে গেছে ।
------ অহ তাই ভাল হয়েছে
------ ভাল হয়েছে মানে ? তুই কি নীলার সাথে ঝগড়া করেছিস ।
-------- না মা। একটু তাড়াতাড়ি আসতে পাড়ব । তাহলে আর কালকে নীলগিরি যাওয়া লাগবে না। তুমি একটু নীলার সাথে কথা বল আমি ওকে ফোনটা দিচ্ছি ।
নীলা মায়ের কথা শুনে বলল আমারা এখনি যাব । তোরা আসতে ধিরে আয় । আমার মায়ের পা মনে হয় ভেঙে গেছে । আমি কান্না ক্রব বলে মা মিথ্যা বলছে আরন্য ঢাকার গাড়ি কয়টায় । অরণ্য বলল ফোন করে জেনে নেই । রাতেই অরণ্য রওনা দিল নীলা কে নিয়ে । সেই লেডীস ব্যাগটা আর খুলে দেখা হল না ।। নীলা বাসে ঘুমাচ্ছে চিন্তা মুক্ত একটা নারী । অরণ্য পকেট থেকে স্কাফ টা বের করে নীলার অজান্তে তার হাত ব্যাগের পকেটে রেখে দিল ।
৪
বৃষ্টির ছাঁটে জানালার পাশে থাকা টেবিলের বই পত্র সব ভিজে যাচ্ছে। অরণ্যের মা সানু বেগম , পাশের ঘর থেকে এসে জানালা আটকালো। অরণ্য শুয়ে আছে বিছানায় বাইরের দিকে তাকিয়ে। মা কখন এসে জানালা আটকে দিয়েছে, সেটা খেয়ালই করল না। অরণ্যের পাশে গিয়ে বসলেন ,ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন,
- কি রে ! হয়েছে কি তোর ? বাড়ী ফিরে তো কোন খাবার মুখেই নিলি না, সারা রাত জেগেছিস, কিন্তু ঘুম এর তো কোন নামিই নেই তোর চোখে। বৃষ্টির পানি তে সমস্ত ঘর ভিজে যাচ্ছে তাও তোড় হুশ নেই। কি রে ...এই অরণ্য !!
- জী,মা।
- কি হয়েছে তোর ?
-কিছুই তো না, মা।
-আমার কাছে লুকোচ্ছিস ?
-না, মা। তেমন কিছু না।
অরণ্যের মা উঠে দাঁড়ালেন ।
- ঠিক আছে। একটু ঘুমিয়ে নে। এই দেখ, আবার রোদ হয়ে গেলো।
অরণ্য উঠে বসলে, খেয়াল করলো। ঘরের তার টেবিলে সেই ব্যাগটা । অরণ্যনমা বলে ডাকতেই করতেই সানু বেগম ফিরে তাকালেন।
- কি রে অরণ্য, কি হল !
-মা !! ওই দেখো ঐ ব্যাগটা ।
- কার ব্যাগ ওটা নীলার ?
- না মা !! নীলার না । আর এখনো দেখি নাই । পাহাড়ের ঢালে পেয়েছি ।
- কি বলিস দেখি ? ঐ খানে কাউকে বলিস নাই ।
- মা ঐ পাহাড়ি এলাকার মানুষ জন খুবেই কম । কাকে বলি ।
- আচ্ছা ভালই করেছিস । মেয়েদের ব্যাগ ছেলেদের দেখতে নাই ।
- মা মেয়েদের ব্যাগে কি ভুত থাকে
ছেলের কথা শুনে সানু বেগম হাসলেন ।
-বোকা ছেলে বলে কি দেখো।তিনি আবার হাসলেন ।
- মা, তুমি হাসছো ! আর আমি এই ব্যাগ নিয়ে খুবেই চিন্তায় আছি ?
- হ্যা, হাসছি। মেয়েদের ব্যাগে ভুত থাকে শুনে । অরণ্য বাবা একটু বড় হতে হবে । তুই এখনো সেও ছোট আছিস ।
-- মা একটা কথা বলবে ।
---কি কথা বল শুনি ?
-- মা আমি নীলার উপযুক্ত ছেলে না। মা নীলা আমাকে সব সময় অলস আর বোকা ভাবে । আমাকে হয়ত আমার বাবার অর্থনীতিক ভাল অবস্থার জন্য পছন্দ করে । ব্যক্তি অরণ্য তার কাছে মুল্য হীন মনে হল । মা আমার দেয়া স্কাফ টা সে পাহাড়ে হারালো কিন্তু বিন্দু মাত্র তার জন্য তার মন খারাপ না ।
- ভয় পাস না। জানিস মজার বিষয় । সময়ের সাথে সব পালটায়। অনেক কিছু চলেও যায়। এবার অনেক কিছু চলে আসে । এটা জিবনের একটা নিয়ম । বাবা অরণ্য হয়ত তোমার নীলা কে ভাল লাগে কিন্তু আসলে কি ভালবাস কি না একবার মন কে প্রশ্ন ক্র ? মনের পরীক্ষা নাও । তুমি আসার পর সে কিন্তু তোমার কোন খবর নেয় নাই । তার মায়ের কি অবস্থা টা জানাই নাই ।। বাবা অরণ্য ভালবাসা হল মানুষের সাথে মানুষের ছায়ার মতো । আলতে গেলেই ভালবাসা ছায়া চোখে পড়বে ।
কিন্তু, ছায়া হল এমন এক সঙ্গী , যে কিন্তু কখনো তোকে ছেড়ে যাবে না। জীবনের প্রতি পদে পদে তোর সাথে থাকবে। তুই যদি কখন একা একা চলিস, তোর ছায়া তোকে সঙ্গ দিবে। তোর বন্ধু হবে।
এমন এক বন্ধু যার সাথে তুই চাইলেও সম্পর্ক ছিন্ন করতে পারবি না ।
অরণ্য মৃদু হাসলো ।
মেঝের দিকে তাকিয়ে, অরণ্য দেখল, সত্যি তো। এই যে অদ্ভুত আকৃতি , এটা তো অর নিজেরই প্রতিচ্ছবি। অরণ্য হাত নাড়ালো, সাথে সাথে ছায়ার আকৃতি পাল্টে গেলো। অরণ্যের এক রকমের আনন্দ হতে লাগলও।
।এতদিন কেন সে খেয়াল করলো তার নিজেকে এভাবে। সত্যি, এ এক নতুন ধরনের আত্মপোলব্ধি। যা তার মা তাকে শিখিয়েছে ।।
৫
অরণ্যের মা সেই লেডীসব্যাগ টা খুলে অবাক । তাতে অনেক গুলো টাকা এক হাজার টাকা নোটের পাঁচ টা ব্যান্ডেল ।। অরণ্য বলল মা আমি কিন্তু পাহাড়ে খুলে দেখি নাই । আর দেখলে আমি এই টাকা আনতাম না।
সানু বেগম টাকা আর একটা চিঠি পেল । তাতে লিখা তুমি টাকা বিশ্বাস কর কিন্তু আমাকে না। তাই এই টাকা আমি তোমাকে দিব না যদি কোন বিশ্বাসী পায় তাহলে টাকা ঠিক আমার কাছে চলে আসবে ।।
অরণ্য বলল মা কোন ঠিকানা আছে ?
--- আগে দেখি
--- দেখ তো ?
--- না কিছুই নাই চিরুনি , আয়না কসমেটিক আর টাকা ।
---- তবু মা একটা লিস্ট করে ফেল ।
---- আমি ফেইস বুকে একটা স্ট্যাটাস দেই ছবি সহ । ব্যাগে কি কি ছিল সব সঠিক বলতে পারলে তাকে ফেরত দেয়া হবে ।।
---- থানায় দিলে কেমন হয় অরণ্য ।
--- মা পুলিশের কি এত সময় আছে ব্যাগের মালিক খুঁজে বের করার । দেখি কিছু দিন
তার পর না হয় পুলিশে দিয়ে দিব
---- ঠিক আছে বাবা তাই কর ।
মায়ের দিকে চেয়ে অরণ্য অবাক হচ্ছে । আজ প্রথম মা তাকে সত্য কথা খুব সহজ ভাবে বলেছে কিন্তু মায়ের কোন কথা আজ অরণ্য রাগ করে নাই ।।
পড়ার টেবিলে বসে জনালা টা খুলে দিল । বিকালের আকাশ বেশ সচ্ছ । এমন সময় হালকা বৃষ্টি এর আগে কবে দেখেছে ঠিক মনে নেই । ফেব্রুয়ারী মাস শেষ প্রায় । আজ কাল আবহাওয়া আর মানুষের মন এই ভাবেই বদলে যাচ্ছে ।
ফেইস বুকে একটা ব্যাগের ছবি সহ একটা স্ট্যাটাস দিল ।। তাতে লিখেছে আমি এক বিশ্বাসী হতে চাই এটা ফিরিয়ে দিয়ে । তুমি যদি বিশ্বাসী হও খুঁজে নাও তোমার টাকা আর ব্যাগ । আমি অরণ্য ফিরিয়ে দিতে চাই বিশ্বাস ।।
এই ব্যাগটা যার হারিয়েছে উপযুক্ত প্রমান দিয়ে বিশ্বাস নেন আপন করে ।।
আর বন্ধুরা সবাই শেয়ার করুন মুল মালিক কে ব্যাগটা পেতে ।।
স্ট্যাটাস দেয়া শেষ করে মাকে বলল একটু চা হবে কি ?
অরণ্যের মা বলল বাবা অরণ্য চা পাতা শেষ আনতে হবে । বাতেন বাসায় নাই তুমি যদি আনো চা হবে । অরণ্য হেসে বলে মায়ের কাজ তো বেহেশতের সমান ।
চাপাতা কিনে দোকান দার কে টাকা দিতেই নীলার ফোন । নীলা বলে চলছে ও তাহলে এই কথা ব্যাগ তুমি বান্দর বান পেয়েছ । তা এত রাস্তা আসলাম একবার বললেও তো না। যে এটা তুমি রাস্তায় পেয়েছ । আজকাল তোমার রাস্তার জিনিস খুব পছন্দ ।
আরে আমার কথা শুন নীলা । না তোমার কোন কথা শুনব না। আমাকে আর ফোন দিবে না। ঐ ব্যাগ ওয়ালীর কাছে বিশ্বাসী হও । আমার কাছে না। আমাকে ব্যাগ টা দিলে কি তোমার রামায়ণ নষ্ট হয়ে যেত । কায়েস ঠিক বলে যেই সকল ছেলে বাপের টাকায় জিবনের সবপ্ন দেখে তারা তোমার মত হয় ।। এটা কেউ ফেইস বুকে দেয় ।। ছিঃ মানুষ কি বলবে ? যে তুমি রাস্তার বেগ কুড়িয়ে ফেইস বুকে দিয়ে সততা দেখাচ্ছ । এসব সস্থা আবেগের কোন মুল্য নেই ।। বলে ফোন কেটে দেয় । অরণ্য একা একা একটু হেসে বলে যাই হউক কেউ কষ্ট পেলে যে ভাল লাগে আজ প্রথম জানলাম ।।
৬
বারান্দায় এসে দাঁড়াতেই মাথার উপর কড়া রোদ এর উপস্থিতি টের পেলো। হঠাৎ মনে এক রকম আনন্দের বেগ পেল। আনন্দে উচ্ছসিত হয়ে ফোনের স্কিনে তাকালো অরণ্য ।। একটা ম্যাসেজ আসছে নীলিমা নামে । ম্যাসেজ অন করতেই অরণ্য অবাক
হয়ে পড়ছে । ব্যাগে কি কি আছে এবং কি লিখা ছিল তাও লিখা আছে । শেষ কথা হল কেউ তো আমার বিশ্বাস নিয়ে নতুন করে কোন জাল ফেলছে না। আমি এই ব্যাগটা কোথায় পেলেন টা কিন্তু লিখেন নাই । আর আমি যা বর্ণনা দিলাম তাই আমার ব্যাগেছিল । যদি ও আপনার ব্যাগের সাথে হবু হবু মিল । আর আমার চ্যাট করতে ভাল লাগে না। সব কিছু ঠিক থাকলে আমাকে ফোন করুন । তবে ঐ ব্যাগের সব কিছু যদি মিলে যায় তবু আমি ঐ ব্যাগ চাই না। তবে ব্যাগের মানুষটা কে সামনে থেকে একটু দেখতে চাই । আমার ফোন নাম্বার এই ---------
অরণ্য মা বলে একটা চিৎকার দিল ।
--- কি রে আজ এবার কি হল ?
---- মা গুড নিউজ , ব্যাগের মেয়েকে পাওয়া গেছে । সে যা যা লিখেছে তোমার দেয়া
লিস্ট মতে সব ঠিক আছে । ফোন নাম্বার দেয়া কল করব কি ??
---- কি নাম মেয়েটার
---- নীলিমা নাম !!
----- আমার নীলা ?
----- মা নীলা না নীলিমা
----- একেই কথা ।
----- মা সে ব্যাগ আর টাকা চায় না। কোথায় ব্যাগ পেলাম আর আমার সাথে একবার দেখা করতে চায় ।।
------ না টা কি হয় বুঝিয়ে ব্যাগটা দিয়ে আসতে হবে । আর কোথায় পেয়েছিস বলে দে ।
------ ঠিক আছে মা বলছি ।।
মেয়েটার ফেইস বুক ভাল করে দেখলো । বা অপূর্ব একটা মেয়ে । কিন্তু মেয়েটির বাড়ি বিক্রমপুর । এখন থাকে গাজিপুর । আরও ভাল করে জানলো । কিছু লাইক কমেন্ট করলো ।
মেয়েটা এবার লিখল আমার উত্তর পেলাম না।
অরণ্যের প্রোফাইল মেয়েটা ভাল করে দেখল । বনো নিবাস রিসোরটের ছবি দেখে বলে আরে আমি তো এই বননিবাসে উঠেছিলাম । খুবেই সুন্দর রিসোর্ট । একটা খরগোশ আছে আর হাসনা হেনা গাছে ফুল ছিল । আমাকে মুগদ্ধ করেছে জাম্বুরার ফুলের গন্ধে ।
অরণ্য বলল ঠিক বলেছেন আমাকেও মুগ্ধ করেছে । আমি কি আজ রাতে ফোন দিতে পারি । মেয়েটি বলল তার জন্য কোন অনুমতির দরকার নাই ।।
নীলিমা ফোনের অপেক্ষা করছে । অরণ্য হাতের কাছে ব্যাগটা নিল । রাত ১২ টা এক মিনিট । হ্যালো আমি অরণ্য বলছি ।
--- নীলিমা বলল তাহলে নীলিমা অরণ্যের বনে ?
--- বনে থেকে তো মনে হয় মনে চলে এসেছেন ।
---- আমার বিশ্বাস হচ্ছে না যে আপনি ব্যাগটা কি করে পেলেন ।।
---- কি করে পেলাম শুনতে চান ? আমার খুব প্রিয় একটা রঙ জাফ্রানি । সেই রঙের স্কাফ আমি কাউকে দিব বলে সেই কাস্মির থেকে আনিয়েছি । কিন্তু যার জন্য আনলাম সে তার মুল্য দিল না । সে পাহাড়ের বাতাসে ছেরে দিল । আমার ভালবাসার কোন মুল্য নেই তার কাছে । আমার মা বুঝিয়ে দিল ভালবাসা আর বন্ধুত্ব এক না । এক সময় আমি সেই স্কাফ খুঁজে পাই নীলাচলের পাহাড়ের ঢালে । অনেক কষ্ট করে জিবন বাজি রেখে আমি সেই স্কাফ উদ্ধার করি । সেই ঢালে এই স্কাফের সাথে আপনার লেডীস ব্যাগটা পাই । কি ছিল তখন দেখি নেই ? বাড়ি ফিরে মাকে দিলে মা প্রথম দেখে এত গুলো টাকা আর একটা চিঠি ।
----- বলেন কি আপনি সেই পাহাড়ি ঢালে নেমেছেন ? মা গো বলেন কি ? আমার তো শুনেই গা শিউরে উঠছে ।
অরণ্য বলল হয়ত নীলাচল আমার জন্য একটা নতুন কিছু রেখেছে আপনার কথা বলুন শুনি ।। নীলিমা বলল আজ আপনার কথা শুনব কাল আমার কথা বলব একটা কথা আমাকে কিন্তু ঐ স্কাফ টা দিতে হবে আর কাল কে ইমুতে দেখাতে হবে ।।
অরণ্য বলল আচ্ছা ঠিক আছে ।। আরও কিছু কথা বলে শেষ করলো ।ঘড়ীর দিকে চেয়ে দেখে রাত চারটা ।
৭
অরণ্য বেলা বারটার দিকে নীলার বাসায় আসে । নীলার মা আরে অরণ্য এসেছ বাবা । হ্যা খালামনি পা কি অবস্থা ?
--- ভাল বাবা সামান্য মুচকে গিয়েছিল । এখন একদম ভাল ।
---- নীলা কোথায় ?
----- যাও নীলা তার ঘরে কায়েস আর জিম আসছে । নীলার জ্বর । রাত থেকে । তোমাকে ফোন করে নাই ।
---- না খলামনি ।
---- ো একটু এমনি ? তুমি যাও ওড় ঘরে
অরণ্য নীলার ঘরে যায় । কায়েস আরে অরণ্য তুই কোথায় খবর পেলি যে নীলার জ্বর
--- বাতাসে !!
---- নীলা বলল কায়েস অরণ্য কে যেতে বল ! আমার সাথে ওর কোন কথা নাই ।
----- নীলা তোমার সাথে কোন কথা বলার জন্য আসি নাই । বান্দর বান জাওয়ার সময় যেই হাত ব্যগ টা নিয়ে গিয়েছিলে সেটা দরকার ।
---- কেন নতুন গার্ল ফ্রেন্ড কে এমন একটা কিনে দিবে নাকি ?
---- আমি তোমাদের মতো না তবে হতে পারলে ভাল হত । আমি বোকা মানুষ আমাকে বোকার মতো থাকতে দাও ।
---- তুমি বোকা না অরণ্য তুমি হলে সে বনবিলাসের খরগোশের মতো । দিনে পাওয়া যায় না। তুমি তোমার সুবিধা মতে আসো ।
----- ঠিক আছে আমি সুবিধাবাদী আর তুমি নিজবাদি । আমাকে ব্যাগটা দাও একটা জিনিস রেখেছি নিতে হবে ।
নীলা তার মাকে বলে মা কালো চেক ব্যাগটা দাও তো । নীলার মা বলে অরণ্য তুমি কিছু মনে নিও না জ্বরে মাথা ঠিক নাই ।
--- ঠিক বলেছেন খালামনি !! জ্বরে মাথা ঠিক নাই কিন্তু কালো চেক ব্যাগ চিনে ?
কায়েস বলে অরণ্য আমার মনে হয় তোরা কিছু দিন কথা বলা বন্ধ রাখ । কথা বললেই তদের ঝগড়া হয় ।
----- ঝগড়া হয় না । কেউ লাগায় । থাক সে কথা
নীলার মা ব্যাগ টা এনে দেয় । নীলা বলে কি আছে নিজেই খুলে নাও আমি শুয়া থেকে উঠতে পাড়ব না।
অরণ্য ব্যাগটা হাতে নিয়ে চেইন খুলে সেই কাশ্মীরী স্কাফ টা বের করে । নীলা জিম আর কায়েস সবাই অবাক হয়ে চেয়ে থাকে । স্কাফ টা হাতে নিয়ে বলে নীলা শুন নীলা নামে একটা পাথর আছে তা সবাই কে নাকি সুড করে না। আমি এমনি এক অরণ্য নীলাচল দেখা হল না । নীলগিরি না।এমন কি নীলা কে আজ না করে গেলাম ।
নীলা বলে অরণ্য আমার কোথাও ভুল হয়েছে আমার কথা শুন । এই কথা বলার আগেই অরণ্য তার বাসা থেকে বের হয়ে যায় । নীলা বলে কায়েস তমারা ভুল আসলেই অরণ্য সেই দিন আমার জন্য স্বর্ণ মন্দির থেকে হেঁটে নীলাচলে এসেছে । তোমাদের মতো বন্ধুর চেয়ে শত্রু অনেক ভাল । আমি জানি অরণ্য আর ফেরার না । বলে কাদতে থাকে নীলা ।।
৮
ইমুতে রাত ঠিক বারটা এক মিনিট নীলিমা ফোন করে খুব আস্তে করে বলে হ্যালো কেউ কি আছেন আমি অরন্যে হারিয়ে গেছি ?
অরণ্য সেই কাশ্মীরী স্কাফ টা দেখিয়ে বলে এটা কার ?
----- এবার নীলিমা বলে এটা কি আমাকে আমার করে দেয়া যাবে ।
----- এটা কিন্তু তোমার হারিয়ে যাওয়া রাস্তা দেখাবে ?
------ অরণ্য আমি যে খুব দুখি একটা মেয়ে ?
------ আমি কি বলেছি তোমার সুখ গুলো দাও ।
------ দুখ গুলো যে দিতে চাই না
------ নীলিমা সবাই সুখের সাথি হতে চায় আমি না হয় দুখের সাথি হলাম ।
------অরণ্য তোমার কথার মাঝে বিশ্বাস খুঁজে পাই আমার হারিয়ে যাওয়া ব্যাগের মতো । অরণ্য কবে আমাকে তোমার স্কাফ টা দিবে ?
------ তুমি যে দিন চাইবে ?
------ তাহলে কোথায় আসবে বল ।
------- অরণ্য নীলা চলে
------ তারিখ বল
------- ১লা মার্চ
-------ওকে নীলিমা
------- টাইম বল
------- ঠিক দুপুর বার টা । আমার সাথে কিন্তু আমার বাবা মা থাকবে ।
------- আমার সাথে কিন্তু আমার বাবা মা থাকবে
তার পর তাদের প্রায় কথা হয় । তাদের খুঁজ খবর ফেইস বুক খুলেই চোখে পরে । এখন তাদের পাস ওয়ার্ড এক হয়ে গেছে । নীলা নিলামায় হারিয়ে গেছে । অরণ্য কোন দিন জানতে চায় নাই নিলিমার ব্যাগ কেন নীলাচলে হারিয়েছিল । নীলিমা প্রায় বলতে চাইলে অরণ্য বলে তুমি যেই অরন্যে হারিয়েছ সেই অরণ্যের মাঝে নিলিমার কোন অতীত নেই । যা আছে তা আগামি ।।
কিন্তু তারা কি নীলাচলে গিয়েছিল কি না কবি তার অপেক্ষায় পথ চেয়ে থাকে ?
Friday, January 27, 2017
গল্পঃ- বসন্তের মেঘ ।
পালকি চরে যাচ্ছে ভাঁটির জমিদারের ছোট স্ত্রী । ভুইয়া বাড়ির মেয়ে সে । হটাত ভাঁটির জমিদার খাঁ সাহেব শিতের সময় চরে পাখি শিকারে আসে । ভুইয়া বাড়ির মেয়ে কে দেখে তার পছন্দ । জমিদারের পছন্দ মানেই তাকে না করা যাবে না। তবে তাকে খাস বাঁদি না করে- বিয়ে করে নিয়ে যায় । ভুইয়া রা জমিদারের কাছে মেয়ে বিয়ে দিতে পেরে খুবেই গর্বিত । যদি ও ভুইয়া বাড়ির মেয়ে বিন্দুর বয়সের সাথে অনেক পার্থক্য ।
পালকিতে জাওয়ার সময় বিন্দু কাঁদে নাই । তার কান্না থেমে গিয়েছিল ভুইয়ারা জমিদারের সাথে নতুন সম্পর্কের জন্য নাকি অন্য কারনে টা প্রকাশ পায় নাই । বিয়ের তিন বছর পর্যন্ত জমিদার পত্নী বিন্দু কোন দিন বাপের বাড়ি বেড়াতে আসে নাই ।
জমিদার তাকে পুতুলের মতো সাজিয়ে রেখেছে । কিন্ত জমিদার সাহেব বাইজি মহল ছারতে পারে নাই । একটা মজার থেকে ফিরছিল জমিদার পত্নী বিন্দু । পথে মধ্য পালকীর পর্দা সরিয়ে দেখে বকুল তলায় গাছের নিচে অনেক মানুষের ভিড় । পালকি থামিয়ে পেয়াদাদের বলল খবর নিতে কি হয়েছে ।
একজন এসে বলল -- মা জননী কোন ভিনদেশী মানুষ । খুবেই অসুখ ।
জমিদার পত্নী পালকিতে বসেই বলল আমাদের জমিদারিতে কেউ চিকিৎসা ছাড়া মারা যেতে পারে না । তাকে জমিদার বাড়ির দাওয়া খানায় নিয়ে সু চিকিৎসা দেয়া হউক । আর ভাল না হওয়া পর্যন্ত তার থাকার ব্যবস্তা করা হউক ।
জমিদার পত্নী তার আদেশ মানেই সেই কাজ । পথিক কে জমিদার বাড়ির চিকিৎসালয়ে নিয়ে আসা হল ।
কিন্তু মানুষ টার অসুখ ভাল হচ্ছে না । দিন দিন যেন তার জীবন চলে যায় যায় অবস্তা । দাসি বাঁদি খবর নিয়ে এলো মা জননী মনে হয় ভিনদেশী পথিক বাঁচবে না ।
হাকিম আর কবিরাজ মশায় তার শেষ কোন ইচ্ছা আছে কি না জানতে চাইলে খুব আসতে করে বলল একটু বিন্নি ধানের পায়েস খেতে চায় । জমিদার পত্নী বিন্দু বলল আমি নিজের হাতেই তাকে রান্না করে বিন্নি ধানের চালের পায়েস খাওয়াতে চাই ।
নিজেই রান্না করে ভিন দেশি পথিকের জন্য পায়েস নিয়ে গেল । পথিক দূর থেকে এক বার দেখল যেন সাদা পরী অনেক দাসীবাঁদীর সাথে হেঁটে আসছে । সবাই জমিদার পত্নী কে দেখে সালাম দিয়ে সরে দাঁড়ালো । কিন্তু এই অল্প সময়ে জীবন প্রদিপ নিভে যায় পথিকের । জমিদারের পত্নীর হাত থেকে পায়েসের বাটি পড়ে যায় । হাকিম পথিকের চোখ বন্ধ করে দেয় । জমিদার পত্নী বিন্দু চাকর বাকর কে ডেকে বলে এই ভিনদেশী পথিকের বাড়ি আমার গ্রামের পাশে তালুকদার বাড়িতে । সেই খানেই পাঠিয়ে দাও খুব যত্ন করে । মাটীতে পায়েসের বাটি পড়ে থাকে । পথিকের লাশ গরুর গারি করে তালুক দার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয় । সন্ধ্যায় তালুক তার বাড়িতে তালুকদারের ছোট ছেলের লাশ আসে । তালুকদারের ছোট ছেলে যে মারা গেছে তার নাম মোহন ।।
ভুইয়া বাড়িতে তালুকদারের ছোট ছেলের মরার খবর আসাতে , ভুইয়া বাড়িতে আনন্দের বন্যা বইতে থাকে । বন্দুক দিয়ে গুলি ফুটিয়ে বিগল বাজিয়ে উল্লাস করতে লাগলো । জমিদার পত্নী এই রাতে খুব সুন্দর করে সাজে , চুলের খোঁপায় বেলি ফুলের মালা পড়ে । পায়েসের সেই বাটিটা বাঁদি ধুয়ে রেখেছে তার টেবিলে । সেই বাটিতে কিছু পায়েস নেয় । পায়েসের সাথে নিজেই বিষ মিশায় । আয়নার সামনে গিয়ে বলে মোহন তুমি আমাকে ভুলতে পারলে না। চোখের সামনে ভাসতে থাকে মায়ের হাতের পায়েস নিয়ে লুকিয়ে পুকুর পারে জলে পা ভিজয়ে দুই জনে এক সাথে খেত । ভুইয়া রা জিমিদারে প্রিয় হবার জন্য তাদের মেয়ে কে দিয়ে দিতে পারে । তবে আমি কি আমার প্রিয় মানুষের কাছে যেতে পারি না। জমিদার পত্নী বিন্দু সেই সন্ধ্যা রাতেই বিষ মিশানো পায়েস খেয়ে মারা যায় । বিন্দু বিষ খেয়ে খাটে চুপ করে শুয়ে ছিল ।
ভোর বেলায় ঘোড়া করে চরে বিন্দুর মৃত্যুর খবর নিয়ে ভুইয়া বাড়িতে এক পেয়াদা আসে । বিন্দুর মা চিৎকার করে বলে সবাই চুপ কেন বন্দুক ফুটাও বিগল বাজাও
তোমরা চুপ কেন ????
Thursday, May 19, 2016
গল্প @ প্রেমের জন্য মরণ -----
এই মেয়ে দাড়াও তোমার সাথে আমার কথা আছে । আমার কথা না শুনলে আমি কিন্তু খুব মাইন্ড করবো । দাড়াও বলছি ।
না আমি দাঁড়াবো না। আর তোমার কথা শুনার ইচ্ছা আমার নেই । তুমি কি বলবে আমি জানি ?
আমি যা বলব তুমি জান ? তাহলে আমার কথার উত্তর চাই । আমি উত্তর নিয়েই যাব । তুমি ভাল করে জান আমি কেমন ছেলে । আমি কোন কিছু ভয় পাই না।
তুমি মানুষ হলে তো তোমার ভয় থাকবে । তুমি বলতে চাও আমি মানুষ না।
না তুমি মানুষ না। যদি আনুস হতে তাহলে রাস্তায় আমাকে পথ আগলে দাড়াতে না। কোন ভাল ছেলে কখনো কোন মেয়ের পথ আগলে দাড়ায় না।
ঠিক আছে এখন যাও আমি কিন্তু আমার উত্তর চাই । উত্তর পাবে না । কারন আমার প্রেম করার মত বয়স হই নাই । আর বয়স হলেও আমি কোন দিন তোমার মত লম্পটের সাথে প্রেম করব না। ঠিক আছে দেখিস আমি কিন্তু তোর সাথে প্রেম করেই ছারব শ্যামলী । আচ্ছা করিস । এখন রাস্তা ছাড় আমার যেতে হবে ।
প্রতিদিন শ্যামলী কে রাস্তায় আফজল কিছু না কিছু বলবে । শ্যামলী আর কম কিসের সেও কিছু না কিছু আফজাল কে বলবে ।
শ্যামলীর বাবা নাই । মা একজন স্কুল শিক্ষিকা । মা খুব ভয়ে ভয়ে থাকে আফজল কে।
আফজলের বাবা খুব টাকা ওয়ালা মানুষ । কিন্তু ছেলেটা মানুষ হয় নাই । এলাকায় মাস্তানি করে বেড়ায় । আজ কাল ফিটিং খায় । কিছু ছেলে তার পিছু পিছু ঘুরে । শ্যামলী কে তাই এলাকার ছোট ছেলেরা দূর থেকে ভাবী ডাকে । শ্যামলী কে যেহেতু আফজল পছন্দ করে তাই মহল্লার অন্য ছেলেরা ভুলেও শ্যামলীর দিকে তাকায় না।
শ্যামলী আজ কাল খুব চালাকি করে একেক সময় একেক দিক দিয়ে যায় । এবার একেক সময় একেক দিক দিয়ে বাসায় আসে । আফজল কোন ভাবেই কয়েকদিন যাবত শ্যামলী কে পাচ্ছে না। তাই তার বাহিনী কে বিভিন্ন জায়গায় শ্যামলীর গতিবিধি দেখার কাজ দিয়েছে । আফজল কয়েকটা জায়গায় আড্ডা দেয় । একজন এসে বলল শ্যামলী ভাবিকে আজ একটা পোলা রিক্সা করে নিয়ে এসেছে । পোলাটা অনেক সুন্দর । এই কথা শুনা মাত্র আফজল শ্যামলীদের বাসার সামনে গিয়ে অবস্তান নিল । দুপুর থেকে সন্ধ্যা । আফজল একটা টেনিস বল শ্যামলীর বাসার ভিতরে ঢিল দিয়ে ফেলল । সেই টেনিস বল আনতে বল্টু কে পাঠাইল । বল্টু শ্যামলীদের বাসায় গেল বল আনতে । শ্যামলী বল্টু কে বলল
-----কিরে বল খুজিস
----- জি ভাবী ?
----- আমি তোর কোন ভাই এর বউ । এই বলে বল্টুর কলারে ধরে ।
----- আপা ভুল হয়েছে । আপনেরে ভাবী না ডাকলে আফজল ভাই আমাকে সাইজ করব
------ তাই । আমি যে সাইজ করব এটা একবার ও তোর মনে হয় না।
------ আপা আপনি আমাকে কোন দিন মারবেন না। আমি জানি আপনি ভাল ।
----- এই ল বল । যা , আর আসিস না। আর যদি বল আসে তাহলে কিন্তু খবর আছে------- আপা আপনার বাসায় মেহমান কে ?
----- আমার ছোট মামা । পুলিশ অফিসার ।
----- আচ্ছা আপা আসি । গেইটের সামনে গিয়ে বল্টু বলল ভাবী বল দেয়ার জন্য
থ্যাংকস ।
বল্টু বলল বস চলেন ভাবীর মামা পুলিশ অফিসার । আমি সব খবর নিয়েছি । এর মধ্যে শ্যামলীর মামা বাসা থেকে বের হল । আফজল শ্যামলীর মামাকে ডাক দিল । এই যে মিঃ একটু শুনেন । শ্যামলীর মামা বলল হ্যাঁ বলেন ।
----- কে আপনি ?
----- আমি বলি আপনি কে ?
----- আমি আফজাল এই মহল্লার পোলা
---- আমি ডি ভি পুলিশ অফিসার । আমার নাম রাসেদ খান ।
---- আফজল বলল এই ডি কার্ড দেখি ?
---- শ্যামলীর মামা কোমর থেকে পিস্তল বের করে বলল এ দিকে এসো । কার্ড দেখাই ।
আফজল এক দৌড় দিয়ে দেয়াল টোপকে পালালো । সাথে সব । শ্যামলী ছাদ থেকে দেখে গেইট খুলে তার মামার কাছে আসে । মামা জানতে চায় কে এই ছেলে ? শ্যামলী বলে আরে মামা এরা এলাকার ছেলে , ভাবছে অন্য কেউ হয়ত , কিছু মনে নিও না । মামা তুমি যাও । শ্যামলী তার মামা কে আর কিছুই বলে না। শ্যামলী মা শ্যামলী কে বলে কি হইছে গেইটের সামনে ।
---- না মা কিছু না। মামার সাথে একটু কথা বললাম ।
----- আচ্ছা গেইটের ভিতরে আয় ।
শ্যামলী বাসার ভিতরে চলে যায় । রাতে শ্যামলীর মা বলে তো মামা কে বলা উচিৎ ছিল আফজাল যে তকে রোজ রাস্তায় জালায় । শ্যামলী একটু রাগ করে বলল মা তুমি না বেশি কথা বল । মামা কি সারা দিন আমাকে পাহারা দিবে । আর তুমি কি মনে কর আফজল আমাদের ছেড়ে দিবে । কি দরকার আফজল কে আমাদের ধমক দিয়ে । আমি কলেজ থেকে পাশ করলে বিশ্ব বিদ্যালয়ে চলে যাব । তখন আর আমাকে জালাবে না।
শ্যামলীর মা বলে ঠিক আছে মা কিন্তু সাবধান যারা থাকে তারাই ভাল থাকে ।
খুব সকালে মহল্লার হই চই শুনে শ্যামলীর ঘুম ভাঙে । কি হইছে জানতে চাইলে একজন
বলে নতুন বাড়ি করছিল যেই লোক তাঁকে নাকি আফজল গুলি করেছে । এখন পুলিশ আসছে এলাকায় । শ্যামলী জানতে পাড়ে একজনের কাছে যে আফজল নিজেই গুলি করেছে । সারা এলাকা পুলিশ সাংবাদিক এসে ভরে গেছে । আফজল কে পুলিশ পাই নাই । আজ আর শ্যামলীর কলেজে যাওয়া হল না। একবার আফজলের বাসায় গিয়ে দেখে আফজলের মা খুব কান্না করছে । কিছুটা সময় থেকে বাসায় চলে আসে । পরের দিন কলেজে যাবার সময় আর আফজল কে পায় না। অনেক বার শ্যামলী মনে মনে আফজল কে খুজে । তিন দিন পড়ে এক গলিতে আফজলের সাথে দেখা । শ্যামলীর জন্য মনে হয় অপেক্ষা করছিল । শ্যামলী কে দেখে বলল
----- মনে একটু শান্তি পেলাম ।
----- সবাইকে অশান্তিতে রেখে একা একা শান্তি পাওয়া খুব ভাল ।
----- বা ! আমার জন্য চিন্তা হয় ।
----- রাস্তার একটা কুকুর যদি প্রতিদিন এক জায়গায় দেখি । আর একদিন না দেখলে
তার জন্যও মায়া হয় ।
----- আমি কি তাহলে সেই কুকুর ।
----- কুকুর হলেও ভাল হত । একটা শিকল দিয়ে বেঁধে রাখতে পারতাম ।
----- বাহ ! কথাটায় মজা পাইলাম । মনে মনে নিজেকে মজনু মনে হচ্ছে ।
----- আমি যাই । কেউ দেখলে ভাববে আমি মনে হয় তোর প্রেমে পরছি ।
----- আমি আফজল ছাড়া তোর কপালে আর কেউ নাই ।
----- ভাল তো কপালে তাল গাছ লাগাও । নাতি পুতি খেতে পাড়বে ।
আফজল একা একা হেসে বলে তুই একমাত্র শ্যামলী আমার সাথে এভাবে কথা বলতে পারিস । খোদার কসম অন্য কোন মেয়ে হলে আমি কি জিনিস বুঝিয়ে দিতাম ।
শ্যামলী একটু হেসে বলে ঝামেলা শেষ কর । নিজের দিকে দেখ চেহারা কি অবস্তা ।
শ্যামলী বাসার দিকে চলে আসে । বল্টু আফজল কে বলে বস ভাবী কিন্তু আপনাকে পছন্দ করে । আফজল বলে পছন্দ না করে যাবে কোথায় ।
দিন দিন এলাকায় আফজল খুব ভয়ঙ্কর হয়ে যাচ্ছে । কেউ কেউ সব কিছুতেই আফজলের নাম করে অপরাধ করছে । আবার একটু খুন তাও আফজলের নাম।
গত এক বছরে পুলিশ তাঁকে ধরতে পারছে না। মাঝে মাঝে শ্যামলীর সাথে কথা হয় রাস্তায় । শ্যামলী মনে মনে আজকাল আফজল কে ভাবতে থাকে । আফজল আর যাই হউক তাঁকে কোন দিন বাজে কথা বলে নাই । আজ শ্যামলীর জন্ম দিন । একটা সুন্দর শাড়ি পরেছে । নিজের হাতে একটু পোলাও রান্না করেছে । শ্যামলী গেইট থেকে বের হয়ে দেখে তার গেইটে কেউ না কেউ পাহারা দেয় । তাদের একজন কে বলে এই তোর বস কোথায় ? একজন বলল ভাবী বসের কথা কি কোন দিন কাউকে বলা যায় ।
শ্যামলী বলল একটা থাপ্পড় দিয়ে দাঁত ফেলে দিব । আমাকে নিয়ে চল বলছি । শ্যামলী কে নিয়ে ঐ ছেলে এক বাসার ছাদে যায় । শ্যামলীকে দেখে আজ আফজল যেন আসমান থেকে পরেছে । শ্যামলী বলে এমন করে চাইতে হবে না । নাও মাস্তান এটা খেয়ে আমার
জীবন ধন্য কর । আফজল আজ পোলাও খেয়ে একটু কান্না করে দিল । শ্যামলী একি কান্না করছ কেন ?
----- শ্যামলী তুই যে কোন ছেলে কে বিয়ে কর আমাকে না।
----- কেন তকে না। আমি তকেই বিয়ে করব ?
----- না শ্যামলী ? আই এম সরি । আমাকে ক্ষমা কর । তোর সুন্দর জীবন আমি নষ্ট
করতে চাই না।আমি একটা নষ্ট ছেলে । দেখ ঐ ঘরে আমি একটা মেয়ে এনে রেখেছি ফুর্তি করার জন্য । শ্যামলী বলে আমি কাউকে দেখতে চাই না।
তুমি হাজিরা দিয়ে জাবিন নাও । তার পড় দেশের বাহিরে চলে যাও । আমি লিখা পড়া শেষ করি । পড়ে অন্য অন জেলায় চলে যাব । যেখানে তোমাকে আমাকে কেউ চিনবে না।শ্যামলীর মা মেয়ে কে খুব বুঝতে চেষ্টা করে । কিন্তু শ্যামলী বলে মা জীবন আমার
আর আমি আমার জীবনের ভাল মন্দ বুঝি ।
দিনে দিনে অপরাধ বেঁড়েই চলছে আফজলের । শ্যামলীর পরীক্ষা শেষ । কলেজ থেকে
বাসা পর্যন্ত শ্যামলীকে সবাই ভয় পায় । এমন কি রিক্সা ওয়ালা পর্যন্ত সালাম দেয় ।
সবাই মনে মনে বলে এত সুন্দর একটা মেয়ে কিনা সন্ত্রাসী একটা ছেলে কে ভালবাসে ।
পুলিশের খাতায় তার নাম শীর্ষ ১০ এ চলে আসে । সবাই আফজল কে এখন এক নামে চিনে । আর নাম বলার আগে ছোট বড় সবাই তাঁকে ভাই বলে ডাকে । স্থানীয় থানায়
আফজলের ইনফ্রমা আছে । কিছু কিছু পুলিশ আফজলের সাথে গোপনে যোগাযোগ রাখে।তাই তাঁকে কেউ ধরতে পাড়ে না।
শ্যামলীর মামার কাছে আফজলের কেইস ফাইলটা আসে । তার সিনিয়র অফিসার বলে
জীবিত বা মৃত এই কেইস টা শেষ কর । জীবিত ধরলে ও তাঁকে ক্রোস ফায়ার দিতে হবে । তোমাদের ব্ল্যাক কুব্রা টিপ এই কাজটা করতে হবে । এটা তোমাদের টিমের জন্য
একটা চ্যালেঞ্জ । শ্যামলীর মামা বেশ মিঃ জি এম গুলজার কিছুতেই মনে করতে পারছে না এর আগে আফজল কে কোথায় দেখেছে । বাসার ঠিকানা চোখে পড়তেই মনে পড়ে যায় শ্যামলীদের বাড়ির বাসার কথা ।
রাতেই শ্যামলীর বাসায় গুলজার আসে । শ্যামলী কে বলে মা শ্যামলী তোমার এলাকার
সেই মাস্তান ছেলের কি খবর । শ্যামলীর মা বলে ভাই আর বলিস না । শ্যামলী তো ঐ গুন্ডা ছাড়া আর কাউকে বিয়ে করবে না।
---------গুলজার বলে কেন ? আপা ছেলে কি খুব বেশি খারাপ ?
-------- হ্যা ,রোজ পুলিশ তাঁকে খুজে ?
-------- গুলজার শ্যামলীর মা কে বলে আরে আপা বাদ দাও । আজকালের ছেলেরা একটু এমন সাহসী না হলে চলে না। মা শ্যামলী আমার সাথে একদিন দেখা করাও ।
দেখি আমি ওকে একটা ভাল বুদ্ধি দিব ।
শ্যামলী তার মামা কথা বিশ্বাস করে । দেখা করে আফজলের সাথে । আফজল বলে শ্যামলী তুমি যখন বলছ তাহলে দেখা করব । শ্যামলী বলে আমি সাথে থাকব ।
গুলজার তার টিম কে প্রস্তুত রাখে । গুলশান একটা ফুডের দোকানে শ্যামলী আর আফজল আসে । আফজল একটা সাদা মাঞ্জাবি পড়ে আসে । শ্যামলী আফজলের হাত ধরে রাখে । আফজল মনে মনে চিন্তা করে আমি ভাল হয়ে যাব । শুধু শ্যামলীর জন্য ভাল হয়ে যাব । একটা পিজা খেতে খেতে শ্যামলীর মামা চলে আসে । ফাস্ট ফুডের দোকান চার দিক পুলিশ ঘিরে ফেলে । শ্যামলী কিছু বলার আগেই শ্যামলীর মামা বলে মা তুমি আমার গাড়িতে যেয়ে বস । আফজল কোমর থেকে পিস্তল বের করার আগেই
তাঁকে পুলিশ ধরে ফেলে । আফজল কে কালো কাপড় দিয়ে চোখ বেঁধে গাড়িতে তুলে ।
একটা গাড়ি শ্যামলী কে বাসায় পৌঁছে দেয় ।
গুলজার তার বস কে ফোন করে স্যার আফজল আমার গাড়িতে । এরেস্ট করা হয়েছে । বস বলে সুট । বনশ্রী শেষ মাথায় নিয়ে তাঁকে সুট করা হয় ।
রাতের ১০ টার খবরে শ্যামলী জানতে পাড়ে ক্রস ফায়ারে আফজল নিহত ।।
শ্যামলী একটা চিৎকার করে মামা বলে...........................।
না আমি দাঁড়াবো না। আর তোমার কথা শুনার ইচ্ছা আমার নেই । তুমি কি বলবে আমি জানি ?
আমি যা বলব তুমি জান ? তাহলে আমার কথার উত্তর চাই । আমি উত্তর নিয়েই যাব । তুমি ভাল করে জান আমি কেমন ছেলে । আমি কোন কিছু ভয় পাই না।
তুমি মানুষ হলে তো তোমার ভয় থাকবে । তুমি বলতে চাও আমি মানুষ না।
না তুমি মানুষ না। যদি আনুস হতে তাহলে রাস্তায় আমাকে পথ আগলে দাড়াতে না। কোন ভাল ছেলে কখনো কোন মেয়ের পথ আগলে দাড়ায় না।
ঠিক আছে এখন যাও আমি কিন্তু আমার উত্তর চাই । উত্তর পাবে না । কারন আমার প্রেম করার মত বয়স হই নাই । আর বয়স হলেও আমি কোন দিন তোমার মত লম্পটের সাথে প্রেম করব না। ঠিক আছে দেখিস আমি কিন্তু তোর সাথে প্রেম করেই ছারব শ্যামলী । আচ্ছা করিস । এখন রাস্তা ছাড় আমার যেতে হবে ।
প্রতিদিন শ্যামলী কে রাস্তায় আফজল কিছু না কিছু বলবে । শ্যামলী আর কম কিসের সেও কিছু না কিছু আফজাল কে বলবে ।
শ্যামলীর বাবা নাই । মা একজন স্কুল শিক্ষিকা । মা খুব ভয়ে ভয়ে থাকে আফজল কে।
আফজলের বাবা খুব টাকা ওয়ালা মানুষ । কিন্তু ছেলেটা মানুষ হয় নাই । এলাকায় মাস্তানি করে বেড়ায় । আজ কাল ফিটিং খায় । কিছু ছেলে তার পিছু পিছু ঘুরে । শ্যামলী কে তাই এলাকার ছোট ছেলেরা দূর থেকে ভাবী ডাকে । শ্যামলী কে যেহেতু আফজল পছন্দ করে তাই মহল্লার অন্য ছেলেরা ভুলেও শ্যামলীর দিকে তাকায় না।
শ্যামলী আজ কাল খুব চালাকি করে একেক সময় একেক দিক দিয়ে যায় । এবার একেক সময় একেক দিক দিয়ে বাসায় আসে । আফজল কোন ভাবেই কয়েকদিন যাবত শ্যামলী কে পাচ্ছে না। তাই তার বাহিনী কে বিভিন্ন জায়গায় শ্যামলীর গতিবিধি দেখার কাজ দিয়েছে । আফজল কয়েকটা জায়গায় আড্ডা দেয় । একজন এসে বলল শ্যামলী ভাবিকে আজ একটা পোলা রিক্সা করে নিয়ে এসেছে । পোলাটা অনেক সুন্দর । এই কথা শুনা মাত্র আফজল শ্যামলীদের বাসার সামনে গিয়ে অবস্তান নিল । দুপুর থেকে সন্ধ্যা । আফজল একটা টেনিস বল শ্যামলীর বাসার ভিতরে ঢিল দিয়ে ফেলল । সেই টেনিস বল আনতে বল্টু কে পাঠাইল । বল্টু শ্যামলীদের বাসায় গেল বল আনতে । শ্যামলী বল্টু কে বলল
-----কিরে বল খুজিস
----- জি ভাবী ?
----- আমি তোর কোন ভাই এর বউ । এই বলে বল্টুর কলারে ধরে ।
----- আপা ভুল হয়েছে । আপনেরে ভাবী না ডাকলে আফজল ভাই আমাকে সাইজ করব
------ তাই । আমি যে সাইজ করব এটা একবার ও তোর মনে হয় না।
------ আপা আপনি আমাকে কোন দিন মারবেন না। আমি জানি আপনি ভাল ।
----- এই ল বল । যা , আর আসিস না। আর যদি বল আসে তাহলে কিন্তু খবর আছে------- আপা আপনার বাসায় মেহমান কে ?
----- আমার ছোট মামা । পুলিশ অফিসার ।
----- আচ্ছা আপা আসি । গেইটের সামনে গিয়ে বল্টু বলল ভাবী বল দেয়ার জন্য
থ্যাংকস ।
বল্টু বলল বস চলেন ভাবীর মামা পুলিশ অফিসার । আমি সব খবর নিয়েছি । এর মধ্যে শ্যামলীর মামা বাসা থেকে বের হল । আফজল শ্যামলীর মামাকে ডাক দিল । এই যে মিঃ একটু শুনেন । শ্যামলীর মামা বলল হ্যাঁ বলেন ।
----- কে আপনি ?
----- আমি বলি আপনি কে ?
----- আমি আফজাল এই মহল্লার পোলা
---- আমি ডি ভি পুলিশ অফিসার । আমার নাম রাসেদ খান ।
---- আফজল বলল এই ডি কার্ড দেখি ?
---- শ্যামলীর মামা কোমর থেকে পিস্তল বের করে বলল এ দিকে এসো । কার্ড দেখাই ।
আফজল এক দৌড় দিয়ে দেয়াল টোপকে পালালো । সাথে সব । শ্যামলী ছাদ থেকে দেখে গেইট খুলে তার মামার কাছে আসে । মামা জানতে চায় কে এই ছেলে ? শ্যামলী বলে আরে মামা এরা এলাকার ছেলে , ভাবছে অন্য কেউ হয়ত , কিছু মনে নিও না । মামা তুমি যাও । শ্যামলী তার মামা কে আর কিছুই বলে না। শ্যামলী মা শ্যামলী কে বলে কি হইছে গেইটের সামনে ।
---- না মা কিছু না। মামার সাথে একটু কথা বললাম ।
----- আচ্ছা গেইটের ভিতরে আয় ।
শ্যামলী বাসার ভিতরে চলে যায় । রাতে শ্যামলীর মা বলে তো মামা কে বলা উচিৎ ছিল আফজাল যে তকে রোজ রাস্তায় জালায় । শ্যামলী একটু রাগ করে বলল মা তুমি না বেশি কথা বল । মামা কি সারা দিন আমাকে পাহারা দিবে । আর তুমি কি মনে কর আফজল আমাদের ছেড়ে দিবে । কি দরকার আফজল কে আমাদের ধমক দিয়ে । আমি কলেজ থেকে পাশ করলে বিশ্ব বিদ্যালয়ে চলে যাব । তখন আর আমাকে জালাবে না।
শ্যামলীর মা বলে ঠিক আছে মা কিন্তু সাবধান যারা থাকে তারাই ভাল থাকে ।
খুব সকালে মহল্লার হই চই শুনে শ্যামলীর ঘুম ভাঙে । কি হইছে জানতে চাইলে একজন
বলে নতুন বাড়ি করছিল যেই লোক তাঁকে নাকি আফজল গুলি করেছে । এখন পুলিশ আসছে এলাকায় । শ্যামলী জানতে পাড়ে একজনের কাছে যে আফজল নিজেই গুলি করেছে । সারা এলাকা পুলিশ সাংবাদিক এসে ভরে গেছে । আফজল কে পুলিশ পাই নাই । আজ আর শ্যামলীর কলেজে যাওয়া হল না। একবার আফজলের বাসায় গিয়ে দেখে আফজলের মা খুব কান্না করছে । কিছুটা সময় থেকে বাসায় চলে আসে । পরের দিন কলেজে যাবার সময় আর আফজল কে পায় না। অনেক বার শ্যামলী মনে মনে আফজল কে খুজে । তিন দিন পড়ে এক গলিতে আফজলের সাথে দেখা । শ্যামলীর জন্য মনে হয় অপেক্ষা করছিল । শ্যামলী কে দেখে বলল
----- মনে একটু শান্তি পেলাম ।
----- সবাইকে অশান্তিতে রেখে একা একা শান্তি পাওয়া খুব ভাল ।
----- বা ! আমার জন্য চিন্তা হয় ।
----- রাস্তার একটা কুকুর যদি প্রতিদিন এক জায়গায় দেখি । আর একদিন না দেখলে
তার জন্যও মায়া হয় ।
----- আমি কি তাহলে সেই কুকুর ।
----- কুকুর হলেও ভাল হত । একটা শিকল দিয়ে বেঁধে রাখতে পারতাম ।
----- বাহ ! কথাটায় মজা পাইলাম । মনে মনে নিজেকে মজনু মনে হচ্ছে ।
----- আমি যাই । কেউ দেখলে ভাববে আমি মনে হয় তোর প্রেমে পরছি ।
----- আমি আফজল ছাড়া তোর কপালে আর কেউ নাই ।
----- ভাল তো কপালে তাল গাছ লাগাও । নাতি পুতি খেতে পাড়বে ।
আফজল একা একা হেসে বলে তুই একমাত্র শ্যামলী আমার সাথে এভাবে কথা বলতে পারিস । খোদার কসম অন্য কোন মেয়ে হলে আমি কি জিনিস বুঝিয়ে দিতাম ।
শ্যামলী একটু হেসে বলে ঝামেলা শেষ কর । নিজের দিকে দেখ চেহারা কি অবস্তা ।
শ্যামলী বাসার দিকে চলে আসে । বল্টু আফজল কে বলে বস ভাবী কিন্তু আপনাকে পছন্দ করে । আফজল বলে পছন্দ না করে যাবে কোথায় ।
দিন দিন এলাকায় আফজল খুব ভয়ঙ্কর হয়ে যাচ্ছে । কেউ কেউ সব কিছুতেই আফজলের নাম করে অপরাধ করছে । আবার একটু খুন তাও আফজলের নাম।
গত এক বছরে পুলিশ তাঁকে ধরতে পারছে না। মাঝে মাঝে শ্যামলীর সাথে কথা হয় রাস্তায় । শ্যামলী মনে মনে আজকাল আফজল কে ভাবতে থাকে । আফজল আর যাই হউক তাঁকে কোন দিন বাজে কথা বলে নাই । আজ শ্যামলীর জন্ম দিন । একটা সুন্দর শাড়ি পরেছে । নিজের হাতে একটু পোলাও রান্না করেছে । শ্যামলী গেইট থেকে বের হয়ে দেখে তার গেইটে কেউ না কেউ পাহারা দেয় । তাদের একজন কে বলে এই তোর বস কোথায় ? একজন বলল ভাবী বসের কথা কি কোন দিন কাউকে বলা যায় ।
শ্যামলী বলল একটা থাপ্পড় দিয়ে দাঁত ফেলে দিব । আমাকে নিয়ে চল বলছি । শ্যামলী কে নিয়ে ঐ ছেলে এক বাসার ছাদে যায় । শ্যামলীকে দেখে আজ আফজল যেন আসমান থেকে পরেছে । শ্যামলী বলে এমন করে চাইতে হবে না । নাও মাস্তান এটা খেয়ে আমার
জীবন ধন্য কর । আফজল আজ পোলাও খেয়ে একটু কান্না করে দিল । শ্যামলী একি কান্না করছ কেন ?
----- শ্যামলী তুই যে কোন ছেলে কে বিয়ে কর আমাকে না।
----- কেন তকে না। আমি তকেই বিয়ে করব ?
----- না শ্যামলী ? আই এম সরি । আমাকে ক্ষমা কর । তোর সুন্দর জীবন আমি নষ্ট
করতে চাই না।আমি একটা নষ্ট ছেলে । দেখ ঐ ঘরে আমি একটা মেয়ে এনে রেখেছি ফুর্তি করার জন্য । শ্যামলী বলে আমি কাউকে দেখতে চাই না।
তুমি হাজিরা দিয়ে জাবিন নাও । তার পড় দেশের বাহিরে চলে যাও । আমি লিখা পড়া শেষ করি । পড়ে অন্য অন জেলায় চলে যাব । যেখানে তোমাকে আমাকে কেউ চিনবে না।শ্যামলীর মা মেয়ে কে খুব বুঝতে চেষ্টা করে । কিন্তু শ্যামলী বলে মা জীবন আমার
আর আমি আমার জীবনের ভাল মন্দ বুঝি ।
দিনে দিনে অপরাধ বেঁড়েই চলছে আফজলের । শ্যামলীর পরীক্ষা শেষ । কলেজ থেকে
বাসা পর্যন্ত শ্যামলীকে সবাই ভয় পায় । এমন কি রিক্সা ওয়ালা পর্যন্ত সালাম দেয় ।
সবাই মনে মনে বলে এত সুন্দর একটা মেয়ে কিনা সন্ত্রাসী একটা ছেলে কে ভালবাসে ।
পুলিশের খাতায় তার নাম শীর্ষ ১০ এ চলে আসে । সবাই আফজল কে এখন এক নামে চিনে । আর নাম বলার আগে ছোট বড় সবাই তাঁকে ভাই বলে ডাকে । স্থানীয় থানায়
আফজলের ইনফ্রমা আছে । কিছু কিছু পুলিশ আফজলের সাথে গোপনে যোগাযোগ রাখে।তাই তাঁকে কেউ ধরতে পাড়ে না।
শ্যামলীর মামার কাছে আফজলের কেইস ফাইলটা আসে । তার সিনিয়র অফিসার বলে
জীবিত বা মৃত এই কেইস টা শেষ কর । জীবিত ধরলে ও তাঁকে ক্রোস ফায়ার দিতে হবে । তোমাদের ব্ল্যাক কুব্রা টিপ এই কাজটা করতে হবে । এটা তোমাদের টিমের জন্য
একটা চ্যালেঞ্জ । শ্যামলীর মামা বেশ মিঃ জি এম গুলজার কিছুতেই মনে করতে পারছে না এর আগে আফজল কে কোথায় দেখেছে । বাসার ঠিকানা চোখে পড়তেই মনে পড়ে যায় শ্যামলীদের বাড়ির বাসার কথা ।
রাতেই শ্যামলীর বাসায় গুলজার আসে । শ্যামলী কে বলে মা শ্যামলী তোমার এলাকার
সেই মাস্তান ছেলের কি খবর । শ্যামলীর মা বলে ভাই আর বলিস না । শ্যামলী তো ঐ গুন্ডা ছাড়া আর কাউকে বিয়ে করবে না।
---------গুলজার বলে কেন ? আপা ছেলে কি খুব বেশি খারাপ ?
-------- হ্যা ,রোজ পুলিশ তাঁকে খুজে ?
-------- গুলজার শ্যামলীর মা কে বলে আরে আপা বাদ দাও । আজকালের ছেলেরা একটু এমন সাহসী না হলে চলে না। মা শ্যামলী আমার সাথে একদিন দেখা করাও ।
দেখি আমি ওকে একটা ভাল বুদ্ধি দিব ।
শ্যামলী তার মামা কথা বিশ্বাস করে । দেখা করে আফজলের সাথে । আফজল বলে শ্যামলী তুমি যখন বলছ তাহলে দেখা করব । শ্যামলী বলে আমি সাথে থাকব ।
গুলজার তার টিম কে প্রস্তুত রাখে । গুলশান একটা ফুডের দোকানে শ্যামলী আর আফজল আসে । আফজল একটা সাদা মাঞ্জাবি পড়ে আসে । শ্যামলী আফজলের হাত ধরে রাখে । আফজল মনে মনে চিন্তা করে আমি ভাল হয়ে যাব । শুধু শ্যামলীর জন্য ভাল হয়ে যাব । একটা পিজা খেতে খেতে শ্যামলীর মামা চলে আসে । ফাস্ট ফুডের দোকান চার দিক পুলিশ ঘিরে ফেলে । শ্যামলী কিছু বলার আগেই শ্যামলীর মামা বলে মা তুমি আমার গাড়িতে যেয়ে বস । আফজল কোমর থেকে পিস্তল বের করার আগেই
তাঁকে পুলিশ ধরে ফেলে । আফজল কে কালো কাপড় দিয়ে চোখ বেঁধে গাড়িতে তুলে ।
একটা গাড়ি শ্যামলী কে বাসায় পৌঁছে দেয় ।
গুলজার তার বস কে ফোন করে স্যার আফজল আমার গাড়িতে । এরেস্ট করা হয়েছে । বস বলে সুট । বনশ্রী শেষ মাথায় নিয়ে তাঁকে সুট করা হয় ।
রাতের ১০ টার খবরে শ্যামলী জানতে পাড়ে ক্রস ফায়ারে আফজল নিহত ।।
শ্যামলী একটা চিৎকার করে মামা বলে...........................।
Monday, May 16, 2016
অনু গল্প @ একটি চিঠি ও কানিজ নিগার ।
মেয়েটি অনেক সুন্দরী । আর মেয়ে মানুষ যদি একটু গায়ের রং ফর্সা হয় । নাকটা একটু
লম্বা হয় । চোখ গুলো একটু মায়াবী হয় । মাথার চুল যদি বনলতার হয় তাহলে যে কেউ এই মেয়ের প্রেমে পড়বে । এমনি এক মেয়ে নাম কানিজ নিগার । কানিজ নিগার মানে
সবাই এক নামে চিনে । তার বাবা আবার এলাকায় খুব নাম ডাক । তাই কানিজ নিগার
কে সহজে কেউ প্রেমের অফার দিতে পাড়ে না। এবার কানিজ এস এস সি দিবে তাঁকে দুই জন স্যার পড়ায় । তারা দুই জনেই মনে মনে পছন্দ করে ।
কানিজ নিগার এখন বুঝতে শিখেছে যে সে সুন্দর তাই তার মধ্যে আলাদা একটা ভাব চলে এসেছে । আজ কাল চোখে কাজল পড়ে । একটু ডান বাম তাকায় ।
কানিজ নিগারের বাসার সামনে আজ কাল ছেলেদের আড্ডা হয় ।। মাঝে মাঝে ছাদে উঠে বিকালে । কানিজ নিগারের মহল্লায় সব চেয়ে ভাল ছেলে সাকিল । সে কোন মেয়েদের দিকে তাকায় না। একটা কলেজে পড়ে । একেই মহল্লায় থাকে তবে সাকিল
তার মামার বাসায় থাকে । সাকিলের বাবা মা গ্রামে থাকে । সাকিল লিখা পড়ায় ভাল বলে মামা তাঁকে শহরে নিজের কাছে নিয়ে এসেছে । সাইন্সে পড়ে । ভাল ছাত্র । একেই এলাকায় সুমন নামের আর এক ছেলে আছে । সুমনের সাথে সাকিলের খুব ভাব । ভাল সম্পর্ক । কানিজের কোচিং এর সময় হলে সুমন তার পিছে পিছে যাবে ।
কানিজ দেখেও না দেখার ভান করে । আর যদি দেখা হয় কানিজ খুব মিষ্টি হেসে বলে সুমন ভাই ভাল আছেন । একেই মহল্লা তাই সবার সাথে সবার কথা কম বেশি হয় ।
সুমন বুঝতে পারলো কানিজ নিগারের বাসার স্যার তার জন্য সমস্যা । কিন্তু দুই স্যার কে কি করে কালার খাওয়াবে চিন্তায় পড়ে যায় । কানিজের প্রেমে পড়ে সুমনের লিখা পড়া খুব খারাপ হচ্ছে । কানিজের বাবা কে দেখে একদিন সুমন বলল - আঙ্কেল কেমন আছেন ।
-----ভাল সুমন । তুমি কেমন আছে ?
----- ভাল আছি কিন্তু একটা কথা আপনাকে না বললে চলে না ?
----- কি কথা সুমন ?
----- আপনি এবার অ্যান্টি কে বইলেন না ? তাহলে ঝগড়া লাগব ।
----- আচ্ছা বলব না। তুমি বল ?
------ আপনার বাসায় দুই জন স্যার আপনার মেয়ে কে পড়ায় কিন্ত একদিন আমি
হোটেলে চা খাচ্ছি দুই স্যারের পিছনে ছিলাম এমন এক কথা শুনেছি ।
----- কি কথা সুমন ?
----- দুই জন বাজি লাগছে যে আপনার মেয়ের সাথে ... আগে প্রেম করবে !!
-----তার পড় সুমন ?
----- না শুনে খুব খারাপ লাগলো । অ্যান্টি শুনলে তো দুই স্যার কে খুব ধুলাই দিবে
তাই আপনাকে বললাম । মাস্টার মানুষের রুচি এমন খারাপ । ছাত্রী নিয়ে কেউ
এমন বাজি ধরে । কানিজ কত ছোট মানুষ । সামনে কত সুন্দর ফিউচার ।
কানিজের বাবা বাসায় এসেই দুই স্যার কে বাদ দিয়ে দিল । নতুন একজন বয়স্ক ভাল স্যার রাখলো । দুই টিচার কিছু ই বুঝে উঠতে পারলো না।সুমন তো মহা খুশি । যাই হউক দারুন কাজ হয়েছে । সুমন কে এমন বুদ্ধি দিয়েছে সাকিল । তাই সাকিল কে
সে মিষ্টি খাওয়াতে নিয়ে গেল ।
সন্ধ্যায় সাকিল খুব পড়ায় ব্যস্ত । সামনে সে মেডিক্যাল বা বুয়েটে ভর্তি হবার জন্য খুব
প্রস্তুতি নিচ্ছে । সুমন সমাজ কল্যাণে অনার্স এ ভর্তি হয়েছে । কানিজের পরীক্ষা শেষ ।
সুমন কিছুইতেই কানিজ নিগার কে বলতে পারছে না তার মনের কথা ।
সাকিল কোন দিন কানিজ নিগার নিয়ে চিন্তা করে নাই ।
সুমনের খালাত বোন কে সুমন অনেক কষ্ট করে ম্যানেজ করেছে যে সে একটা চিঠি কানিজ কে দিতে চায় । যাই হউক । সাকিলের হাতের লিখা ভাল । তাই সুমন সাকিলের কাছে এসে বলল তাঁকে যেন ভাল করে একটা চিঠি লিখে দেয় ।
তখন বিচিত্রা পত্রিকায় প্রেমের চিঠি ছাপাতো । সাকিল সেই বিচিত্রা পত্রিকা আট নয়টা চিঠি দেখে একটা সুন্দর করে প্রেমের চিঠি লিখলো । সুমন তো চিঠি পড়ে মহা খুশি । এমন চিঠি যেই মেয়ে পড়বে তাঁকে প্রেমে পড়তে হবেই ।
সুমন সুন্দর একটা গোলাপি খামে তার জীবনের প্রথম প্রেমের চিঠি খালাত বোনের হাতে
কানিজ নিগারের কাছে পাঠাইলো । তখন সকাল ১১ টা বাজে ।
সাকিলের মন খুব ভাল এক সাথে মেডিক্যাল আর বুয়েটে চাঞ্জ পেয়েছে । আর মনটা একটু খারাপ কারন অনেক টাকা লাগবে । মামার পক্ষে এত টাকা দেয়া সম্ভব না ।
এমনেই মামী তাঁকে বেশি পছন্দ করে না। মামীর ধারনা গরীব মানুষের ছেলে এত লিখা পড়া করে কি হবে ? স্বামীর বোনের ছেলে ডাক্তার হ্ল্র তার কি ? স্বামীর তো টাকা নষ্ট । সাকিল খুব মন খারাপ করে বসে আছে । বিকাল পাঁচটা সুমনের মাকে কানিজ নিগারের বাবা ডেকে নিয়ে গেল সাথে সুমন । কানিজের নিগারের বাবা সুমন কে বলল তোমার কত সাহস আমার মেয়ে কে চিঠি লিখ । আর আপা আপনি তো আপনার ছেলে
কে একটু শাসন করতে পারেন । কানিজ বলল আপনার ছেলে নাকি রাস্তায় দেখা হলেই আমার মেয়ের সাথে ইচ্ছা করে কথা বলে, এটা তো ঠিক না।সুমনের মা খুব লজ্জা পেয়ে সুমনকে এক চর দিল । সুমন চর খেয়ে বলল এই চিঠি কি আমার লিখা নাকি ? আমি তো এই চিঠি দেই নাই ।
------ কানিজের বাবা তাহলে কে দিয়েছে ?
------ আমার বন্ধু সাকিল । হাজী সাহেবের ভাড়াটিয়া ।
------ ঠিক আছে দেখিছি ঐ ছেলের কত সাহস । কানিজের মা তুমি নুরু হাজী সাহেব
কে তার ভাড়াটিয়া ছেলে কে নিয়ে এখনি আসতে বল ?
সুমনের মা বলল আমি বলেছি আমার ছেলে এমন কাজ করতে পাড়ে না। বন্ধুর জন্য
এই কাজ করেছে । কানিজ পাশের ঘরে থেকে সব শুনছে আর হাসছে । সুমন কে সে এক চোখে দেখতে পাড়ে না। নুরু হাজী সাকিল আর তার মামা কে নিয়ে কানিজের বাসায় আসে । কানিজের বাবা তাদের বসতে দেয় । খুব রাগের চোখে সাকিলের দিকে তাকায় । হাজী সাব বলে কি ব্যাপার হটাত ডাকলেন কোন সমস্যা । কানিজ নিগারের
বাপ ছেলে বলে তুমি কি কর শুনি ?
সাকিল কিছু বলার আগেই সাকিলের মামা বলল ভাই জান । আমার বোনের ছেলে । আমার বাসায় থেকে পড়ে এবার সে মেডিক্যাল আর বুয়েটে চান্স পেয়েছে এখন যে কোন একটাতে পড়বে । গরীব ঘরের ছেলে কিন্তু ছাত্র হিসাবে সে খুবেই চমৎকার । ক্লাস ফাইফে , ক্লাস এইট বৃত্তি পেয়েছে । এস এস সি তেঁ ঢাকা বোর্ডে মেধা তালিকায় নাম আছে । আইচ এস সি তেঁ সে ফাস্ট হয়েছে । খুবেই ভাল ছেলে । কোন দিন কারো সাথে কন রকম বেয়াদবি করে নাই ।
কানিজ নিগারের বাবা তো ছেলের কোয়ালিটি শুনে খুবেই অবাক । এক মুহূর্তে কানিজ নিগারের বাপের মাথা থেকে রাগ নেমে গেল । ছেলে কে মাথা থেকে পা পর্যন্ত দেখল
এখন সে নিজে থেকেই বলল - হাজী সাহেব আপনি তো জানেন আমার একটি মাত্র মেয়ে। দেখতে আল্লার রহমতে আমার মায়ের মত হয়েছে । আজ থেকে আমি
সাকিলের সব দায়িত্ব নিলাম । তার সকল খরচ আমার । যদি বিদেশে যেতে চায় আমি পাঠাব । আমি তো এক কথার মানুষ আপনে জানেন । সাকিলের মামা বলল আপনি এই এলাকার সম্মানী ব্যাক্তি এটা আমারা সবাই জানি ।
কানিজ নিগারের বাবা বলল এই ছেলে আমি নিলাম আপনাদের কোন আপত্তি আছে । হাজী সাহেব আর সাকিলের মামা বলল এটা তো আমাদের জন্য সাকিলের জন্য আল্লার রহমত । কানিজের নিগারের মা কে ডেকে বলল আরে তুমি কোথায় গেলে যাও মিষ্টি নিয়ে এসো । সাকিলের ভর্তি কবে ।
সাকিলের মামা বলল আগামী কাল ।
---- আচ্ছা বাবা সাকিল এখন সব চিন্তা আমার ।
সবাই রাতে খেয়ে যাবেন । সাকিলের মামী কে ডেকে আনা হল । সাকিলের মামী বলতে
লাগলো আমি নিজের ছেলের মতো করে ওকে রেখেছি ।
সাকিলের সাথে কানিজ নিগারের বিয়ের তারিখ ঠিক হয়ে যায় ।
সাকিল কানিজ নিগারের বাপের গাড়িতে কানিজ নিগার কে নিয়ে কলেজে নামিয়ে সে তার মেডিক্যাল কলেজে যায় । কানিজ নিগার বলে আচ্ছা সাকিল আমি তোমাকে কোন দিন রাস্তায় তোমাকে দেখি নাই । কিন্তু তুমি আমার জন্য এত সুন্দর চিঠি কি করে লিখলে ? আমি তোমার চিঠি পড়ে প্রথমে ভুল বুঝে ছিলাম । ভাবছিলাম এটা শয়তান সুমনের চিঠি । সাকিল একটু হেসে বলে এমন কিছু শয়তান সুমন আছে বলেই আমার
মত সাকিল রা রাজ্য রাজ কন্যা এক সাথে পায় । কানিজ একটু হেসে বলে তোমার মধ্যে রাজ্য দখলের ক্ষমতা আছে বলেই তো রাজ্য কন্যা তোমার ।
সুমন মাঝে মাঝে এখন ওদের চেয়ে দেখে আর মনে মনে বলে কেন যে আমি সাকিলের নাম নিলাম । শ্যালা সাকিল আসলেই একটা জিনিয়াস । কানিজ নিগারের বাপ জিয়াস কি জিনিস ঠিকেই চিনে । একেই বলে ব্যবসায়ীর চোখ ।
লম্বা হয় । চোখ গুলো একটু মায়াবী হয় । মাথার চুল যদি বনলতার হয় তাহলে যে কেউ এই মেয়ের প্রেমে পড়বে । এমনি এক মেয়ে নাম কানিজ নিগার । কানিজ নিগার মানে
সবাই এক নামে চিনে । তার বাবা আবার এলাকায় খুব নাম ডাক । তাই কানিজ নিগার
কে সহজে কেউ প্রেমের অফার দিতে পাড়ে না। এবার কানিজ এস এস সি দিবে তাঁকে দুই জন স্যার পড়ায় । তারা দুই জনেই মনে মনে পছন্দ করে ।
কানিজ নিগার এখন বুঝতে শিখেছে যে সে সুন্দর তাই তার মধ্যে আলাদা একটা ভাব চলে এসেছে । আজ কাল চোখে কাজল পড়ে । একটু ডান বাম তাকায় ।
কানিজ নিগারের বাসার সামনে আজ কাল ছেলেদের আড্ডা হয় ।। মাঝে মাঝে ছাদে উঠে বিকালে । কানিজ নিগারের মহল্লায় সব চেয়ে ভাল ছেলে সাকিল । সে কোন মেয়েদের দিকে তাকায় না। একটা কলেজে পড়ে । একেই মহল্লায় থাকে তবে সাকিল
তার মামার বাসায় থাকে । সাকিলের বাবা মা গ্রামে থাকে । সাকিল লিখা পড়ায় ভাল বলে মামা তাঁকে শহরে নিজের কাছে নিয়ে এসেছে । সাইন্সে পড়ে । ভাল ছাত্র । একেই এলাকায় সুমন নামের আর এক ছেলে আছে । সুমনের সাথে সাকিলের খুব ভাব । ভাল সম্পর্ক । কানিজের কোচিং এর সময় হলে সুমন তার পিছে পিছে যাবে ।
কানিজ দেখেও না দেখার ভান করে । আর যদি দেখা হয় কানিজ খুব মিষ্টি হেসে বলে সুমন ভাই ভাল আছেন । একেই মহল্লা তাই সবার সাথে সবার কথা কম বেশি হয় ।
সুমন বুঝতে পারলো কানিজ নিগারের বাসার স্যার তার জন্য সমস্যা । কিন্তু দুই স্যার কে কি করে কালার খাওয়াবে চিন্তায় পড়ে যায় । কানিজের প্রেমে পড়ে সুমনের লিখা পড়া খুব খারাপ হচ্ছে । কানিজের বাবা কে দেখে একদিন সুমন বলল - আঙ্কেল কেমন আছেন ।
-----ভাল সুমন । তুমি কেমন আছে ?
----- ভাল আছি কিন্তু একটা কথা আপনাকে না বললে চলে না ?
----- কি কথা সুমন ?
----- আপনি এবার অ্যান্টি কে বইলেন না ? তাহলে ঝগড়া লাগব ।
----- আচ্ছা বলব না। তুমি বল ?
------ আপনার বাসায় দুই জন স্যার আপনার মেয়ে কে পড়ায় কিন্ত একদিন আমি
হোটেলে চা খাচ্ছি দুই স্যারের পিছনে ছিলাম এমন এক কথা শুনেছি ।
----- কি কথা সুমন ?
----- দুই জন বাজি লাগছে যে আপনার মেয়ের সাথে ... আগে প্রেম করবে !!
-----তার পড় সুমন ?
----- না শুনে খুব খারাপ লাগলো । অ্যান্টি শুনলে তো দুই স্যার কে খুব ধুলাই দিবে
তাই আপনাকে বললাম । মাস্টার মানুষের রুচি এমন খারাপ । ছাত্রী নিয়ে কেউ
এমন বাজি ধরে । কানিজ কত ছোট মানুষ । সামনে কত সুন্দর ফিউচার ।
কানিজের বাবা বাসায় এসেই দুই স্যার কে বাদ দিয়ে দিল । নতুন একজন বয়স্ক ভাল স্যার রাখলো । দুই টিচার কিছু ই বুঝে উঠতে পারলো না।সুমন তো মহা খুশি । যাই হউক দারুন কাজ হয়েছে । সুমন কে এমন বুদ্ধি দিয়েছে সাকিল । তাই সাকিল কে
সে মিষ্টি খাওয়াতে নিয়ে গেল ।
সন্ধ্যায় সাকিল খুব পড়ায় ব্যস্ত । সামনে সে মেডিক্যাল বা বুয়েটে ভর্তি হবার জন্য খুব
প্রস্তুতি নিচ্ছে । সুমন সমাজ কল্যাণে অনার্স এ ভর্তি হয়েছে । কানিজের পরীক্ষা শেষ ।
সুমন কিছুইতেই কানিজ নিগার কে বলতে পারছে না তার মনের কথা ।
সাকিল কোন দিন কানিজ নিগার নিয়ে চিন্তা করে নাই ।
সুমনের খালাত বোন কে সুমন অনেক কষ্ট করে ম্যানেজ করেছে যে সে একটা চিঠি কানিজ কে দিতে চায় । যাই হউক । সাকিলের হাতের লিখা ভাল । তাই সুমন সাকিলের কাছে এসে বলল তাঁকে যেন ভাল করে একটা চিঠি লিখে দেয় ।
তখন বিচিত্রা পত্রিকায় প্রেমের চিঠি ছাপাতো । সাকিল সেই বিচিত্রা পত্রিকা আট নয়টা চিঠি দেখে একটা সুন্দর করে প্রেমের চিঠি লিখলো । সুমন তো চিঠি পড়ে মহা খুশি । এমন চিঠি যেই মেয়ে পড়বে তাঁকে প্রেমে পড়তে হবেই ।
সুমন সুন্দর একটা গোলাপি খামে তার জীবনের প্রথম প্রেমের চিঠি খালাত বোনের হাতে
কানিজ নিগারের কাছে পাঠাইলো । তখন সকাল ১১ টা বাজে ।
সাকিলের মন খুব ভাল এক সাথে মেডিক্যাল আর বুয়েটে চাঞ্জ পেয়েছে । আর মনটা একটু খারাপ কারন অনেক টাকা লাগবে । মামার পক্ষে এত টাকা দেয়া সম্ভব না ।
এমনেই মামী তাঁকে বেশি পছন্দ করে না। মামীর ধারনা গরীব মানুষের ছেলে এত লিখা পড়া করে কি হবে ? স্বামীর বোনের ছেলে ডাক্তার হ্ল্র তার কি ? স্বামীর তো টাকা নষ্ট । সাকিল খুব মন খারাপ করে বসে আছে । বিকাল পাঁচটা সুমনের মাকে কানিজ নিগারের বাবা ডেকে নিয়ে গেল সাথে সুমন । কানিজের নিগারের বাবা সুমন কে বলল তোমার কত সাহস আমার মেয়ে কে চিঠি লিখ । আর আপা আপনি তো আপনার ছেলে
কে একটু শাসন করতে পারেন । কানিজ বলল আপনার ছেলে নাকি রাস্তায় দেখা হলেই আমার মেয়ের সাথে ইচ্ছা করে কথা বলে, এটা তো ঠিক না।সুমনের মা খুব লজ্জা পেয়ে সুমনকে এক চর দিল । সুমন চর খেয়ে বলল এই চিঠি কি আমার লিখা নাকি ? আমি তো এই চিঠি দেই নাই ।
------ কানিজের বাবা তাহলে কে দিয়েছে ?
------ আমার বন্ধু সাকিল । হাজী সাহেবের ভাড়াটিয়া ।
------ ঠিক আছে দেখিছি ঐ ছেলের কত সাহস । কানিজের মা তুমি নুরু হাজী সাহেব
কে তার ভাড়াটিয়া ছেলে কে নিয়ে এখনি আসতে বল ?
সুমনের মা বলল আমি বলেছি আমার ছেলে এমন কাজ করতে পাড়ে না। বন্ধুর জন্য
এই কাজ করেছে । কানিজ পাশের ঘরে থেকে সব শুনছে আর হাসছে । সুমন কে সে এক চোখে দেখতে পাড়ে না। নুরু হাজী সাকিল আর তার মামা কে নিয়ে কানিজের বাসায় আসে । কানিজের বাবা তাদের বসতে দেয় । খুব রাগের চোখে সাকিলের দিকে তাকায় । হাজী সাব বলে কি ব্যাপার হটাত ডাকলেন কোন সমস্যা । কানিজ নিগারের
বাপ ছেলে বলে তুমি কি কর শুনি ?
সাকিল কিছু বলার আগেই সাকিলের মামা বলল ভাই জান । আমার বোনের ছেলে । আমার বাসায় থেকে পড়ে এবার সে মেডিক্যাল আর বুয়েটে চান্স পেয়েছে এখন যে কোন একটাতে পড়বে । গরীব ঘরের ছেলে কিন্তু ছাত্র হিসাবে সে খুবেই চমৎকার । ক্লাস ফাইফে , ক্লাস এইট বৃত্তি পেয়েছে । এস এস সি তেঁ ঢাকা বোর্ডে মেধা তালিকায় নাম আছে । আইচ এস সি তেঁ সে ফাস্ট হয়েছে । খুবেই ভাল ছেলে । কোন দিন কারো সাথে কন রকম বেয়াদবি করে নাই ।
কানিজ নিগারের বাবা তো ছেলের কোয়ালিটি শুনে খুবেই অবাক । এক মুহূর্তে কানিজ নিগারের বাপের মাথা থেকে রাগ নেমে গেল । ছেলে কে মাথা থেকে পা পর্যন্ত দেখল
এখন সে নিজে থেকেই বলল - হাজী সাহেব আপনি তো জানেন আমার একটি মাত্র মেয়ে। দেখতে আল্লার রহমতে আমার মায়ের মত হয়েছে । আজ থেকে আমি
সাকিলের সব দায়িত্ব নিলাম । তার সকল খরচ আমার । যদি বিদেশে যেতে চায় আমি পাঠাব । আমি তো এক কথার মানুষ আপনে জানেন । সাকিলের মামা বলল আপনি এই এলাকার সম্মানী ব্যাক্তি এটা আমারা সবাই জানি ।
কানিজ নিগারের বাবা বলল এই ছেলে আমি নিলাম আপনাদের কোন আপত্তি আছে । হাজী সাহেব আর সাকিলের মামা বলল এটা তো আমাদের জন্য সাকিলের জন্য আল্লার রহমত । কানিজের নিগারের মা কে ডেকে বলল আরে তুমি কোথায় গেলে যাও মিষ্টি নিয়ে এসো । সাকিলের ভর্তি কবে ।
সাকিলের মামা বলল আগামী কাল ।
---- আচ্ছা বাবা সাকিল এখন সব চিন্তা আমার ।
সবাই রাতে খেয়ে যাবেন । সাকিলের মামী কে ডেকে আনা হল । সাকিলের মামী বলতে
লাগলো আমি নিজের ছেলের মতো করে ওকে রেখেছি ।
সাকিলের সাথে কানিজ নিগারের বিয়ের তারিখ ঠিক হয়ে যায় ।
সাকিল কানিজ নিগারের বাপের গাড়িতে কানিজ নিগার কে নিয়ে কলেজে নামিয়ে সে তার মেডিক্যাল কলেজে যায় । কানিজ নিগার বলে আচ্ছা সাকিল আমি তোমাকে কোন দিন রাস্তায় তোমাকে দেখি নাই । কিন্তু তুমি আমার জন্য এত সুন্দর চিঠি কি করে লিখলে ? আমি তোমার চিঠি পড়ে প্রথমে ভুল বুঝে ছিলাম । ভাবছিলাম এটা শয়তান সুমনের চিঠি । সাকিল একটু হেসে বলে এমন কিছু শয়তান সুমন আছে বলেই আমার
মত সাকিল রা রাজ্য রাজ কন্যা এক সাথে পায় । কানিজ একটু হেসে বলে তোমার মধ্যে রাজ্য দখলের ক্ষমতা আছে বলেই তো রাজ্য কন্যা তোমার ।
সুমন মাঝে মাঝে এখন ওদের চেয়ে দেখে আর মনে মনে বলে কেন যে আমি সাকিলের নাম নিলাম । শ্যালা সাকিল আসলেই একটা জিনিয়াস । কানিজ নিগারের বাপ জিয়াস কি জিনিস ঠিকেই চিনে । একেই বলে ব্যবসায়ীর চোখ ।
Thursday, May 12, 2016
রহস্য গল্প @ বাঘের বাপ
ইমুর মামার বিয়ে । ছোট মামা বলে কথা তাই তার বিয়েতে যেতে হবে । ইমুর মা আজ মহা খুশি কারন তার ছোট ভাইয়ের বিয়ে । ইমু এ বছরেই কলেজে উঠেছে ।
তার সব কিছু তেই রহস্য । রাঙ্গামাটি থেকে তাদের কিশোর গঞ্জ আসতে হবে ।
রাতে বাসে সবাই রাঙ্গামাটি থেকে ঢাকা ইমুর বড় মামার বাসায় । ইমুর মামাত ভাই রনি আর বোন রিনা । রনি বড় সে ক্লাস এইট আর বোন ছোট সে ক্লাস নাইন । ইমুর
বড় মামার এক শ্যালক আছে নাম কাঞ্চন মামা সে খুবেই মজার মানুষ । কাঞ্চন মামা কে ইমু পাওয়ার পড় তার মনটা ভাল হয়ে গেল । সারা দিন অনেক গল্প সবাই মিলে আর কত কি কেনা কাঁটা । দারুন ব্যস্ত সময় সবাই পার করছে ।
রিনা এসে ইমু কে বলল আচ্ছা ভাইয়া তুমি কি ভুত বিশ্বাস কর ।
----- ইমু একটু হেসে বলল দেখ আগে বিশ্বাস করতাম । এখন আর করি না।
------ আগে করতে ! এখন আর কর না কেন ?
------ আরে আমি সাইন্স নিয়ে পড়েছি তোদের মত কমার্স না বুঝলি ?
------ ইস আমার পড়ার ইচ্ছা ছিল । কিন্তু বাবা বলে ব্যাংকার হতে ।।
------ আমাদের ইচ্ছার কোন মুল্য নেই কোন দাম নেই ।
কাঞ্চন মামা এসে বলল ঠিক বলেছ ভাগিনা । কারন তোমার তোমার বাবার বাবা
তা তোমার বাবা কে শিখাই নাই । তোমার দাদা যা ভাল মনে করেছে ছেলের জন্য তাই করেছে । এখন তোমার বাবা যা ভাল মনে করবে তাই তোমার করতে হবে । এই জন্যই
এ জাতির আজ এ অবস্তা । সবাই বলল ঠিক বলেছ মামা ।ইমু বলল আচ্ছা ছোট মামা তোমার ছোট সে তোমার আগে বিয়ে করছে কেন ?
------ আরে তোমাদের ছোট মামা সে তার বাবার কথা মত বিয়ে করছে । আমি তো
আমার বাবার কথা কোন কালেই শুনি নাই। তাই বিয়ে করব আমি আমার ইচ্ছায় ।
তোমার ছোট মামার বিয়েতে খরচ হবে পাঁচ লাখ টাকা আর আমার বিয়েতে খরচ
হবে মাত্র পাঁচ হাজার টাকা । ইমু বলল মানে কি মামা মাত্র পাঁচ হজার টাকা ?
আরে আমি যাকে পছন্দ করব তাঁকে নিয়ে নিয়ে কাজী অফিসে যাব । বাসায় মিষ্টি নিয়ে
চলে আসব । আমার বিয়ে মানুষ কেন খাবে । দরকার পরলে একদিন এতিম খানায়
সব এতিম অথাবা সব ফকির দাওয়াত করে খাওয়ে দিব । ইমু বলল চমৎকার মামা আমিও তোমার মতো হব । দেশের কত টাকা বাজবে ।
ইমুর আব্বু একটু রাগী মানুষ । বিয়ের সব কেনা কাঁটা শেষ করে একটা মাইক্রো নিয়ে
রাত নয়টায় ঢাকা থেকে রওনা দিল । নরসিংদী ইটা খোলা দিয়ে মঠ খোলার রাস্তা দিয়ে মাইক্রো যাচ্ছে । ঢাকার রাস্তায় অনেক ভীর থাকায় খুব রাত হয়ে গেল ।
তখন রাত একটা কি দেড়টা বাজে । কিশোর গঞ্জ শহর আরও ১৫ কিমিঃ দূর হবে । গ্রামের রাস্তা তবে পাকা । হটাৎ গাড়ি নষ্ট । স্টার্ট নিচ্চে না। খুব অন্ধকার চার দিক ।
ইমু আর কাঞ্চন মামা মিলে মোবাইল এ গেইম গেলছে । বড় মামা আর ইমুর আব্বু গাড়ি চালক খুব চেষ্টা করছে । কিন্তু আশপাশে কেউ নাই । আর কোন গাড়ি ও আসছে না। এমন সময় হাতে লাঠি ভর দিয়ে একটা বৃদ্ধা মানুষ কোথায় থেকে যেন আসছে । মাথায় একটা পাগড়ী বাঁধা । গাড়ির কাছে এসে বলল - বাবাজিরা কোন গ্রামে যাবেন ।
ইমুর বাবা বলল চাচা এত রাতে কোথায় থেকে আসলেন । আর কোথায় যাবেন ।
বৃদ্ধা বলল - রাতে ঘুম আসে না। তাই একা একা হাটি । এখন বয়স হয়েছে ।
আমি বৃদ্ধা মানুষ আমার কথা কে দাম দেয় । তাই রাতের বেলা হাটি ।
ইমুর বাবা বলল ধারে কাছে কোথাও গাড়ির ম্যাকানিক পাওয়া যাবে ।
বৃদ্ধা বলল কি হইছে গাড়ি ?
চালক বলল আরে চাচা নষ্ট হয়েছে দেখছেন না। না হয় কি কেউ রাতের বেলায়
গাড়ি থামায় । বৃদ্ধা বলল আমি বয়স্ক মানুষ এতো কিছু কি বুঝি ।
ইমুর মামা একটু বিরক্ত হয়ে বলল - আপনার নাম কি চাচা ।
বৃদ্ধা বলল আরে মিয়া আমার নাম শুনলে তো ভয় পাইবা । আমাকে সবাই বাঘের বাপ বলে ডাকে ।
------ ও আপনি বাঘের বাপ । আগে বলবেন তো । নাম শুনে আমার ভয় লাগছে ।
------ বৃদ্ধা বলল আরে মিয়া এই আশপাশ যদি জমি দেখ সব আমার । আমি ধান
পাহারা দেই । কেউ যেন চুরি ডাকাতি না করে ।
------ ডাকাতের কথা শুনে ইমুর মামা আর বাবা সবাই একটু ভয় পেল । কাঞ্চন মামা
গাড়ি থেকে নেমে বৃদ্ধা কে বলল চাচা বলুন যাওয়ার উপায় । আপনি সম্মানী মুরুব্বী মানুষ । আপনি আমাদের এই এলাকার আশা ।
----- বৃদ্ধা বলল আগেই ভাল করে বললে হত । এই মিয়া গাড়ির ড্রাইভার যাও গাড়ি টে
উঠ । চাবি লাগাও । ড্রাইভার চাবি লাগিয়ে স্টার্ট নিয়ে লিল । বৃদ্ধা লোকটা বলল
পোলাপান আদব কায়দা নাই । বাঘের পাপের সামনে দিয়ে গাড়ি চালায়ে যায় ।
গাড়ি সবাই চুপ করে রইল । গাড়ি কিশোর গঞ্জ শহরে আসলো । শহর একদম নীরব । শহর থেকে ইমুদের গ্রামের বাড়ি আরও ১০ কিমি দূর । তখন গাড়ি যাচ্ছে আরও প্রায়
তিন কিলোমিটার বাকি ঠিক এমন সময় ইমুর বড় মামা বলল বুইরা বেটা কি ধমক দিল দেখলেন এই কথা বলার সাথে সাথে গাড়ি বন্ধ । ড্রাইভার বলল সাব কেন লোকটাকে ছোট করে দেখছেন । রাইত বিরাইতের ব্যাপার । এখন মানুষ পাব কোথায় । ইমুর মামা গাড়ি থেকে নেমে বলল - ঐ লোকটা ছিল কুফা । নাম নেওয়া মাত্র গাড়ি
বন্ধ । ইমু বলল মামা আপনি একটা মানুষ কে না জেনে কুফা বলছেন এখন কিন্তু সত্যি
সত্যি কুফা লাগলো । ইমুর মামা সিগারেট ধরালো । চালক খুব চেষ্টা করে বলল স্যার মেকানিক ছাড়া সম্ভব না। কাঞ্চন বলল দুলা ভাই জায়গা তা তো ভাল না । এই খানে ডাকাতি হয় । কিছুই করার নাই ।
প্রায় এক ঘণ্টা হয়ে গেল । ইমুর মামা খুব চেষ্টা করছে মোবাইল করে । কিন্তু সবার মোবাইল বন্ধ । কাজেই নয়া বাজার । সেই খানে আলি মিস্ত্রি থাকে কিন্তু তার মোবাইল ও বন্ধ । ইমুর বাবা বলল ভাইজান লাঠি ভর করে কে জানি আসছে ।
আরে সেই বাঘের বাপ । ইমুর মামা একদম চুপ । একটু একটু ভয় ও পাচ্ছে ।
সেই বৃদ্ধা বলল - কি হইছে একবার না ঠিক করে দিলাম । ইমুর মামা বলল বাবা ভুল হয়েছে । বাচ্চা গুলো নিয়ে কষ্ট করছি ।
বৃদ্ধা বলল বাঘের বাপের নাম আদবের সহিত নিতে হয় । এখন তো গাড়ি ঠিক হবে না। ইমু বলল দাদা ভাই আপনি কি হেঁটে হেঁটে এত পথ আসলেন ।
----- আরে নাতি রাতের বেলা যাচ্ছ রাস্তায় চোর ডাকাত যদি কেউ ধরে তাহলে
তাই দেখতে আসলাম ।
----- দাদা আমাদের বাড়ি সামনের বাজারের পড়েই ।
----- আচ্ছা দেখি এই আখ খেতে আমার দুই নাতি পাহারা দেয় তাদের পাই কিনা ?
ইমুর বড় মামাকে বলল গাড়ি ধক্কা দিয়ে বাজার পর্যন্ত দিলেই হবে তো ।
ইমুর বড় মামা বলল জি চাচা হবে । বৃদ্ধা বলল আচ্ছা দাড়াও নাতি গো ডাকি
এই বলে ডাকতে শুরু করল । ওরে মলাই মঙ্গল এই দিকে আয় । এমন সময় আখ খেত থেকে দুই জন বের হয়ে আসলো । বাঘের বাপের সামনে এসে চুপ করে দাঁড়ালো
বাঘের বাপ বলল নাতি গাড়ি টা ধাক্কা দিয়ে বাজারের পোল পর্যন্ত নিয়ে যাও । বাঘের
বাপ ইমুর মামাকে বলল বাবা গাড়ির ভিতরে যাও । দুই জন মিলে গাড়ি ধাক্কা দিতে লাগলো । কিছু দূর যাইতেই গাড়ি চালু হয়ে গেল । ইমুর মামা কিছু টাকা দিতে চাইলে তারা নিল না। গাড়ি বাজারের ভিতরে আসতেই আবার নষ্ট । কোন মানুষ নাই ।
সারা বাজার চুপ চাপ , এমন কি কুকুর পর্যন্ত নাই । এমন সময় এক নাইট গার্ড রমজান মিয়া এসে বলল কোন বাড়িতে যাবেন ।
ইমুর মামা বলল ঐ যে সামনের তালুকদার বাড়িতে । রমজান মিয়া বলল তাহলে গাড়ি থাক চলুন এগিয়ে দিয়ে আসে । গাড়ি রেখে সবাই নামলো । রমজান মিয়া বাড়ির সামনা
পর্যন্ত হেঁটে এগিয়ে দিয়ে আসলো ।
ইমুর মামা রমজান কে বলল ভাই ভিতরে আসুন । রমজান বলল আরে বাজার
খালি তো , মলাই আর মঙ্গল চোর আমাকে চ্যালেজ দিছে এই বাজারে চুরি করবে
কিন্তু আমিও চ্যালেঞ্জ গ্রহন করেছি । আপনারা জান সকালে কথা হবে , বিশ্রাম করুন গিয়ে ।
সকাল বেলা তো সবাই অবাক কারন রমজান নাইট গার্ড আজ থেকে ১০ বছর আগে
এই বাজারে নাইট গার্ড হিসাবে ছিল । কে বা কারা তাঁকে মেরে ১০ বছর আগে সব দোকানে চুরি করে নিয়ে যায় । অনেক দিন পড়ে মলাই আর মঙ্গল চোর সেই খুনের
জন্য পুলিশে কাছে ধরা খায় তাদের ফাঁসি হয় । মলাই আর মঙ্গল খুব শক্তি শালী মানুষ
ছিল তারা চোরি ডাকাতি করত ।
ইমু এই সব শুনে খুব ভয় পাইল , বাঘের বাপ কে কেউ চিনতে পারলো না। তবে
৭০ থেকে ৮০ বছর আগে এক সাহসী কৃসক ছিল বাঘের বাপ । সে রাতে বেলা হেঁটে হেঁটে জমি পাহারা দিত । কেউ রাতে কোন বিপদে পরলে তাঁকে বাড়ি পর্যন্ত হেঁটে পৌঁছে দিত । এই কথা এক বয়স্ক মানুষ বলেছে । এর পড় থেকে ইমুর মামা আর সন্ধ্যার পড়
ঘর থেকে বের হয় না......।
Subscribe to:
Comments (Atom)


