সকাল থেকে আকাশটা মেঘ
মেঘ । আর যে গরম একটু বৃষ্টি হলে ভাল হত । রিক্সা টা সাইড করে টং দোকান
থেকে এক কাপ চা একটা নুনতা বিস্কুট আর এক গ্লাস পানি খেয়ে নিল । শরীরের
ঘামটা মুছে একটা খেপের জন্য অপেক্ষা করছে । পড়নে লঙ্গি খালি গা একটা গামছা
শরীরে ঝুলানো । এর মধ্য একজন ডাক দেয় এই খালি মহা খালি যাবে । মালিবাগ থেকে
মহা খালি ভাড়া টা চুকিয়ে যাত্রী তুলল । কিছু দূর যেতেই যাত্রী ভদ্র লোক
বলল ড্রাইভার তোমাকে চেনা চেনা লাগছে । তোমার নাম কি ?
---৫৫ বছরের চালক বলল আমার নাম রমিজ ।
--- ৩০ বছরের যুবক বলল । তোমার নাম রমিজ ।
--- হা স্যার আমার নাম রমিজ ।
--- তোমার বাড়ি
--- আমার বাড়ি কিশোর গঞ্জ জেলার করিম গঞ্জ থানার খুদি জঙ্গল বাড়ি ।
কেন স্যার ? আপনার বাড়ি কোথায় ।
--- আপনার এলাকায় ।
--- স্যার রিক্সা চালকে খুব কম মানুষ আপনে করে বলে । আগে তুমি
বলছেন আর এখন আপনি করে বলছেন !
---- আমি মহা খালি যাব না । আপনি আমাকে খিলগাঁও নিয়ে যান ।
ভাড়া যা চান দিব । একটু ভুল করে চলে আসছি । আপনার ছেলে মেয়ে
সংসার নাই ।
--- না স্যার । কিছুই নাই । এখন
--- কেন বিয়ে শাদী করেন নাই ।
---- স্যার এই বিষয় নিয়ে কোন কথা বলব না ।
--- কেন
--- মানুষের জিবনে অনেক ঘটনা আছে । কিছু বলা যায় কিছু বলা যায় না।
---- ঢাকা কোথায় থাকেন ।
---- মিরহাজারি বাগ ।
--- কে কে আছে ।
---- আমি আর আমার বুড়া মা ।
---- ভাল । তাহলে বলবেন না ।
---- না স্যার । বলব না ।
---- আমাকে কি চেনা যায় ।
---- ঘার ফিরিয়ে দেখল আর একবার না স্যার চিনতে পারলাম না।
---- ভাল করে দেখেছেন ।
--- জি স্যার । দেখেছি । কিন্তু চিনতে পারি নাই । আপনার বাড়ী কি
আমাদের জেলায় ।
--- হ্যা । আপনাদের জেলায় । তা বাড়িতে যান না কত বছর ।
---- এই তো তেইশ বছর হল ।
--- কারো কথা মনে পড়ে না ।
--- আমার খবর কেউ নেয় না । আমি কার খবর নিব । স্যার আপনি কে ?
কি করেন ? মনে হয় সরকারি চাকুরি করেন ।
--- হে আপনি ঠিক বলেছেন । আমি ইঞ্জিনিয়ার । রিক্সা চালানোর আগে
কি করতেন ।
-----রিক্সা চালাবার আগে জুট মিলে চাকুরি করতাম পলাশ থানায় ।
----- তার পর ।
----- তার পর আর বলতে চাই না । আপনি খারাপ মনে করবেন ।
----- না মনে করব না বলুন ।
----- চাকুরি করা অবস্তায় এক স্যারের কথায় জুট মিলের কিছু পাট ট্রাকে তুলে দেই
। পড়ে পুলিশ চুরির অভিযোগ আমাকে এরেস্ট করে । যে স্যারের কথায় কাজ করলাম সেই
স্যার আমাকে পুলিশে দেয় । ৫ বছর জেল খেটে বের হই ।
গ্রামে যেয়ে আর
স্ত্রী পুত্র কে পাই না । শ্বশুর বাড়ি যাই তারাও বলে জানে না। জুট মিল
এলাকায় যাই । তাদের আর পাই না । পরে চলে যাই চিটাগাং । সেই খানে ১২ বছর
থাকি । পরে ছোট ভাই ঢাকা নিয়ে আসে । এখন সে বিয়ে
করে আলাদা আর আমি মা কে নিয়ে আলাদা থাকি ।
---- আপনি ছেলে কে আর পান নাই্ন?
---- না আর পাই নাই । অনেক বার তার মামাদের সাথে যোগাযোগ করেছি । বিচার
বসাইছি কিন্তু তারা আসে নাই সেই বিচারে । তারা আরও বলে আমার নামে মামলা করবে আমি নাকি ওদের বোন কে মেরে
ফেলেছি । স্যার কাউকে বলতে চাই না । মানুষ হিসাবে
আমি খুব খারাপ । মিথ্যা মামলা জেল খাটা মানুষ কিন্তু মানুষ মনে করে আমি চোর । সব মিলাইয়া আজও খুব কষ্ট পাই ।
স্যার আমার বউ কিন্তু অনেক সুন্দর ছিল । আমি বিয়া করেছিলাম নান্দাইল ।
এটা ।
--- আপনার ছেলের নাম কি ছিল ?
--- আমার ছেলেটা তার মায়ের রঙ পাইছিল নাম রাখছিলাম নয়ন । নয়ন
ছিল স্যার নয়নের মত সুন্দর । মেইল গেইটে ছুটির সময় আমার জন্য চলে আসত আমার ছেলে । কুলে করে তাকে বাসায় নিয়ে যেতাম । আমার ছেলে নাবিস্কু চকলেট খুব পছন্দ করত ।
রিক্সার যুবক বলল- আপনার জীবন টা যেই লোক নষ্ট করল তাকে কি আপনি এখন চিনবেন ?
---- স্যার কেয়ামত পর্যন্ত চিনব । তবে ঐ লোক টাকে আমি ভুলব না কোন দিন ।
---- আপনি তাকে পেলে কি করবেন ?
---- আমি কি আর করব ? গরীব মানুষ । তবে একটা চর দেয়ার ইচ্ছা আছে ।
স্যার আমি আমার জীবনের কথা কাউকে বলি না। আজ ও বলতে চাই নাই । কিন্তু কথার ফাকে চলে আসছে ।
কথায় কথায় রিক্সা চলে এসেছে খিলগাঁ । গরমে শরীর দিয়ে ঘাম বেয়ে পড়ছে রমিজের ।
রিক্সায় বসা ছেলেটা রিক্সা থেকে নেমে রমিজ মিয়ার দিকে ফেল ফেল করে তাকিয়ে আছে আর চোখের পানি রাখতে পারছে না । রমিজ মিয়া বলে স্যার আপনার চোখে পানি কেন ? যুবক রমিজ মিয়া কে জরিয়ে ধরে বলে আমি
আপনার ছেলে নয়ন । রমিজ মিয়া বলে স্যার আমার সাথে মিছা কথা বলে কেন আমাকে কষ্ট দিচ্ছেন । নয়ন রমিজ মিয়া কে বলে আমার সাথে বাসার ভিতরে একটু আসুন । আপনার সব প্রশ্নের উত্তর মিলে যাবে । নয়ন চোখের মুছতে মুছতে দারোয়ান কে ডেকে বলল এই রিক্সা টা খেয়াল রাখো । রমিজ মিয়া কে সাথে বিশাল একটা দালানে উঠে নয়ন। লিফট থেকে নেমে একটা ফ্ল্যাটে প্রবেশ
করে সাথে রমিজ মিয়া । রিক্সা চালক রমিজ মিয়া অবাক হয়ে দেখে তার বউ সীমা । সে নিজের চোখে বিশ্বাস করতে পারছে না । ছেলে বলে এখন তো বিশ্বাস হল যে আমি আপনার ছেলে নয়ন । নয়ন তার মাকে বলে ।।
মা আমাকে কোন চোরে জন্ম দেয় নাই । আমি কোন চোরের ছেলে না । রমিজ মিয়া কে
পাশের ঘরে নিয়ে যায় । রমিজ মিয়া দেখে বিছানায় একটা প্যারালাইস মানুষ শুয়ে আছে ।
রমিজ মিয়া বলে বাবা মরা মানুষ কে কি আর বলব । তবে এই মানুষটা যাই করুক
তোমাকে মানুষের মত মানুষ করেছে । আল্লাহ তাকে মাপ করুক । রমিজ মিয়া বুঝতে পারল সব কিছুই ।
নয়ন তার মাকে
বলল - মা তোমাকে দেখার মত তোমার আরও দুই ছেলে আছে । রমিজ মিয়া এখন ঠিক বুঝে
গেছে এই ম্যানেজার তার বউ কে পাওয়ার জন্য মিথ্যা চুরির মামলা করে ছিল ।
রমিজ মিয়া ফ্ল্যাট বাসা থেকে বের হয় । শেষ বারের মত আর একবার তার বউ কে দেখে
বলে দোয়া করি ভাল থাক রাজ রানি হয়েছ । নয়ন তার বাবার সাথে নীচে নামে । রমিয়াজ মিয়া তার
ছেলে কে বলে বাবা আমার জন্য তোমার মা কে ভুল বুঝ না। মানুষের জীবন কখন কি
হয় আল্লাহ্য় জানে । নীচে নেমে দেখে খুব বৃষ্টি হচ্ছে । রমিজ মিয়া রিক্সা বের
করে । ছেলে এসে বলে বাবা তুমি রিক্সায় বস আমি তোমাকে চালিয়া নিয়ে যাই । ছেলে
কে বুকে জড়িয়ে বলে তুমিই আমার বাবা এই রিক্সাওলা বাপরে যে তুমি নিজের
বুকে নিয়েছ । আল্লাহ যে তোমার মুখটা আবার দেখাইছে এতেই আল্লাহর কাছে আমি
সুখি । আমার মা তার নাতি কে দেখলে একটা চিৎকার দিয়ে বলবে আমার নয়ন ভাই । ছেলে কে জোর করে রিক্সায় বসায়ে বলে নয়ন হুড তুলে দেও বাবা তোমার
ঠাণ্ডা লাগবে । নয়ন বাবার রিক্সায় বসে । তার বাবা তাকে বার বার পিছন ফিরে
দেখে আর বৃষ্টির জল আর রমিজ মিয়র চোখে জল নতুন করে একটা ভালবাসার বন্যা হয়ে হাসে । নয়ন বলে বাবা আমি কোয়াটার পেয়েছি
তুমি আমি আর দাদি এক সাথে থাকব ।নয়নের বাপ বলে বাপজান তুমি যা বলবে তাই
হবে...........................।।
Tuesday, February 23, 2016
Saturday, February 13, 2016
গল্প @ একটি বই ও প্রেমের চিঠি ।
হিমেল একটা বেসরকারি বিশ্ব বিদ্যালয়ে পড়ে । ময়মনসিংহ শহরে ভাটি কাঁসার এলাকায় তার বাড়ি । বাবার একমাত্র পুত্র । খুব আদরের । ছাত্র হিসাবে খুব ভাল ।
কিন্তু তার মাতৃ ভাষা সে সহজে বদলাতে পারে নাই । বিশেষ করে সে কথা বললে বুঝা যায় তার বাড়ি ময়মনসিংহে । বন্ধুরা তাঁকে খুব পছন্দ করে তার সরলতার জন্য । মাঝে মাঝে সম বয়সী বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে চলে আসে ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ে । বাংলায় পড়ে রেনু । খুবেই চমৎকার একা মেয়ে বাড়ি জামাল পুর ।
বিশ্ব বিদ্যাল্যের হলে থাকে । হিমেলর সাথে অন্য সবার মত স্বাভাবিক পরিচয় ।
রেনু একদিন হিমেল কে ফোন করে । হিমেল কিছুটা অবাক হয় । কারন রেনু তাঁকে
ফোন করার কথা না। হিমেল হ্যালো বলতেই রেনু বলে তুমি হিমেল । আমি রেনু বলছি । আজ আমাদের একটা কবিতার আসর হবে । তুমি চলে আসবে । আর মনে করে পাঙ্গাবি পড়ে আসবে । হিমেল কিছুটা খুশি হয় । কিন্তু মাঞ্জাবি কোথায় পাবে । কারন সে তা পড়ে না। যাই হউক রেনুর মত মেয়ে বলেছে । রেনুর চোখের ভাষা একদম অন্য রকম । সেই পুরাতন যুগের মেয়েদের মত তার চোখে র একটা আর্ট আছে । হিমেল কি রঙের পাঞ্জাবী কিনবে তাই নিয়ে চিন্তায় পড়ে গেছে । তবে হিমেল কিন্তু রেনুর প্রেমে পড়ে নাই । সে বন্ধুদের প্রেম দেখে হতাস । বন্ধুরা প্রেম করে
সকালে বিকালে ভাগ করে । আর মেয়েরা প্রেম করে প্রাইভেট টিচারের মত ঘণ্টা দেখে । আসলেই যুগ মানুষকে কতটা বেহায়া বানায় আজ কালের তরুণ তরুণীদের দেখলে
বুঝা যায় । হিমেল এবার ফোন করে রেনু কে বলল- রেনু কোন পছন্দ আছে মানে কি
রং এর কিবন । রেনু হাসতে হাসতে বলে হিমেল একটু বদলাও । তুমি যে কি না। একটা পাঞ্জাবী কিনার জন্য আমাকে ফোন করেছ রং বলে দিতে তা কিন্তু ঠিক আছে আবার কিন্তু কোন দিন বল না যে গার্ল ফ্রেন্ড পছন্দ করে দিতে । শুন হিমেল একটা
ফিরোজা কালার কিনবে আর আসার সময় সাহাবাগ থেকে ১১ টা গোলাপ কিনবে । টাকা লাগলে বল আমি বিকাশ করব ।
হিমেল মনে মনে বলে মেয়েটা একটু মাথা নষ্ট আছে । আচ্ছা যাই হউক । দেখি ওদের কবিতা উৎসব ।
কবিরা সব তাদের কবিতা পড়ছে । রেনু দেখছে হিমেলের কোন খবর নাই । ফোন করছে রিং হচ্ছে কিন্তু হিমেল রিসিভ করছে না। রেনু মনে মনে বলে সব শয়তানের মধ্য একটা ফেরেশতা ছিল । গ্রিন রোড থেকে নাকি এত সময় লাগে । সবাই গোল করে ঘাসের মধ্যে বসে আছে । মিথিলা তুই আমার দুঃখ হবি কবিতা
খুব সুন্দর করে আবৃতি করছে । হিমেল এসেই হাতে তালি দিল । রেনু বাসার জায়গা করে দিল । হিমেল তাদের সাথে অল্প সময়ে ই খুব ভাব হয়ে যায় । বিশেষ করে মিথিলা । শমসের । নাগরি । আর পথিক সুজনের সাথে । শুদ্ধ করে কথা শেখার কাজ নেয় মিথিলা । অল্প দিনেই একটু একটু কবি আর শুদ্ধ করে কথা বলা শিখছে হিমেল । চলা বলা আর পোশাকেও আসছে একটা পরিবর্তন । পথিক সুজন তো রীতিমত অবাক হিমেল এত সুন্দর করে কথা বলছে যে তাঁকে আর বুঝা যায় না যে সে মিঃ ময়মনসিংহের ।
এখন মিথিলা সাথে তার খুব ভাব । আজিজ মার্কেট আর ধানমণ্ডি তাদের প্রায় দেখা যায় । রেনু একদিন জানতে চায় হিমেলের কাছে মিথিলার সাথে তার ভাবের কারন কি ?
--- হিমেল বলে সে তোমার মত বন্ধু
--- আর কিছু না ?
