Thursday, May 12, 2016
রহস্য গল্প @ বাঘের বাপ
ইমুর মামার বিয়ে । ছোট মামা বলে কথা তাই তার বিয়েতে যেতে হবে । ইমুর মা আজ মহা খুশি কারন তার ছোট ভাইয়ের বিয়ে । ইমু এ বছরেই কলেজে উঠেছে ।
তার সব কিছু তেই রহস্য । রাঙ্গামাটি থেকে তাদের কিশোর গঞ্জ আসতে হবে ।
রাতে বাসে সবাই রাঙ্গামাটি থেকে ঢাকা ইমুর বড় মামার বাসায় । ইমুর মামাত ভাই রনি আর বোন রিনা । রনি বড় সে ক্লাস এইট আর বোন ছোট সে ক্লাস নাইন । ইমুর
বড় মামার এক শ্যালক আছে নাম কাঞ্চন মামা সে খুবেই মজার মানুষ । কাঞ্চন মামা কে ইমু পাওয়ার পড় তার মনটা ভাল হয়ে গেল । সারা দিন অনেক গল্প সবাই মিলে আর কত কি কেনা কাঁটা । দারুন ব্যস্ত সময় সবাই পার করছে ।
রিনা এসে ইমু কে বলল আচ্ছা ভাইয়া তুমি কি ভুত বিশ্বাস কর ।
----- ইমু একটু হেসে বলল দেখ আগে বিশ্বাস করতাম । এখন আর করি না।
------ আগে করতে ! এখন আর কর না কেন ?
------ আরে আমি সাইন্স নিয়ে পড়েছি তোদের মত কমার্স না বুঝলি ?
------ ইস আমার পড়ার ইচ্ছা ছিল । কিন্তু বাবা বলে ব্যাংকার হতে ।।
------ আমাদের ইচ্ছার কোন মুল্য নেই কোন দাম নেই ।
কাঞ্চন মামা এসে বলল ঠিক বলেছ ভাগিনা । কারন তোমার তোমার বাবার বাবা
তা তোমার বাবা কে শিখাই নাই । তোমার দাদা যা ভাল মনে করেছে ছেলের জন্য তাই করেছে । এখন তোমার বাবা যা ভাল মনে করবে তাই তোমার করতে হবে । এই জন্যই
এ জাতির আজ এ অবস্তা । সবাই বলল ঠিক বলেছ মামা ।ইমু বলল আচ্ছা ছোট মামা তোমার ছোট সে তোমার আগে বিয়ে করছে কেন ?
------ আরে তোমাদের ছোট মামা সে তার বাবার কথা মত বিয়ে করছে । আমি তো
আমার বাবার কথা কোন কালেই শুনি নাই। তাই বিয়ে করব আমি আমার ইচ্ছায় ।
তোমার ছোট মামার বিয়েতে খরচ হবে পাঁচ লাখ টাকা আর আমার বিয়েতে খরচ
হবে মাত্র পাঁচ হাজার টাকা । ইমু বলল মানে কি মামা মাত্র পাঁচ হজার টাকা ?
আরে আমি যাকে পছন্দ করব তাঁকে নিয়ে নিয়ে কাজী অফিসে যাব । বাসায় মিষ্টি নিয়ে
চলে আসব । আমার বিয়ে মানুষ কেন খাবে । দরকার পরলে একদিন এতিম খানায়
সব এতিম অথাবা সব ফকির দাওয়াত করে খাওয়ে দিব । ইমু বলল চমৎকার মামা আমিও তোমার মতো হব । দেশের কত টাকা বাজবে ।
ইমুর আব্বু একটু রাগী মানুষ । বিয়ের সব কেনা কাঁটা শেষ করে একটা মাইক্রো নিয়ে
রাত নয়টায় ঢাকা থেকে রওনা দিল । নরসিংদী ইটা খোলা দিয়ে মঠ খোলার রাস্তা দিয়ে মাইক্রো যাচ্ছে । ঢাকার রাস্তায় অনেক ভীর থাকায় খুব রাত হয়ে গেল ।
তখন রাত একটা কি দেড়টা বাজে । কিশোর গঞ্জ শহর আরও ১৫ কিমিঃ দূর হবে । গ্রামের রাস্তা তবে পাকা । হটাৎ গাড়ি নষ্ট । স্টার্ট নিচ্চে না। খুব অন্ধকার চার দিক ।
ইমু আর কাঞ্চন মামা মিলে মোবাইল এ গেইম গেলছে । বড় মামা আর ইমুর আব্বু গাড়ি চালক খুব চেষ্টা করছে । কিন্তু আশপাশে কেউ নাই । আর কোন গাড়ি ও আসছে না। এমন সময় হাতে লাঠি ভর দিয়ে একটা বৃদ্ধা মানুষ কোথায় থেকে যেন আসছে । মাথায় একটা পাগড়ী বাঁধা । গাড়ির কাছে এসে বলল - বাবাজিরা কোন গ্রামে যাবেন ।
ইমুর বাবা বলল চাচা এত রাতে কোথায় থেকে আসলেন । আর কোথায় যাবেন ।
বৃদ্ধা বলল - রাতে ঘুম আসে না। তাই একা একা হাটি । এখন বয়স হয়েছে ।
আমি বৃদ্ধা মানুষ আমার কথা কে দাম দেয় । তাই রাতের বেলা হাটি ।
ইমুর বাবা বলল ধারে কাছে কোথাও গাড়ির ম্যাকানিক পাওয়া যাবে ।
বৃদ্ধা বলল কি হইছে গাড়ি ?
