Thursday, May 19, 2016

গল্প @ প্রেমের জন্য মরণ -----


এই মেয়ে দাড়াও তোমার সাথে আমার কথা আছে । আমার কথা না শুনলে আমি কিন্তু খুব মাইন্ড করবো । দাড়াও বলছি ।
না আমি দাঁড়াবো না। আর তোমার কথা শুনার ইচ্ছা আমার নেই । তুমি কি বলবে আমি জানি ?
আমি যা বলব তুমি জান ? তাহলে আমার কথার উত্তর চাই । আমি উত্তর নিয়েই যাব । তুমি ভাল করে জান আমি কেমন ছেলে । আমি কোন কিছু ভয় পাই না।
তুমি মানুষ হলে তো তোমার ভয় থাকবে । তুমি বলতে চাও আমি মানুষ না।
না তুমি মানুষ না। যদি আনুস হতে তাহলে রাস্তায় আমাকে পথ আগলে দাড়াতে না। কোন ভাল ছেলে কখনো কোন মেয়ের পথ আগলে দাড়ায় না।
ঠিক আছে এখন যাও আমি কিন্তু আমার উত্তর চাই । উত্তর পাবে না । কারন আমার প্রেম করার মত বয়স হই নাই । আর বয়স হলেও আমি কোন দিন তোমার মত লম্পটের সাথে প্রেম করব না। ঠিক আছে দেখিস আমি কিন্তু তোর সাথে প্রেম করেই ছারব শ্যামলী । আচ্ছা করিস । এখন রাস্তা ছাড় আমার যেতে হবে ।
প্রতিদিন শ্যামলী কে রাস্তায় আফজল কিছু না কিছু বলবে । শ্যামলী আর কম কিসের সেও কিছু না কিছু আফজাল কে বলবে ।
শ্যামলীর বাবা নাই । মা একজন স্কুল শিক্ষিকা । মা খুব ভয়ে ভয়ে থাকে আফজল কে।
আফজলের বাবা খুব টাকা ওয়ালা মানুষ । কিন্তু ছেলেটা মানুষ হয় নাই । এলাকায় মাস্তানি করে বেড়ায় । আজ কাল ফিটিং খায় । কিছু ছেলে তার পিছু পিছু ঘুরে । শ্যামলী কে তাই এলাকার ছোট ছেলেরা দূর থেকে ভাবী ডাকে । শ্যামলী কে যেহেতু আফজল পছন্দ করে তাই মহল্লার অন্য ছেলেরা ভুলেও শ্যামলীর দিকে তাকায় না।
শ্যামলী আজ কাল খুব চালাকি করে একেক সময় একেক দিক দিয়ে যায় । এবার একেক সময় একেক দিক দিয়ে বাসায় আসে । আফজল কোন ভাবেই কয়েকদিন যাবত শ্যামলী কে পাচ্ছে না। তাই তার বাহিনী কে বিভিন্ন জায়গায় শ্যামলীর গতিবিধি দেখার কাজ দিয়েছে । আফজল কয়েকটা জায়গায় আড্ডা দেয় । একজন এসে বলল শ্যামলী ভাবিকে আজ একটা পোলা রিক্সা করে নিয়ে এসেছে । পোলাটা অনেক সুন্দর । এই কথা শুনা মাত্র আফজল শ্যামলীদের বাসার সামনে গিয়ে অবস্তান নিল । দুপুর থেকে সন্ধ্যা । আফজল একটা টেনিস বল শ্যামলীর বাসার ভিতরে ঢিল দিয়ে ফেলল । সেই টেনিস বল আনতে বল্টু কে পাঠাইল । বল্টু শ্যামলীদের বাসায় গেল বল আনতে । শ্যামলী বল্টু কে বলল
-----কিরে বল খুজিস
----- জি ভাবী ?
----- আমি তোর কোন ভাই এর বউ । এই বলে বল্টুর কলারে ধরে ।
----- আপা ভুল হয়েছে । আপনেরে ভাবী না ডাকলে আফজল ভাই আমাকে সাইজ করব
------ তাই । আমি যে সাইজ করব এটা একবার ও তোর মনে হয় না।
------ আপা আপনি আমাকে কোন দিন মারবেন না। আমি জানি আপনি ভাল ।
----- এই ল বল । যা , আর আসিস না। আর যদি বল আসে তাহলে কিন্তু খবর আছে------- আপা আপনার বাসায় মেহমান কে ?
----- আমার ছোট মামা । পুলিশ অফিসার ।
----- আচ্ছা আপা আসি । গেইটের সামনে গিয়ে বল্টু বলল ভাবী বল দেয়ার জন্য
থ্যাংকস ।
বল্টু বলল বস চলেন ভাবীর মামা পুলিশ অফিসার । আমি সব খবর নিয়েছি । এর মধ্যে শ্যামলীর মামা বাসা থেকে বের হল । আফজল শ্যামলীর মামাকে ডাক দিল । এই যে মিঃ একটু শুনেন । শ্যামলীর মামা বলল হ্যাঁ বলেন ।
----- কে আপনি ?
----- আমি বলি আপনি কে ?
----- আমি আফজাল এই মহল্লার পোলা
---- আমি ডি ভি পুলিশ অফিসার । আমার নাম রাসেদ খান ।
---- আফজল বলল এই ডি কার্ড দেখি ?
---- শ্যামলীর মামা কোমর থেকে পিস্তল বের করে বলল এ দিকে এসো । কার্ড দেখাই ।
আফজল এক দৌড় দিয়ে দেয়াল টোপকে পালালো । সাথে সব । শ্যামলী ছাদ থেকে দেখে গেইট খুলে তার মামার কাছে আসে । মামা জানতে চায় কে এই ছেলে ? শ্যামলী বলে আরে মামা এরা এলাকার ছেলে , ভাবছে অন্য কেউ হয়ত , কিছু মনে নিও না । মামা তুমি যাও । শ্যামলী তার মামা কে আর কিছুই বলে না। শ্যামলী মা শ্যামলী কে বলে কি হইছে গেইটের সামনে ।
---- না মা কিছু না। মামার সাথে একটু কথা বললাম ।
----- আচ্ছা গেইটের ভিতরে আয় ।
শ্যামলী বাসার ভিতরে চলে যায় । রাতে শ্যামলীর মা বলে তো মামা কে বলা উচিৎ ছিল আফজাল যে তকে রোজ রাস্তায় জালায় । শ্যামলী একটু রাগ করে বলল মা তুমি না বেশি কথা বল । মামা কি সারা দিন আমাকে পাহারা দিবে । আর তুমি কি মনে কর আফজল আমাদের ছেড়ে দিবে । কি দরকার আফজল কে আমাদের ধমক দিয়ে । আমি কলেজ থেকে পাশ করলে বিশ্ব বিদ্যালয়ে চলে যাব । তখন আর আমাকে জালাবে না।
শ্যামলীর মা বলে ঠিক আছে মা কিন্তু সাবধান যারা থাকে তারাই ভাল থাকে ।
খুব সকালে মহল্লার হই চই শুনে শ্যামলীর ঘুম ভাঙে । কি হইছে জানতে চাইলে একজন
বলে নতুন বাড়ি করছিল যেই লোক তাঁকে নাকি আফজল গুলি করেছে । এখন পুলিশ আসছে এলাকায় । শ্যামলী জানতে পাড়ে একজনের কাছে যে আফজল নিজেই গুলি করেছে । সারা এলাকা পুলিশ সাংবাদিক এসে ভরে গেছে । আফজল কে পুলিশ পাই নাই । আজ আর শ্যামলীর কলেজে যাওয়া হল না। একবার আফজলের বাসায় গিয়ে দেখে আফজলের মা খুব কান্না করছে । কিছুটা সময় থেকে বাসায় চলে আসে । পরের দিন কলেজে যাবার সময় আর আফজল কে পায় না। অনেক বার শ্যামলী মনে মনে আফজল কে খুজে । তিন দিন পড়ে এক গলিতে আফজলের সাথে দেখা । শ্যামলীর জন্য মনে হয় অপেক্ষা করছিল । শ্যামলী কে দেখে বলল
----- মনে একটু শান্তি পেলাম ।
----- সবাইকে অশান্তিতে রেখে একা একা শান্তি পাওয়া খুব ভাল ।
----- বা ! আমার জন্য চিন্তা হয় ।
----- রাস্তার একটা কুকুর যদি প্রতিদিন এক জায়গায় দেখি । আর একদিন না দেখলে
তার জন্যও মায়া হয় ।
----- আমি কি তাহলে সেই কুকুর ।
----- কুকুর হলেও ভাল হত । একটা শিকল দিয়ে বেঁধে রাখতে পারতাম ।
----- বাহ ! কথাটায় মজা পাইলাম । মনে মনে নিজেকে মজনু মনে হচ্ছে ।
----- আমি যাই । কেউ দেখলে ভাববে আমি মনে হয় তোর প্রেমে পরছি ।
----- আমি আফজল ছাড়া তোর কপালে আর কেউ নাই ।
----- ভাল তো কপালে তাল গাছ লাগাও । নাতি পুতি খেতে পাড়বে ।
আফজল একা একা হেসে বলে তুই একমাত্র শ্যামলী আমার সাথে এভাবে কথা বলতে পারিস । খোদার কসম অন্য কোন মেয়ে হলে আমি কি জিনিস বুঝিয়ে দিতাম ।
শ্যামলী একটু হেসে বলে ঝামেলা শেষ কর । নিজের দিকে দেখ চেহারা কি অবস্তা ।
শ্যামলী বাসার দিকে চলে আসে । বল্টু আফজল কে বলে বস ভাবী কিন্তু আপনাকে পছন্দ করে । আফজল বলে পছন্দ না করে যাবে কোথায় ।
দিন দিন এলাকায় আফজল খুব ভয়ঙ্কর হয়ে যাচ্ছে । কেউ কেউ সব কিছুতেই আফজলের নাম করে অপরাধ করছে । আবার একটু খুন তাও আফজলের নাম।
গত এক বছরে পুলিশ তাঁকে ধরতে পারছে না। মাঝে মাঝে শ্যামলীর সাথে কথা হয় রাস্তায় । শ্যামলী মনে মনে আজকাল আফজল কে ভাবতে থাকে । আফজল আর যাই হউক তাঁকে কোন দিন বাজে কথা বলে নাই । আজ শ্যামলীর জন্ম দিন । একটা সুন্দর শাড়ি পরেছে । নিজের হাতে একটু পোলাও রান্না করেছে । শ্যামলী গেইট থেকে বের হয়ে দেখে তার গেইটে কেউ না কেউ পাহারা দেয় । তাদের একজন কে বলে এই তোর বস কোথায় ? একজন বলল ভাবী বসের কথা কি কোন দিন কাউকে বলা যায় ।
শ্যামলী বলল একটা থাপ্পড় দিয়ে দাঁত ফেলে দিব । আমাকে নিয়ে চল বলছি । শ্যামলী কে নিয়ে ঐ ছেলে এক বাসার ছাদে যায় । শ্যামলীকে দেখে আজ আফজল যেন আসমান থেকে পরেছে । শ্যামলী বলে এমন করে চাইতে হবে না । নাও মাস্তান এটা খেয়ে আমার
জীবন ধন্য কর । আফজল আজ পোলাও খেয়ে একটু কান্না করে দিল । শ্যামলী একি কান্না করছ কেন ?
----- শ্যামলী তুই যে কোন ছেলে কে বিয়ে কর আমাকে না।
----- কেন তকে না। আমি তকেই বিয়ে করব ?
----- না শ্যামলী ? আই এম সরি । আমাকে ক্ষমা কর । তোর সুন্দর জীবন আমি নষ্ট
করতে চাই না।আমি একটা নষ্ট ছেলে । দেখ ঐ ঘরে আমি একটা মেয়ে এনে রেখেছি ফুর্তি করার জন্য । শ্যামলী বলে আমি কাউকে দেখতে চাই না।
তুমি হাজিরা দিয়ে জাবিন নাও । তার পড় দেশের বাহিরে চলে যাও । আমি লিখা পড়া শেষ করি । পড়ে অন্য অন জেলায় চলে যাব । যেখানে তোমাকে আমাকে কেউ চিনবে না।শ্যামলীর মা মেয়ে কে খুব বুঝতে চেষ্টা করে । কিন্তু শ্যামলী বলে মা জীবন আমার
আর আমি আমার জীবনের ভাল মন্দ বুঝি ।
দিনে দিনে অপরাধ বেঁড়েই চলছে আফজলের । শ্যামলীর পরীক্ষা শেষ । কলেজ থেকে
বাসা পর্যন্ত শ্যামলীকে সবাই ভয় পায় । এমন কি রিক্সা ওয়ালা পর্যন্ত সালাম দেয় ।
সবাই মনে মনে বলে এত সুন্দর একটা মেয়ে কিনা সন্ত্রাসী একটা ছেলে কে ভালবাসে ।
পুলিশের খাতায় তার নাম শীর্ষ ১০ এ চলে আসে । সবাই আফজল কে এখন এক নামে চিনে । আর নাম বলার আগে ছোট বড় সবাই তাঁকে ভাই বলে ডাকে । স্থানীয় থানায়
আফজলের ইনফ্রমা আছে । কিছু কিছু পুলিশ আফজলের সাথে গোপনে যোগাযোগ রাখে।তাই তাঁকে কেউ ধরতে পাড়ে না।
শ্যামলীর মামার কাছে আফজলের কেইস ফাইলটা আসে । তার সিনিয়র অফিসার বলে
জীবিত বা মৃত এই কেইস টা শেষ কর । জীবিত ধরলে ও তাঁকে ক্রোস ফায়ার দিতে হবে । তোমাদের ব্ল্যাক কুব্রা টিপ এই কাজটা করতে হবে । এটা তোমাদের টিমের জন্য
একটা চ্যালেঞ্জ । শ্যামলীর মামা বেশ মিঃ জি এম গুলজার কিছুতেই মনে করতে পারছে না এর আগে আফজল কে কোথায় দেখেছে । বাসার ঠিকানা চোখে পড়তেই মনে পড়ে যায় শ্যামলীদের বাড়ির বাসার কথা ।
রাতেই শ্যামলীর বাসায় গুলজার আসে । শ্যামলী কে বলে মা শ্যামলী তোমার এলাকার
সেই মাস্তান ছেলের কি খবর । শ্যামলীর মা বলে ভাই আর বলিস না । শ্যামলী তো ঐ গুন্ডা ছাড়া আর কাউকে বিয়ে করবে না।
---------গুলজার বলে কেন ? আপা ছেলে কি খুব বেশি খারাপ ?
-------- হ্যা ,রোজ পুলিশ তাঁকে খুজে ?
-------- গুলজার শ্যামলীর মা কে বলে আরে আপা বাদ দাও । আজকালের ছেলেরা একটু এমন সাহসী না হলে চলে না। মা শ্যামলী আমার সাথে একদিন দেখা করাও ।
দেখি আমি ওকে একটা ভাল বুদ্ধি দিব ।
শ্যামলী তার মামা কথা বিশ্বাস করে । দেখা করে আফজলের সাথে । আফজল বলে শ্যামলী তুমি যখন বলছ তাহলে দেখা করব । শ্যামলী বলে আমি সাথে থাকব ।
গুলজার তার টিম কে প্রস্তুত রাখে । গুলশান একটা ফুডের দোকানে শ্যামলী আর আফজল আসে । আফজল একটা সাদা মাঞ্জাবি পড়ে আসে । শ্যামলী আফজলের হাত ধরে রাখে । আফজল মনে মনে চিন্তা করে আমি ভাল হয়ে যাব । শুধু শ্যামলীর জন্য ভাল হয়ে যাব । একটা পিজা খেতে খেতে শ্যামলীর মামা চলে আসে । ফাস্ট ফুডের দোকান চার দিক পুলিশ ঘিরে ফেলে । শ্যামলী কিছু বলার আগেই শ্যামলীর মামা বলে মা তুমি আমার গাড়িতে যেয়ে বস । আফজল কোমর থেকে পিস্তল বের করার আগেই
তাঁকে পুলিশ ধরে ফেলে । আফজল কে কালো কাপড় দিয়ে চোখ বেঁধে গাড়িতে তুলে ।
একটা গাড়ি শ্যামলী কে বাসায় পৌঁছে দেয় ।
গুলজার তার বস কে ফোন করে স্যার আফজল আমার গাড়িতে । এরেস্ট করা হয়েছে । বস বলে সুট । বনশ্রী শেষ মাথায় নিয়ে তাঁকে সুট করা হয় ।
রাতের ১০ টার খবরে শ্যামলী জানতে পাড়ে ক্রস ফায়ারে আফজল নিহত ।।
শ্যামলী একটা চিৎকার করে মামা বলে...........................।

Monday, May 16, 2016

অনু গল্প @ একটি চিঠি ও কানিজ নিগার ।


মেয়েটি অনেক সুন্দরী । আর মেয়ে মানুষ যদি একটু গায়ের রং ফর্সা হয় । নাকটা একটু
লম্বা হয় । চোখ গুলো একটু মায়াবী হয় । মাথার চুল যদি বনলতার হয় তাহলে যে কেউ এই মেয়ের প্রেমে পড়বে । এমনি এক মেয়ে নাম কানিজ নিগার । কানিজ নিগার মানে
সবাই এক নামে চিনে । তার বাবা আবার এলাকায় খুব নাম ডাক । তাই কানিজ নিগার
কে সহজে কেউ প্রেমের অফার দিতে পাড়ে না। এবার কানিজ এস এস সি দিবে তাঁকে দুই জন স্যার পড়ায় । তারা দুই জনেই মনে মনে পছন্দ করে ।
কানিজ নিগার এখন বুঝতে শিখেছে যে সে সুন্দর তাই তার মধ্যে আলাদা একটা ভাব চলে এসেছে । আজ কাল চোখে কাজল পড়ে । একটু ডান বাম তাকায় ।
কানিজ নিগারের বাসার সামনে আজ কাল ছেলেদের আড্ডা হয় ।। মাঝে মাঝে ছাদে উঠে বিকালে । কানিজ নিগারের মহল্লায় সব চেয়ে ভাল ছেলে সাকিল । সে কোন মেয়েদের দিকে তাকায় না। একটা কলেজে পড়ে । একেই মহল্লায় থাকে তবে সাকিল
তার মামার বাসায় থাকে । সাকিলের বাবা মা গ্রামে থাকে । সাকিল লিখা পড়ায় ভাল বলে মামা তাঁকে শহরে নিজের কাছে নিয়ে এসেছে । সাইন্সে পড়ে । ভাল ছাত্র । একেই এলাকায় সুমন নামের আর এক ছেলে আছে । সুমনের সাথে সাকিলের খুব ভাব । ভাল সম্পর্ক । কানিজের কোচিং এর সময় হলে সুমন তার পিছে পিছে যাবে ।
কানিজ দেখেও না দেখার ভান করে । আর যদি দেখা হয় কানিজ খুব মিষ্টি হেসে বলে সুমন ভাই ভাল আছেন । একেই মহল্লা তাই সবার সাথে সবার কথা কম বেশি হয় ।
সুমন বুঝতে পারলো কানিজ নিগারের বাসার স্যার তার জন্য সমস্যা । কিন্তু দুই স্যার কে কি করে কালার খাওয়াবে চিন্তায় পড়ে যায় । কানিজের প্রেমে পড়ে সুমনের লিখা পড়া খুব খারাপ হচ্ছে । কানিজের বাবা কে দেখে একদিন সুমন বলল - আঙ্কেল কেমন আছেন ।
-----ভাল সুমন । তুমি কেমন আছে ?
----- ভাল আছি কিন্তু একটা কথা আপনাকে না বললে চলে না ?
----- কি কথা সুমন ?
----- আপনি এবার অ্যান্টি কে বইলেন না ? তাহলে ঝগড়া লাগব ।
----- আচ্ছা বলব না। তুমি বল ?
------ আপনার বাসায় দুই জন স্যার আপনার মেয়ে কে পড়ায় কিন্ত একদিন আমি
হোটেলে চা খাচ্ছি দুই স্যারের পিছনে ছিলাম এমন এক কথা শুনেছি ।
----- কি কথা সুমন ?
----- দুই জন বাজি লাগছে যে আপনার মেয়ের সাথে ... আগে প্রেম করবে !!
-----তার পড় সুমন ?
----- না শুনে খুব খারাপ লাগলো । অ্যান্টি শুনলে তো দুই স্যার কে খুব ধুলাই দিবে
তাই আপনাকে বললাম । মাস্টার মানুষের রুচি এমন খারাপ । ছাত্রী নিয়ে কেউ
এমন বাজি ধরে । কানিজ কত ছোট মানুষ । সামনে কত সুন্দর ফিউচার ।
কানিজের বাবা বাসায় এসেই দুই স্যার কে বাদ দিয়ে দিল । নতুন একজন বয়স্ক ভাল স্যার রাখলো । দুই টিচার কিছু ই বুঝে উঠতে পারলো না।সুমন তো মহা খুশি । যাই হউক দারুন কাজ হয়েছে । সুমন কে এমন বুদ্ধি দিয়েছে সাকিল । তাই সাকিল কে
সে মিষ্টি খাওয়াতে নিয়ে গেল ।
সন্ধ্যায় সাকিল খুব পড়ায় ব্যস্ত । সামনে সে মেডিক্যাল বা বুয়েটে ভর্তি হবার জন্য খুব
প্রস্তুতি নিচ্ছে । সুমন সমাজ কল্যাণে অনার্স এ ভর্তি হয়েছে । কানিজের পরীক্ষা শেষ ।
সুমন কিছুইতেই কানিজ নিগার কে বলতে পারছে না তার মনের কথা ।
সাকিল কোন দিন কানিজ নিগার নিয়ে চিন্তা করে নাই ।
সুমনের খালাত বোন কে সুমন অনেক কষ্ট করে ম্যানেজ করেছে যে সে একটা চিঠি কানিজ কে দিতে চায় । যাই হউক । সাকিলের হাতের লিখা ভাল । তাই সুমন সাকিলের কাছে এসে বলল তাঁকে যেন ভাল করে একটা চিঠি লিখে দেয় ।
তখন বিচিত্রা পত্রিকায় প্রেমের চিঠি ছাপাতো । সাকিল সেই বিচিত্রা পত্রিকা আট নয়টা চিঠি দেখে একটা সুন্দর করে প্রেমের চিঠি লিখলো । সুমন তো চিঠি পড়ে মহা খুশি । এমন চিঠি যেই মেয়ে পড়বে তাঁকে প্রেমে পড়তে হবেই ।
সুমন সুন্দর একটা গোলাপি খামে তার জীবনের প্রথম প্রেমের চিঠি খালাত বোনের হাতে
কানিজ নিগারের কাছে পাঠাইলো । তখন সকাল ১১ টা বাজে ।
সাকিলের মন খুব ভাল এক সাথে মেডিক্যাল আর বুয়েটে চাঞ্জ পেয়েছে । আর মনটা একটু খারাপ কারন অনেক টাকা লাগবে । মামার পক্ষে এত টাকা দেয়া সম্ভব না ।
এমনেই মামী তাঁকে বেশি পছন্দ করে না। মামীর ধারনা গরীব মানুষের ছেলে এত লিখা পড়া করে কি হবে ? স্বামীর বোনের ছেলে ডাক্তার হ্ল্র তার কি ? স্বামীর তো টাকা নষ্ট । সাকিল খুব মন খারাপ করে বসে আছে । বিকাল পাঁচটা সুমনের মাকে কানিজ নিগারের বাবা ডেকে নিয়ে গেল সাথে সুমন । কানিজের নিগারের বাবা সুমন কে বলল তোমার কত সাহস আমার মেয়ে কে চিঠি লিখ । আর আপা আপনি তো আপনার ছেলে
কে একটু শাসন করতে পারেন । কানিজ বলল আপনার ছেলে নাকি রাস্তায় দেখা হলেই আমার মেয়ের সাথে ইচ্ছা করে কথা বলে, এটা তো ঠিক না।সুমনের মা খুব লজ্জা পেয়ে সুমনকে এক চর দিল । সুমন চর খেয়ে বলল এই চিঠি কি আমার লিখা নাকি ? আমি তো এই চিঠি দেই নাই ।
------ কানিজের বাবা তাহলে কে দিয়েছে ?
------ আমার বন্ধু সাকিল । হাজী সাহেবের ভাড়াটিয়া ।
------ ঠিক আছে দেখিছি ঐ ছেলের কত সাহস । কানিজের মা তুমি নুরু হাজী সাহেব
কে তার ভাড়াটিয়া ছেলে কে নিয়ে এখনি আসতে বল ?
সুমনের মা বলল আমি বলেছি আমার ছেলে এমন কাজ করতে পাড়ে না। বন্ধুর জন্য
এই কাজ করেছে । কানিজ পাশের ঘরে থেকে সব শুনছে আর হাসছে । সুমন কে সে এক চোখে দেখতে পাড়ে না। নুরু হাজী সাকিল আর তার মামা কে নিয়ে কানিজের বাসায় আসে । কানিজের বাবা তাদের বসতে দেয় । খুব রাগের চোখে সাকিলের দিকে তাকায় । হাজী সাব বলে কি ব্যাপার হটাত ডাকলেন কোন সমস্যা । কানিজ নিগারের
বাপ ছেলে বলে তুমি কি কর শুনি ?
সাকিল কিছু বলার আগেই সাকিলের মামা বলল ভাই জান । আমার বোনের ছেলে । আমার বাসায় থেকে পড়ে এবার সে মেডিক্যাল আর বুয়েটে চান্স পেয়েছে এখন যে কোন একটাতে পড়বে । গরীব ঘরের ছেলে কিন্তু ছাত্র হিসাবে সে খুবেই চমৎকার । ক্লাস ফাইফে , ক্লাস এইট বৃত্তি পেয়েছে । এস এস সি তেঁ ঢাকা বোর্ডে মেধা তালিকায় নাম আছে । আইচ এস সি তেঁ সে ফাস্ট হয়েছে । খুবেই ভাল ছেলে । কোন দিন কারো সাথে কন রকম বেয়াদবি করে নাই ।
কানিজ নিগারের বাবা তো ছেলের কোয়ালিটি শুনে খুবেই অবাক । এক মুহূর্তে কানিজ নিগারের বাপের মাথা থেকে রাগ নেমে গেল । ছেলে কে মাথা থেকে পা পর্যন্ত দেখল
এখন সে নিজে থেকেই বলল - হাজী সাহেব আপনি তো জানেন আমার একটি মাত্র মেয়ে। দেখতে আল্লার রহমতে আমার মায়ের মত হয়েছে । আজ থেকে আমি
সাকিলের সব দায়িত্ব নিলাম । তার সকল খরচ আমার । যদি বিদেশে যেতে চায় আমি পাঠাব । আমি তো এক কথার মানুষ আপনে জানেন । সাকিলের মামা বলল আপনি এই এলাকার সম্মানী ব্যাক্তি এটা আমারা সবাই জানি ।
কানিজ নিগারের বাবা বলল এই ছেলে আমি নিলাম আপনাদের কোন আপত্তি আছে । হাজী সাহেব আর সাকিলের মামা বলল এটা তো আমাদের জন্য সাকিলের জন্য আল্লার রহমত । কানিজের নিগারের মা কে ডেকে বলল আরে তুমি কোথায় গেলে যাও মিষ্টি নিয়ে এসো । সাকিলের ভর্তি কবে ।
সাকিলের মামা বলল আগামী কাল ।
---- আচ্ছা বাবা সাকিল এখন সব চিন্তা আমার ।
সবাই রাতে খেয়ে যাবেন । সাকিলের মামী কে ডেকে আনা হল । সাকিলের মামী বলতে
লাগলো আমি নিজের ছেলের মতো করে ওকে রেখেছি ।
সাকিলের সাথে কানিজ নিগারের বিয়ের তারিখ ঠিক হয়ে যায় ।
সাকিল কানিজ নিগারের বাপের গাড়িতে কানিজ নিগার কে নিয়ে কলেজে নামিয়ে সে তার মেডিক্যাল কলেজে যায় । কানিজ নিগার বলে আচ্ছা সাকিল আমি তোমাকে কোন দিন রাস্তায় তোমাকে দেখি নাই । কিন্তু তুমি আমার জন্য এত সুন্দর চিঠি কি করে লিখলে ? আমি তোমার চিঠি পড়ে প্রথমে ভুল বুঝে ছিলাম । ভাবছিলাম এটা শয়তান সুমনের চিঠি । সাকিল একটু হেসে বলে এমন কিছু শয়তান সুমন আছে বলেই আমার
মত সাকিল রা রাজ্য রাজ কন্যা এক সাথে পায় । কানিজ একটু হেসে বলে তোমার মধ্যে রাজ্য দখলের ক্ষমতা আছে বলেই তো রাজ্য কন্যা তোমার ।
সুমন মাঝে মাঝে এখন ওদের চেয়ে দেখে আর মনে মনে বলে কেন যে আমি সাকিলের নাম নিলাম । শ্যালা সাকিল আসলেই একটা জিনিয়াস । কানিজ নিগারের বাপ জিয়াস কি জিনিস ঠিকেই চিনে । একেই বলে ব্যবসায়ীর চোখ ।

Thursday, May 12, 2016

রহস্য গল্প @ বাঘের বাপ


ইমুর মামার বিয়ে । ছোট মামা বলে কথা তাই তার বিয়েতে যেতে হবে । ইমুর মা আজ মহা খুশি কারন তার ছোট ভাইয়ের বিয়ে । ইমু এ বছরেই কলেজে উঠেছে । 
তার সব কিছু তেই রহস্য । রাঙ্গামাটি থেকে তাদের কিশোর গঞ্জ আসতে হবে । 
রাতে বাসে সবাই রাঙ্গামাটি থেকে ঢাকা ইমুর বড় মামার বাসায় । ইমুর মামাত ভাই রনি আর বোন রিনা । রনি বড় সে ক্লাস এইট আর বোন ছোট সে ক্লাস নাইন । ইমুর
বড় মামার এক শ্যালক আছে নাম কাঞ্চন মামা সে খুবেই মজার মানুষ । কাঞ্চন মামা কে ইমু পাওয়ার পড় তার মনটা ভাল হয়ে গেল । সারা দিন অনেক গল্প সবাই মিলে আর কত কি কেনা কাঁটা । দারুন ব্যস্ত সময় সবাই পার করছে । 
রিনা এসে ইমু কে বলল আচ্ছা ভাইয়া তুমি কি ভুত বিশ্বাস কর ।
----- ইমু একটু হেসে বলল দেখ আগে বিশ্বাস করতাম । এখন আর করি না। 
------ আগে করতে ! এখন আর কর না কেন ?
------ আরে আমি সাইন্স নিয়ে পড়েছি তোদের মত কমার্স না বুঝলি ? 
------ ইস আমার পড়ার ইচ্ছা ছিল । কিন্তু বাবা বলে ব্যাংকার হতে ।। 
------ আমাদের ইচ্ছার কোন মুল্য নেই কোন দাম নেই ।
কাঞ্চন মামা এসে বলল ঠিক বলেছ ভাগিনা । কারন তোমার তোমার বাবার বাবা 
তা তোমার বাবা কে শিখাই নাই । তোমার দাদা যা ভাল মনে করেছে ছেলের জন্য তাই করেছে । এখন তোমার বাবা যা ভাল মনে করবে তাই তোমার করতে হবে । এই জন্যই
এ জাতির আজ এ অবস্তা । সবাই বলল ঠিক বলেছ মামা ।ইমু বলল আচ্ছা ছোট মামা তোমার ছোট সে তোমার আগে বিয়ে করছে কেন ? 
------ আরে তোমাদের ছোট মামা সে তার বাবার কথা মত বিয়ে করছে । আমি তো
আমার বাবার কথা কোন কালেই শুনি নাই। তাই বিয়ে করব আমি আমার ইচ্ছায় ।
তোমার ছোট মামার বিয়েতে খরচ হবে পাঁচ লাখ টাকা আর আমার বিয়েতে খরচ
হবে মাত্র পাঁচ হাজার টাকা । ইমু বলল মানে কি মামা মাত্র পাঁচ হজার টাকা ? 
আরে আমি যাকে পছন্দ করব তাঁকে নিয়ে নিয়ে কাজী অফিসে যাব । বাসায় মিষ্টি নিয়ে
চলে আসব । আমার বিয়ে মানুষ কেন খাবে । দরকার পরলে একদিন এতিম খানায়
সব এতিম অথাবা সব ফকির দাওয়াত করে খাওয়ে দিব । ইমু বলল চমৎকার মামা আমিও তোমার মতো হব । দেশের কত টাকা বাজবে । 
ইমুর আব্বু একটু রাগী মানুষ । বিয়ের সব কেনা কাঁটা শেষ করে একটা মাইক্রো নিয়ে
রাত নয়টায় ঢাকা থেকে রওনা দিল । নরসিংদী ইটা খোলা দিয়ে মঠ খোলার রাস্তা দিয়ে মাইক্রো যাচ্ছে । ঢাকার রাস্তায় অনেক ভীর থাকায় খুব রাত হয়ে গেল । 
তখন রাত একটা কি দেড়টা বাজে । কিশোর গঞ্জ শহর আরও ১৫ কিমিঃ দূর হবে । গ্রামের রাস্তা তবে পাকা । হটাৎ গাড়ি নষ্ট । স্টার্ট নিচ্চে না। খুব অন্ধকার চার দিক ।
ইমু আর কাঞ্চন মামা মিলে মোবাইল এ গেইম গেলছে । বড় মামা আর ইমুর আব্বু গাড়ি চালক খুব চেষ্টা করছে । কিন্তু আশপাশে কেউ নাই । আর কোন গাড়ি ও আসছে না। এমন সময় হাতে লাঠি ভর দিয়ে একটা বৃদ্ধা মানুষ কোথায় থেকে যেন আসছে । মাথায় একটা পাগড়ী বাঁধা । গাড়ির কাছে এসে বলল - বাবাজিরা কোন গ্রামে যাবেন ।
ইমুর বাবা বলল চাচা এত রাতে কোথায় থেকে আসলেন । আর কোথায় যাবেন ।
বৃদ্ধা বলল - রাতে ঘুম আসে না। তাই একা একা হাটি । এখন বয়স হয়েছে ।
আমি বৃদ্ধা মানুষ আমার কথা কে দাম দেয় । তাই রাতের বেলা হাটি ।
ইমুর বাবা বলল ধারে কাছে কোথাও গাড়ির ম্যাকানিক পাওয়া যাবে ।
বৃদ্ধা বলল কি হইছে গাড়ি ? 
চালক বলল আরে চাচা নষ্ট হয়েছে দেখছেন না। না হয় কি কেউ রাতের বেলায় 
গাড়ি থামায় । বৃদ্ধা বলল আমি বয়স্ক মানুষ এতো কিছু কি বুঝি । 
ইমুর মামা একটু বিরক্ত হয়ে বলল - আপনার নাম কি চাচা ।
বৃদ্ধা বলল আরে মিয়া আমার নাম শুনলে তো ভয় পাইবা । আমাকে সবাই বাঘের বাপ বলে ডাকে । 
------ ও আপনি বাঘের বাপ । আগে বলবেন তো । নাম শুনে আমার ভয় লাগছে ।
------ বৃদ্ধা বলল আরে মিয়া এই আশপাশ যদি জমি দেখ সব আমার । আমি ধান 
পাহারা দেই । কেউ যেন চুরি ডাকাতি না করে ।
------ ডাকাতের কথা শুনে ইমুর মামা আর বাবা সবাই একটু ভয় পেল । কাঞ্চন মামা 
গাড়ি থেকে নেমে বৃদ্ধা কে বলল চাচা বলুন যাওয়ার উপায় । আপনি সম্মানী মুরুব্বী মানুষ । আপনি আমাদের এই এলাকার আশা । 
----- বৃদ্ধা বলল আগেই ভাল করে বললে হত । এই মিয়া গাড়ির ড্রাইভার যাও গাড়ি টে
উঠ । চাবি লাগাও । ড্রাইভার চাবি লাগিয়ে স্টার্ট নিয়ে লিল । বৃদ্ধা লোকটা বলল 
পোলাপান আদব কায়দা নাই । বাঘের পাপের সামনে দিয়ে গাড়ি চালায়ে যায় । 
গাড়ি সবাই চুপ করে রইল । গাড়ি কিশোর গঞ্জ শহরে আসলো । শহর একদম নীরব । শহর থেকে ইমুদের গ্রামের বাড়ি আরও ১০ কিমি দূর । তখন গাড়ি যাচ্ছে আরও প্রায়
তিন কিলোমিটার বাকি ঠিক এমন সময় ইমুর বড় মামা বলল বুইরা বেটা কি ধমক দিল দেখলেন এই কথা বলার সাথে সাথে গাড়ি বন্ধ । ড্রাইভার বলল সাব কেন লোকটাকে ছোট করে দেখছেন । রাইত বিরাইতের ব্যাপার । এখন মানুষ পাব কোথায় । ইমুর মামা গাড়ি থেকে নেমে বলল - ঐ লোকটা ছিল কুফা । নাম নেওয়া মাত্র গাড়ি 
বন্ধ । ইমু বলল মামা আপনি একটা মানুষ কে না জেনে কুফা বলছেন এখন কিন্তু সত্যি
সত্যি কুফা লাগলো । ইমুর মামা সিগারেট ধরালো । চালক খুব চেষ্টা করে বলল স্যার মেকানিক ছাড়া সম্ভব না। কাঞ্চন বলল দুলা ভাই জায়গা তা তো ভাল না । এই খানে ডাকাতি হয় । কিছুই করার নাই । 
প্রায় এক ঘণ্টা হয়ে গেল । ইমুর মামা খুব চেষ্টা করছে মোবাইল করে । কিন্তু সবার মোবাইল বন্ধ । কাজেই নয়া বাজার । সেই খানে আলি মিস্ত্রি থাকে কিন্তু তার মোবাইল ও বন্ধ । ইমুর বাবা বলল ভাইজান লাঠি ভর করে কে জানি আসছে । 
আরে সেই বাঘের বাপ । ইমুর মামা একদম চুপ । একটু একটু ভয় ও পাচ্ছে । 
সেই বৃদ্ধা বলল - কি হইছে একবার না ঠিক করে দিলাম । ইমুর মামা বলল বাবা ভুল হয়েছে । বাচ্চা গুলো নিয়ে কষ্ট করছি । 
বৃদ্ধা বলল বাঘের বাপের নাম আদবের সহিত নিতে হয় । এখন তো গাড়ি ঠিক হবে না। ইমু বলল দাদা ভাই আপনি কি হেঁটে হেঁটে এত পথ আসলেন ।
----- আরে নাতি রাতের বেলা যাচ্ছ রাস্তায় চোর ডাকাত যদি কেউ ধরে তাহলে
তাই দেখতে আসলাম । 
----- দাদা আমাদের বাড়ি সামনের বাজারের পড়েই । 
----- আচ্ছা দেখি এই আখ খেতে আমার দুই নাতি পাহারা দেয় তাদের পাই কিনা ? 
ইমুর বড় মামাকে বলল গাড়ি ধক্কা দিয়ে বাজার পর্যন্ত দিলেই হবে তো । 
ইমুর বড় মামা বলল জি চাচা হবে । বৃদ্ধা বলল আচ্ছা দাড়াও নাতি গো ডাকি 
এই বলে ডাকতে শুরু করল । ওরে মলাই মঙ্গল এই দিকে আয় । এমন সময় আখ খেত থেকে দুই জন বের হয়ে আসলো । বাঘের বাপের সামনে এসে চুপ করে দাঁড়ালো 
বাঘের বাপ বলল নাতি গাড়ি টা ধাক্কা দিয়ে বাজারের পোল পর্যন্ত নিয়ে যাও । বাঘের
বাপ ইমুর মামাকে বলল বাবা গাড়ির ভিতরে যাও । দুই জন মিলে গাড়ি ধাক্কা দিতে লাগলো । কিছু দূর যাইতেই গাড়ি চালু হয়ে গেল । ইমুর মামা কিছু টাকা দিতে চাইলে তারা নিল না। গাড়ি বাজারের ভিতরে আসতেই আবার নষ্ট । কোন মানুষ নাই । 
সারা বাজার চুপ চাপ , এমন কি কুকুর পর্যন্ত নাই । এমন সময় এক নাইট গার্ড রমজান মিয়া এসে বলল কোন বাড়িতে যাবেন । 
ইমুর মামা বলল ঐ যে সামনের তালুকদার বাড়িতে । রমজান মিয়া বলল তাহলে গাড়ি থাক চলুন এগিয়ে দিয়ে আসে । গাড়ি রেখে সবাই নামলো । রমজান মিয়া বাড়ির সামনা
পর্যন্ত হেঁটে এগিয়ে দিয়ে আসলো । 
ইমুর মামা রমজান কে বলল ভাই ভিতরে আসুন । রমজান বলল আরে বাজার
খালি তো , মলাই আর মঙ্গল চোর আমাকে চ্যালেজ দিছে এই বাজারে চুরি করবে
কিন্তু আমিও চ্যালেঞ্জ গ্রহন করেছি । আপনারা জান সকালে কথা হবে , বিশ্রাম করুন গিয়ে ।
সকাল বেলা তো সবাই অবাক কারন রমজান নাইট গার্ড আজ থেকে ১০ বছর আগে
এই বাজারে নাইট গার্ড হিসাবে ছিল । কে বা কারা তাঁকে মেরে ১০ বছর আগে সব দোকানে চুরি করে নিয়ে যায় । অনেক দিন পড়ে মলাই আর মঙ্গল চোর সেই খুনের
জন্য পুলিশে কাছে ধরা খায় তাদের ফাঁসি হয় । মলাই আর মঙ্গল খুব শক্তি শালী মানুষ 
ছিল তারা চোরি ডাকাতি করত । 
ইমু এই সব শুনে খুব ভয় পাইল , বাঘের বাপ কে কেউ চিনতে পারলো না। তবে 
৭০ থেকে ৮০ বছর আগে এক সাহসী কৃসক ছিল বাঘের বাপ । সে রাতে বেলা হেঁটে হেঁটে জমি পাহারা দিত । কেউ রাতে কোন বিপদে পরলে তাঁকে বাড়ি পর্যন্ত হেঁটে পৌঁছে দিত । এই কথা এক বয়স্ক মানুষ বলেছে । এর পড় থেকে ইমুর মামা আর সন্ধ্যার পড়
ঘর থেকে বের হয় না......।

Sunday, May 8, 2016

একটি ছায়র গল্প


আপনি অফিসে যেয়ে শুনলেন যে আপনারা চাকুরী নাই । আর হিসাহের গড়মিল জনিত কারনে আপনার নামে মামলা হয়েছে । কিন্তু আপনি জানেন এই সবের কিছুই আপনি করেন নাই । বাসায় এসে দেখলেন আপনার স্ত্রী আপনাকে ডিভোর্স পেপার দিয়েছে ।
কারন অফিস থেকে জেনেছে আপনি চুরি করেছেন আর সেই জনিত কারনে চাকুরী চলে গেছে । আর আপনাকে আগামী এক মাসের মধ্যে অফিসে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা জামা দিতে হবে না হয় জেল হয়ে যাবে । যেহেতু আপনি অনেক কষ্ট করে ঢাকায় একটা ফ্ল্যাট কিনিছেন তাউ তা আপনার স্ত্রীর নামে । স্ত্রী দেখল এটা বেচা ছাড়া টাকা দেয়া সম্ভব না। তাই সে আগেই সিদান্ত নিল আপনাকে তালাক দেয়ার । বাসার দারোয়ান আপানকে আর বাসায় প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। আপনার দরকারি জিনিস পত্র সব একটা ব্যাগে দারোয়ান আপনাকে দিয়ে দিল । তাই নিয়ে এক বন্ধুর বাসায় যাচ্ছেন । এমন সময় একটা দুর্ঘটনা ঘটলো ।
আপনি ঢাকা মেডিক্যাল পুলিশের গাড়ি এনে ভর্তি করালো । আপনার আপন জন রা শুনল কিন্তু কেউ খবর নিতে আসলো না। সময় গড়িয়ে একমাস । আপনার টাকার অভাবে ঢাকা মেডিক্যালর বারান্দায় আর আবার পুলিশ এসে আপনাকে নিয়ে গেল জেলে । আপনার অবস্থা চরম অবনতি হয়েছে । মামলা চালাবার টাকা নেই । তিন মাস হয়ে গেল আপনি জেলে । কেউ আসে নাই আপনাকে দেখতে ।
এর মধ্যে খবর পেলেন আপনার স্ত্রী অন্য একজন কে বিয়ে করছে । আপনি সব আশা ভরসা আর বিশ্বাস শেষ । এর মধ্যে জেলে আপনার জামিনের কাগজ এসেছে । আপনি
খুব অবাক হলেন কে আমার জাবিন কারলো । জেল গেইট থেকে বের হয়ে দেখলেন
যাকে আপনি সব চেয়ে অবহেলা করেছেন । যার কথা সব সময় ভুল মনে হত । যার সাথে রাগ করে আপনি তাঁকে না জানিয়ে বিয়ে করে সুখী হতে চেয়েছিলেন । যাকে
প্রায় বলতেন আমি লিখা পড়া শিখেছি , আমি আমার ভাল মন্দ খুব বুঝি আপনি আমাকে নিয়ে চিন্তা করার কোন দরকার নেই ।
সেই অবহেলিত ব্রৃদ্ধা পিতা আপনার জন্য দাঁড়িয়ে জেল গেইটে । আপনাকে বুকে
জরিয়ে বলছে বাবা কোন চিন্তা করিস না। আমি বেঁচে আছি । আমি জানি আমার ছেলে
নিরপরাধ । আপনাকে পরম মমতায় জরিয়ে ধরল শক্ত করে ।
তখন আপনার কেমন লাগবে । যার বাবা বেঁচে আছে তার ছায়া বেঁচে আছে !!!