--- হা আর কিছু । জানতে চাও ।
--- হা ।
--- আমার সকাল দুপুর বিকেল হিমেল হাওয়া । না বলা কথা । ঐ নীল আকাশ
--- রেনু হিমেলের চোখে দিকে চেয়ে কিছু না বলে হলে চলে যায় ।
হিমেল ওর চলে যাওয়া দেখে । হিমেল কাউকে ভালবাসতে চায় না। কিন্তু রেনুকে সে খুব পছন্দ করে । রেনু এভাবে তাঁকে বলবে চিন্তা করে নাই । রেনু অন্য দশটা মেয়ের মত না। কিন্তু কেন আজ এমন প্রস্ন করলো ।
মিথিলা কে কিছুই বলে না। মিথিলা লালমাটিয়া মহিলা কলেজে পড়ে । বিকেলে রাপা প্লাজার সামনে দাড়িয়ে রিক্সার অপেক্ষা করছে । রেনু কে দেখে ডাক দেয় । রেনু একটা মিষ্টি হাসি দেয় ।
-- কেমন আছিস মিথিলা
-- ভাল রে রেনু । আজ কাল আসিস না কেন । তুই অ নাই আর হিমেল অ নাই ।
একটা খবর জানিস কি
-- কি খবর মিথিলা ।
--- আজকাল হিমেল আমার ফোন ধরে না ।
---- রেনু বলে কেন ফোন ধরবে না। মনে হয় কোন কাজে ব্যস্থ ।
--- হিমেল এর বি বি এ মনে শেষ রেনু ।
--- আমি জানি না ।
--- কি বলিস রেনু । জানিস তকে খুব মিস করে । চল উপরে যাই । কফি খাওয়া যাবে
--- মিথিলা আমি চা খাব । একটু সামনে রিজভি তে চা খেতে খুব মজা ।
-- চল যাওয়া যাক । তা আজ কাল শাড়ি পড়িস ।
-- আর বলিস না আমার কাজিন গিফট করল । ইটালি থাকে । আমাকে খুব
পছন্দ করে ।
-- ভাল রেনু । আমার এক কাজিন অ্যামেরিকায় থাকে । বেটা অনেক বড় বড় কথা
বলে । এস এস সি পাস । এমন ভাব ধরে মনে হবে । সব জান্তা শমসের ।
-- কি মিথলা চা কেমন ।
-- চমৎকার । শুনলাম পথিক নাকি বই বের করছে ।
-- হা । বইটির মাঝে নাকি আমাদের সুখ দুঃখ লুকিয়ে ।
--মিথিলা আমি এখন আসি ।
-- আচ্ছা যা । কিন্তু হিমেলের সাথে দিখা হলে বলিস । মিথিলার দাম কিন্তু কম না।আষাঢ় মাস অনেক বৃষ্টি । মিথিলা বারান্দায় দাড়িয়ে গান শুনছে । অনেক দিন যাবত একটা চাপা দুঃখ তার মধ্য । মায়া লাগে হিমেলের জন্য । কেন হিমেল তাঁকে
বুঝতে চাইল না। ভালবাসি কথাটা হিমেল কে বলতে ও পারলাম না।
রেনু ভুল বুঝল খুব গোপনে । তাই সে মিথিলার সাথে আর যোগাযোগ করে না।
পথিক সুজন সবার সাথে কম বেশি কথা বলে । কিন্তু সব চেয়ে অবাক হয় কেন জানি
হিমেলর সাথে কোন যোগাযোগ নেই ।
হিমেল ভালই আছে । এখন সে খুব বেশ আছে । সবার সাথেই মিশে । কিন্তু মিথিলা আর রেনুর বন্ধু মহলে না। উত্তরা একটা ভার্সিটিতে এম বি এ করছে ।
চাকুরি করার কোন ইচ্ছা নেই । ব্যবসা করবে । মাঝে মাঝে সময় পেলে ময়মনসিংহ
শহরে চলে আসে । উত্তরা থেকে মাত্র দু ঘণ্টা লাগে ।
খুব সুন্দর তার কথা বলার ধরন । কৃষি বিশ্ব বিদ্যালয়ের নদীর পারে বসে একা একা
একটি কবিতা আবৃতি করছে । হ্মপুত্র নদী আর দুরের ভাসমান চর । নদী পারাপার বসে দেখছে । খুব দূর থেকে ব্রহ্মপুত্র নদীর উপর ব্রিজ দিয়ে ট্রেন যাচ্ছে । হিমেল তার ফোন নাম্বারটা পরিবর্তন করেছে । কিন্তু নাম্বার গুলো সবার সেভ করা আছে । ফোনটা বাজতে লাগলো । পথিক সুজন ফোন করেছে ।
হ্যালো হিমেল তোমার জন্য একটা বই পাঠালাম । পড়ে দেখ । তোমার নাম্বার পেলাম
রেনুর কাছ থেকে । সে অনেক কষ্ট করে উত্তরা থেকে তোমার নাম্বার যোগার করেছে । ভাল মন্দ কথা শেষ করে বলল - তোমার মোবাইল নাম্বার দেয়া আছে সুন্দর বন কুরিয়ারে । মনে করে নিয়ে নিও ।
তিন দিন পরে বই টা কুরিয়ার থেকে নেয় । বই টা বাসায় এনে রেখে দেয় সেলফে ।
বাবার ব্যবসা আর একটা মাছের খামার নিয়ে সময় ভালই কাটে হিমেলের । মাঝে মাঝে হিমেলের বাবা আর হিমেল মিলে রাজনীতি নিয়ে বেশ জমে । হিমেলের বাবার
সাথে একটা বিষয় নিয়ে হিমেলের খুব বিরোধ চলছে । বাবার খুব ইচ্ছা হিমেল তার বোনের মেয়ে কে বিয়ে করুক । মেয়েটা ডাক্তারি পড়ছে । অনেক বুদ্ধিমতী একটা মেয়ে । নাম সেফা । সেফা ময়মনসিংহ মেডিক্যাল এ পড়ে । সেফালি কে ছোট করে
সেফা ডাকে । হিমেল তার ফুফু কে একদম সহ্য করে না। কারন তার ফুফুর জন্য তার মা তাঁকে ছোট বেলায় রেখে চলে যায় । হিমেল জানে না তার মা কোথায় আছে ।
আসলেই মন থেকে সে তার মায়ের কাছে যেতে চায় না। কারন তার মা তাঁকে নিয়ে যায় নাই । বড় হবার পড় জেনেছে মায়ের বিয়ে হয়েছে । কিন্তুবিদেশ থাকে । আরব দেশে স্বামীর সাথে । একদিন গিয়েছিল মামা রা কেউ আর গ্রামে থাকে না। গ্রামের মানুষ জানে না। কে কোথায় । হিমেলের বাবা আর ফুফু জানে কিন্তু বাবার কাছে
কোন দিন মায়ের ঠিকানা চাইতে পারে নাই । ফুফু তাঁকে ঠিকানা দেয় না। ফুফুর কাছে জানতে পেরেছে মায়ের বিয়ে হয়ে গেছে । হিমেল তার মায়ের কথা বেশি মনে নেই । মায়ের কোন ছবি ও তার কাছে নেই ।
শরতের আকাশ । ব্রহ্মপুত্র নদীর পলি মাটিতে কাশ ফুলে ছেয়ে গেছে । হিমেলের বাবা
বই পড়তে খুব পছন্দ করে । বই কেনা বই পড়া তার খুব ভাল লাগে । সেফা বাসায়
এসেছে । সাথে সেফার মা । দুই ভাই বোন আলাপে ব্যস্ত ।
হিমেল বসে টি ভি দেখছে । তাদের সাথে কবিতা আসরের একটি মেয়ে অভিনয় করছে । বাস্তবে মেয়েটা তেমন সুন্দর না হলেও অভিনয় দারুন । কবিতা আর কথা বলার ধরন ছিল অন্য রকম । সেফা ঘরে এসে বলল-
--- বা তুমি নাটক দেখ ।
--- এ দেখি না শুনিও ।
-- যাই হউক তুমি হলে একটা নিরামিষ মানুষ । তোমাকে দিয়ে কিছু হবে না।
-- হবে জানিস । তবে তোর মাকে বলতে পারিস না ।
-- মা কে বলে কি হবে । তোমার বাবার যে ই টাকা ।
--- তোমার মা সেফা এত টাকা টাকা করে । জিবনে টাকায় কি সব।
--- জানি না । আমাদের একটা ফয়সালায় আসা দরকার ।
--- আমি সেফা তোমাকে পছন্দ করি না। তোমার মা । আমার ফুফুর মেয়ে তুমি
এর বাহিরে কিছুই না । এই যে নাটক দেখছ । এই মেয়েটা একটা কথা বলেছিল
আপন থেকে পড় ভাল । তোমার মা জানে আমার মা কোথায় । তোমার মাকে
বললে বলে আরব দেশে থাকে । তোমার মা একটা মিথ্যা বাদী ।
--- আমি কি তোমার এই উপকার করতে পারি ।
--- আগে কর ।
--- অনেক দিন আগে একটা মহিলা আমাদের বাসায় এসেছিল । অনেক সুন্দর ।
আম্মুকে একটা ফোন নাম্বার দিয়েছিল । বাসায় খুজে দেখি পাই কিনা । ঐ মহিলা
আমার হিমেল আমার হিমেল বলছিল ।
--- তাই !
-- হ্যা যদি পাই তাহলে দিব ।
হিমেল কে ডেকে তার বাবা বলল - আমার সিদান্ত আমি বদলাব না। হিমেল কিছু না বলে চলে আসে তার এক বন্ধুর বাসায় । দুলাল হিমেল কে বলে । জিবনে একটা প্রেম করলি না। ঢাকা ছেরে চলে আসলি । আবার তুই তোর বাবা কে না করতে পারছিস না। জিবনে কি কিছুই মুখ খুলে বলতে পারবি না।
হিমেল একটু হেসে বলে তোর মত হলে পারতাম । বাবা তো আমাকে সব কিছু চাইবার আগেই দিয়ে দিত । আর কেন জানি বাবা আমাকে খুব বিশ্বাস করে।
আর তুই বলছিস মুখ খুলে বলার জন্য । আমার তো রাগ দেখাবার কেউ নাই ।
দুলাল যার মা নেই তার কিছুই নেই । মা থাকলে আজ বলতে পারতাম । বাবা কে কি করে বলি ।
--- হিমেল তুই কি কাউকে পছন্দ করিস ।
--- শুন যাকে পছন্দ করতাম । সে কিছু না শুনেই অন্য একজন জরিয়ে সন্দেহ করতে শুরু করে । তাই আর তাঁকে ভাল লাগার কথা বলি নাই ।।
--- কাজটা কি ভাল করেছিস । মানুষ মাত্র ভুল হতে পারে । তোমার উচিৎ ছিল
বিষয় টা পরিষ্কার করা । একমাত্র মেয়েরা ছেলেদের চাইতে আগে ম্যাচিউরিটি আসে
মেয়েদের । আর তুই তো মেয়েদের কাজ থেকে ১৪ মাইল দূর । এক সময়
আমরা তকে হাফ লেডিস বলতাম । টা মেয়েটা কোথাকার ।
--- জামাল পুর ।
--- তাহলে তো কাছে ই । চল কাল যাই ।
--- আমি চিনি না । সুধু জানি মেলান্দ ।। আর কিছু না।
--- মোবাইল নাম্বার ।
--- আছে কিন্তু বন্ধ ।
--- কি করে জানিস বন্ধ ।
--- একটা সিম থেকে আগে মাঝ রাতে ফোন দিতাম । ও হ্যালো হ্যালো বলে । একসময়
বলত । তুমি কি হিমেল । আমি কোন কথা না বলে ফোন বন্ধ করে রাখতাম ।
একদিন দেখি ফোন বাজে না। পড়ে অনেক নাম্বার থেকে ফোন দেই । কিন্তু
বন্ধ ।
--- আর কোন উপায় ।
--- থাক । আর কোন উপায় নাই । আর আমি বাবার মনে কষ্ট দিতে চাই না। কারণ বাবা আমার দিকে তাকিয়ে আর কখনও বিয়ে করে নাই। দুলাল বল্ল-আসলেই তুই অনেক মহৎ বাবার দিকে চেয়ে ভাল লাগার ভাল মানুষটা কে আর খুজলি না। তবে কেন জানি মনে হয় হিমেল তুই এক সময় খুব সুখী হবি। হিমেলের ফোনটা বাজছে তাকিয়ে দেখে সেফার ফোন তাই হিমেল ফোনটা কেটে দেয়। সেফার মোবাইল থেকে হিমেলের মোবাইলে একটা ম্যসেজ আসে । হিমেল ম্যাসেজ টা পরে দেখে একটা নাম্বার আর কিছু লেখা নেই। হিমেল সেফা কে ফোন সে আর রিসিভ করে না। সেফার পাঠানো নাম্বারে হিমেল ফোন করতেই একজন ভদ্র মহিলা রিসিভ করে বলে -
-- হ্যালো কে বলছেন কাকে চান।
--- কণ্ঠ শুনে হিমেলের শরীরের লোম কুপ গুলো কাটা দিয়ে উঠে ।
-- ঐ প্রান্ত থেকে আবার হ্যালো ।
-- হিমেল বলে হ্যালো । এই নাম্বার কি রত্না নামে কেউ আছে ।
-- হ্যা বলছি । কে আপনি ।
--- হিমেলের চোখ দিয়ে পানি পড়ছে । এই প্রথম সে তার মায়ের কণ্ঠ শুনছে । কান্না ভরা কণ্ঠে বলল- আমি হিমেল ময়মনসিংহ থেকে । হিমেল নামে কাউকে চিনেন ।
-- ফোন টা যেন নিরব হয়ে যায় । বলে তুমি কে ।
--- আমি হিমেল ।
--- আমার ছেলে হিমেল । সত্যি তুমি বাবা হিমেল । আমি তোমার মা রত্না । ফোনে
মা আর ছেলে মিলে নিরবে কাদতে থাকে । হিমেল জেনে যায় । তার ফুফু তাঁকে মিথ্যা
বলেছে । রাতেই মায়ের সাথে দেখা করার জন্য হিমেল বাসে উঠে ঢাকার । তার মা তার মামাদের সাথে সাভার রাজাসন থাকে ।
হিমেল রাতে বাসায় না আসায় হিমেলের বাবা খুব চিন্তায় পড়ে যায় । হিমেল তো কোন দিন না বলে কোথাও যায়না । খুব চিন্তায় পড়ে যায় ।
হিমেল আজ সত্যি তার মাকে খুজে খুব খুশি । হিমেলের মা এই সাভারে একটা স্কুলে চাকুরি করে । হিমেল জানতে পারে সব কিছুর মুলে তার ফুফু । হিমেল ফোন বন্ধ করে
রাখে । হিমেলের বাবা সব জায়গায় ছেলে কে খুজে । গত ৭ দিন কোথাও তাঁকে পাওয়া যাচ্ছে না। হিমেল মাঝে মাঝে রাতের বেলায় কিছু লিখত । ঠিক ডাইরি বলা চলে না। তাই তার বাবা বুক সেলফে সেই ডাইরি খুজতে লাগলো । এক সময় চোখ
গেল একটা বুক সেলফে একটা প্যাকেট । প্যাকেট খুলে দেখে বই । বই উলটাতে একটা
চিঠি পড়ে । খুব পাতলা কাগজে লিখা তবে অনেক কয়টা পাতা ।
চিঠিতে লিখা - প্রিয় হিমেল । অভিমানি ছেলে । আমার ভুলের জন্য ক্ষমা কর । আসলে পথিক সুজনের নামে আমিই বইটা পাঠালাম । মিথিলা সাথে তোমার কোন সম্পর্ক নাই যখন জানলাম তখন তুমি আমার কাছ থেকে দূরে । অনেক কষ্ট করে
তোমার নাম্বার পেলাম । আমি তোমার উতরের অপেক্ষা করছি । একবার তো বলতে
পারতে যে তুমি আমাকে পছন্দ কর । ভাল বাস । আর তুমি এত কম কথা বলতে
যা আমার খুব ভাল লাগত । আমাকে ফোন কর । এটা আমার নাম্বার । হিমেল আমি জানিনা কেন তুমি এত চুপ চাপ । আসলে আমার জিবনে দেখা সব চেয় আমার ভাল লাগা ছেলে তুমি । দেখ তুমি তোমার ব্যাপারে কিছুই বল নেই । আমি তাই তোমার জন্য অপেক্ষা করব । জানি না এ অপেক্ষার শেষ কোথায় । তবে কেন জানি মনে হয়
তোমার বুকে একটা পাথর চাপা কষ্ট আছে । তোমার সেই কষ্ট আমি বুঝার আগেই আমি তোমাকে ভুল বুঝলাম ।
---
হিমেল কে কোথাও না পেয়ে হিমেলের বাবা ভেবে নেয় । তাহলে আমার ছেলে তার আমার উপর অভিমান করেছে । হিমেলের বাবা কাচির ঝুলি দুলালের সাথে দেখা করে। কিন্তু দুলাল হিমেল কোথায় আছে বলে না। সেফা তার মাকে বলে দেয় যে সে হিমেলের কথা । শেষ পর্যন্ত হিমেলের বাবা বিষয় টা বুঝতে পারে । মসজিদের ইমাম হিমেলের বাবা কে বলে ছেলে যদি মায়ের কাছে যেয়ে থাকে তবে ভালই করেছে । আপনার এখন বয়স হয়েছে । ছেলের দিকে তাকিয়ে । আগামি জীবন সুন্দর করুন। হিমেল এ যুগের ছেলে তার পরও তার মাঝে মানসিক শক্তি অনেক বেশি । আপনার
মুখের উপর কোন কথা বলে না। একটা ছেলে এম বি এ করা । কি সুন্দর সে তার বাবার আদেশ মেনে চলে ।
হিমেল নিয়ে সাভার বাজারে অন্ধ মার্কেটের সামনে দাড়িয়ে রিক্সার অপেক্ষা করছে ।
রিক্সা না পেয়ে ম্যান সড়কে আসতেই হিমেলের বাবা একটা মাইক্রো থেকে নামে । হিমেলের মাস দূর থেকে স্বামীর পুত্র হারা মুখটা চোখের সামনে ভেসে উঠে । হিমেল কে বলে তোমার
বাবা মনে হয় তোমাকে খুজতে আসছে । যাও ডাক দাও । হিমেল তার বাবা কে ডাক দিতেই হিমেল কে দেখে । কাছে আসতেই অবাক হয়ে তার স্ত্রীর দিকে দেখছে ছেলের হাত ধরে দাড়িয়ে । কেউ কিছু বলছে না। হিমেল বলে
---আব্বু তুমি কি আমাকে খুজতে এখানে এসেছ ।
--- না । তোমাকে না। বাবা পকেট থেকে চিঠিটা বের করে দেয় ।
--- হিমেল চিঠি নিয়ে বলে পড়ে পড়ছি । বল তুমি কাকে নিতে আসছ ।
--- আমি তোমার মা কে নিতে আসছি ।
--- তাহলে আমাকে না।
--- তুমি তো এখন তোমার মায়ের ছেলে । তাই তোমার মাকে নিলে ছেলেটা ফ্রি পাব
--- আম্মু যদি না যায় ।
--- তাহলে চিঠি টা পড় । মেয়েটার সাথে আমার কথা হয়েছে । সে তোমার জন্য
অনেক অপেক্ষা করছে । আগামি সপ্তাহে ওর বিয়ে । আমি তোমার মাকে ছারা
ঐ পরিবার ঐ মেয়ে কে আনতে পারব না। যার বাবার বউ থাকে না । তার
ছেলের কাছে ভাল মানুষের মেয়ে দেয় না। রত্না ছেলের কাছ থেকে নিয়ে চিঠিটা পড়ে । হিমেল আর চিঠি পড়তে পারে না। হিমেল জানে না। কার চিঠি ।
রত্না বলে বাবা হাতে তো সময় নেই । কবে ঐ মেয়ের কাবিন ।
--- হিমেলের বাবা বলে । আগামি কালকে তারা তারিখ ফেলবে । আগামি সপ্তাহে যে কোন দিন বিয়ে । হিমেল বলল- আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। তোমার কার বিয়ে
নিয়ে । কথা বলছ । মা তোমার চোখের পানি মুছে ফেল । আব্বু কিন্ত কান্না দেখলে খুব রাগ করে ।
রত্না বলে স্বামীর দিকে চেয়ে বলে । তোমার মত করবে ছেলের জীবন না কি গাড়িতে উঠবে । হিমেল বলে মামাদের না বলে আমারা কার বিয়ে কোথায় যাচ্ছি ।
হিমেলের মা বলে হিমেলের বাবা কে ও ছেলে কিছুই জানে না। হিমেলের বাবা বলে
মায়ের ছেলে তো একদম তোমার মত কিছুই বলবে না। প্রতিবাদ করবে না। নীরবে
সরে যাবে । ঠিক তোমার মত ।
-- আমার ছেলে আমার মত হয়েছে । এটাই আমার সফলতা । এত কাল রেখেও
ছেলে কে তোমার মত বানাতে পাড়লে না। এটা আমি মা হিসাবে আনন্দিত ।
হিমেল বলল আচ্ছা মা আমরা কোথায় যাচ্ছি ।
-- গেলেই বুঝবে । রত্না বলল তাও তো নাম্বার টা । রত্না নাম্বার টা নিয়ে ফোন
করল - হ্যালো
-- আমি হিমেলের মা । তুমি কে ।
--- আমি রেনু ।
--- ও ভাল আছ মা। তোমার মাকে একটু দাও । আমরা রাস্তায় । তোমার মাকে বল
বল । আমরা আসছি । সাথে আমার ছেলে আর ছেলের বাবা । রেনু ফোন টা দেয়
রেনুর মা কে ।
-- আপা সালাম নিবেন । আমি হিমেলের মা । আপনার মেয়ে তো বলেছে ।
--- হ্যা ।আপা । কিন্তু
--- আপা কোন কিন্তু নাই । আমার একমাত্র ছেলে । আপাদের মেয়ের রানির মত
থাকবে । শুধু শ্বশুর একটু রাগী । ভাল চা বানাতে পারলেই হবে । বাকি কথা
এসেই বলছি ।
হিমেল বলে মা, তুমি কি ফুফুর সাথে কথা বললে
--- আমি রত্না তোমার ফুফুর ঐ নাক বুচা মেয়ে কে আমার ছেলের বউ করব না।
ডাক্তার হউক আর যাই হউক । তোমার ফুফু একটা লোভী মেয়ে । তোমার বাবা
হয়ত দেখ ঐ মেয়ের পড়ার সব খরচ দিচ্ছে ।
--- হিমেলের বাবা বলল - দেখ তোমার ছেলে তুমি যা ভাল মনে কর ।
হিমেল বলল তবে যাচ্ছি কোথায় । হিমেলের বাবা বলে এখন রাত না চোখ আছে
রাস্তার সাইন বোর্ড দেখ ।
হিমেল রাস্তার সাইন বোর্ড দেখতে দেখতে জামাল পুর । তার পড় মেলান্দ ।
একজন কে জিজ্ঞাসা করল । বেপারী বাড়ি কোনটা ।
একটা বড় পুকুরে সামনে এসে গাড়ি থামল । বাড়ির লোক জন তাদের কে নিয়ে
বসতে দিল । হিমেল কিছু বুঝে উঠার আগে একটা ঘুমটা দিয়ে মেয়ে তাদের বসার ঘরে মেয়ের ভাবি নিয়ে আসলো । হিমেল সামনে একটা চেয়ারে বসল । হিমেলের মা মাথার ঘুমটা সরালো । বা অপূর্ব আমার ছেলের পছন । হিমেল মায়ের জন্য মুখ দেখতে পারছে না । হিমেলের বাবা বলে রত্না একটা সরে দাড়ও । হিমেল চেয়ে দেখে
তার প্রথম ভাল লাগার সেই রেনু । হিমেলের চোখ দিয়ে পানি ঝড়তে থাকে । রেনুও কাদতে থাকে । রত্না হিমেল কে বলে কি মেয়ে পছন্দ হয়েছে ।
--- মা কি করে খুজে পেলে ।
--- ছেলের হাতে মা চিঠি টা দেয় ।
Wednesday, February 10, 2016
গল্প @ আবেদ আলির বিয়ে ।।
আবেদ আলি বয়স ৪২ এর কাছাকাছি । অনেক চেষ্টা করে পরিবারের লোক জন তাঁকে বিয়ে দিতে পারছে না। তাঁর নাকি বিয়ে করতে লজ্জা লাগে । পরিবারের সবাই
তাঁকে অনেক চেষ্টা করে বিয়ে করাতে পারছে না। এই ছোট দুই ভাই তাঁর জন্য বিয়ে করতে পারছে না। আবেদের মা কিছু দিন কথা বন্ধ রাখে । কিন্তু ছেলের তাতে কোন দয়ামায়া মায়ের প্রতি হয় না। ছোট দুই বোনের বিয়ে হয়েছে । তারা ভাল আছে । মা বোন মিলে অনেক পীর ফকির করেও ছেলে কে বিয়ে দিতে পারছে না।
আবেদ আলির এক কথা আমি বিয়া করব না। এই নিয়া সংসারে মাঝে মাঝে ছোট ছোট ঝামেলা হয়তেই থাকে । ছোট ভাইয়েরা অনেক বার তাঁর বান্ধুবিদের ফোন করে
প্রেমের কথা বলতে বলেছে তাঁর ভাইয়ের সাথে। আবেদ আলি কোন মেয়ের সাথে ফোনে কথা বলে না। অচেনা মেয়ের নাম্বার হলেই কেটে দেয় বকা দেয় । খারাপ ব্যবহার করে । তাই কোন মেয়ে তাঁর সাথে কথা বলে না। আবেদ আলির বোনের বাসায় এক সাইকোলজিস্ট ভাড়া আসে । কথা প্রসঙ্গে একদিন সাইকোলজিস্টের কাছে
তাঁর ভাইয়ের ব্যাপারে কথা বলে । সাইকোলজিস্ট বলে একদম সহজ কাজ ।
আবেদ আলির বাপেও বিয়ে করবে । বোন হেসে বলে আমার বাপের না ভাই কে বিয়ে
করান । সাইকোলজিস্ট বলল- আপনাদের বাসার সবার সাথে কথা বলতে হবে । তবে আবেদ আলি সাহেব আসতে পারবে না। যথারীতি দুই বোন দুই ভাই মা বাবা
সাইকোলজিস্টের নিকট আসে । সাইকোলজিস্ট তাদের বলে আপনারা এমন একজন মেয়ে খুজে বের করেন যে আপনার ছেলে কে বিয়ে করতে রাজি । আর ঐ মেয়ে কে যেন আবেদ আলি না চেনে । আবেদ আলির বাবা বলে আমার এক কলিগের মেয়ে আছে । আমার ছেলে কে তারা পছন্দ করে । মেয়েটাও ভাল কিন্তু মেয়েটা আগে থিয়েটার করত । তাই একটু অপছন্দ । এখনো বিয়ে করে নাই । নাটক করা মেয়ে তো তাই কেউ সহজে বিয়ে করতে চায় না। সাইকোলজিস্ট বলে আল্লাহ আপনাদের
সাহায্য কারি নাটক করা মেয়ে হলে তো কথাই নাই । আমাকে মেয়েটার সাথে কথা
বলতে হবে । আবেদ আলি সাইকোলজিস্ট কে নিয়ে ঐ মেয়ের কাছে যায় । মেয়ে কে
সাইকোলজিস্ট কিছু কথা বলে । এবং আবেদ আলির পরিবারের সবার কথা চিন্তা করে মেয়েকে একটা কাজের কথা বলে সাইকোলজিস্ট । মেয়েটা প্রথমে বলে মানুষ কি বলবে । সাইকোলজিস্ট হেসে বলে যারা কথা বলবে তারাই আপনাকে সহযোগিতা করবে । আর বর্ষা কাল নাটকের প্লাটফরম খুব সুন্দর । মেয়ের সাথে কথা শেষ করে
সাইকোলজিস্ট বলে আঙ্কেল এখন আপনি আপনার ছোট দুই ছেলে কে নিয়ে আমার
বাসায় আসেন । আবেদ আলির ছোট দুই ভাই কে নিয়ে সাইকোলজিস্ট তাঁর বাসায় মিটিং করে । দুই ভাই তো মহা খুশি তারা দুই জন মিলে মহল্লার প্রায় ১০০ বন্ধু রেডি করে । আবেদ আলি কোন বিয়ে বা জন্ম দিনে পরিবারের সাথে যায় না। কারণ গেলেই সবাই তাঁকে বিয়ের কথা বলে । সকাল থেকে খুব বৃষ্টি । আবেদ আলির বাসায়
একটা ফোন করে সাইকোলজিস্ট । আবেদ আলির মা জানায় আবেদ আলি বাসায় আছে । সাইকোলজিস্ট বলে আপনি মেয়ের বাসার কথা বলে বাসা থেকে বের হন ।
আবেদ আলি বাসায় একা একা টেলিভিশন দেখছে । আবেদ আলির মা আবেদ কে বলে একটু তোর বোন ডাকছে আমি দেখা করে আসি । বাসা খালি সাইকোলজিস্ট ছোট দুই ভাই কে প্রস্তুতি নিতে বলে । মেয়েটা একটা সুন্দর শাড়ি পড়ে ভাল করে সেজে
আবেদ আলির বাসায় এসে কলিং বেল বাজায় । আবেদ আলি দরজা খুলে দেয় । মেয়েটা প্রায় ভিজে গেছে । বলল ভাই বাহিরে খুব বৃষ্টি আমি একটু বাথরুম ব্যবহার করতে পারি । আবেদ আলি বলে বসায় তো কেউ নেই । মেয়েটা হেসে বলে ছিঃ কি বলছেন আপনি আছেন । আর আপনাকে দেখে মনে হয় না আপনি খারাপ।প্লীজ ভয় লাগলে আপনি দরজাটা খোলা রাখেন । মেয়েটার সরলতা চাহনি আর মিষ্টি হাসি দেখে আবেদ আলি তাঁকে বাসায় প্রবেশ করতে দেয় । মেয়েটা বাথ রুমে যায় । ৫ মিনিটে ই বৃষ্টির মধ্য মহল্লার রংবাজ ছিটকা তারু আর রাসেলের দল বল নিয়ে বাসায় ঢুকে আবেদ আলি কে বলে ছিঃ! " আপনি বি হালায় দুই নাম্বার" । "বাসায় মাইয়া মানুষ নিয়া ফুরতি করেন খালি বাসায়" । ভাবছেন বৃষ্টির দিন কেউ দেখব না। ভাবছেন পলাইয়া কাম সারবেন ! আমরা মহল্লার পোলাপান সব বাসার খবর রাখি । আবেদ আলি বলে কি বলছ ? রাসেল বলে ৫ লাখ টাকা দে । ঐ মহল্লার সবারে ক আবেদ মিয়া বিয়া সাদি না কইরা মহল্লায় আকাম কুকাম করবার লাগছে । তারু একটা চর দেয় আবেদ আলির গালে । মেয়েটা বাথ রুম থেকে আসতেই । তারু বলে আজ হাতে নাতে ধরা খাইছ । মেয়েটা বলে এ সব কি বলছেন । আমি তো এর কোন মানে খুজে পাই না । রাসেল বলে দুই জন রে পিটান দিলে সব কইবা । পুলিশ রিমান্ডে নিলে সবাই বলে তোমরা বি হালায় বলবা । এর মধ্য মহল্লার লোক জন এসে ভরে যায় । আবেদা আলির মা বাবা ভাই বোন সবাই চলে আসে । মেয়েটা সোফায় বসে কাদতে থাকে । একজন বলে পুলিশ নিয়ে আয় ।
এর মধ্য সাইকোলজিস্ট এসে হাজির মেয়ের কাজিন হিসাবে । সবাই কে বলল আমার বোন কে এভাবে খারাপ বানানো হল কেন সে শিক্ষিত মেয়ে । তারু রাসেল অন্য সব বন্ধুরা সাইকোলজিস্টের শিখানো কথা মতে কথা বলতে শুরু করল । মেয়েটা বলছে এখন আমার মরা ছারা কোন গতি নাই । আবেদের বোন বলে হ আমার ভাই যদি খারাপ কিছু করে থাকে তাহলে এই মেয়ে কে আমার ভাই কে দিয়ে বিয়ে করিয়ে দে । আজ যদি বউ থাকত তাহলে এত বাজে কথা শুনতে হত না। আমি আমার শ্বশুর বাড়িতে মুখ দেখাতে পারব না। আবেদের মা পায়ের জুতা খুলে ছেলে কে মারে আর বলে আমার পেটে কি রেখছি । আমি বাসায় নাই তুই মেয়ে কে কেন বাসায় প্রবেশ করতে দিলি । বাবা তারু রাসেল তোমরা খুব ভাল কাজ করেছ । মেয়ের ভাই কই সাইকোলজিস্ট বলে খালা মনি আমি এই খানে । বাবা আমার ইজ্জত বাচাও । তোমার বোনের মা বাবা কে আসতে বল । অন্য দুই ছেলে কে কাজি আনতে বলে । সন্ধ্যা ৭ টায় আবেদ আলির বিয়ে হয়ে যায় । আবেদ আলি বাসর ঘরে মেয়েটাকে বলে
আজ আমার জন্য তুমি অনেক আপমান হলে । মেয়েটা কান্না ভরা কণ্ঠে বলে
আল্লাহ হয়ত আমাদের কপালে এটাই রেখেছে । আমি কোন দিন বিয়ে করব না বলে
প্রতিজ্ঞা করে ছিলাম । আবেদ আলি বলে ঠিক আমিও । তাই আল্লাহ এই দু জন কে
এই কঠিন শিক্ষা দিল । আবেদ আলি মেয়েটার হাত ধরে বলে যা হয়েছে ভুলে যাও ।
বাহিরে সবাই রাতের নান্না মিয়ার পোলাও খাচ্ছে । তারু আর রাসেল কে আবেদ আলির মা বুকে জরিয়ে বলে মহল্লায় দু একটা মাস্তান না থাকলে মহল্লার ভাল কাজ হয় না। সাইকোলজিস্ট এবার বলে খালামনি আমার ফি । খালা মনি বলে বিয়ের সময় দাওয়াত দিও । পোলার বিয়াতে তো আনন্দ করতে পারলাম না বাবা সাইকোলজিস্ট তোমার বিয়েতে কিন্তু আমার আনন্দ হবে তোমার উপহার । খালামনি সাইকোলজিস্ট কে মাথায় হাত বুলিয়ে দেয় ।
লাভ অ্যাট ফাস্ট সাইট
কোন এক শীতের সকাল। ছেলেটা একটা শপিং কমপ্লেক্সের ভিতর এদিক-সেদিক ঘোরাঘুরি
করতে থাকে। একসময় তার চোখ পড়ে যায় একা একটা মেয়ে কাকে জানি অনেকক্ষণ যাবত
খুঁজছে । মেয়েটা সেল ফোন টা খুলে ব্যাটারি দিকে একটা মুখ ভেংচি কাটলো ।
মেয়ের হাসিটা ছিল অপূর্ব রকমের সুন্দর , ছেলেটা প্রথম দেখায় মেয়েটার প্রেমে
পড়ে যায়। এটাই মনে হয়, Love At First Sight.
ছেলেটা সামনে এগিয়ে বলল আমার ফোন থেকে কল করতে পারেন । মেয়েটা কোন কথা না
বলে ছেলেটার মুখের দিকে তাকিয়ে একটা হাসি দিল । মেয়ে বলল
ঃ- আমার নাম্বার মনে নেই । আমার বান্ধবিদের সাথে এসেছি । এত বড় শপিং মল
খুঁজে পাচ্ছি না।
ঃ- কত ক্ষণ যাবত ।
ঃ- এই যে ৩০ মিনিট ।
ঃ- এখন বলুন আমি একা মেয়ে মানুষ কি করি ?
ঃ- আরে এটা কোন সমস্যা । ঐ ফোনের দোকানে চলুন । ওদের কাছে চার্জার আছে ।
ঃ- আমার কাছে টাকা নেই চারজার কেনার ।
ঃ- আরে কিনতে হবে না । চলুন আমার সাথে ।
ছেলেটা মেয়েটা কে নিয়ে মোবাইলের দোকানে যায় সেল ফোন চার্জ দেয় ।
ছেলেটা একটা চুইং গাম দেয় । মেয়েটা হাসি মুখে গ্রহন করে ।
মেয়েটা ফোনের পর ফোন দেয় । কিন্তু যাকে ফোন দিচ্ছে সে ফোন রিসিভ করে না।
মেয়েটা কে একটা সি অ্যান জি ভাড়া করে দেয় । মেয়েটা শুধু বলে আমার বাসা
উত্তরা রাজলক্ষির পিছনে ।
ছেলেটা রোজ মটর সাইলে উত্তরা যায় কোন দিন সকালে । কোন দিন বিকালে , কোন দিন
রাতে । আর মেয়েটা কে খুঁজে ।
মেয়েটাও প্রায় আসে শপিং মলে মনে মনে ছেলেটাকে খুঁজে ।
না কারো সাথে কারো দেখা হয় না।
ছেলেটা তার বোন কে নিয়ে বিশ্ববিদালেয়ে যায় । ঠিক মেয়েটা তার বড় ভাইয়ের সাথে
আসে বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘুরতে । অবাক হয়ে দু জন দু জন কে দেখে । কিন্তু অজানা
ভুলে কেউ কারো সাথে কথা বলে না । মেয়েটি ভাবে ওর গার্ল ফ্রেন্ড কষ্ট পাবে ।
ছেলেটা ভাবে না ওর বয় ফ্রেন্ড যদি মাইন্ড করে ।
শুধু দু জন দু জনের দিকে চেয়ে থাকে । মেয়েটা যখন গাড়িতে চরে । ছেলেটা বোন
বলে কি ব্যাপার ভাইয়া এই মেয়েটার দিকে কেন এভাবে চেয়ে আছো । ছেলেটা বলে
ঃ- আরে পাগল আমি তো রোজ এই মেয়েটাকে খুঁজি ।
ঃ- তাহলে কথা বললে না কেন ওর সাথে
ঃ-ওর সাথে তো দেখা যায় বয় ফ্রেন্ড ।
ঃ- আমি তোমার কি হই?
ঃ- তুই আমার বোন ।
ঃ- তাহলে তো ঐ মেয়েটার ভাই ও হতে পারে !
ঃ- ঠিক তো । তুই নাম মটর সাইকেল থেকে । এই নে গাড়ি ভাড়া করে যা ।
ছেলেটা গাড়ি খুঁজতে থাকে। একটা সিগনালে মেয়েটাকে পায় । গাড়িতে চুপ করে বসে
আছে । কিছু বলে না, শুধু হালকা ইশারা দেয় । ছেলেটা হাসে মেয়েটা ও য়তহাসে ।
একসময় দেখে মেয়েটা নেমে গেল বাসার সামনে ও দূর থেকে দেখে । মেয়েটা ঘাড়
ফিরিয়ে দেখে ।
ছেলেটা গেইটের সামনে আসলেই দারোয়ান তাকে একটা কাগজ দেয় তাকে লিখা স্যাম
টাইম স্যাম প্লেস ।
ছেলেটা রাতে আর ঘুম যায় না বারান্দায় দাঁড়িয়ে আকাশ দেখে চাঁদ দেখে , গান
শুনে । মেয়েটা ও তাই বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকে ।
ছেলেটা খুব সকালে শপিং মলের সামনে চলে আসে তখন শপিং মল খুলে নাই । মেয়েটা
আগেই চলে আসে, এসে দেখে ছেলেটা দাঁড়িয়ে, মেয়েটা হেসে ছেলেটা ও হাসে।
মেয়েটা একটা চুইং গাম বের করে ছেলেটা কে দেয় ।
[গল্পের এই পর্যায়ে এসে ছেলেটার আর মেয়েটার নামকরণ করা যাক। ধরা যাক
ছেলেটার নাম অরন্য আর মেয়েটার নাম প্রিয়া ।]
পরশুদিন বিকাল। এক ঘন্টা ধরে মেয়েটা কফিশপে অপেক্ষা করছে ছেলেটার জন্য।
ছেলেটার অনুপস্থিতি দেখে একসময় মেয়েটা ডায়াল করে ছেলেটার ফোন নাম্বার।
ছেলেটার বোন ফোন রিসিভ করে।
- হ্যালো
-- অরন্য আছে? ওকে একটু দেওয়া যাবে?"
- কে বলছো তুমি?"
-- আমি প্রিয়া"
- প্রিয়া, তুমি কি জান না ' গতরাতে ভাইয়া রোড অ্যাক্সিডেন্টে করেছে ।
-- ও এখন কোথায়
-- হাসপাতালে ।
প্রিয়া তারা তারি হাসপাতালে আসে । অরন্যের জ্ঞান ফিরে নাই । প্রিয়া অরন্যের
কাছে আসে । অরন্যের হাতে হাত রাখে । কিছু সময় পড়ে অরন্য তার হাতের ছোঁয়ায়
আস্তে আস্তে চোখ মেলে । এক জন অন্য জনের হাত ধরে রাখে । অরন্য তার পকেট
থেকে একটা চুইং গাম বের করে দেয় কিন্তু চুইং গাম খুলে দেখে একটা কাগজ ।
তাতে লেখা আছে, "কেন জানি তোমাকে আমার অসম্ভব রকমের ভালো লেগে গেছে। আমরা
কি কোন একদিন এক সাথে একটা সেলফি ছবি তুলতে পারি ।।
Monday, February 8, 2016
গল্প: ‘অ-মানব’- ( ১৭ তম পর্ব )
রাত তিনটা বাজে । রেজিয়ার ফোনে বার বার ফোন আসতে থাকে । কিন্তু রেজিয়া আর ফোন রিসিভ করে না। নাজু রেজিয়ার ঘরে আসে । পাগল মানুষটা নাজুর সাথে আসে । ই-মেইল টা রেজিয়াকে দেখায় । চেয়ে দেখে রেজিয়া আসলেই ভুল করেছে। রেজিয়া দেখল তার চেয়ে বেশী কথা হয় অন্য একটা নাম্বারে ।
রেজিয়া সেই নাম্বারে কল করে । রাত তিনটায় মেয়েটার ফোন ব্যস্ত । রেজিয়া তার দেবর কে কল করে দেখে সেই ফোন ও ব্যস্ত ।
এক সময় রেজিয়া তার স্বামীর কাছে ফোন করে । স্বামী ফোন ধরে বলে কোথায় তুমি । গত দুই দিন তোমার কোন খোজ পাচ্ছি না। যে খানেই থাক বাসায় চলে এসো । আর আমি অফিস থেকে একটা ফ্ল্যাট পেয়েছি ।
আমর খুব ইচ্ছা এইটা তোমার নামে দিয়ে দিব । মা বলেছিল যে আমি তোমাকে যেন একটা ফ্ল্যাট কিনে দেই । আল্লাহ্ আমার মায়ের আশা পুন্য করেছে । আর একটা কথা তুমি বাসায় না থেকে ভালই করেছ । আমার ছোট ভাই তার বসের বউ কে নিয়ে নাকি পালিয়েছে । বাসায় পুলিশ এসেছিল । ভাগ্য ভাল আজ মা বেঁচে নেই ।
মা বেঁচে থাকলে হয়ত এত বড় কষ্ট সহ্য করতে পারত না। রেজিয়া বলে – তুমি কেমন আছ। রেজিয়ার স্বামী বলে আর কেমন থাকি বল । নীচ তলার আপা এসে কি সব বাজে কথা বলে গেল । আমরা নতুন ফ্ল্যাটে উঠে যাব । তুমি তাদের কোন কথা শুন না। এরা মানুষকে কষ্ট দিয়ে আনন্দ পায় । রেজিয়ার চোখ দিয়ে টলটল করে পানি পড়ছে । নাদিয়া একটা লম্বা ঘুম দিয়ে এসে দেখে তাদের মেহেমান কাঁদছে । নাদিয়া নাজু কে ডেকে বলে যা তো আপুর জন্য ভাল করে চা বানিয়ে নিয়ে আয় ।
পাগল টাকে রেজিয়া বলে তুমি আসলেই কোন মানুষ
না। কারন আমি তোমাকে যে অপমান করেছি তার পর ও তুমি আমার এত বড় উপকার করলে ।
কাল বাসায় যেতে যেতে বিকাল হয়ে যাবে । পাগল বলে তোমার কাছে টাকা আছে সকালে
বিমানে চলে যাও । যদি ৬ টার কোন ফ্লাইট থাকে তাহলে ৭ টায় ঢাকার বাসায় ।
পাগল কে বলল তাহলে তাই কর আমার জন্য । পাগল বলল কিছু কিছু সময় মানুষকে স্বার্থ পর হতে হয় । তবে সব সময় না। আমাদের সমাজের মানুষ মনে করে যে স্বার্থপর মানুষরা সমাজে সুখের অভিনয় করে । আসলে কোন মানুষ স্বার্থহীন না। যারা স্বার্থহীন তারা পাগল না হয় শিশু । নাজ আদা দিয়ে দুধ চা নিয়ে আসে । ভোরে আসে ফজরের মিষ্টি আযান চার দিক থেকে ভেসে আসে ।
রেজিয়াকে নিয়ে সিলেট বিমান বন্দরে যায় পাগল মানুষটা । যাওয়ার পথে পাগল বলে আজ থেকে রেজিয়া আপু সব সময় মানুষের মাঝে কি ভাল আছে সেই ভাল গুলোর প্রশংসা করবে । তোমার স্বামী যদি জানতে চায় কোথায় ছিলে তাহলে বলবে যে নাজু আপার বাসায় ছিলাম । সে আমার পরিচিত ।
পাড়লে স্বামীর কাছে আবার সব বলে দিও না। আজ থেকে তুমি কিন্তু তোমার দেবর কে চিন না। সে তার পাপের পাপ্য পেয়ে যাবে । তুমি তোমার স্বামীর সেবা করে সেই পাপের ভার স্রষ্টার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিবে। তবে কোন দিন বল না যে তার ভাই তোমার খতি করেছে । কারন মানুষ জন্মত রক্তের ভাই বোন তাদের রাগ দোষ তারা মনে রাখে না। পর সব সময় পর ।। রেজিয়া বলে তোমার জন্য আমি একটা খাম রেখে এসেছি নাজু আপার কাছ থেকে নিয়ে নিও । তোমার মত আমার একটা পাগল ভাই আছে এটাই আমার জিবনের সব চেয়ে বড় পাওয়া ।
পাগল মানুষটা আকাশের দিকে চেয়ে থাকে বিমান শব্দ করে উড়ে যায় । বিমানের দিকে চেয়ে থাকে ।।
সকাল ৭ টা ৩০ মিনিটে বাসায় আসে রেজিয়া । স্বামী দরজা খুলে দেয় । রেজিয়া সরি বলে । স্বামী বলে আজ দুই দিন অফিসে যায় নাই । রেজিয়া বলে তুমি রেডি হও আমি তোমার নাস্তা রেডি করছি । স্বামীর জন্য খুব তারা তাড়ি নাস্তা বানালো । সেই রাতে গত রাতের দুধ চায়ের আদা দিয়ে স্বামী কে দেয় । স্বামী চা মুখে দিয়ে বলে চা টা জানি কেমন ।। রেজিয়া বলে কি ভাল লাগে নাই ।
—–ভাল লেগেছে ।
—– শুন আশার সময় একটা নতুন সিম কিনে এনো । আর এই টাকা গুলো
ব্যাংকে জমা দিয়ে দিও । তবে আমার হিসাবে না। তোমার ব্যাংক হিসাবে ।
—– আরে এক জায়গায় রাখলেই হয় । তোমার যা আমার তা ।
—– রেজিয়া স্বামীকে জড়িয়ে ধরে কেদে দেয় । স্বামী তার মাথায় হাত দিয়ে বলে
তোমরা নারীরা যে কখন কি কর আল্লাহ্ জানে । কান্না কর নাতো । রেজিয়ার স্বামী অফিসে চলে যায় । মিলি কে দেখে একটা বাচ্চা কে রোদে তেল মাখছে । রেজিয়া
মিলিকে বলে – আপু কেমন আছ । তোমার বাগান তো অনেক সুন্দর ।
—- শুন রেজিয়া মন সুন্দর হলে সব কিছু সুন্দর । তা গত কয়েক দিন দেখলাম না।
তোমার নীচ তলার আপা আমাকে বলল -তুমি নাকি তোমার দেবরের সাথে
পালাইছ । তোমার বাসায় পুলিশ আসাতে এলাকার মানুষের কাছে তোমার
মুখ রক্ষা হল । ঐ নীচ তলার আপার সাথে যেন তোমার স্বামী কথা না বলে ।
—- রেজিয়া হেসে বলে আপু মনে হয় আমার দেবর কে ওর খুব পছন্দ ছিল ।
—- তা তুমি কোথায় ছিলে ।
—- আপা সিলেট আপার বাসায় ।
—- বল কি ? তা আমাকে নিলেও তো পারতে ।
—- আপা আপনি যখন যাইতে চাইবেন নিয়ে যাব । কিন্তু একটা কথা পাগল টা
কোথায় ।
—- আরে পাগল হল আল্লাহর বান্দা আসে ভাল কাজ করতে । কাজ শেষ চলে যায় ।
—- আপা ঠিক বলেছেন । আপনার পাগলের একটা ছবি আমার মোবাইল এ আছে ।
চাইলেই আপনাকে দিয়ে দিব । মিলি জোছনার কুলে বাবু কে দিয়ে রেজিয়ার মোবাইল ফোনটা হাটে নেয় । পাগল ভাইয়ের ছবিটা দেখে কাঁদতে থাকে । মিলির কান্না দেখে রেজিয়াও কাদে । মিলি বলে খুব অল্প সময়ে ছেলেটা আমাদের মায়া লাগিয়ে কোথায় চলে গেল । রেজিয়া এখন জানে কোথায় আছে কিন্তু পাগল মানুষটা বলে দিয়েছে যেন তার কথা না বলে । মিলি তার বাচ্চা কুলে নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে যায় ।
নাজ নাদিয়া শিলা আর নাজু আপা চেয়ে দেখে পুকুরে মাছ আর মাছ । নাজুর স্বামী বল হে আল্লাহ্ এত মাছ বিশ্বাস হয় । মাছ দেখার জন্য মানুষ ভীর করেছে । রইছ মিয়া পাইকার নিয়ে এসেছে । শিলা বলে জিনিয়াস মামা আব্বু হেরে গেল । বিকেলের মধ্য মাছ বিক্রি শেষ । কাদা সরানো কাজ চলছে । নাদিয়া তাদের সব আত্মীয় স্বজনের বাসায় মাছ পাঠায় । রাত আঁটটা বাজে । বারান্দায় বসে আছে শিলার বাবা । পাশে পাগল মানুষটা । পাগল কে বলে শিলার বাবা আসলেই তোমার মাঝে শক্তি আছে। এই পুকুর নিয়ে আমাদের কোন চিন্তা ছিল না। পাগল হেসে বলে
—- দেখুন এই পুকুরে কি জানি একটা রহস্য আছে । আমি তাই এই পুকুর সেচে সেই
রহস্য বের করতে চাই ।
—– আসলে রহস্য কিছু না । ভয় । । ভয় পায় । এই পুকুর কাটার পর থেকে এই বাড়িতে কিছু না কিছু সমস্যা হতে থাকে । আমার বাবার ছোট ভাইয়ের তিন সন্তান পানিতে পড়ে মারা যায় । একেই দিনে । পুকুর কাটার দিন আমার বাবার দুইটা গরু মারা যায় । আমার ছোট চাচা এই পুকুরে ঐ শিমুল গাছে ফাসি দিয়ে মারা যায় । আমার মা প্রায় রাতে একা একা নেমে ডুব দিত । কতদিন যে বাবা তাকে পুকুর থেকে তুলেছে । যুদ্দের সময় পাক বাহিনী এই পুকুরে দুই জন কে ডুবিয়ে মারে । সাত বছর আগে কোথায় থেকে এক পাগল এসে নামে । সে আর উঠে না। তিন দিন পড়ে তার লাশ উঠে ।।
—- পাগল বলে দেখুন সব চেয়ে অবাক লাগে কি জানেন । আপনার মা কেন পুকুরে
নেমে সারা পুকুরে ডুব দিত । আচ্ছা দেখি সব রহস্য বের হবে ।
নাদিয়া আর নাজ তাদের রুমে শুয়ে আছে । বাড়ির পিছনে পুকুরে কুকুর পড়ে গেছে তাই গেউ গেউ করছে । সবাই লাইট নিয়ে পুকুর পারে গেছে । শীত আর কাদায় কুকুর আর উঠতে পারছে না। এত রাতে কে নামবে কাদায় । নাজুর স্বামী বলে এখন কি করি ? পাগল এসে বলল লম্বা দরি নেন । পুকুর থেকে উপরে উঠার কোন জায়গা নেই । সকালে জেলেরা বাঁশের মই দিয়ে নেমে ছিল । আর পানি থাকলে শিমুল গাছের শিকর ধরে উঠা যেত ।
পাগল তাই পাগল একটা দরি ধরে নামলো । কাদা থেকে কুকুর কে তুললো । কিন্তু পাগলের পায়ে কি যেন একটা শক্ত লাগলো । ইটা মনে করে তুলল । না ইটা না । কাদার অনেক গভীরে । যাই হউক হাতে শক্তিতে টান দিয়ে বের করল ।
দেখে একটা লম্বা বক্স । অনেক পুরানো দিনের কাটের বক্স । কাদা সহ হাতে নিয়ে আগে কুকুর তুলে দিল । তার পর সে বক্স নিয়ে পুকুর থেকে উপরে উঠে আসলো । নাজু আপু বলল এত বড় বক্স । তাই বক্সের কাদা পানি দিয়ে পরিষ্কার করতে লাগলো । নাদিয়া বলল – কি জানি আছে । নাজ বলল – মনে হয় জীন ভুত থাকতে পারে । শিলা বলল আমি কিন্তু খালা মনি ভুত ভয় পাই । নাজু বলল যাই আছে দেখা যাবে । আগে ভাল মতে পরিষ্কার করি তো …।
চলমান ——
এক সময় রেজিয়া তার স্বামীর কাছে ফোন করে । স্বামী ফোন ধরে বলে কোথায় তুমি । গত দুই দিন তোমার কোন খোজ পাচ্ছি না। যে খানেই থাক বাসায় চলে এসো । আর আমি অফিস থেকে একটা ফ্ল্যাট পেয়েছি ।
আমর খুব ইচ্ছা এইটা তোমার নামে দিয়ে দিব । মা বলেছিল যে আমি তোমাকে যেন একটা ফ্ল্যাট কিনে দেই । আল্লাহ্ আমার মায়ের আশা পুন্য করেছে । আর একটা কথা তুমি বাসায় না থেকে ভালই করেছ । আমার ছোট ভাই তার বসের বউ কে নিয়ে নাকি পালিয়েছে । বাসায় পুলিশ এসেছিল । ভাগ্য ভাল আজ মা বেঁচে নেই ।
মা বেঁচে থাকলে হয়ত এত বড় কষ্ট সহ্য করতে পারত না। রেজিয়া বলে – তুমি কেমন আছ। রেজিয়ার স্বামী বলে আর কেমন থাকি বল । নীচ তলার আপা এসে কি সব বাজে কথা বলে গেল । আমরা নতুন ফ্ল্যাটে উঠে যাব । তুমি তাদের কোন কথা শুন না। এরা মানুষকে কষ্ট দিয়ে আনন্দ পায় । রেজিয়ার চোখ দিয়ে টলটল করে পানি পড়ছে । নাদিয়া একটা লম্বা ঘুম দিয়ে এসে দেখে তাদের মেহেমান কাঁদছে । নাদিয়া নাজু কে ডেকে বলে যা তো আপুর জন্য ভাল করে চা বানিয়ে নিয়ে আয় ।
পাগল টাকে রেজিয়া বলে তুমি আসলেই কোন মানুষ
না। কারন আমি তোমাকে যে অপমান করেছি তার পর ও তুমি আমার এত বড় উপকার করলে ।
কাল বাসায় যেতে যেতে বিকাল হয়ে যাবে । পাগল বলে তোমার কাছে টাকা আছে সকালে
বিমানে চলে যাও । যদি ৬ টার কোন ফ্লাইট থাকে তাহলে ৭ টায় ঢাকার বাসায় ।পাগল কে বলল তাহলে তাই কর আমার জন্য । পাগল বলল কিছু কিছু সময় মানুষকে স্বার্থ পর হতে হয় । তবে সব সময় না। আমাদের সমাজের মানুষ মনে করে যে স্বার্থপর মানুষরা সমাজে সুখের অভিনয় করে । আসলে কোন মানুষ স্বার্থহীন না। যারা স্বার্থহীন তারা পাগল না হয় শিশু । নাজ আদা দিয়ে দুধ চা নিয়ে আসে । ভোরে আসে ফজরের মিষ্টি আযান চার দিক থেকে ভেসে আসে ।
রেজিয়াকে নিয়ে সিলেট বিমান বন্দরে যায় পাগল মানুষটা । যাওয়ার পথে পাগল বলে আজ থেকে রেজিয়া আপু সব সময় মানুষের মাঝে কি ভাল আছে সেই ভাল গুলোর প্রশংসা করবে । তোমার স্বামী যদি জানতে চায় কোথায় ছিলে তাহলে বলবে যে নাজু আপার বাসায় ছিলাম । সে আমার পরিচিত ।
পাড়লে স্বামীর কাছে আবার সব বলে দিও না। আজ থেকে তুমি কিন্তু তোমার দেবর কে চিন না। সে তার পাপের পাপ্য পেয়ে যাবে । তুমি তোমার স্বামীর সেবা করে সেই পাপের ভার স্রষ্টার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিবে। তবে কোন দিন বল না যে তার ভাই তোমার খতি করেছে । কারন মানুষ জন্মত রক্তের ভাই বোন তাদের রাগ দোষ তারা মনে রাখে না। পর সব সময় পর ।। রেজিয়া বলে তোমার জন্য আমি একটা খাম রেখে এসেছি নাজু আপার কাছ থেকে নিয়ে নিও । তোমার মত আমার একটা পাগল ভাই আছে এটাই আমার জিবনের সব চেয়ে বড় পাওয়া ।
পাগল মানুষটা আকাশের দিকে চেয়ে থাকে বিমান শব্দ করে উড়ে যায় । বিমানের দিকে চেয়ে থাকে ।।
সকাল ৭ টা ৩০ মিনিটে বাসায় আসে রেজিয়া । স্বামী দরজা খুলে দেয় । রেজিয়া সরি বলে । স্বামী বলে আজ দুই দিন অফিসে যায় নাই । রেজিয়া বলে তুমি রেডি হও আমি তোমার নাস্তা রেডি করছি । স্বামীর জন্য খুব তারা তাড়ি নাস্তা বানালো । সেই রাতে গত রাতের দুধ চায়ের আদা দিয়ে স্বামী কে দেয় । স্বামী চা মুখে দিয়ে বলে চা টা জানি কেমন ।। রেজিয়া বলে কি ভাল লাগে নাই ।
—–ভাল লেগেছে ।
—– শুন আশার সময় একটা নতুন সিম কিনে এনো । আর এই টাকা গুলো
ব্যাংকে জমা দিয়ে দিও । তবে আমার হিসাবে না। তোমার ব্যাংক হিসাবে ।
—– আরে এক জায়গায় রাখলেই হয় । তোমার যা আমার তা ।
—– রেজিয়া স্বামীকে জড়িয়ে ধরে কেদে দেয় । স্বামী তার মাথায় হাত দিয়ে বলে
তোমরা নারীরা যে কখন কি কর আল্লাহ্ জানে । কান্না কর নাতো । রেজিয়ার স্বামী অফিসে চলে যায় । মিলি কে দেখে একটা বাচ্চা কে রোদে তেল মাখছে । রেজিয়া
মিলিকে বলে – আপু কেমন আছ । তোমার বাগান তো অনেক সুন্দর ।
—- শুন রেজিয়া মন সুন্দর হলে সব কিছু সুন্দর । তা গত কয়েক দিন দেখলাম না।
তোমার নীচ তলার আপা আমাকে বলল -তুমি নাকি তোমার দেবরের সাথে
পালাইছ । তোমার বাসায় পুলিশ আসাতে এলাকার মানুষের কাছে তোমার
মুখ রক্ষা হল । ঐ নীচ তলার আপার সাথে যেন তোমার স্বামী কথা না বলে ।
—- রেজিয়া হেসে বলে আপু মনে হয় আমার দেবর কে ওর খুব পছন্দ ছিল ।
—- তা তুমি কোথায় ছিলে ।
—- আপা সিলেট আপার বাসায় ।
—- বল কি ? তা আমাকে নিলেও তো পারতে ।
—- আপা আপনি যখন যাইতে চাইবেন নিয়ে যাব । কিন্তু একটা কথা পাগল টা
কোথায় ।
—- আরে পাগল হল আল্লাহর বান্দা আসে ভাল কাজ করতে । কাজ শেষ চলে যায় ।
—- আপা ঠিক বলেছেন । আপনার পাগলের একটা ছবি আমার মোবাইল এ আছে ।
চাইলেই আপনাকে দিয়ে দিব । মিলি জোছনার কুলে বাবু কে দিয়ে রেজিয়ার মোবাইল ফোনটা হাটে নেয় । পাগল ভাইয়ের ছবিটা দেখে কাঁদতে থাকে । মিলির কান্না দেখে রেজিয়াও কাদে । মিলি বলে খুব অল্প সময়ে ছেলেটা আমাদের মায়া লাগিয়ে কোথায় চলে গেল । রেজিয়া এখন জানে কোথায় আছে কিন্তু পাগল মানুষটা বলে দিয়েছে যেন তার কথা না বলে । মিলি তার বাচ্চা কুলে নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে যায় ।
নাজ নাদিয়া শিলা আর নাজু আপা চেয়ে দেখে পুকুরে মাছ আর মাছ । নাজুর স্বামী বল হে আল্লাহ্ এত মাছ বিশ্বাস হয় । মাছ দেখার জন্য মানুষ ভীর করেছে । রইছ মিয়া পাইকার নিয়ে এসেছে । শিলা বলে জিনিয়াস মামা আব্বু হেরে গেল । বিকেলের মধ্য মাছ বিক্রি শেষ । কাদা সরানো কাজ চলছে । নাদিয়া তাদের সব আত্মীয় স্বজনের বাসায় মাছ পাঠায় । রাত আঁটটা বাজে । বারান্দায় বসে আছে শিলার বাবা । পাশে পাগল মানুষটা । পাগল কে বলে শিলার বাবা আসলেই তোমার মাঝে শক্তি আছে। এই পুকুর নিয়ে আমাদের কোন চিন্তা ছিল না। পাগল হেসে বলে
—- দেখুন এই পুকুরে কি জানি একটা রহস্য আছে । আমি তাই এই পুকুর সেচে সেই
রহস্য বের করতে চাই ।
—– আসলে রহস্য কিছু না । ভয় । । ভয় পায় । এই পুকুর কাটার পর থেকে এই বাড়িতে কিছু না কিছু সমস্যা হতে থাকে । আমার বাবার ছোট ভাইয়ের তিন সন্তান পানিতে পড়ে মারা যায় । একেই দিনে । পুকুর কাটার দিন আমার বাবার দুইটা গরু মারা যায় । আমার ছোট চাচা এই পুকুরে ঐ শিমুল গাছে ফাসি দিয়ে মারা যায় । আমার মা প্রায় রাতে একা একা নেমে ডুব দিত । কতদিন যে বাবা তাকে পুকুর থেকে তুলেছে । যুদ্দের সময় পাক বাহিনী এই পুকুরে দুই জন কে ডুবিয়ে মারে । সাত বছর আগে কোথায় থেকে এক পাগল এসে নামে । সে আর উঠে না। তিন দিন পড়ে তার লাশ উঠে ।।
—- পাগল বলে দেখুন সব চেয়ে অবাক লাগে কি জানেন । আপনার মা কেন পুকুরে
নেমে সারা পুকুরে ডুব দিত । আচ্ছা দেখি সব রহস্য বের হবে ।
নাদিয়া আর নাজ তাদের রুমে শুয়ে আছে । বাড়ির পিছনে পুকুরে কুকুর পড়ে গেছে তাই গেউ গেউ করছে । সবাই লাইট নিয়ে পুকুর পারে গেছে । শীত আর কাদায় কুকুর আর উঠতে পারছে না। এত রাতে কে নামবে কাদায় । নাজুর স্বামী বলে এখন কি করি ? পাগল এসে বলল লম্বা দরি নেন । পুকুর থেকে উপরে উঠার কোন জায়গা নেই । সকালে জেলেরা বাঁশের মই দিয়ে নেমে ছিল । আর পানি থাকলে শিমুল গাছের শিকর ধরে উঠা যেত ।
পাগল তাই পাগল একটা দরি ধরে নামলো । কাদা থেকে কুকুর কে তুললো । কিন্তু পাগলের পায়ে কি যেন একটা শক্ত লাগলো । ইটা মনে করে তুলল । না ইটা না । কাদার অনেক গভীরে । যাই হউক হাতে শক্তিতে টান দিয়ে বের করল ।
দেখে একটা লম্বা বক্স । অনেক পুরানো দিনের কাটের বক্স । কাদা সহ হাতে নিয়ে আগে কুকুর তুলে দিল । তার পর সে বক্স নিয়ে পুকুর থেকে উপরে উঠে আসলো । নাজু আপু বলল এত বড় বক্স । তাই বক্সের কাদা পানি দিয়ে পরিষ্কার করতে লাগলো । নাদিয়া বলল – কি জানি আছে । নাজ বলল – মনে হয় জীন ভুত থাকতে পারে । শিলা বলল আমি কিন্তু খালা মনি ভুত ভয় পাই । নাজু বলল যাই আছে দেখা যাবে । আগে ভাল মতে পরিষ্কার করি তো …।
চলমান ——
Thursday, February 4, 2016
‘অ-মানব’- (১৬তম পর্ব)
নাদিয়া খুব অবাক হয়ে দেখছে সেই ভোর বেলায় পুকুরে পানি সেচের মেশিন লাগিয়েছে । এই শীতের মধ্য ভোর বেলায় পাগল মানুষটা পুকুরের ভাসমান ময়লা পরিষ্কার করছে। আশপাশের সবাই বলছে খুব ভাল হবে । গত ৪০ বছরে এই পুকুর পরিষ্কার করা হয় না। চার দিক ময়লা আর নোংরা পানি ।
শিলার বাবা আর শিলা দাড়িয়ে হাসছে । নাদিয়া ঘুম থেকে উঠে বলে- মিঃ জিনিয়াস
আর কোন কাজ নেই । ভালই তো । আপনি কি জানেন এই পুকুরে জীন আছে । ৪০ বছর আগে
এক ই পরিবারের তিনভাই বোন পানিতে পড়ে মারা যায় । জিনিয়াস পাগলটা হেসে বলে
পুকুরে পড়ে মারা যায় না মেরে ফেলে তা কিন্তু আজ পর্যন্ত অমীমাংসিত । নাদিয়া
বলে এটা কেমন কথা।
নাদিয়ার দিকে তাকিয়ে পাগলটা বলে গাছ গুলো কিন্তু এখনো পুকুর পারে দাড়িয়ে । নারিকেল আর লিছু গাছ গুলো । যে দিন গাছ কথা বলবে সেই দিন হয়ত এর সমাধান হবে । এই শীতে ভেজা শরীর নিয়ে এই মানুষটার কোন খেয়াল নেই । তার সাথে আরও ৪ জন লেবার নেমেছে । রইস মিয়া বলল নাদিয়া যেই কাজ আমরা চল্লিশ বছরে পারি নাই সেই কাজ দুই দিনে শুরু করেছে । শিলা পুকুর পারে দাড়িয়ে বলছে মামা তুমি উঠে এসো । লেবার তারা এই কাজ করবে ।। বাসার আশ পাশের সবাই দেখছে পুরো পুকুর সাতার কেটে যাচ্ছে । নাজু বলল – ভাই তুমি উঠে এসো । শিলা তার বাবা কে বলল এবার কিন্তু আব্বু আমাদের পুকুরে একটা পাকা ঘাট বেধে দিবা । পাগল বলল তোমার আব্বুর টাকা লাগবে না । পুকুরের মাছ বেঁচে হয়ে যাবে । শিলার বাবা বলে হাসতে হাসতে মাছ পাবে কিন্তু যেই টাকার মাছ পাবে সেই ডিজেল লাগবে সেই খরচ তো উঠবে না।নাজু তার স্বামী কে বলে আমার ভাই এই শীতের মধ্য পানিতে নেমে তোমাদের না পারা কাজ করছে আর তুমি টাকার হিসাব করছ। পাগল বলে আপা করতে দাও মাছ বেচা টাকা সব কিন্তু আমার । পাগল কে শিলা বলে আচ্ছা নিও । এখন উঠে এসে কিছু খাবার খাও। তোমার প্রিয় চা নিয়ে এসেছে নাজ। পাগল নাজ কে বলে— নাজ দুধ চা তাই না ।
—- হ্যা ভাইয়া সকাল বেলা তো ?
—- নাজ আমার দুধ চায়ে একটু আদা দাও ।
—– কি বলেন ভাইয়া । দুধ চায়ে আদা ।
—– হা দুধ চায়ে আ্দা তবে আদা দিয়ে লিকার টা একটু ফোঁটাতে হবে ।
—– ঠিক আছে দেখি ভাইয়া ।
নাজ চা আবার বানাতে চলে গেল । নাদিয়া দুধ চায়ে আদার কথা শুনে বলে ভাইয়া তোমাকে মানুষ শুধু শুধু পাগল বলে না।
— নাদিয়া শুনো যারা আমাকে পাগল বলে তারা হল সব এক ধরনের মূর্খ মানুষ ।
এই সব মূর্খ মানুষের জন্য এই দুনিয়ায় , এই সমাজে , ও পরিবার যত সব কষ্ট আর অশান্তিতে পরে থাকে। নাদিয়া তোমাকে যদি বলা হয় তুমি তোমার বাবার সম্পদের কোন অংশ পাবে না। তাহলে কি তুমি ঐ লোকটাকে পাগল বলবে না।
—- হ্যা পাগল বলব ।
—- দেখ তুমি যদি বাংলাদেশের গ্রাম গুলোতে যাও দেখবে বেশীর ভাগ তাদের বোনদের সম্পত্তি দেয় না। বোন রা কত কষ্ট করে ভাইয়েরা তা দেখে দেখে না। আমাদের সমাজে কিছু ভণ্ড লেবাস ধারী ধর্ম গুরু বলে ওয়ারিশ নিলে অমঙ্গল হবে। তারা তাদের ধর্মের কিতাব কে তাদের সামনে আনে না। সমাজ শুধু নামে ধর্ম পালন করে । কেউ যদি কারো হক মেরে দেয় সেই কি ধার্মিক ?
—- নাদিয়া আর কোন কথা বলে না। চুপ করে যায় । কারন নাদিয়ার মামা রইস মিয়াই তাদের মায়ের সম্পদ দিচ্ছে না। বলে বাপের সম্পদ নিলে পাপ হবে। বোন ভাগ্নি আসবে বেড়াবে । নাদিয়া একটু নিজে নিজে হেসে দিল ।। পাগল পানি থেকে উঠে এসে নাজের কাছ থেকে চা নিয়ে বলল বাহ! দারুন চা। নাজ বলে ভাইয়া অনেক মজা আমি এখন থেকে দুধ চায়ে আদা দিয়েই খাব । নাদিয়া নাজের কাছ থেকে একটু চায়ে চুমুক দিয়ে বলে দারুন তো ! পুকুরের পানি কমছে সেচ পাম্পের শব্দ বেশ হচ্ছে। শিলার বাবা আরও দুটা সেচ পাম্প এনে দিল । পাগল হেসে বলল- আমার দুলা ভাই গরীবের দুঃখ বুঝে ।।
রেজিয়া কে সিলেটের গাড়িতে তুলে দেয় তার দেবর । রেজিয়া তার সকল টাকা তুলে তার নিজ ব্যাংকে রাখে । রেজিয়ার স্বামী সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে দেখে রেজিয়া নাই । তার ফোন বন্ধ । রাতে তাদের মধ্য ঝগড়া হয় । কিন্তু রেজিয়া এভাবে চলে গেল ।
তার ভাই কে ডেকে বলে তুই কিছু জানিস । ভাই বলল আমি কিছুই জানি না। আজ রাতে আমি চলে যাব । ভাবীর এ সময়ে এভাবে চলে যাওয়ার কোন মানে হয় না। রেজিয়ার দেবর রাতের ১১ টায় সিলেটের গাড়িতে উঠে । তার ভাই তাকে বিদায় দেয় । এ দিকে বউ রাগ করে চলে গেছে এখনো তার সাথে যোগাযোগ করে নাই ।
রেজিয়া সিলেট মাজারের কাছে একটা হোটেলে উঠেছে রাতে সিলেট মাজারে ভিতরে পুকুরের মাছ দেখছে । পিছন থেকে কেউ একজন বলল – আপু সিলেট কখন আসলেন ? রেজিয়া পিছন ফিরে দেখে ঐ পাগল মানুষটা মিলির বাসার ছাদে যাকে দেখে ছিল । রেজিয়া একটু ভয় পায় । প্রথমে না চেনার ভান করে । পাগল বলল আপু জিবনে ভুল করছেন । ফিরে যান । আপনার স্বামীর বিশ্বাস কে নষ্ট করার কোন অধিকার আপনার নাই । প্রতিটা মানুষ কিছু বিশ্বাস নিয়ে বেঁচে থাকে । সহজ সরল মানুষের বিশ্বাস নিয়ে খেলতে হয় না। রেজিয়া বলে দেখুন জীবন আমার । আর আমার জিবনের ভাল মন্দ আমি ভাল করে বুঝি ।
— পাগল হেসে বলল আপু জীবন আপনার এ কথা সত্য । কিন্তু আপনার জিবনের সাথে পরিবারের সমাজের অনেক মানুষের জীবন জড়িত । আচ্ছা রেজিয়া আপু আপনি শুধু একটা কাজ করুন । আপনার দেবর কে ফোন করে বলুন যে আপনি
টাকা আনতে পারেন নাই । আর যে টাকা এনেছেন তা ভিসা আপনি হুন্ডি করে কারো নামে পাঠাবেন না। আগে আপনি মালয়েশিয়া যাবেন তার পর সিন্দান্ত নিবেন ।
— রেজিয়া পাগলের কথা মত তার দেবর কে ফোন দিল ।
— দেবর ফোন তুলে বলল জান পাখি আমি বাসে উঠেছি ।
— ঠিক আছে কিন্ত আমার পাসপোর্ট কোথায় ।
— ভিসার জন্য জমা । কাল ভিসা হবে আমার বন্ধু পাঠিয়ে দিবে কুরিয়ারে ।
— এক দিন থেকে তুমি কেন নিয়ে আসছো না ?
— দেখ সিলেটে তো অনেক কাজ । তোমাকে নিয়ে তো শেষ করতে হবে ।
— কি এমন কাজ যে ভিসা না নিয়েই চলে আসতে হবে ।
— শুনো তুমি শুধু শুধু রাগ করছ । আমি সিলেট এসে সব বলি ।
— এখন বললে সমস্যা কি?
—- না কোন সমস্যা না । মালয়েশিয়ায় কালকের মধ্য ৩০ লাখ টাকা পাঠাতে হবে
তাই ।
—- আমার কোন টাকা আমি কাউকে দিব না। টাকা দিয়ে কারো সাথে প্রেম করব না। মালয়েশিয়া যেতে দু জনের মাত্র চার লাখ হলেই চলবে । আমি আমার টাকা অন্য কারো নামে পাঠাতে পারব না ।
— রেজিয়ার দেবর বলল তুমি হোটেল থেকে বের হবেনা। কি আবল তাবল বলছ ।
তুমি কি মনে কর । আমি কি বেঈমান নাকি ।
রেজিয়া ফোন কেটে পাগল কে বলে – আমাকে হোটেল থেকে বের হতে নিষেধ করেছে। আসলেই তো যে তার আপন ভাইয়ের বউ কে নিজ স্বার্থের জন্য ব্যবহার করে । একদিন তো অন্য কোন স্বার্থের জন্য আমাকে আবার ব্যবহার করবে । চলুন আগে হোটেল ছারি । রেজিয়া কে নিয়ে হোটেল ছেরে পাগল তাকে নিয়ে চলে আশে । নাজু আপুর বাসায় । নাজু আপুকে ডেকে গোপনে সব কথা বলে । নাজু বলে ভাইয়া তুমি চিন্তা কর না। দরকার হলে আমি ওকে ঢাকা যেয়ে দিয়ে আসব ।
পাগল বলে রেজিয়া আপু তোমার দেবরের মোবাইল নাম্বার টা দাও । একটা মেইল করি আমার এক পরিচিত জন কে সে আমাকে এক ঘণ্টার মধ্য কল লিস্ট পাঠাবে । তখন তুমি আরও পরিষ্কার হবে যে তুমি ভুল করছিলে ।
বারান্দায় বসে সবাই আলাপ করছে । রেজিয়া এসে তাদের সাথে বসল । নাদিয়া বলল
রেজিয়া কে
—- ভাইয়া কে কি করে চিনেন ?
—- তোমারা কি করে চেন বোন ?
—– ও মা আমাদের ভাইইয়া । জিনিয়াস ভাইয়া । কেন আমরা চিনব না।
—– রেজিয়া বলে আমাদের এলাকায় সবাই তাকে রহস্য পাগল মানুষ হিসাবে জানে
খুব অল্প সময় ছিল । এই অল্প সময়ে আমাদের কিছু মানুষকে সে মানুষ হতে শিখিয়েছে ।
চলমান————————–
নাদিয়ার দিকে তাকিয়ে পাগলটা বলে গাছ গুলো কিন্তু এখনো পুকুর পারে দাড়িয়ে । নারিকেল আর লিছু গাছ গুলো । যে দিন গাছ কথা বলবে সেই দিন হয়ত এর সমাধান হবে । এই শীতে ভেজা শরীর নিয়ে এই মানুষটার কোন খেয়াল নেই । তার সাথে আরও ৪ জন লেবার নেমেছে । রইস মিয়া বলল নাদিয়া যেই কাজ আমরা চল্লিশ বছরে পারি নাই সেই কাজ দুই দিনে শুরু করেছে । শিলা পুকুর পারে দাড়িয়ে বলছে মামা তুমি উঠে এসো । লেবার তারা এই কাজ করবে ।। বাসার আশ পাশের সবাই দেখছে পুরো পুকুর সাতার কেটে যাচ্ছে । নাজু বলল – ভাই তুমি উঠে এসো । শিলা তার বাবা কে বলল এবার কিন্তু আব্বু আমাদের পুকুরে একটা পাকা ঘাট বেধে দিবা । পাগল বলল তোমার আব্বুর টাকা লাগবে না । পুকুরের মাছ বেঁচে হয়ে যাবে । শিলার বাবা বলে হাসতে হাসতে মাছ পাবে কিন্তু যেই টাকার মাছ পাবে সেই ডিজেল লাগবে সেই খরচ তো উঠবে না।নাজু তার স্বামী কে বলে আমার ভাই এই শীতের মধ্য পানিতে নেমে তোমাদের না পারা কাজ করছে আর তুমি টাকার হিসাব করছ। পাগল বলে আপা করতে দাও মাছ বেচা টাকা সব কিন্তু আমার । পাগল কে শিলা বলে আচ্ছা নিও । এখন উঠে এসে কিছু খাবার খাও। তোমার প্রিয় চা নিয়ে এসেছে নাজ। পাগল নাজ কে বলে— নাজ দুধ চা তাই না ।
—- হ্যা ভাইয়া সকাল বেলা তো ?
—- নাজ আমার দুধ চায়ে একটু আদা দাও ।
—– কি বলেন ভাইয়া । দুধ চায়ে আদা ।
—– হা দুধ চায়ে আ্দা তবে আদা দিয়ে লিকার টা একটু ফোঁটাতে হবে ।
—– ঠিক আছে দেখি ভাইয়া ।
নাজ চা আবার বানাতে চলে গেল । নাদিয়া দুধ চায়ে আদার কথা শুনে বলে ভাইয়া তোমাকে মানুষ শুধু শুধু পাগল বলে না।
— নাদিয়া শুনো যারা আমাকে পাগল বলে তারা হল সব এক ধরনের মূর্খ মানুষ ।
এই সব মূর্খ মানুষের জন্য এই দুনিয়ায় , এই সমাজে , ও পরিবার যত সব কষ্ট আর অশান্তিতে পরে থাকে। নাদিয়া তোমাকে যদি বলা হয় তুমি তোমার বাবার সম্পদের কোন অংশ পাবে না। তাহলে কি তুমি ঐ লোকটাকে পাগল বলবে না।
—- হ্যা পাগল বলব ।
—- দেখ তুমি যদি বাংলাদেশের গ্রাম গুলোতে যাও দেখবে বেশীর ভাগ তাদের বোনদের সম্পত্তি দেয় না। বোন রা কত কষ্ট করে ভাইয়েরা তা দেখে দেখে না। আমাদের সমাজে কিছু ভণ্ড লেবাস ধারী ধর্ম গুরু বলে ওয়ারিশ নিলে অমঙ্গল হবে। তারা তাদের ধর্মের কিতাব কে তাদের সামনে আনে না। সমাজ শুধু নামে ধর্ম পালন করে । কেউ যদি কারো হক মেরে দেয় সেই কি ধার্মিক ?
—- নাদিয়া আর কোন কথা বলে না। চুপ করে যায় । কারন নাদিয়ার মামা রইস মিয়াই তাদের মায়ের সম্পদ দিচ্ছে না। বলে বাপের সম্পদ নিলে পাপ হবে। বোন ভাগ্নি আসবে বেড়াবে । নাদিয়া একটু নিজে নিজে হেসে দিল ।। পাগল পানি থেকে উঠে এসে নাজের কাছ থেকে চা নিয়ে বলল বাহ! দারুন চা। নাজ বলে ভাইয়া অনেক মজা আমি এখন থেকে দুধ চায়ে আদা দিয়েই খাব । নাদিয়া নাজের কাছ থেকে একটু চায়ে চুমুক দিয়ে বলে দারুন তো ! পুকুরের পানি কমছে সেচ পাম্পের শব্দ বেশ হচ্ছে। শিলার বাবা আরও দুটা সেচ পাম্প এনে দিল । পাগল হেসে বলল- আমার দুলা ভাই গরীবের দুঃখ বুঝে ।।
রেজিয়া কে সিলেটের গাড়িতে তুলে দেয় তার দেবর । রেজিয়া তার সকল টাকা তুলে তার নিজ ব্যাংকে রাখে । রেজিয়ার স্বামী সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে দেখে রেজিয়া নাই । তার ফোন বন্ধ । রাতে তাদের মধ্য ঝগড়া হয় । কিন্তু রেজিয়া এভাবে চলে গেল ।
তার ভাই কে ডেকে বলে তুই কিছু জানিস । ভাই বলল আমি কিছুই জানি না। আজ রাতে আমি চলে যাব । ভাবীর এ সময়ে এভাবে চলে যাওয়ার কোন মানে হয় না। রেজিয়ার দেবর রাতের ১১ টায় সিলেটের গাড়িতে উঠে । তার ভাই তাকে বিদায় দেয় । এ দিকে বউ রাগ করে চলে গেছে এখনো তার সাথে যোগাযোগ করে নাই ।
রেজিয়া সিলেট মাজারের কাছে একটা হোটেলে উঠেছে রাতে সিলেট মাজারে ভিতরে পুকুরের মাছ দেখছে । পিছন থেকে কেউ একজন বলল – আপু সিলেট কখন আসলেন ? রেজিয়া পিছন ফিরে দেখে ঐ পাগল মানুষটা মিলির বাসার ছাদে যাকে দেখে ছিল । রেজিয়া একটু ভয় পায় । প্রথমে না চেনার ভান করে । পাগল বলল আপু জিবনে ভুল করছেন । ফিরে যান । আপনার স্বামীর বিশ্বাস কে নষ্ট করার কোন অধিকার আপনার নাই । প্রতিটা মানুষ কিছু বিশ্বাস নিয়ে বেঁচে থাকে । সহজ সরল মানুষের বিশ্বাস নিয়ে খেলতে হয় না। রেজিয়া বলে দেখুন জীবন আমার । আর আমার জিবনের ভাল মন্দ আমি ভাল করে বুঝি ।
— পাগল হেসে বলল আপু জীবন আপনার এ কথা সত্য । কিন্তু আপনার জিবনের সাথে পরিবারের সমাজের অনেক মানুষের জীবন জড়িত । আচ্ছা রেজিয়া আপু আপনি শুধু একটা কাজ করুন । আপনার দেবর কে ফোন করে বলুন যে আপনি
টাকা আনতে পারেন নাই । আর যে টাকা এনেছেন তা ভিসা আপনি হুন্ডি করে কারো নামে পাঠাবেন না। আগে আপনি মালয়েশিয়া যাবেন তার পর সিন্দান্ত নিবেন ।
— রেজিয়া পাগলের কথা মত তার দেবর কে ফোন দিল ।
— দেবর ফোন তুলে বলল জান পাখি আমি বাসে উঠেছি ।
— ঠিক আছে কিন্ত আমার পাসপোর্ট কোথায় ।
— ভিসার জন্য জমা । কাল ভিসা হবে আমার বন্ধু পাঠিয়ে দিবে কুরিয়ারে ।
— এক দিন থেকে তুমি কেন নিয়ে আসছো না ?
— দেখ সিলেটে তো অনেক কাজ । তোমাকে নিয়ে তো শেষ করতে হবে ।
— কি এমন কাজ যে ভিসা না নিয়েই চলে আসতে হবে ।
— শুনো তুমি শুধু শুধু রাগ করছ । আমি সিলেট এসে সব বলি ।
— এখন বললে সমস্যা কি?
—- না কোন সমস্যা না । মালয়েশিয়ায় কালকের মধ্য ৩০ লাখ টাকা পাঠাতে হবে
তাই ।
—- আমার কোন টাকা আমি কাউকে দিব না। টাকা দিয়ে কারো সাথে প্রেম করব না। মালয়েশিয়া যেতে দু জনের মাত্র চার লাখ হলেই চলবে । আমি আমার টাকা অন্য কারো নামে পাঠাতে পারব না ।
— রেজিয়ার দেবর বলল তুমি হোটেল থেকে বের হবেনা। কি আবল তাবল বলছ ।
তুমি কি মনে কর । আমি কি বেঈমান নাকি ।
রেজিয়া ফোন কেটে পাগল কে বলে – আমাকে হোটেল থেকে বের হতে নিষেধ করেছে। আসলেই তো যে তার আপন ভাইয়ের বউ কে নিজ স্বার্থের জন্য ব্যবহার করে । একদিন তো অন্য কোন স্বার্থের জন্য আমাকে আবার ব্যবহার করবে । চলুন আগে হোটেল ছারি । রেজিয়া কে নিয়ে হোটেল ছেরে পাগল তাকে নিয়ে চলে আশে । নাজু আপুর বাসায় । নাজু আপুকে ডেকে গোপনে সব কথা বলে । নাজু বলে ভাইয়া তুমি চিন্তা কর না। দরকার হলে আমি ওকে ঢাকা যেয়ে দিয়ে আসব ।
পাগল বলে রেজিয়া আপু তোমার দেবরের মোবাইল নাম্বার টা দাও । একটা মেইল করি আমার এক পরিচিত জন কে সে আমাকে এক ঘণ্টার মধ্য কল লিস্ট পাঠাবে । তখন তুমি আরও পরিষ্কার হবে যে তুমি ভুল করছিলে ।
বারান্দায় বসে সবাই আলাপ করছে । রেজিয়া এসে তাদের সাথে বসল । নাদিয়া বলল
রেজিয়া কে
—- ভাইয়া কে কি করে চিনেন ?
—- তোমারা কি করে চেন বোন ?
—– ও মা আমাদের ভাইইয়া । জিনিয়াস ভাইয়া । কেন আমরা চিনব না।
—– রেজিয়া বলে আমাদের এলাকায় সবাই তাকে রহস্য পাগল মানুষ হিসাবে জানে
খুব অল্প সময় ছিল । এই অল্প সময়ে আমাদের কিছু মানুষকে সে মানুষ হতে শিখিয়েছে ।
চলমান————————–
সেলিনা জাহান প্রিয়ার গল্প: ‘অ-মানব’- (১৫তম পর্ব)
বিয়ে বাড়িতে সবাই
অবাক হয়ে বরের সামনে আসলো । বর পাগলের পা ধরে বসে আছে । নাদিয়া পাগল কে
বলে ভাইয়া কি বেপার নওশা আপনার পায়ে ধরে আছে কেন । পাগল বলল – কনের বাবা কে
একটু ডাকো । সবাই অবাক হয়ে দেখছে । নাজ বলল ভাইয়ার পায়ে ধরেছে নওশা । রইস
মিয়া কনের বাবা কে বলল ভাই জান । আমার ভাগিনা হয় তার সাথে একটু কথা বলুন ।।
কনের বাবা কে পাগল বলল- যখন স্রষ্টা কাউকে নিজ থেকে ভালবাসে তখন সে তার
জন্য কাউকে পাঠায় । বর কে বলল তুমি উঠ । বর উঠে পাগল কে বলল আপনি এখানে কি
করে খবর পেলেন ।। পাগল বর কে বলল – যখন যার পতন হবে তখন সে সেই যাবে । বরের
বাবা আসে বলল – কে আপনি আর কি ঘটনা । পাগল বলল আপনার ছেলে ই ভাল করে জানে ।
বর মাথা নিচু করে দাড়িয়ে রইল । নাদিয়ে বলল – ভাইয়া বিষয় টা খুলাসা করে বলত
।। পাগল বলল – সব কিছু জানতে নেই ।। কনের বাবা বলল- কি গঠনা । ছেলের কোন
দোষ আছে নাকি ? আমাদের এই বিয়ে তো রাবর(ঘটক) দিয়ে ঠিক করা । পাগল বলল ঘটক
কে তাকে আনুন । রইস মিয়া ঘটক নিয়ে আসতেই । ঘটক কে বলল – আপনি তো সব জানেন ।
ঘটক বলল – তার আগের বিবি আসতে চায় না। আর তার সাথে তো তালাক হয়েছে ।। পাগল
বলল – তালাকের পেপার দেন । ঘটক বলল- তাইন বলেছে পড়ে দিবে। পাগল বলল আপনে
কি বলেছেন এই মেয়ের বাবা কে ? ঘটক চুপ করে গেল । মেয়ের বাবা ঘটক কে একটা চর
দিল ।। এই বদমাইশ কে পুলিশে দেয়া দরকার ।। পাগল বলল না ঘটক আর ছেলের
বাবাকে দিতে হবে ।। ছেলে তার বাবা সাহসে এই অন্যায় করছে । পরিবার থেকে কেউ
উৎসাহ না পেলে খারাপ হতে পারে না। প্রতিটা মানুষ খারাপ হওয়ার জন্য প্রথমে
দায়ী তার পরিবার ।। নাদিয়া অ নাজ বলল বর কে সহ লাল দালানে দিয়া দেন ।।
কিন্তু কনের কি হবে রইস মিয়া বলল । পাগল কনের বাবা কে বলল – আপনার মেয়েটা কি লিখা পড়া করে । কনের বাবা বলল – হা ছাত্রি হিসাবে খুব ভাল । পাগল বলল পড়তে থাকুক । কাল থেকে কলেজে যাবে । মেয়েটা কে ডাকুন । আমি তাকে এমন কথা বলে দিব যে সে আর এই দুঃখ মনে রাখবে না। রইস মিয়া পুলিশ নিয়ে আসতেই ছেলের বাবা বলল – মিয়া কাজটা ভাল করলা না। পাগল বলল — আগে চিনে নেন ভাল মন্দ কি ? তার পর বলুন ।। নাদিয়া পাগল কে নিয়ে কনের ঘরে গেল-
মেয়েটি কাঁদতে কাঁদতে শেষ । পাগল বলল – ওকে কাঁদতে দিন । সারা জীবন কান্না থেকে বেঁচে গেল । মেয়েটির কাছে খুব শান্ত হয়ে বসে বলল- আজ আমার জন্য তোমার ভাল হয়েছে না কি খারাপ হয়েছে । তুমি যদি কান্না কর তাহালে আমি ভাববো আমি অন্যায় করেছে । বিশ্বাস কর তুমি বোন আমি যে কেন এই বিয়েতে আসছি আমি নিজেও জানি না। তোমার কি মনে হয় আমি অপরাধী । মেয়েটি কান্না থামিয়ে বলল – এক পিতা আমারে জন্ম দিছে । আজ একটা শয়তানের কাছ থেকে
আমাকে বাচাইলেন । আপনি আমার আর এক পিতা । পাগল বলল- মা চোখের পানি
মুছে হাতে কলম ধর । তুমি পড়তে শুরু কর । আমাদের সমাজে কত নারী মিষ্টি কথায় জীবন শেষ হয় । তুমি তাদের বলে জাগিয়ে তুল । বলো তাদের নারী বিয়েই
তার পরিচয় না। সেও এ সমাজের মানুষ । মেয়েটি পাগলের হাত ধরে চোখ বন্ধ করে বলল – আমি মানুষ আমি নারী না। কনের বাবা বলল- হে মা এখন থেকে তুমি মানুষ । পাগল তাদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে নাদিয়া আর নাজকে নিয়ে বাসায় ফিরছে ।
নাদিয়া বলল- ভাইয়া বর তোমাকে এত ভয় পেল । একদম পায়ে ।
—- পাগল বলল । ও আমাকে ভয় পায় নাই
—- তাহালে কাকে ভয় পেয়ে পা ধরেছে ।
—- আমার সততার কাছে সে ভয় পেয়েছে । কারন সততাকে টাকা দিয়ে কেনা
যায় না । মানুষ শুধু মিথ্যা কিনে টাকা দিয়ে । যখন সত্য সামনে আসে তখন
মিথ্যা পালিয়ে যায় । মিথ্যা অন্ধকার তাতে কিছুই দেখা যায় না। সততা হল
আলোর মত যা সব কিছু পরিষ্কার দেখা যায় ।।
— নাজ বলল- ভাইয়া তোমার কাছে অনেক কিছু শেখার আছে ।।
—- পাগল বলল । নাজ আমরা শিখতে চাই না। আবার যিনি শিখেছে সে শিখাতে
চায় না । ভাবে শিখলে তার মুল্য কমে যাবে ।।
রেজিয়া মিলির ছাদে রাতে ফুল গাছ গুলো দেখছে । খুব অল্প সময়ে পুরো ছাদ কি সুন্দর করেছে । এই অল্প সময়ে একটা মানুষ কি করে এত সুন্দর করে গেল । রেজিয়ার স্বামী বলল – ঐ পাগলের কজ দেখেছ । আসলেই মানুষ টি জিনিয়াস । আমার খুব ভাল লেগেছে । যদিও আমি কথা বলিনি । রেজিয়া বলল জিয়াস না ছাই মিলির উপর সতীন দিয়ে গেল । আজ আবার মিলি তার বাড়ী তার স্বামী কে দান করে দিল । মিলি কি কাজটা ঠিক করলো । রেজিয়ার স্বামী বলল – বিশ্বাসে মিলাই তর্কে বহু দূর ।
রেজিয়া তার স্বামী কে বলল
—- আচ্ছা আমাকে কতটা বিশ্বাস কর ।
—– স্বামী বলল । সব টুকু ।
—- এই বিশ্বাস আমার কি কাজে লাগবে
—– আমি জানি না।
—– খুব তাড়াতাড়ি জানবে ।।
—- আচ্ছা ভাল । চল ঘুমাতে ।
—- তুমি যাও । ঘুমাতে ।। তোমার ছোট ভাই বল আসতে ওর সাথে কথা আছে ।।
রেজিয়ার স্বামী ঘরে যেতেই তার দেবর এসে বলল ভাবি আজকের আকাশ টা সুন্দর ।
শীত কমে গেছে । ভাইয়ার অ্যাকাউন্ট থেকে কি টাকা তুলে তোমার অ্যাকাউন্ট নিয়েছ । শুন ভাইয়া যে হে তু প্রতিদিন উত্তরা যায় । তাই আমরা সিলেট থেকে বিমানে উঠব । ভাইয়া সকালে অফিসে গেলে আমি তোমাকে সিলেটের বাসে তুলে দিব । ঐ খানে তোমার জন্য একটা হোটেলে রুম রাখা আছে । আমি দুই দিন পড়ে এসব ।
আজ রাতে তুমি যে কোন বিষয় নিয়ে ঝগড়া করবে । আমাকে সহ বকা দিবে । তোমার কাছ থেকে যেই টাকা ধার নিয়েছি এই বিষয় নিয়ে । ভাইয়া জানবে তুমি রাগ করে চলে গেছ । তিন দিন পড়ে তুমি তালাক নামা দিয়ে দিবে। ভাই সব দোষ আমাকে দিবে । আমিও রাগ করে বাসা থেকে বের হয়ে সিলেট এসে একসাথে মালয়েশিয়া ।।
এই টাকা টাকা নিয়ে সত্যি রাতে রেজিয়া তার স্বামীর সাথে ঝগড়া শুরু করে দিল ।।
নাদিয়া বাসায় সবাইকে বলল আজ ভাইয়ার জন্য ঐ মেয়েটার দারুন বাচা বেঁচে গেল । শিলা বলল – মামা কিন্তু একটা জিনিয়াস খালা মনি । নাজু বলল- কি থেকে কি হয় । ওরা নাকি মান্স ভাল না। নাদিয়া বলল – কি আর হবে । কিন্তু ভাইয়া কে যে ভয় পাইছে বেটা নওশা । তুমি যদি দেখতা । নাজু বলল – টা জিনিয়াস ভাই কোথায় । রইস মামার সাথে জিন্দা বাজার গেছে । এই পুকুর নাকি পরিষ্কার করবে । সব পানি মেশিন দিয়ে তুলে নাকি পুকুর ঠিক করবে । নাজু বলে বলিস কি ? হা দুলা ভাইয়ের সাথে কথা হলে দুলা ভাই তাকে বুকে জড়িয়ে ধরে । আর সে জিনিয়াস পাগল ভাইয়া দুলা ভাইয়ের কাছ থেকে অনুমতি নেয় । শিলার জন্য একটা বাগান করবে ।
শিলা বলে মা জিনিয়াস মামা দেখ এই পুকুরটা আগের মত করে দিবে ।
রইস মিয়া কে নিয়ে জিন্দা বাজার একটা চায়ের চায়ের দোকানে বসে চা খাচ্ছে ।
রইস মিয়া বলল –
— ভাগনে একটা ঘটনা আপনে কি ভাবে ঐ বর কে চিনলেন ।
—- সব কিছু মামা জানতে নেই মামা ।তা মামা আপনি নাকি বিয়ে করেন নাই ।
—- তোমারে কে বলছে /
—- নাদিয়া
—- আসলে মামা একটা মেয়ে আমার পছন ছিল । লন্ডন যাওয়ার আগে বলল তার
কাগজ ঠিক হয়ে গেলে আমাকে বিয়ে করবে । আমি তাঁরে টাকা ও দিয়েছি ।
তার কাগজ আমার টাকা দিয়ে ঠিক করে । কিন্তু তার পড়ে সে আমাকে বিয়ে
না করে গোলাপ গঞ্জ থানার ঢাকা দক্ষিণের এক এক ছেলে বিয়ে করে । ঐ ছেলে
দেখতে আমার চেয়ে সুন্দর ও পয়সা আমার চেয়ে বেশী ।।
— ও সরি মামা । কিন্তু মামা বিয়ে না করে থাকার মধ্য একটা আলাধা মজা ।
— ঠিক বলেছ ভাগনা । এই আমি যখন যা খুশি তাই করি। বিয়ে করলে কি পারতাম ।
—- না মামা । বিয়ে করা মানে । বন্ধি ।
— আচ্ছা ভাগনা তোমার বাড়ী ঘর নাই না কি ?
—- মামা বাড়ী ঘর জিনবনের সব কিছু না। আমি আমার আসল বাড়িটা বানাচ্ছি
—- ভাগনা আসল বাড়ী মানে ।
—- মামা যেই বাড়ী বানাতে এই দুনিয়ায় আসছি । আমি আমার বাড়ী বানাব
এই দুনিয়ার চাইতে সুন্দর বাড়ী ।
—- ভাগনা পাগলের মত যে কি বল । এই দুলিয়ার চাইতে সুন্দর বাড়ী কোথায়
—- মামা আমি সেই বাড়ী খুজতেছি ।
চলমান —–
কিন্তু কনের কি হবে রইস মিয়া বলল । পাগল কনের বাবা কে বলল – আপনার মেয়েটা কি লিখা পড়া করে । কনের বাবা বলল – হা ছাত্রি হিসাবে খুব ভাল । পাগল বলল পড়তে থাকুক । কাল থেকে কলেজে যাবে । মেয়েটা কে ডাকুন । আমি তাকে এমন কথা বলে দিব যে সে আর এই দুঃখ মনে রাখবে না। রইস মিয়া পুলিশ নিয়ে আসতেই ছেলের বাবা বলল – মিয়া কাজটা ভাল করলা না। পাগল বলল — আগে চিনে নেন ভাল মন্দ কি ? তার পর বলুন ।। নাদিয়া পাগল কে নিয়ে কনের ঘরে গেল-
মেয়েটি কাঁদতে কাঁদতে শেষ । পাগল বলল – ওকে কাঁদতে দিন । সারা জীবন কান্না থেকে বেঁচে গেল । মেয়েটির কাছে খুব শান্ত হয়ে বসে বলল- আজ আমার জন্য তোমার ভাল হয়েছে না কি খারাপ হয়েছে । তুমি যদি কান্না কর তাহালে আমি ভাববো আমি অন্যায় করেছে । বিশ্বাস কর তুমি বোন আমি যে কেন এই বিয়েতে আসছি আমি নিজেও জানি না। তোমার কি মনে হয় আমি অপরাধী । মেয়েটি কান্না থামিয়ে বলল – এক পিতা আমারে জন্ম দিছে । আজ একটা শয়তানের কাছ থেকে
আমাকে বাচাইলেন । আপনি আমার আর এক পিতা । পাগল বলল- মা চোখের পানি
মুছে হাতে কলম ধর । তুমি পড়তে শুরু কর । আমাদের সমাজে কত নারী মিষ্টি কথায় জীবন শেষ হয় । তুমি তাদের বলে জাগিয়ে তুল । বলো তাদের নারী বিয়েই
তার পরিচয় না। সেও এ সমাজের মানুষ । মেয়েটি পাগলের হাত ধরে চোখ বন্ধ করে বলল – আমি মানুষ আমি নারী না। কনের বাবা বলল- হে মা এখন থেকে তুমি মানুষ । পাগল তাদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে নাদিয়া আর নাজকে নিয়ে বাসায় ফিরছে ।
নাদিয়া বলল- ভাইয়া বর তোমাকে এত ভয় পেল । একদম পায়ে ।
—- পাগল বলল । ও আমাকে ভয় পায় নাই
—- তাহালে কাকে ভয় পেয়ে পা ধরেছে ।
—- আমার সততার কাছে সে ভয় পেয়েছে । কারন সততাকে টাকা দিয়ে কেনা
যায় না । মানুষ শুধু মিথ্যা কিনে টাকা দিয়ে । যখন সত্য সামনে আসে তখন
মিথ্যা পালিয়ে যায় । মিথ্যা অন্ধকার তাতে কিছুই দেখা যায় না। সততা হল
আলোর মত যা সব কিছু পরিষ্কার দেখা যায় ।।
— নাজ বলল- ভাইয়া তোমার কাছে অনেক কিছু শেখার আছে ।।
—- পাগল বলল । নাজ আমরা শিখতে চাই না। আবার যিনি শিখেছে সে শিখাতে
চায় না । ভাবে শিখলে তার মুল্য কমে যাবে ।।
রেজিয়া মিলির ছাদে রাতে ফুল গাছ গুলো দেখছে । খুব অল্প সময়ে পুরো ছাদ কি সুন্দর করেছে । এই অল্প সময়ে একটা মানুষ কি করে এত সুন্দর করে গেল । রেজিয়ার স্বামী বলল – ঐ পাগলের কজ দেখেছ । আসলেই মানুষ টি জিনিয়াস । আমার খুব ভাল লেগেছে । যদিও আমি কথা বলিনি । রেজিয়া বলল জিয়াস না ছাই মিলির উপর সতীন দিয়ে গেল । আজ আবার মিলি তার বাড়ী তার স্বামী কে দান করে দিল । মিলি কি কাজটা ঠিক করলো । রেজিয়ার স্বামী বলল – বিশ্বাসে মিলাই তর্কে বহু দূর ।
রেজিয়া তার স্বামী কে বলল
—- আচ্ছা আমাকে কতটা বিশ্বাস কর ।
—– স্বামী বলল । সব টুকু ।
—- এই বিশ্বাস আমার কি কাজে লাগবে
—– আমি জানি না।
—– খুব তাড়াতাড়ি জানবে ।।
—- আচ্ছা ভাল । চল ঘুমাতে ।
—- তুমি যাও । ঘুমাতে ।। তোমার ছোট ভাই বল আসতে ওর সাথে কথা আছে ।।
রেজিয়ার স্বামী ঘরে যেতেই তার দেবর এসে বলল ভাবি আজকের আকাশ টা সুন্দর ।
শীত কমে গেছে । ভাইয়ার অ্যাকাউন্ট থেকে কি টাকা তুলে তোমার অ্যাকাউন্ট নিয়েছ । শুন ভাইয়া যে হে তু প্রতিদিন উত্তরা যায় । তাই আমরা সিলেট থেকে বিমানে উঠব । ভাইয়া সকালে অফিসে গেলে আমি তোমাকে সিলেটের বাসে তুলে দিব । ঐ খানে তোমার জন্য একটা হোটেলে রুম রাখা আছে । আমি দুই দিন পড়ে এসব ।
আজ রাতে তুমি যে কোন বিষয় নিয়ে ঝগড়া করবে । আমাকে সহ বকা দিবে । তোমার কাছ থেকে যেই টাকা ধার নিয়েছি এই বিষয় নিয়ে । ভাইয়া জানবে তুমি রাগ করে চলে গেছ । তিন দিন পড়ে তুমি তালাক নামা দিয়ে দিবে। ভাই সব দোষ আমাকে দিবে । আমিও রাগ করে বাসা থেকে বের হয়ে সিলেট এসে একসাথে মালয়েশিয়া ।।
এই টাকা টাকা নিয়ে সত্যি রাতে রেজিয়া তার স্বামীর সাথে ঝগড়া শুরু করে দিল ।।
নাদিয়া বাসায় সবাইকে বলল আজ ভাইয়ার জন্য ঐ মেয়েটার দারুন বাচা বেঁচে গেল । শিলা বলল – মামা কিন্তু একটা জিনিয়াস খালা মনি । নাজু বলল- কি থেকে কি হয় । ওরা নাকি মান্স ভাল না। নাদিয়া বলল – কি আর হবে । কিন্তু ভাইয়া কে যে ভয় পাইছে বেটা নওশা । তুমি যদি দেখতা । নাজু বলল – টা জিনিয়াস ভাই কোথায় । রইস মামার সাথে জিন্দা বাজার গেছে । এই পুকুর নাকি পরিষ্কার করবে । সব পানি মেশিন দিয়ে তুলে নাকি পুকুর ঠিক করবে । নাজু বলে বলিস কি ? হা দুলা ভাইয়ের সাথে কথা হলে দুলা ভাই তাকে বুকে জড়িয়ে ধরে । আর সে জিনিয়াস পাগল ভাইয়া দুলা ভাইয়ের কাছ থেকে অনুমতি নেয় । শিলার জন্য একটা বাগান করবে ।
শিলা বলে মা জিনিয়াস মামা দেখ এই পুকুরটা আগের মত করে দিবে ।
রইস মিয়া কে নিয়ে জিন্দা বাজার একটা চায়ের চায়ের দোকানে বসে চা খাচ্ছে ।
রইস মিয়া বলল –
— ভাগনে একটা ঘটনা আপনে কি ভাবে ঐ বর কে চিনলেন ।
—- সব কিছু মামা জানতে নেই মামা ।তা মামা আপনি নাকি বিয়ে করেন নাই ।
—- তোমারে কে বলছে /
—- নাদিয়া
—- আসলে মামা একটা মেয়ে আমার পছন ছিল । লন্ডন যাওয়ার আগে বলল তার
কাগজ ঠিক হয়ে গেলে আমাকে বিয়ে করবে । আমি তাঁরে টাকা ও দিয়েছি ।
তার কাগজ আমার টাকা দিয়ে ঠিক করে । কিন্তু তার পড়ে সে আমাকে বিয়ে
না করে গোলাপ গঞ্জ থানার ঢাকা দক্ষিণের এক এক ছেলে বিয়ে করে । ঐ ছেলে
দেখতে আমার চেয়ে সুন্দর ও পয়সা আমার চেয়ে বেশী ।।
— ও সরি মামা । কিন্তু মামা বিয়ে না করে থাকার মধ্য একটা আলাধা মজা ।
— ঠিক বলেছ ভাগনা । এই আমি যখন যা খুশি তাই করি। বিয়ে করলে কি পারতাম ।
—- না মামা । বিয়ে করা মানে । বন্ধি ।
— আচ্ছা ভাগনা তোমার বাড়ী ঘর নাই না কি ?
—- মামা বাড়ী ঘর জিনবনের সব কিছু না। আমি আমার আসল বাড়িটা বানাচ্ছি
—- ভাগনা আসল বাড়ী মানে ।
—- মামা যেই বাড়ী বানাতে এই দুনিয়ায় আসছি । আমি আমার বাড়ী বানাব
এই দুনিয়ার চাইতে সুন্দর বাড়ী ।
—- ভাগনা পাগলের মত যে কি বল । এই দুলিয়ার চাইতে সুন্দর বাড়ী কোথায়
—- মামা আমি সেই বাড়ী খুজতেছি ।
চলমান —–
Subscribe to:
Comments (Atom)