চালক বলল আরে চাচা নষ্ট হয়েছে দেখছেন না। না হয় কি কেউ রাতের বেলায়
গাড়ি থামায় । বৃদ্ধা বলল আমি বয়স্ক মানুষ এতো কিছু কি বুঝি ।
ইমুর মামা একটু বিরক্ত হয়ে বলল - আপনার নাম কি চাচা ।
বৃদ্ধা বলল আরে মিয়া আমার নাম শুনলে তো ভয় পাইবা । আমাকে সবাই বাঘের বাপ বলে ডাকে ।
------ ও আপনি বাঘের বাপ । আগে বলবেন তো । নাম শুনে আমার ভয় লাগছে ।
------ বৃদ্ধা বলল আরে মিয়া এই আশপাশ যদি জমি দেখ সব আমার । আমি ধান
পাহারা দেই । কেউ যেন চুরি ডাকাতি না করে ।
------ ডাকাতের কথা শুনে ইমুর মামা আর বাবা সবাই একটু ভয় পেল । কাঞ্চন মামা
গাড়ি থেকে নেমে বৃদ্ধা কে বলল চাচা বলুন যাওয়ার উপায় । আপনি সম্মানী মুরুব্বী মানুষ । আপনি আমাদের এই এলাকার আশা ।
----- বৃদ্ধা বলল আগেই ভাল করে বললে হত । এই মিয়া গাড়ির ড্রাইভার যাও গাড়ি টে
উঠ । চাবি লাগাও । ড্রাইভার চাবি লাগিয়ে স্টার্ট নিয়ে লিল । বৃদ্ধা লোকটা বলল
পোলাপান আদব কায়দা নাই । বাঘের পাপের সামনে দিয়ে গাড়ি চালায়ে যায় ।
গাড়ি সবাই চুপ করে রইল । গাড়ি কিশোর গঞ্জ শহরে আসলো । শহর একদম নীরব । শহর থেকে ইমুদের গ্রামের বাড়ি আরও ১০ কিমি দূর । তখন গাড়ি যাচ্ছে আরও প্রায়
তিন কিলোমিটার বাকি ঠিক এমন সময় ইমুর বড় মামা বলল বুইরা বেটা কি ধমক দিল দেখলেন এই কথা বলার সাথে সাথে গাড়ি বন্ধ । ড্রাইভার বলল সাব কেন লোকটাকে ছোট করে দেখছেন । রাইত বিরাইতের ব্যাপার । এখন মানুষ পাব কোথায় । ইমুর মামা গাড়ি থেকে নেমে বলল - ঐ লোকটা ছিল কুফা । নাম নেওয়া মাত্র গাড়ি
বন্ধ । ইমু বলল মামা আপনি একটা মানুষ কে না জেনে কুফা বলছেন এখন কিন্তু সত্যি
সত্যি কুফা লাগলো । ইমুর মামা সিগারেট ধরালো । চালক খুব চেষ্টা করে বলল স্যার মেকানিক ছাড়া সম্ভব না। কাঞ্চন বলল দুলা ভাই জায়গা তা তো ভাল না । এই খানে ডাকাতি হয় । কিছুই করার নাই ।
প্রায় এক ঘণ্টা হয়ে গেল । ইমুর মামা খুব চেষ্টা করছে মোবাইল করে । কিন্তু সবার মোবাইল বন্ধ । কাজেই নয়া বাজার । সেই খানে আলি মিস্ত্রি থাকে কিন্তু তার মোবাইল ও বন্ধ । ইমুর বাবা বলল ভাইজান লাঠি ভর করে কে জানি আসছে ।
আরে সেই বাঘের বাপ । ইমুর মামা একদম চুপ । একটু একটু ভয় ও পাচ্ছে ।
সেই বৃদ্ধা বলল - কি হইছে একবার না ঠিক করে দিলাম । ইমুর মামা বলল বাবা ভুল হয়েছে । বাচ্চা গুলো নিয়ে কষ্ট করছি ।
বৃদ্ধা বলল বাঘের বাপের নাম আদবের সহিত নিতে হয় । এখন তো গাড়ি ঠিক হবে না। ইমু বলল দাদা ভাই আপনি কি হেঁটে হেঁটে এত পথ আসলেন ।
----- আরে নাতি রাতের বেলা যাচ্ছ রাস্তায় চোর ডাকাত যদি কেউ ধরে তাহলে
তাই দেখতে আসলাম ।
----- দাদা আমাদের বাড়ি সামনের বাজারের পড়েই ।
----- আচ্ছা দেখি এই আখ খেতে আমার দুই নাতি পাহারা দেয় তাদের পাই কিনা ?
