Thursday, December 31, 2015
রোদ্দুর
------ সেলিনা জাহান প্রিয়া ----
তুমি শীতের কোমল রোদ্দুর হয়ে এলে
তুমি নরম রোদ্দুর হয়েই থেকো,
গায়ে মুখে মেখে হবো, শুধু তোমারি ।
শুধু এ টুকুই চাই। চাপা থাক দিনের শেষে সব
দেনা পাওনার সকল হিসেব তুমি আমি নির্বিশেষে,
হাতটা ধরে একবার হেঁটে যেতে চাই সবুজে ।
এতটুকু আশা আর এতটুকু ভালোবাসা
তোমার চোখের তারায় ছড়িয়ে দিয়ে......
তোমার চোখের দুটো অমানিশার মাঝেও
কি করে যোজন যোজন পথ পাড়ি দিয়ে এসে
এখনো ভালবাসো কিনা তা জিজ্ঞাসিতে চাই,?
শীতের রাত্রির প্রথম প্রহরে
প্রেমিক প্রেমিকারা উষ্ণতা ভাগাভাগি করে
তাদের প্রলম্বিত চুম্বনে।
এক কাপ চায়ের সাথে কত না জীবন কথা
অতীতের স্মৃতি এসে মনে ভীড় জমায়,
জীবনের হালখাতার হিসেবগুলো মুছে দিতে ইচ্ছে হয়।
শব্দরা দাঁঁড়িয়ে থাকে নিঃশব্দ প্রহরীর মতো
পাশে যখন কেউ থাকেনা, তারাই ঘিরে রাখে মন !!
জীবনের সাফল্য ব্যর্থতা নিয়ে কখনো কিছু ভাবিনা
কিসের সাফল্য? কিসের ব্যর্থতা?লক্ষ্যের কোন বালাই নেই
এভাবে চলতে চলতেই একদিন অদৃশ্য অভ্যর্থনায় পৌঁছে যাবো।
ব্যথা পেলে মানুষ কাঁদে, সশব্দে বা নীরবে।প্রেমে ব্যর্থ হয়ে কাঁদে।
আনন্দে ও প্রার্থনায় কাঁদে!তুমি কবি নও, এসব কান্না তোমার না।
তুমি কেমন আছো এটা জানতে ইচ্ছে করে।
তুমি কি জানো, তোমার হদস্পন্দনের ধ্বনি ?
ইথারে ভেসে এসে আমায় জানিয়ে দিয়ে যায়,
এক আকাশে দুইটি তারা ঘুরছে আপন কক্ষপথে,
ইচ্ছে হলে পত্র লিখো, যাকে ইচ্ছে তাকেই লিখো।
তোমার কথায় এতো মায়া, এতো মাধুরী, এতো
ভক্তি আর প্রেরণা দেখে আমি অভিভূত হয়ে যাই।।
পিয়ানোটা নিয়ে অবসরে আবার তুমি বসো ,
পিয়ানোর সুর শুনে যদি তোমার দু'চোখে কান্না উথলে উঠে,
তবে মনে করো, বিশাল পৃথিবীর আনাচে কানাচে
তোমার জন্য চোখে জল আনে তোমার সঙ্গীতের কথা ও সুর।
তোমার কাননে লেগেছে বসন্তের দখিনা বাতাস
কৃষ্ণচূড়ার ডালে ডালে জ্বলে ফাগুনের আগুন সৌরভে গুনগুন
আমার আকাশে আজ শুধু শীতের কুয়াশা
তাই শার্সিতে আছড়ে পড়ে তোমার নরম রোদ্দুর ।
রাতের গভীরতা স্বপ্ন
-------- সেলিনা জাহান প্রিয়া-----------
রাতের গভীরতায় জেগে আকাশ দেখি নয়নে নয়ন
আমি ভাবতে জেয়ে অশ্রু চোখে চাঁদ দেখি তবু স্বপ্ন
অশ্রুই এখন আমার চাঁদনী রাতের সঙ্গি ছায়া স্বপ্ন
চিরকালই আমি অশ্রুর বন্ধী তোমায় ভেবে ।
রাতে চাঁদটা দারুণ নীরবে জোছনা ছড়ায়
যে জোছনা দিয়ে পৃথিবীতে সাজে স্বপ্ন ছায়ায়
তুমি হলে চাঁদ আর তোমার সেই স্বপ্ন ছায়া
আমি ভাবনার পৃথিবী, ভাবি নিজেই নিজেকে ।
আমাকে যে আলোয় আলোকিত করেছ এ জিবনে
তুমি চাঁদ জোছনায় সে আলোয় আমি সে আলেয়া
নিশ্চুপ অন্ধকার মনে করিয়ে দেয় আলেয়ার আলো
তুমি ছাড়া আমি একা আধারে সুধুই আলেয়া হই ।।
তোমার আমার মধ্যকার যোজন যোজন পথের বাঁক
আশ্চর্য নিরবতা শুধু জেগে থাকি দেখি সে পথ
তোমার ভালোবাসায় খুঁজে পথ যায় সীমানার পথে
আমি আমিকে একা একা পথের সিমানায় সুধু আলো
তোমার কারণেই ভালোবাসতে বাসতে আমি পথে
শিখেছি শুধুই তোমার অশ্রু কে আমার অশ্রুর সাথে
খোলা আকাশের বসে এক সাথে নিঃশব্দে কাদতে
আমার অশ্রুতে মনের তরী ভাষায় অজা্না পথে ।
আঁখি খোলা রেখে হাজারো স্বপ্ন দেখি রাতের গভীরতায়
তোমাকে ঘিরে বার বার আমার মনের ক্যানভাসে স্বপ্ন
পূর্ণিমার নিশি চাঁদ বারেবারে শুধু তোমার স্বপ্ন আকে
তোমারই কথা মনে পড়ে রাতের গভীরতায় জেগে ।।
এতো কিছুর পরও জেগে থেকেই সীমানার সীমা করি পার
তোমার নিয়ে স্বপ্ন দেখি শত জাহার বার এ হৃদয়ে কুটীরে
ক্লান্ত চোখের ঘুমের আহ্বান তুমি আমি আজ মেঘে ভাসমান
আমার মেঘলা দিনে বৃষ্টির কলতান যে তুমি আসার শব্দ ।
তুমি আমার বিকেল বেলার সে মুগ্ধ নয়নের কাজল
বৃষ্টিতে ভেজা মাটির গন্ধ তোমার সাথেই মিশে একাকার
তোমায় ভালোবেসে দিনের আলোতে রাতের স্বপ্ন বুনন করি
পুরোটা সময়ই তোমাকে ভাবে আল্পনায় সংসার করি ।
ভালোবাসার শেষ কোথায় জানি না, জানতে চাই আমি
তোমায় ভুলে থাকতে পারিনা, ভুলতে তো চাই না আমি
যেদিকে তাকাই ভাবনার সাগরে আখি জলে পবন হাসে
ডুবে যাই রাতের গভীরতায় যে স্বপ্ন আমিয় আশা দেখায় ।
তবে ভাবনার মহাসাগরে ডুব দিয়ে ঝিনুক থেকে মুক্তা পাই
কোনো কূল পাই না এ মুক্তার মালা তোমার হাতে দিব বলে
আমি ভালো করেই জানি এ আমার কল্পনার মহা ভাবনা
পাগলামি ছাড়া আর কিছুই না রাতের গভীরতায় জেগে ।
খোলা আকাশের নিচে এসে আমি রাতের গভীরতায় জেগে
তোমায় ভাবি নিরন্তর আমার সকল ভাবনা রাত জাগে
দুটি আঁখি খোলা রেখে আমি একটি একটি করে স্বপ্ন বুনে যাই
হাজারো স্বপ্ন দেখে যাই বার বার রাতের গভীরতায় জেগে ।।
যে জোছনা দিয়ে পৃথিবীতে সাজে স্বপ্ন ছায়ায়
তুমি হলে চাঁদ আর তোমার সেই স্বপ্ন ছায়া
আমি ভাবনার পৃথিবী, ভাবি নিজেই নিজেকে ।
আমাকে যে আলোয় আলোকিত করেছ এ জিবনে
তুমি চাঁদ জোছনায় সে আলোয় আমি সে আলেয়া
নিশ্চুপ অন্ধকার মনে করিয়ে দেয় আলেয়ার আলো
তুমি ছাড়া আমি একা আধারে সুধুই আলেয়া হই ।।
তোমার আমার মধ্যকার যোজন যোজন পথের বাঁক
আশ্চর্য নিরবতা শুধু জেগে থাকি দেখি সে পথ
তোমার ভালোবাসায় খুঁজে পথ যায় সীমানার পথে
আমি আমিকে একা একা পথের সিমানায় সুধু আলো
তোমার কারণেই ভালোবাসতে বাসতে আমি পথে
শিখেছি শুধুই তোমার অশ্রু কে আমার অশ্রুর সাথে
খোলা আকাশের বসে এক সাথে নিঃশব্দে কাদতে
আমার অশ্রুতে মনের তরী ভাষায় অজা্না পথে ।
আঁখি খোলা রেখে হাজারো স্বপ্ন দেখি রাতের গভীরতায়
তোমাকে ঘিরে বার বার আমার মনের ক্যানভাসে স্বপ্ন
পূর্ণিমার নিশি চাঁদ বারেবারে শুধু তোমার স্বপ্ন আকে
তোমারই কথা মনে পড়ে রাতের গভীরতায় জেগে ।।
এতো কিছুর পরও জেগে থেকেই সীমানার সীমা করি পার
তোমার নিয়ে স্বপ্ন দেখি শত জাহার বার এ হৃদয়ে কুটীরে
ক্লান্ত চোখের ঘুমের আহ্বান তুমি আমি আজ মেঘে ভাসমান
আমার মেঘলা দিনে বৃষ্টির কলতান যে তুমি আসার শব্দ ।
তুমি আমার বিকেল বেলার সে মুগ্ধ নয়নের কাজল
বৃষ্টিতে ভেজা মাটির গন্ধ তোমার সাথেই মিশে একাকার
তোমায় ভালোবেসে দিনের আলোতে রাতের স্বপ্ন বুনন করি
পুরোটা সময়ই তোমাকে ভাবে আল্পনায় সংসার করি ।
ভালোবাসার শেষ কোথায় জানি না, জানতে চাই আমি
তোমায় ভুলে থাকতে পারিনা, ভুলতে তো চাই না আমি
যেদিকে তাকাই ভাবনার সাগরে আখি জলে পবন হাসে
ডুবে যাই রাতের গভীরতায় যে স্বপ্ন আমিয় আশা দেখায় ।
তবে ভাবনার মহাসাগরে ডুব দিয়ে ঝিনুক থেকে মুক্তা পাই
কোনো কূল পাই না এ মুক্তার মালা তোমার হাতে দিব বলে
আমি ভালো করেই জানি এ আমার কল্পনার মহা ভাবনা
পাগলামি ছাড়া আর কিছুই না রাতের গভীরতায় জেগে ।
খোলা আকাশের নিচে এসে আমি রাতের গভীরতায় জেগে
তোমায় ভাবি নিরন্তর আমার সকল ভাবনা রাত জাগে
দুটি আঁখি খোলা রেখে আমি একটি একটি করে স্বপ্ন বুনে যাই
হাজারো স্বপ্ন দেখে যাই বার বার রাতের গভীরতায় জেগে ।।
Wednesday, December 30, 2015
সে............শুধুই তুমি
------------------------------- সেলিনা জাহান প্রিয়া
বুকের ভেতর বৃষ্টি তুমুল ছন্দে সমুদ্রের কাঁপন ধরায় যে
সে................শুধুই তুমি!
পাখিদের সুরে যার নাম শুনে অসংখ্য বার প্রেমে পড়েছি
সে ............. শুধুই তুমি!
আঙ্গুল ছুঁয়ে,গহীনে স্বপ্ন সাজিয়ে আমার সাত সমুদ্দুর ভালোবাসায়
সে............শুধুই তুমি!
রোদ্দুরের দিক যে মেঘ ক্ষণিকের ছায়া দিয়ে ক্লান্ত ভুলায়
সে............শুধুই তুমি!
আমার অস্তিত্ব দিগন্তরেখায় উদিত ধ্রুবতারা হয়ে জ্বলে যে
সে............শুধুই তুমি!
চোখের কাজলের ভাজে ভাজে যে লাজুক ছন্দ লুকিয়ে হাসে
সে............শুধুই তুমি!
পুষ্প বনে মাতাল সুরভি হাওয়ায় নীল প্রজাপতি উড়ায়ে যার জন্য
সে............শুধুই তুমি!
ঘাসের ডগায় একবিন্দু শিশির শীতের সকালে যে হিরা রঙ ছারায়
সে............শুধুই তুমি!
আমার অঙ্গুলি স্পর্শে তোলে নিয়ে -কপাল ছুঁয়ে যে সোহাগ ছোঁয়ায়
সে............শুধুই তুমি!
সদ্যফোটা রক্তজবা হতে লাল রঙ নিয়ে যে আমার পা রাঙায়
সে............শুধুই তুমি!
দু’কদম হেঁটে ঐ দুটি হাত বুকে জড়িয়ে যে আমায় নীল আকাশ দেখায়
সে............শুধুই তুমি!
ভালোবাসার সাজানো বাগানে একজন উত্তরসূরি মহাআনন্দে যে আছে
সে............শুধুই তুমি!
প্রাণের ভাস্কর্য যে খুব যত্নে গড়ে তুলবে আপন প্রানের জন্য চিরদিন
সে............শুধুই তুমি!
চোখের ভেতর আরেক চোখ,এক চোখে সূর্যের মত আমায় দেখে
সে............শুধুই তুমি!
যার চাওয়া বেশী কিছু নয়! একটু- আধটু ভালোবাসা অভিমানী চোখের জল
সে............শুধুই তুমি
আজন্মকাল প্রেমের সুরভির সুরা তৃপ্ত করেছে উতল নিঃশ্বাস, আমার
সে............শুধুই তুমি
Tuesday, December 29, 2015
অনু গল্প-- Death Application (ডেথ অ্যাপ্লিকেশন )
--------------- সেলিনা জাহান প্রিয়া ---------------
বিঃ দ্রঃ- দুর্বল মনের মানুষরা পড়বেন না
--------------------------------------------------
ফেসবুক এ আজকাল বিভিন্ন মজার মজার অ্যাপ্লিকেশন থাকে ,যেমন ফাইন্ড ইওর
ভ্যালেন্টাইন হু উইল বি ইওর সিক্রেট লাভ , বা কে আপনাকে গোপনে ভালবাসে ।
আপনাকে আসলে কত বয়সের মনে হয়
এই সব অ্যাপ্লিকেশন গুলো অ্যাক্সেস করে মজার মজার উত্তর পেতে তরু খুব পছন্দ করে । যখন কোন নতুন অ্যাপ্লিকেশন পাবে তখনেই তাতে প্রবেশ করবে আর ফেস বুকে শেয়ার করবে । কত লাইক কত কমেন্ট পাওয়া যায় টা নিয়ে সে খুব মজা
উপভোগ করবে।
রাতেও শুয়ে শুয়ে ফেসবুক চালাচ্ছে আর পুক দেয়া তার একটা স্বভাব । সব চেয়ে বড় কথা ফেস বুকে ফান করা একটি রোজকার সাবজেক্ট ।।
আজ তরু লক্ষ্য করলো নতুন একটা অ্যাপ্লিকেশন "ফাইন্ড ইওর ডেথ ডেট এন্ড টাইম"
বেশ মজার তো অ্যাপ্লিকেশন
তরু ভাবলো দেখি কি রেসাল্ট দেয় এই অ্যাপ্লিকেশন ? এটা আসা মাত্রই টাইম লাইনে শেয়ার করে সবাই কে জানতে চাইব , আমার মরার তারিখ জেনে আমার ফেসবুক বন্ধুরা কে কি বলে ।
তরুর ডেথ ডেট আর টাইমের ...রেসাল্ট এলো ডেট - ৩১ /১২/২০১৫ টাইম রাত ৩.৩০ এ এম ।
তরু মরার তারিখ দেখে হাসতে লাগল । ফেস বুকে শেয়ার করলো । কারন তখন রাত ১২.৩০ মিনিট ৩১/১২/২০১৫ । তার সকল বন্ধুরা লাইক কমেন্ট করতে লাগলো । একজন লিখল বন্ধু বিয়ে না কইরাই মরিস না । তোমার হাতে তো সময় কম । গার্ল ফ্রেন্ডের সাথে পরিচয় করে দিলে ভাল হত । কত রঙ টং কমেন্ট আসতে লাগলো ।
তরু খুব মজার মজার উত্তর দিচ্ছে । হাত ঘড়িটা দেখল রাত তিনটা । একটা সিগারেট মনের সুখে টেনে শেষ করলো আবার লিখল ফেবু বন্ধুরা এই অ্যাপ্লিকেশন মতে আমি মাত্র ৩০ মিনিট আছি । এর মধ্য মোবাইল বেজে উঠল । গার্ল ফ্রেন্ড নিশি
হ্যালো বলতে ই বলে উঠলো বাচা মরা নিয়ে জোক করা ঠিক না । আর তুমি মরলে মর তোমার কোন বন্ধু কে আমার মোবাইল নাম্বার দিলে কাল কে তোমার খবর আছে বলেই ফোন কেটে দেয় । তরু চেয়ে দেখে রাত
এখন বাজে ৩:২৫ :০০ প্রেডিকশন অনুযায়ী আর কিছুক্ষণ বাদেই সেই সময়
তরু চিন্তা করছে ..আবার পরমুহূর্তে ভাবলো ধুস এগুলো তো জাস্ট মজার ..এসব কখনও সত্যি হয় নাকি ...এই বলে ওয়ালে শেয়ার করে দিয়ে চ্যাট করতে শুরু করল ..ভুলেও গেল ..হঠাৎ চেয়ে দেখে জানালার গ্রিল কেটে কয়েক জন তার ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে ছে । তরু কিছু বলার আগেই তরু কে চার জন মিলে ধরে ফেলে । তরু দেখে
একজন তার গার্ল ফ্রেন্ডের এক্স লাভার । কিছু বুঝে উঠার আগেই এলো পাথারি চাকু দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে । ঘড়িতে রাত ৩.৩০ মিনিট ।।
এই সব অ্যাপ্লিকেশন গুলো অ্যাক্সেস করে মজার মজার উত্তর পেতে তরু খুব পছন্দ করে । যখন কোন নতুন অ্যাপ্লিকেশন পাবে তখনেই তাতে প্রবেশ করবে আর ফেস বুকে শেয়ার করবে । কত লাইক কত কমেন্ট পাওয়া যায় টা নিয়ে সে খুব মজা
উপভোগ করবে।
রাতেও শুয়ে শুয়ে ফেসবুক চালাচ্ছে আর পুক দেয়া তার একটা স্বভাব । সব চেয়ে বড় কথা ফেস বুকে ফান করা একটি রোজকার সাবজেক্ট ।।
আজ তরু লক্ষ্য করলো নতুন একটা অ্যাপ্লিকেশন "ফাইন্ড ইওর ডেথ ডেট এন্ড টাইম"
বেশ মজার তো অ্যাপ্লিকেশন
তরু ভাবলো দেখি কি রেসাল্ট দেয় এই অ্যাপ্লিকেশন ? এটা আসা মাত্রই টাইম লাইনে শেয়ার করে সবাই কে জানতে চাইব , আমার মরার তারিখ জেনে আমার ফেসবুক বন্ধুরা কে কি বলে ।
তরুর ডেথ ডেট আর টাইমের ...রেসাল্ট এলো ডেট - ৩১ /১২/২০১৫ টাইম রাত ৩.৩০ এ এম ।
তরু মরার তারিখ দেখে হাসতে লাগল । ফেস বুকে শেয়ার করলো । কারন তখন রাত ১২.৩০ মিনিট ৩১/১২/২০১৫ । তার সকল বন্ধুরা লাইক কমেন্ট করতে লাগলো । একজন লিখল বন্ধু বিয়ে না কইরাই মরিস না । তোমার হাতে তো সময় কম । গার্ল ফ্রেন্ডের সাথে পরিচয় করে দিলে ভাল হত । কত রঙ টং কমেন্ট আসতে লাগলো ।
তরু খুব মজার মজার উত্তর দিচ্ছে । হাত ঘড়িটা দেখল রাত তিনটা । একটা সিগারেট মনের সুখে টেনে শেষ করলো আবার লিখল ফেবু বন্ধুরা এই অ্যাপ্লিকেশন মতে আমি মাত্র ৩০ মিনিট আছি । এর মধ্য মোবাইল বেজে উঠল । গার্ল ফ্রেন্ড নিশি
হ্যালো বলতে ই বলে উঠলো বাচা মরা নিয়ে জোক করা ঠিক না । আর তুমি মরলে মর তোমার কোন বন্ধু কে আমার মোবাইল নাম্বার দিলে কাল কে তোমার খবর আছে বলেই ফোন কেটে দেয় । তরু চেয়ে দেখে রাত
এখন বাজে ৩:২৫ :০০ প্রেডিকশন অনুযায়ী আর কিছুক্ষণ বাদেই সেই সময়
তরু চিন্তা করছে ..আবার পরমুহূর্তে ভাবলো ধুস এগুলো তো জাস্ট মজার ..এসব কখনও সত্যি হয় নাকি ...এই বলে ওয়ালে শেয়ার করে দিয়ে চ্যাট করতে শুরু করল ..ভুলেও গেল ..হঠাৎ চেয়ে দেখে জানালার গ্রিল কেটে কয়েক জন তার ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে ছে । তরু কিছু বলার আগেই তরু কে চার জন মিলে ধরে ফেলে । তরু দেখে
একজন তার গার্ল ফ্রেন্ডের এক্স লাভার । কিছু বুঝে উঠার আগেই এলো পাথারি চাকু দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে । ঘড়িতে রাত ৩.৩০ মিনিট ।।
চোখের গোপন ডায়রি
--------------সেলিনা জাহান প্রিয়া -----------
তোমার চোখের চাউনি তে
তোমাকে বুঝে নেওয়া অভিমান লুকিয়ে
তোমার হাসিটাই না হয় দেখে যাই নিঃশব্দে
মাঝে মাঝে একটু খানি ছুয়ে যাও আমায়
না হয় সামনে বসে কিছুকথা বলে যাও হেসে
আমি আনমনা হয়ে ভাবি কেন তুমি এমন?
আমার চোখের বেহিসাবি রাগ
তোমার চোখের দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে,
অনেক ভাললাগার ভিতরে বিরক্তির কারণ হয়ে উঠি
তোমার কাছে থাকার অনূভূতি আমাকে নেশার মত
আকড়ে থাকে অনেকগুলো মান অভিমান অন্তঃদন্দ !
তুমি আমার খুব গোপনে লুকিয়ে রাখা ডায়রির গদ্য
তুমি আমার দিনের শেষে নেমে আসা রাতের কল্পনা
তুমি আমার বলতে না পারা রাঙা চোখের চাউনি ।
অজানা কত সারারাত তোমায় ভেবে একাকী হাসি
তোমায় ছাড়া তোমাকে ভাবতে হবে তা মেনে নিয়েছি!
ভালবাসা কি আমি বুঝিনা ? বুঝতে চাইনা কোন দিন
কিন্তু অবাক হই কখন জানো ? যখন রাস্তা পার হতে গিয়ে
আমি দাড়িয়ে পড়ি না মনের একান্ত কোন ভয়ে
তোমার হাত ধরে পাড়ি দেই ব্যস্ত রাস্তা অজানা বিশ্বাসে
তুমি সাথে আছো তো এমন বিশ্বাসে ভয় সব পালায় ।।
তোমাকে কতটা বিশ্বাস করি জানো ?
যখন আমি নিশ্চত জানি তুমি মিথ্যা বলছো
তখনও ভাবি হয়ত সেটা অমারই ভূল !!
কতটা বিশ্বাস করি জানো ?
যখন তুমি অকারণে আমাকে কষ্ট দাও
আর আমি কষ্ট গুলো হাসি দিয়ে তোমায় সুখি করি
প্রতিদিন একটু একটু করে এ বিস্বাস গাঢ় থেকে গাঢ় হচ্ছে ,
জানি কোনদিন কেউ আসবেনা আমার এ বিস্বাস ভাঙ্গাতে
তোমার চোখের চাউনি তে
তোমাকে বুঝে নেওয়া অভিমান লুকিয়ে ------
গোধুলির আবির রংয়ে আমি আর কাব্যিক হই ।
কবিতার খাতা হাত দিয়ে স্পর্শ করি মনের কল্পনা
লেখা হয় না কোন গল্প তোমাকে ছাড়া আমার কবিতায়
সেই বাধভাঙ্গা হাসিটাও চোখের সামনে হেসে উঠে বার বার
এখন ভাবছি বদলে গেছি !
হ্যা অমার মাঝে আমি আজ তোমাকেই খুজে পাই...
দ্বিপ্রহর রাতে পৃথিবীর সুখী মানুষেরা যখন ঘুমের রাজ্যে স্বপ্ন দেখে
ঠিক সেই সময়ে আমি রাত জেগে তুমি থেকে কোটি মাইল দুরে ,
Saturday, December 26, 2015
গহীনের কষ্টের শব্দ
গহীনে কষ্টের শব্দ ---- সেলিনা জাহান প্রিয়া----------
বুকের এক কোণে সমুদ্রের ঢেউ আচরে পরে
হৃদয়ের গহীনের আমি দেখি কেউ হেঁটে যায়
তাঁর পায়ের ছাপ সর্বত্র আগুন জ্বলে এ গহীনে
জীবনের তীব্র কষ্টগুলো ঢেউ আর ঢেউ খেলে
অবিরত মনের আষাঢ় শ্রাবণ আঁখি ধারায় ।
জীবনের ছেঁড়াপাতায় থাক থাক সাজানো কষ্ট
তাকভরা স্মৃতিরা কষ্টের পরিধি আকাশ সম
কথা লিখে শেষ করার মত না !সুর হয়ে বাজে
সমুদ্র গহীনে অবিমিশ্র ভালবাসায় গড়া এ মন।
গহীনের কবিতা তবুও তুচ্ছ এসব হৃদয় দহন
নিভু নিভু আলোগুলি অহেতুক সুখ খুঁজেছে,
জোনাকির আলো কি আঁধার সরাতে পারে ?
মন সে তো ছুটে যায় অতীতের স্মৃতিতে,
আশাতে বুক বাঁধে কোন সমুদ্র ঢেউ দ্বীপ হয়ে ।
ভালোবাসার মন যখন তখন পাখা মেলে আকাশে
ভেসে বেড়ায় নীল সাদা মেঘের সাথে হেলেদুলে দূরে
কষ্ট তখন বানে ভাসে সুখ শুধু আলোর বৃষ্টি ফেলে
তির তিরিয়ে যায় জল নদীর নিরবধি পথ বাঁকা
চোখে আমার লাগে ধাঁধা ভালবাসার গহীন খেলা।
নীল দরিয়ার সব নীল আকাশে মেঘ ছাড়ায় প্রেমে
আকশের ঐ শুকতারাটাও তখন প্রেমের কাব্য লিখে।
নীলে নীলে ফিরি আমি কোন গগনের গহীন পথে
দুঃখে আমি দেখি যেন নতুন আলোর শিখা কাঁদে
সহজ ভেবে ছুটি আমি সুদীর্ঘ রাত কাটে আমার
চোখে ধাঁধা দেখি পথ যে আমার অসীম অন্ধকারে!!
জোছনা বুলায় মৃদু পরশ জোনাকি হাসে মিটি মিটি
এ যে শুধু প্রেম বাহানা করছে কেবল লুটোপুটি
দূর পাহাড়ের চুড়ায় চুড়ায় প্রেমের দীপাবলি জ্বলে
শিশির ভেজা ঘাসে ঘাসে খুঁজি ফেরি তোমার পদাবলি ।
আবীর মেখে সাঁঝের বেলা বর্ণচ্ছটায় ভাসে প্রেমের ভেলা
শ্রাবন ধারায় হিজলের ছায়া ধরে তমালের বনে স্বপ্ন দেখা
এসেছে মাতাল হাওয়া বাদলের সনে হৃদয়ের গহীনের ভেলায়
বৃষ্টির জল ঢেউ খেলে যায় বিস্তৃত প্রান্তর সমুদ্রের পারে নোঙর
লহরে লহরে ভেসে যায় আজ পল্লব প্রেমের গহীনে কষ্টের শব্দ ।
বুকের এক কোণে সমুদ্রের ঢেউ আচরে পরে
হৃদয়ের গহীনের আমি দেখি কেউ হেঁটে যায়
তাঁর পায়ের ছাপ সর্বত্র আগুন জ্বলে এ গহীনে
জীবনের তীব্র কষ্টগুলো ঢেউ আর ঢেউ খেলে
অবিরত মনের আষাঢ় শ্রাবণ আঁখি ধারায় ।
জীবনের ছেঁড়াপাতায় থাক থাক সাজানো কষ্ট
তাকভরা স্মৃতিরা কষ্টের পরিধি আকাশ সম
কথা লিখে শেষ করার মত না !সুর হয়ে বাজে
সমুদ্র গহীনে অবিমিশ্র ভালবাসায় গড়া এ মন।
গহীনের কবিতা তবুও তুচ্ছ এসব হৃদয় দহন
নিভু নিভু আলোগুলি অহেতুক সুখ খুঁজেছে,
জোনাকির আলো কি আঁধার সরাতে পারে ?
মন সে তো ছুটে যায় অতীতের স্মৃতিতে,
আশাতে বুক বাঁধে কোন সমুদ্র ঢেউ দ্বীপ হয়ে ।
ভালোবাসার মন যখন তখন পাখা মেলে আকাশে
ভেসে বেড়ায় নীল সাদা মেঘের সাথে হেলেদুলে দূরে
কষ্ট তখন বানে ভাসে সুখ শুধু আলোর বৃষ্টি ফেলে
তির তিরিয়ে যায় জল নদীর নিরবধি পথ বাঁকা
চোখে আমার লাগে ধাঁধা ভালবাসার গহীন খেলা।
নীল দরিয়ার সব নীল আকাশে মেঘ ছাড়ায় প্রেমে
আকশের ঐ শুকতারাটাও তখন প্রেমের কাব্য লিখে।
নীলে নীলে ফিরি আমি কোন গগনের গহীন পথে
দুঃখে আমি দেখি যেন নতুন আলোর শিখা কাঁদে
সহজ ভেবে ছুটি আমি সুদীর্ঘ রাত কাটে আমার
চোখে ধাঁধা দেখি পথ যে আমার অসীম অন্ধকারে!!
জোছনা বুলায় মৃদু পরশ জোনাকি হাসে মিটি মিটি
এ যে শুধু প্রেম বাহানা করছে কেবল লুটোপুটি
দূর পাহাড়ের চুড়ায় চুড়ায় প্রেমের দীপাবলি জ্বলে
শিশির ভেজা ঘাসে ঘাসে খুঁজি ফেরি তোমার পদাবলি ।
আবীর মেখে সাঁঝের বেলা বর্ণচ্ছটায় ভাসে প্রেমের ভেলা
শ্রাবন ধারায় হিজলের ছায়া ধরে তমালের বনে স্বপ্ন দেখা
এসেছে মাতাল হাওয়া বাদলের সনে হৃদয়ের গহীনের ভেলায়
বৃষ্টির জল ঢেউ খেলে যায় বিস্তৃত প্রান্তর সমুদ্রের পারে নোঙর
লহরে লহরে ভেসে যায় আজ পল্লব প্রেমের গহীনে কষ্টের শব্দ ।
Thursday, December 24, 2015
ঘুমহীন নক্ষত্রের রাত
অসংখ্
সেই ধুলো পরা ডায়রিতে হারিয়ে যাওয়া ইতিহাস পড়ছি ।
জিবন পরিবর্তনের দমকা হাওয়ায় অরন্য হয়েছে অট্টালিকা
আমি বদলাইনি এতটুকু ,তুমি মনে রেখ স্বপ্নেরা মরে না কখনো!!
ফেরারি মন যদি দুজন দুজনার ঠিকানা খুজে নেয় খেয়া ঘাটে
ঠিক দেখবে আকাশ সাজবে মেঘে মেঘে ঝরবে বৃষ্টি অঝরে
চাঁদ খুজে পাবে মেঘের লোকো চুরি আর সূর্য পাবে অনন্ত দিন
হৃদয় খুজে পাবে প্রেম আর জীবন পাবে পবিত্র বিশুদ্ধ নিঃশ্বাস ।
অপূর্ণের সংকীর্ণ পূর্ণ স্রোতের একতারার সূর একতালে
ছিনিয়ে নেবে জিবনের সকল চাওয়া পাওয়া আপন ভুবনে
ভাসিয়ে দেবে ঝরে পরা আশু তোমার মধুর ছোঁয়াতে জীবন
বেঁচে থাকার অনেক পাবে ঠিকানা তোমার ফিরে আসা বুকে।
ভালোবাসার মতো এখন আর পিছু ফেরাতে পারে না কেউ
শুধু বেঁচে থাকা, ঝুলে থাকা,অবকাশ নেই কিম্বা প্রশ্নই ওঠে না !
তিলে তিলে জমে ওঠে আশু, কেঁপে ওঠে তরঙ্গ অনিদ্রা চোখের পাতায়
কেমন আলস্যে আমি শুয়ে থেকে চাঁদ দেখি আকাশে তোমার আশায়।
য ঘুমহীন নক্ষত্রের আর চাদের সাথে রাত জেগে আছি
সেই ধুলো পরা ডায়রিতে হারিয়ে যাওয়া ইতিহাস পড়ছি ।
জিবন পরিবর্তনের দমকা হাওয়ায় অরন্য হয়েছে অট্টালিকা
আমি বদলাইনি এতটুকু ,তুমি মনে রেখ স্বপ্নেরা মরে না কখনো!!
ফেরারি মন যদি দুজন দুজনার ঠিকানা খুজে নেয় খেয়া ঘাটে
ঠিক দেখবে আকাশ সাজবে মেঘে মেঘে ঝরবে বৃষ্টি অঝরে
চাঁদ খুজে পাবে মেঘের লোকো চুরি আর সূর্য পাবে অনন্ত দিন
হৃদয় খুজে পাবে প্রেম আর জীবন পাবে পবিত্র বিশুদ্ধ নিঃশ্বাস ।
অপূর্ণের সংকীর্ণ পূর্ণ স্রোতের একতারার সূর একতালে
ছিনিয়ে নেবে জিবনের সকল চাওয়া পাওয়া আপন ভুবনে
ভাসিয়ে দেবে ঝরে পরা আশু তোমার মধুর ছোঁয়াতে জীবন
বেঁচে থাকার অনেক পাবে ঠিকানা তোমার ফিরে আসা বুকে।
ভালোবাসার মতো এখন আর পিছু ফেরাতে পারে না কেউ
শুধু বেঁচে থাকা, ঝুলে থাকা,অবকাশ নেই কিম্বা প্রশ্নই ওঠে না !
তিলে তিলে জমে ওঠে আশু, কেঁপে ওঠে তরঙ্গ অনিদ্রা চোখের পাতায়
কেমন আলস্যে আমি শুয়ে থেকে চাঁদ দেখি আকাশে তোমার আশায়।
য ঘুমহীন নক্ষত্রের আর চাদের সাথে রাত জেগে আছি
অন্ধ কবির বনলতা
------------------------
জীবন উপন্যাস এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে সব...
আমার পাশে একটা কবিতা জন্ম থেকে অন্ধ
কবিতার ভেতর প্রচণ্ড এক অস্থিরতা,
রাতজাগা তাঁরাদের মতন অসুখ করেছে তাঁর
কবিতার কাছে এখন দিন রাত সব সমান আধার
কবিতার কণ্ঠে জীবনানন্দের বনলতা সেনের প্রেম
কষ্টের সর্বজনিন কবিতা হয়ে উঠে কবিতার বনলতা সেন ।।
অন্ধ কবির ভেতর কবিতা শোনার এক আকুল তৃষ্ণা
সপর্শহীন ভালোবাসার মতো অন্ধ কবি ভালবাসে কবিতা
কবিতার সম্পর্ক আর কেউ জানুক না জানুক
তুমি তো একদিন জানবে যে তুমিই আমার কবিতা!
অন্ধ কবি স্পষ্ট দেখতে পায় মানের ঘটনা প্রবাহ
দিনাতিপাত একটা মিথ্যের মঞ্চ
কবি অন্ধ কিন্তু ভীষণ অস্থির বোধ করে
সন্ধ্যার নীলে ছায়াঘেরা হৃদয় ছেয়ে যায়
কবি তাঁর মনের ঘরে দেখতে পায় বনলতা কে
শিরশির পায়ে বনলতা আসে চুপি চুপি কবিতা হয়ে
বাতাসে ঝিরিঝিরি বৃষ্টির ছাট এসে ভিজিয়ে দিয়ে কবির প্রেম কে
যায় সন্ধ্যার মুখ অন্ধ কবি দেখে মনের দর্পণে
চোখের কাজল লেপটে বনলতার রাত নামে কবির জন্য !!
বনলতা সেন মোমবাতির রহস্য ছায়ার দেয়ালে তাকিয়ে থাকে একমনে
অন্ধ কবি কি ভাবে কি ভেবে ভেবে যায় ?
ঝরো হাওয়ায় সন্ধ্যার বুকে যেনো তোলপাড় ওঠে
এখানে কি কেউ আছে যে অন্ধ কবির কবিতা শুনবে আজ রাতে
শান্ত নদীর শীতল জলের মত বনলতা এলোমেলো চুল খুলে তাকায়
কবির হৃদয় তীরে সন্ধ্যা তলিয়ে যায় রাত আঁধার জলে নামে প্রেম ।
অন্ধ কবি বলে......
বনলতা তোমার মনে পড়ে কি আমার শেষের চিঠিটা
আজকের এই দিনে দশ বছর আগের সেই বৃষ্টির কথা
সেই সন্ধ্যা রাত তুমি আর আমি এবং এক সাথে
কবিতার কণ্ঠে জীবনানন্দের বনলতা সেন
এই দিনে তোমার সাথে আমার প্রথম দেখা
তুমি এসেছিলে অন্যরকম আমার কবিতা শুনে ।
এই যে আজ তুমি ঘুরে ঘুরে সামনে এসে দাঁড়াও
বনলতা নক্ষত্রের এই আনাগোনা কেবল তোমার জন্য
অন্ধ কবি বলে বনলতা............
আচ্ছা তোমার সাথে কি আমার আর কোনদিন দেখা হবে ?
আচ্ছা হারিয়ে যাওয়াটা কি আলোর মত অন্ধ হওয়া ?
এই যে আমি এই সময়ে দাঁড়িয়ে আছি বনলতা তোমার সামনে
এ আমি অন্য কেউ আজ তুমি ভেবে নাও
এখানে কেউ নেই যে কবিতা শোনবে আজ রাতে?
তোমার লাল নীল চুড়িগুলো আগের মতই আছে
শুধু বদলে গিয়েছে কবিতার কবি
কবি বদলে যেতে যেতে অনিবার্য ভাবে তোমার কাছেই ফিরে আসে
তুমি কি পারো এই অন্ধ কবির একটি কবিতা শোনাতে
কবিতার কাছে কিছু অস্পষ্ট জীবনরেখার আঁকিবুঁকি
মেঘ থেকে থেকে বিদ্যুৎ চমকে ওঠে দূর আকাশে
কবিতা শোনার এক আশ্চর্য আকুলতা বেড়ে চলে
কেউ আছে যে কবিতা শোনবে আজ রাতে...শেষ কবিতা
বনলতা আমার পাশে বসে একটা কবিতা শোনবে ?
বনলতা কবিতা শোনবে আজ রাতে...!
জীবন উপন্যাস এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে সব...
আমার পাশে একটা কবিতা জন্ম থেকে অন্ধ
আর কিছুক্ষণের ভেতরই এলোমেলো হয়ে যেতে যাচ্ছে সব..
Tuesday, December 22, 2015
শহর খুঁজে কবি

-----------------------
একটা শহর খুঁজে ফিরি শান্ত নদীর মত
কবিতা লিখে ভাসাতে চাই তাঁদের মাঝে
যারা পথ চেয়ে আছে চাতকের মত শান্ত
আমার কবিতায় ঘুমাবে ঐ শীতল শহর ।।
জ্বলে গেছে দেশলাইয়ার শেষ কাঠিও আধারে
প্রগাঢ় অন্ধকারে সঙ্গ দিতে দিতে ক্লান্ত শহর
অন্ধকার শহর নিয়ে কবিতা লিখেছে কবি--
কবি অন্ধকারের মাঝে প্রত্যাশার আলো জ্বালে
প্রিয়তমকে কবি শহরের গল্পশোনাচ্ছে শান্ত মনে
কি সুন্দর শহর তবে অন্ধকারে ডুবে আছে ?
গভীর অন্ধকার এ শহরে আলো কবিতা লিখি !!
পৃথিবীর সুন্দর কবিতার অনুসন্ধান করি এসো
জিজ্ঞাসু চোখে কবির অপার কৌতূহল এ শহরে !
কবি বিস্ময়ে চেয়ে দেখে কিছু চোখ আলো খুঁজে ।
অতঃপর কবিতার কবিকে প্রত্যাশিত শহর দেয়
পরিত্রাণ পায় অন্ধকার অল্প অল্প করে আলোতে
অন্ধকার দিনগুলি দ্রুত কেটে যায় নদীর জলে
বিমর্ষ স্মৃতিগুলি এখন কবি ভুলিতে চায় কবিতায়
রাতের পর দিন,দিনের পর রাত ক্রমাগত যায়
মাসের পর বছর, বছরের পর বছর এ শহরে।
কত বছর কেটে গেলো এ শহরে কবির খাতায় ,
কবিরা জন্ম মূর্খ রূপেই রয়ে অচেনা হয় একদিন
কবির কথা বলেনি কেউ, রাখেনি কেউ সন্ধান
একটা শহর খুঁজছি-ভালবাসার নতুন করে আবার.....................
Monday, December 21, 2015
যার মধ্যে মানবতা নেই সে শিক্ষিত হতে পারে কিন্তু মানুষ হতে পারে না !!!
---------------------------------------------------------------------------------------------
আমাদের ধর্ম সম্পর্কে পরিস্কার ধারণা রাখতে হবে। ধর্ম হচ্ছে , কোন বস্তু বা ব্যাক্তির বৈশিষ্ট্য যার দ্বারা ঐ ব্যাক্তি বা বস্তু সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। যেমন, চুম্বকের ধর্ম লোহা জাতীয় পদার্থকে আকর্ষণ করা। আর মানুষের ধর্ম মানবতা। তাই মানুষকে মানবতার ধর্ম বা বৈশিষ্ট্য দিয়েই বিচার বা মুল্যায়ন করা উচিৎ। আর সকল ধর্মই মানুষকে মানবতা সম্পর্কে শিক্ষা দেয়। যে বা যিনি শুধুমাত্র ধর্ম দিয়ে মানুষকে মুল্যায়ন করেন, তিনি যতবড় শিক্ষিতই হোন না কেন তার ধর্ম সম্পর্কে জ্ঞান খুবই কম অথবা নেই। দুঃখের বিষয় হলেও সত্যি আমাদের দেশে এই জাতীয় শিক্ষিত(!), ভদ্র(!) মানুষই বেশী।
প্রতিটি মানুষেরই একটি মানবিক পরিচয় রয়েছে এবং তাকে সে পরিচয় দিয়েই মূল্যায়ন করা উচিত। কারণ, মানবিক পরিচয় দিয়েই একজন মানুষকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা যায়, অন্যদিকে ধর্ম দিয়ে মূল্যায়ন করতে গেলে ধর্ম সংক্রান্ত বিভেদ সুস্পষ্ট হয়ে উঠে, যা সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় বৈষম্য তৈরি করে। একসময় পৃথিবীতে ধর্মীয় বিভেদ সুস্পষ্ট ছিল এবং তা ধর্মীয় সহিংসতাকে উসকে দিত। ‘ক্রুসেড’ যুদ্ধ যার অন্যতম প্রকৃষ্ট উদাহারন। ধর্মীয় সংকীর্নতা থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছে বলেই মানব সভ্যতা সভ্য হতে শুরু করেছে। কেননা,মানুষ মানুষের জন্য । কেউ যদি মানুষকে মানুষ না ভেবে ধর্ম দিয়ে মূল্যায়ন করে তাহলে সেটা অন্যায় তো অবশ্যই । এ ধরণের মানুষকেই জ্ঞানপাপী বলা হয়
আমি এসেছি,
-----------সেলিনা জাহান প্রিয়া ------------------------
আমি এসেছি, তোমার উঠনের দক্ষিণ ঘরে
ভাবতে পার তুমি এক চিলতে রোদ এসেছে
ভুল করে কুয়াশা ফাঁকি দিয়েছে আলো দিতে
বা মনে করতে পার তুমি স্বপ্ন দেখছ এখন
কিন্তু আজ সত্যি আমিই এসেছি তোমার সামনে ।
আমি এসেছি তোমার খোঁজ নিতে, নীরব দেখে
বুকের পাজরে একটা নিঃশব্দের সুর চিন চিন করে
আধারে জ্বালিয়েছে মশাল আলো তুমি হৃদয় কুটীরে
দিগন্তে মিতালী খুঁজে তোমার সুর আমার খেয়ালীতে
কিন্তু আমি স্বপ্ন নয় বসন্তের রানী তোমার উঠানে।
আমি এসেছি,তোমার চৌকাঠের সীমানায় আজ
কোন মান অভিমান না ! সালিশ না ! তবুওএসেছি
আমাকে সীমানা পার হতে হল! তোমার জন্য আজ
গৌরবিত হতে পার তোমার তীক্ষ্ণ দৃষ্টি মেলে
কিন্তু সূর্যের ও ছায়া পরে একেই মেরুর আলোতে !!
আমি এসেছি,কিছু দিতে,কিছু পেতে, বা হারাতে
জীবন তো ঋতুর নিয়মে পাতা ঝরা, ফুল ফোঁটার খেলা
বর্ষার জলে ভাসতে ভয় নাই যদি বান আসে বিশ্বাসে
কাদার মত গলে মিশে যাব নতুন কোন ডুব চরে
কিন্তু আজ কি বলে তুমি স্বাগত ভাষণ দিবে এ মনে ?
আমি এসেছি, হারাবার কোন ভয় নেই আমাকে
প্রতিটি গল্পের শুরু হয় শেষ হবার জন্যই হয়ত
যে লিখে সেই শুরু করে শেষটা প্রশ্ন চিহ্ন হয়ত
তবুও গল্প থেমে থাকে না জীবনের মত করে
কিন্তু কিছু ব্যাথাকে ভালবাসব বলে জানিও ।
আমি এসেছি,তবে প্রথম বার নিয়মের বাহিরে
আমার কাজল টিপ চুলের বেণী সব তোমার
শেষ কবিতার সেই শেষ লাইনের অংকের মতো
আমি হাসব বলে, আমি কাঁদব বলে এসেছি
কিন্তু তুমি কবিতার মত ভেব না রানী কে ।।
ঋণের প্রাপ্তি ফিরে আসবেই !!!
--------সেলিনা জাহান প্রিয়----------
ভাবনাতেই তোমার নষ্টামি খুঁজে পাই
কি সুন্দর করে এক বন্ধু বলে অন্য বন্ধু কে
"আগে তো মন জয় করতে হবে তারপর বাকিটা ফ্রীতেই পাওয়া যাবে"
মনের কি মুল্য দেহের উত্তাপে ! হায় প্রেম কত তামসা ।
তোমাদের এমন ভাবনাই তোমাদের অশান্তির মুল ।
প্রকৃতি কোন ঋণ রাখে না !
আজ না হোক কাল তোমাদের প্রাপ্তি
কোন না কোন ভাবে তোমাদের নিকট ফিরে আসবেই !!!
ভাবনাতেই তোমার ছলনা ! মন দেখ না অর্থ দেখ নারী
প্রেমের কথা মুখে বলে অন্তরে পোষ লালসার নীল সাড়ী
না পাও স্বামী না পাও সংসার না পাও প্রেম
শুধু দোষ তকদীর কে !
তোমাদের এমন ভাবনাই তোমাদের অশান্তির মুল ।
প্রকৃতি কোন ঋণ রাখে না !
আজ না হোক কাল তোমাদের প্রাপ্তি
কোন না কোন ভাবে তোমাদের নিকট ফিরে আসবেই !!!
Sunday, December 20, 2015
রম্য রচনা / ফেসবুক সেলিব্রেটি
আমজাদ সাহেব সম্প্রতি ফেসবুকে সেলিব্রেটি হয়েছেন। স্ট্যাটাস দিলে ভালোই রেসপন্স আসে। মেয়েরা হুমড়ি খেয়ে পড়ে এবং প্রশংসায় তাকে ভাসিয়ে ফেলে। আমজাদ সাহেবের বড় ভালো লাগে, আনন্দে মনটা ভরে যায়। এমন দিনের স্বপ্নই তো তিনি দেখতেন। অবশেষে তা সত্যি হল।
আজকাল তিনি সারাদিন ফেসবুকেই থাকেন। এমনকি ঘুমানও ফেসবুকে। ল্যাপটপ অন করে বুকে নিয়ে ঘুমান। তার স্ত্রী এসে মাঝে মাঝে যন্ত্রনা করে। তিনি স্থ্রী-কে উল্টা-পাল্টা বুঝিয়ে বিদায় করে দেন। এই মহিলাকে আমজাদ সাহেবের কাছে বিরক্তিকর মনে হয়। সারাদিন কানের সামনে বেহুদা প্যানপ্যান। কাজ না থাকলে যা হয় আর কি।
আজ একটু আগে তার স্ত্রী এসে তাকে বলল, ‘অ্যাই সারাদিন কম্পিউটারে কি? চোরের মত লুকিয়ে লুকিয়ে ইয়াং মেয়েদের ছোট ড্রেস পড়া ছবি দেখ – লজ্জা করেনা? যত বুড়া হচ্ছ ক্যারেক্টার তত ঢিলা হচ্ছে।’
আমজাদ সাহেব চেহারায় কৃ্ত্রিম গাম্ভীর্য ফুটিয়ে বললেন, ‘ফালতু কথা একদম বলবে না। মেয়েদের প্রতি যে আমার বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই সেটা তো তোমার অজানা থাকার কথা না। দেখনা তোমাকে দেখলে বিরক্ত হই। তুমি যে মেয়ে এটা নিয়ে সন্দেহ আছে তোমার? শোনো, কাজের কথা বলি। এক আমেরিকান বিজ্ঞানী ভবিষ্যৎবাণী করেছে যে উইদইন ফরটিন আওয়ার্স দুনিয়া ধ্বংস হয়ে যাবে। ঘটনা আসলেই সত্যি কিনা সেটা ইন্টারনেটে বসে যাচাই করছি। সার্চ করতে গিয়ে দুই একটা মেয়ের ছবি চলে এসেছে। ইন্টারনেট হচ্ছে তথ্য ভান্ডার। এখানে ছেলেদের ছবি যেমন থাকে, মেয়েদের ছবিও থাকে। তুমি এখন যন্ত্রনা কোরোনা। কেটে পড়। দুঘন্টা পরে এসে ছোট পিরিচে করে এক কাপ চা দিয়ে যেও, সাথে দুইটা গোল বিস্কুট।’
‘চা লাগলে নিজে বানিয়ে খাও। আর গোল কোন বিস্কিট তো তুমি কিনে আন নি। যে জিনিস কিনে আননি সেই জিনিস খেতে চাচ্ছ কেন?’
আমজাদ সাহেব এই মহিলার সাথে তর্কে যাওয়ার কোন প্রয়োজন মনে করলেন না। বেকুব টাইপের মহিলা। এড়িয়ে যাওয়াই আলো। তিনি বললেন, ‘আচ্ছা যাও।’
তার স্ত্রী চলে গেলেন। তিনি ডেস্কটপটা বন্ধ করে ল্যাপটপ চালু করলেন। ল্যাপটপ দিয়ে ফেসবুকে ঢুকে একটা স্ট্যাটাস দিতে হবে।
তার মন আজ অত্যাধিক ভালো। গতকালকে দেয়া স্ট্যাটাসটা বেশ হিট হয়েছে। লাইক এসেছে সাড়ে চারশোর মত। এর মধ্যে মেয়েদের লাইক প্রায় তিনশোর মত, তিনি এইমাত্র গুণে দেখলেন। মেয়েদের প্রতিটা লাইক কমেন্ট থেকে তিনি অনুপ্রেরণা পান, ছেলেদের লাইক কমেন্ট থেকেও অনুপ্রেরণা পাওয়া উচিত কিন্তু কি কারণে জানি তিনি পান না এবং পাওয়ার দরকারও মনে করেন না।
তার গতকালকের স্ট্যাটাসে এক মেয়ে মন্তব্য করেছে, ‘ভাইয়া আপনার লেখার মধ্যে একটা লেখক সুলভ ভাব আছে। পুরুষশাসিত সমাজে নারীদের আপনি যোগ্য মূল্যায়ন করতে জানেন। এই জিনিসটা ভাল্লাগলো।’
এই মন্তব্যে তিনি দারুন আনন্দিত হয়েছেন। আনন্দে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেন নি। বাচ্চাদের মত হাউমাউ করে কেদে ফেলেছেন।
একই স্ট্যাটাসে এক ছেলে কমেন্ট করেছে, ‘ভাইয়া আপনার লেখায় রবীন্দ্রনাথের ছোয়া আছে। আমি মনে করি আপনিই হবেন এই যুগের রবীন্দ্রনাথ। বাংলা সাহিত্যে আপনাকে খুব দরকার।’
এই কমেন্টে আমজাদ সাহেব কোন ফিলিংসই পেলেন না। তার কাছে মনে হল এটি একটি বাজে এবং অপ্রাসঙ্গিক কমেন্ট।
ছেলেদের ব্যাপারে আমজাদ সাহেবের আগ্রহ এমনিতেই কম। এরা কমেন্ট দিলেই কি আর না দিলেই কি। হু কেয়ারস? তার লেখাগুলোতে মেয়েদের সুন্দর বর্ণনা থাকে। তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন তার লেখা দিয়ে ফ্রেন্ডলিষ্টের প্রতিটি মেয়েকে খুশি করতে। ফলে ছেলেদের নিয়ে কিছু নেগেটিভ কথা লিখতে হয়। তিনি আগ্রহ করেই সেটা লেখেন এবং লিখে কিছুটা গর্বও অনুভব করেন।
ইদানিং একটা সমস্যা হচ্ছে। ছেলেদের নিয়ে নেগেটিভ কথা লেখার কারণে ইনবক্সে কিছু ছেলে তাকে থ্রেট দিচ্ছে বিশ্রী ভাষায়। তরুন প্রজন্মের ছেলেদের ভাষা এই লেভেলে নেমে এসেছে এটা জেনে তিনি দুঃখিত হয়েছেন। তিনি নিজে তরুণ থাকা কালে ‘শালা’ ছাড়া আর কোন ভালো গালিই জানতেন না।
গত পরশু এক ফালতু ছেলে তাকে ইনবক্সে ম্যাসেজ দিয়েছে। সেই ছেলের আইডির নাম ‘অ্যাঞ্জেল কালা জাহাঙ্গীর’।
এই কালা জাহাঙ্গীর লিখেছে, ‘ওই বুইড়া, মেয়ে নিয়া রসালো লেখা লেইখা হিট হইতে চাস? ছেলেদের নিয়া আজেবাজে লেখা লেইখা পার পাবি মনে করছস? খাড়া তোর সেলিব্রেটি হওয়া ছুটাইতাছি।’
আমজাদ সাহেব তাজ্জব হয়ে গেছেন। তার ছেলের বয়সী এই ছোড়া তাকে তুই করে বিশ্রী ভাষায় গালিগালাজ করছে। তিনি সাথে সাথে ছেলেটিকে ব্লক করেছেন এবং ব্লক করার আগে ইনবক্সে একটা ছোট ম্যাসেজ দিয়েছেন। লিখেছেন, ‘তুই একটা অমানুষ। নারীর মূল্য তুই বুঝবিনা। দে আর গ্রেটস।’
আমজাদ সাহেব গতরাতে এই বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘক্ষণ ভেবেছেন। তার সব লেখা আসলেই কি নারী বিষয়ক হয়ে যাচ্ছে? ব্যাপারটা তো ঠিক হচ্ছেনা। বড় লেখকরা মেইনলি কি নিয়ে লিখতেন? তারা কি নারী নারী করতেন? না মনে হয়। আমজাদ সাহেব মাইক্রোসফট ওয়ার্ড ওপেন করলেন। নতুন একটি লেখা লিখবেন। এই লেখায় নারী নিয়ে একটি অক্ষরও লিখবেন না। সবাইকে তিনি দেখিয়ে দেবেন তিনি যেকোন টপিক নিয়েই লিখতে পারেন। সেটা কলাগাছ হোক আর খেজুর গাছ হোক।
টপিক হিসাবে তিনি সিলেক্ট করেছেন ‘বাংলাদেশ’। দেশ নিয়ে লিখবেন। সামনে ২৬ শে মার্চ। এই সুযোগে দেশপ্রেমটাকেও একটু ঝালিয়ে নেয়া যাক। নারী প্রেম থেকে দেশপ্রেম। প্রতিটি প্রেমের মূলেই দেখা যাচ্ছে নারী। বাহ সুন্দর তো!
আচ্ছা দেশ নিয়ে কি লিখবেন? দেশ নিয়ে তো সবাই জানেই। এই দেশের জনসংখ্যা, আয়তন এসব লিখবেন? এসব লিখলে সেই স্ট্যাটাসে কেউ কি লাইক দেবে? দেয়ার তো কথা না।
হঠাৎ আমজাদ সাহেবের মনে হল একজন লেখক খুব ভিন্ন কিছু নিয়ে লেখেন না। সবাই যা লেখে লেখকও তা নিয়েই লেখেন কিন্তু তার উপস্থাপন হয় ভিন্ন। সুতরাং বাংলাদেশ নিয়ে ভিন্নভাবে লিখলেই হবে এবং অবশ্যই সেটি নারী বর্জিত হতে হবে।
তিনি শুরু করলেনঃ ‘এক লক্ষ সাতচল্লিশ হাজার পাচশ সত্তুর বর্গকিলোমিটারের দেশটিকেই মূলত বাংলাদেশ নামে ডাকা হয়। এটি ওসাম একটি দেশ। এই দেশে প্রচুর গাছপালা আছে। জানালা দিয়ে তাকালেই সবুজ মাঠ। সেই মাঠে গরু ছাগল ঘোরাঘুরি করছে। সুতরাং এই দেশকে সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা বলাটা অবশ্যই সমীচিন।
এই দেশের মানুষ মূলত মুসলিম। তবে এখানে হিন্দু খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধও আছে। এছাড়াও আছে কিছু ভন্ড এবং চিটার টাইপের লোক। এই দেশে প্রচুর নদী আছে বলেই এটিকে নদীমাতৃক দেশ বলা হয়। মাতৃ শব্দটির মানে হল মাতা। মাতা আমাদের পরম শ্রদ্ধেয়। আবার এই মাতা একজন নারী। সুতরাং নারী জাতির গুরুত্ব অপরিসীম। দে আর গ্রেটস।’
লাভ অ্যাট ফাস্ট সাইট -------------
------------- সেলিনা জাহান প্রিয়া----------------
কোন এক শীতের সকাল। ছেলেটা একটা শপিং কমপ্লেক্সের ভিতর
এদিক-সেদিক ঘোরাঘুরি করতে থাকে। একসময় তার চোখ পড়ে যায় একা একটা মেয়ে কাকে
জানি অনেকক্ষণ যাবত খুঁজছে । মেয়েটা সেল ফোন টা খুলে ব্যাটারি দিকে একটা
মুখ ভেংচি কাটলো । মেয়ের হাসিটা ছিল অপূর্ব রকমের সুন্দর , ছেলেটা প্রথম
দেখায় মেয়েটার প্রেমে পড়ে যায়। এটাই মনে হয়, Love At First Sight.
ছেলেটা সামনে এগিয়ে বলল আমার ফোন থেকে কল করতে পারেন । মেয়েটা কোন কথা না বলে ছেলেটার মুখের দিকে তাকিয়ে একটা হাসি দিল । মেয়ে বলল
ঃ- আমার নাম্বার মনে নেই । আমার বান্ধবিদের সাথে এসেছি । এত বড় শপিং মল খুঁজে পাচ্ছি না।
ঃ- কত ক্ষণ যাবত ।
ঃ- এই যে ৩০ মিনিট ।
ঃ- এখন বলুন আমি একা মেয়ে মানুষ কি করি ?
ঃ- আরে এটা কোন সমস্যা । ঐ ফোনের দোকানে চলুন । ওদের কাছে চার্জার আছে ।
ঃ- আমার কাছে টাকা নেই চারজার কেনার ।
ঃ- আরে কিনতে হবে না । চলুন আমার সাথে ।
ছেলেটা মেয়েটা কে নিয়ে মোবাইলের দোকানে যায় সেল ফোন চার্জ দেয় ।
ছেলেটা একটা চুইং গাম দেয় । মেয়েটা হাসি মুখে গ্রহন করে ।
মেয়েটা ফোনের পর ফোন দেয় । কিন্তু যাকে ফোন দিচ্ছে সে ফোন রিসিভ করে না।
মেয়েটা কে একটা সি অ্যান জি ভাড়া করে দেয় । মেয়েটা শুধু বলে আমার বাসা উত্তরা রাজলক্ষির পিছনে ।
ঃ- আমার নাম্বার মনে নেই । আমার বান্ধবিদের সাথে এসেছি । এত বড় শপিং মল খুঁজে পাচ্ছি না।
ঃ- কত ক্ষণ যাবত ।
ঃ- এই যে ৩০ মিনিট ।
ঃ- এখন বলুন আমি একা মেয়ে মানুষ কি করি ?
ঃ- আরে এটা কোন সমস্যা । ঐ ফোনের দোকানে চলুন । ওদের কাছে চার্জার আছে ।
ঃ- আমার কাছে টাকা নেই চারজার কেনার ।
ঃ- আরে কিনতে হবে না । চলুন আমার সাথে ।
ছেলেটা মেয়েটা কে নিয়ে মোবাইলের দোকানে যায় সেল ফোন চার্জ দেয় ।
ছেলেটা একটা চুইং গাম দেয় । মেয়েটা হাসি মুখে গ্রহন করে ।
মেয়েটা ফোনের পর ফোন দেয় । কিন্তু যাকে ফোন দিচ্ছে সে ফোন রিসিভ করে না।
মেয়েটা কে একটা সি অ্যান জি ভাড়া করে দেয় । মেয়েটা শুধু বলে আমার বাসা উত্তরা রাজলক্ষির পিছনে ।
ছেলেটা রোজ মটর সাইলে উত্তরা যায় কোন দিন সকালে । কোন দিন বিকালে , কোন দিন রাতে । আর মেয়েটা কে খুঁজে ।
মেয়েটাও প্রায় আসে শপিং মলে মনে মনে ছেলেটাকে খুঁজে ।
না কারো সাথে কারো দেখা হয় না।
ছেলেটা তার বোন কে নিয়ে বিশ্ববিদালেয়ে যায় । ঠিক মেয়েটা তার বড় ভাইয়ের সাথে আসে বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘুরতে । অবাক হয়ে দু জন দু জন কে দেখে । কিন্তু অজানা ভুলে কেউ কারো সাথে কথা বলে না । মেয়েটি ভাবে ওর গার্ল ফ্রেন্ড কষ্ট পাবে । ছেলেটা ভাবে না ওর বয় ফ্রেন্ড যদি মাইন্ড করে ।
শুধু দু জন দু জনের দিকে চেয়ে থাকে । মেয়েটা যখন গাড়িতে চরে । ছেলেটা বোন বলে কি ব্যাপার ভাইয়া এই মেয়েটার দিকে কেন এভাবে চেয়ে আছো । ছেলেটা বলে
ঃ- আরে পাগল আমি তো রোজ এই মেয়েটাকে খুঁজি ।
ঃ- তাহলে কথা বললে না কেন ওর সাথে
ঃ-ওর সাথে তো দেখা যায় বয় ফ্রেন্ড ।
ঃ- আমি তোমার কি হই?
ঃ- তুই আমার বোন ।
ঃ- তাহলে তো ঐ মেয়েটার ভাই ও হতে পারে !
ঃ- ঠিক তো । তুই নাম মটর সাইকেল থেকে । এই নে গাড়ি ভাড়া করে যা ।
ছেলেটা গাড়ি খুঁজতে থাকে। একটা সিগনালে মেয়েটাকে পায় । গাড়িতে চুপ করে বসে আছে । কিছু বলে না, শুধু হালকা ইশারা দেয় । ছেলেটা হাসে মেয়েটা ও য়তহাসে ।
একসময় দেখে মেয়েটা নেমে গেল বাসার সামনে ও দূর থেকে দেখে । মেয়েটা ঘাড় ফিরিয়ে দেখে ।
ছেলেটা গেইটের সামনে আসলেই দারোয়ান তাকে একটা কাগজ দেয় তাকে লিখা স্যাম টাইম স্যাম প্লেস ।
মেয়েটাও প্রায় আসে শপিং মলে মনে মনে ছেলেটাকে খুঁজে ।
না কারো সাথে কারো দেখা হয় না।
ছেলেটা তার বোন কে নিয়ে বিশ্ববিদালেয়ে যায় । ঠিক মেয়েটা তার বড় ভাইয়ের সাথে আসে বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘুরতে । অবাক হয়ে দু জন দু জন কে দেখে । কিন্তু অজানা ভুলে কেউ কারো সাথে কথা বলে না । মেয়েটি ভাবে ওর গার্ল ফ্রেন্ড কষ্ট পাবে । ছেলেটা ভাবে না ওর বয় ফ্রেন্ড যদি মাইন্ড করে ।
শুধু দু জন দু জনের দিকে চেয়ে থাকে । মেয়েটা যখন গাড়িতে চরে । ছেলেটা বোন বলে কি ব্যাপার ভাইয়া এই মেয়েটার দিকে কেন এভাবে চেয়ে আছো । ছেলেটা বলে
ঃ- আরে পাগল আমি তো রোজ এই মেয়েটাকে খুঁজি ।
ঃ- তাহলে কথা বললে না কেন ওর সাথে
ঃ-ওর সাথে তো দেখা যায় বয় ফ্রেন্ড ।
ঃ- আমি তোমার কি হই?
ঃ- তুই আমার বোন ।
ঃ- তাহলে তো ঐ মেয়েটার ভাই ও হতে পারে !
ঃ- ঠিক তো । তুই নাম মটর সাইকেল থেকে । এই নে গাড়ি ভাড়া করে যা ।
ছেলেটা গাড়ি খুঁজতে থাকে। একটা সিগনালে মেয়েটাকে পায় । গাড়িতে চুপ করে বসে আছে । কিছু বলে না, শুধু হালকা ইশারা দেয় । ছেলেটা হাসে মেয়েটা ও য়তহাসে ।
একসময় দেখে মেয়েটা নেমে গেল বাসার সামনে ও দূর থেকে দেখে । মেয়েটা ঘাড় ফিরিয়ে দেখে ।
ছেলেটা গেইটের সামনে আসলেই দারোয়ান তাকে একটা কাগজ দেয় তাকে লিখা স্যাম টাইম স্যাম প্লেস ।
ছেলেটা রাতে আর ঘুম যায় না বারান্দায় দাঁড়িয়ে আকাশ দেখে চাঁদ দেখে , গান শুনে । মেয়েটা ও তাই বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকে ।
ছেলেটা খুব সকালে শপিং মলের সামনে চলে আসে তখন শপিং মল খুলে নাই । মেয়েটা আগেই চলে আসে, এসে দেখে ছেলেটা দাঁড়িয়ে, মেয়েটা হেসে ছেলেটা ও হাসে। মেয়েটা একটা চুইং গাম বের করে ছেলেটা কে দেয় ।
[গল্পের এই পর্যায়ে এসে ছেলেটার আর মেয়েটার নামকরণ করা যাক। ধরা যাক ছেলেটার নাম অরন্য আর মেয়েটার নাম প্রিয়া ।]
পরশুদিন বিকাল। এক ঘন্টা ধরে মেয়েটা কফিশপে অপেক্ষা করছে ছেলেটার জন্য। ছেলেটার অনুপস্থিতি দেখে একসময় মেয়েটা ডায়াল করে ছেলেটার ফোন নাম্বার। ছেলেটার বোন ফোন রিসিভ করে।
ছেলেটা খুব সকালে শপিং মলের সামনে চলে আসে তখন শপিং মল খুলে নাই । মেয়েটা আগেই চলে আসে, এসে দেখে ছেলেটা দাঁড়িয়ে, মেয়েটা হেসে ছেলেটা ও হাসে। মেয়েটা একটা চুইং গাম বের করে ছেলেটা কে দেয় ।
[গল্পের এই পর্যায়ে এসে ছেলেটার আর মেয়েটার নামকরণ করা যাক। ধরা যাক ছেলেটার নাম অরন্য আর মেয়েটার নাম প্রিয়া ।]
পরশুদিন বিকাল। এক ঘন্টা ধরে মেয়েটা কফিশপে অপেক্ষা করছে ছেলেটার জন্য। ছেলেটার অনুপস্থিতি দেখে একসময় মেয়েটা ডায়াল করে ছেলেটার ফোন নাম্বার। ছেলেটার বোন ফোন রিসিভ করে।
- হ্যালো
-- অরন্য আছে? ওকে একটু দেওয়া যাবে?"
- কে বলছো তুমি?"
-- আমি প্রিয়া"
- প্রিয়া, তুমি কি জান না ' গতরাতে ভাইয়া রোড অ্যাক্সিডেন্টে করেছে ।
-- ও এখন কোথায়
-- হাসপাতালে ।
প্রিয়া তারা তারি হাসপাতালে আসে । অরন্যের জ্ঞান ফিরে নাই । প্রিয়া অরন্যের
কাছে আসে । অরন্যের হাতে হাত রাখে । কিছু সময় পড়ে অরন্য তার হাতের ছোঁয়ায়
আস্তে আস্তে চোখ মেলে । এক জন অন্য জনের হাত ধরে রাখে । অরন্য তার পকেট
থেকে একটা চুইং গাম বের করে দেয় কিন্তু চুইং গাম খুলে দেখে একটা কাগজ ।
তাতে লেখা আছে, "কেন জানি তোমাকে আমার অসম্ভব রকমের ভালো লেগে গেছে। আমরা
কি কোন একদিন এক সাথে একটা সেলফি ছবি তুলতে পারি ।।
-- অরন্য আছে? ওকে একটু দেওয়া যাবে?"
- কে বলছো তুমি?"
-- আমি প্রিয়া"
- প্রিয়া, তুমি কি জান না ' গতরাতে ভাইয়া রোড অ্যাক্সিডেন্টে করেছে ।
-- ও এখন কোথায়
-- হাসপাতালে ।
![]() |
| Add caption |
Subscribe to:
Comments (Atom)