ইমুর বড় মামাকে বলল গাড়ি ধক্কা দিয়ে বাজার পর্যন্ত দিলেই হবে তো ।
ইমুর বড় মামা বলল জি চাচা হবে । বৃদ্ধা বলল আচ্ছা দাড়াও নাতি গো ডাকি
এই বলে ডাকতে শুরু করল । ওরে মলাই মঙ্গল এই দিকে আয় । এমন সময় আখ খেত থেকে দুই জন বের হয়ে আসলো । বাঘের বাপের সামনে এসে চুপ করে দাঁড়ালো
বাঘের বাপ বলল নাতি গাড়ি টা ধাক্কা দিয়ে বাজারের পোল পর্যন্ত নিয়ে যাও । বাঘের
বাপ ইমুর মামাকে বলল বাবা গাড়ির ভিতরে যাও । দুই জন মিলে গাড়ি ধাক্কা দিতে লাগলো । কিছু দূর যাইতেই গাড়ি চালু হয়ে গেল । ইমুর মামা কিছু টাকা দিতে চাইলে তারা নিল না। গাড়ি বাজারের ভিতরে আসতেই আবার নষ্ট । কোন মানুষ নাই ।
সারা বাজার চুপ চাপ , এমন কি কুকুর পর্যন্ত নাই । এমন সময় এক নাইট গার্ড রমজান মিয়া এসে বলল কোন বাড়িতে যাবেন ।
ইমুর মামা বলল ঐ যে সামনের তালুকদার বাড়িতে । রমজান মিয়া বলল তাহলে গাড়ি থাক চলুন এগিয়ে দিয়ে আসে । গাড়ি রেখে সবাই নামলো । রমজান মিয়া বাড়ির সামনা
পর্যন্ত হেঁটে এগিয়ে দিয়ে আসলো ।
ইমুর মামা রমজান কে বলল ভাই ভিতরে আসুন । রমজান বলল আরে বাজার
খালি তো , মলাই আর মঙ্গল চোর আমাকে চ্যালেজ দিছে এই বাজারে চুরি করবে
কিন্তু আমিও চ্যালেঞ্জ গ্রহন করেছি । আপনারা জান সকালে কথা হবে , বিশ্রাম করুন গিয়ে ।
সকাল বেলা তো সবাই অবাক কারন রমজান নাইট গার্ড আজ থেকে ১০ বছর আগে
এই বাজারে নাইট গার্ড হিসাবে ছিল । কে বা কারা তাঁকে মেরে ১০ বছর আগে সব দোকানে চুরি করে নিয়ে যায় । অনেক দিন পড়ে মলাই আর মঙ্গল চোর সেই খুনের
জন্য পুলিশে কাছে ধরা খায় তাদের ফাঁসি হয় । মলাই আর মঙ্গল খুব শক্তি শালী মানুষ
ছিল তারা চোরি ডাকাতি করত ।
ইমু এই সব শুনে খুব ভয় পাইল , বাঘের বাপ কে কেউ চিনতে পারলো না। তবে
৭০ থেকে ৮০ বছর আগে এক সাহসী কৃসক ছিল বাঘের বাপ । সে রাতে বেলা হেঁটে হেঁটে জমি পাহারা দিত । কেউ রাতে কোন বিপদে পরলে তাঁকে বাড়ি পর্যন্ত হেঁটে পৌঁছে দিত । এই কথা এক বয়স্ক মানুষ বলেছে । এর পড় থেকে ইমুর মামা আর সন্ধ্যার পড়
ঘর থেকে বের হয় না......।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment