Thursday, May 19, 2016

গল্প @ প্রেমের জন্য মরণ -----


এই মেয়ে দাড়াও তোমার সাথে আমার কথা আছে । আমার কথা না শুনলে আমি কিন্তু খুব মাইন্ড করবো । দাড়াও বলছি ।
না আমি দাঁড়াবো না। আর তোমার কথা শুনার ইচ্ছা আমার নেই । তুমি কি বলবে আমি জানি ?
আমি যা বলব তুমি জান ? তাহলে আমার কথার উত্তর চাই । আমি উত্তর নিয়েই যাব । তুমি ভাল করে জান আমি কেমন ছেলে । আমি কোন কিছু ভয় পাই না।
তুমি মানুষ হলে তো তোমার ভয় থাকবে । তুমি বলতে চাও আমি মানুষ না।
না তুমি মানুষ না। যদি আনুস হতে তাহলে রাস্তায় আমাকে পথ আগলে দাড়াতে না। কোন ভাল ছেলে কখনো কোন মেয়ের পথ আগলে দাড়ায় না।
ঠিক আছে এখন যাও আমি কিন্তু আমার উত্তর চাই । উত্তর পাবে না । কারন আমার প্রেম করার মত বয়স হই নাই । আর বয়স হলেও আমি কোন দিন তোমার মত লম্পটের সাথে প্রেম করব না। ঠিক আছে দেখিস আমি কিন্তু তোর সাথে প্রেম করেই ছারব শ্যামলী । আচ্ছা করিস । এখন রাস্তা ছাড় আমার যেতে হবে ।
প্রতিদিন শ্যামলী কে রাস্তায় আফজল কিছু না কিছু বলবে । শ্যামলী আর কম কিসের সেও কিছু না কিছু আফজাল কে বলবে ।
শ্যামলীর বাবা নাই । মা একজন স্কুল শিক্ষিকা । মা খুব ভয়ে ভয়ে থাকে আফজল কে।
আফজলের বাবা খুব টাকা ওয়ালা মানুষ । কিন্তু ছেলেটা মানুষ হয় নাই । এলাকায় মাস্তানি করে বেড়ায় । আজ কাল ফিটিং খায় । কিছু ছেলে তার পিছু পিছু ঘুরে । শ্যামলী কে তাই এলাকার ছোট ছেলেরা দূর থেকে ভাবী ডাকে । শ্যামলী কে যেহেতু আফজল পছন্দ করে তাই মহল্লার অন্য ছেলেরা ভুলেও শ্যামলীর দিকে তাকায় না।
শ্যামলী আজ কাল খুব চালাকি করে একেক সময় একেক দিক দিয়ে যায় । এবার একেক সময় একেক দিক দিয়ে বাসায় আসে । আফজল কোন ভাবেই কয়েকদিন যাবত শ্যামলী কে পাচ্ছে না। তাই তার বাহিনী কে বিভিন্ন জায়গায় শ্যামলীর গতিবিধি দেখার কাজ দিয়েছে । আফজল কয়েকটা জায়গায় আড্ডা দেয় । একজন এসে বলল শ্যামলী ভাবিকে আজ একটা পোলা রিক্সা করে নিয়ে এসেছে । পোলাটা অনেক সুন্দর । এই কথা শুনা মাত্র আফজল শ্যামলীদের বাসার সামনে গিয়ে অবস্তান নিল । দুপুর থেকে সন্ধ্যা । আফজল একটা টেনিস বল শ্যামলীর বাসার ভিতরে ঢিল দিয়ে ফেলল । সেই টেনিস বল আনতে বল্টু কে পাঠাইল । বল্টু শ্যামলীদের বাসায় গেল বল আনতে । শ্যামলী বল্টু কে বলল
-----কিরে বল খুজিস
----- জি ভাবী ?
----- আমি তোর কোন ভাই এর বউ । এই বলে বল্টুর কলারে ধরে ।
----- আপা ভুল হয়েছে । আপনেরে ভাবী না ডাকলে আফজল ভাই আমাকে সাইজ করব
------ তাই । আমি যে সাইজ করব এটা একবার ও তোর মনে হয় না।
------ আপা আপনি আমাকে কোন দিন মারবেন না। আমি জানি আপনি ভাল ।
----- এই ল বল । যা , আর আসিস না। আর যদি বল আসে তাহলে কিন্তু খবর আছে------- আপা আপনার বাসায় মেহমান কে ?
----- আমার ছোট মামা । পুলিশ অফিসার ।
----- আচ্ছা আপা আসি । গেইটের সামনে গিয়ে বল্টু বলল ভাবী বল দেয়ার জন্য
থ্যাংকস ।
বল্টু বলল বস চলেন ভাবীর মামা পুলিশ অফিসার । আমি সব খবর নিয়েছি । এর মধ্যে শ্যামলীর মামা বাসা থেকে বের হল । আফজল শ্যামলীর মামাকে ডাক দিল । এই যে মিঃ একটু শুনেন । শ্যামলীর মামা বলল হ্যাঁ বলেন ।
----- কে আপনি ?
----- আমি বলি আপনি কে ?
----- আমি আফজাল এই মহল্লার পোলা
---- আমি ডি ভি পুলিশ অফিসার । আমার নাম রাসেদ খান ।
---- আফজল বলল এই ডি কার্ড দেখি ?
---- শ্যামলীর মামা কোমর থেকে পিস্তল বের করে বলল এ দিকে এসো । কার্ড দেখাই ।
আফজল এক দৌড় দিয়ে দেয়াল টোপকে পালালো । সাথে সব । শ্যামলী ছাদ থেকে দেখে গেইট খুলে তার মামার কাছে আসে । মামা জানতে চায় কে এই ছেলে ? শ্যামলী বলে আরে মামা এরা এলাকার ছেলে , ভাবছে অন্য কেউ হয়ত , কিছু মনে নিও না । মামা তুমি যাও । শ্যামলী তার মামা কে আর কিছুই বলে না। শ্যামলী মা শ্যামলী কে বলে কি হইছে গেইটের সামনে ।
---- না মা কিছু না। মামার সাথে একটু কথা বললাম ।
----- আচ্ছা গেইটের ভিতরে আয় ।
শ্যামলী বাসার ভিতরে চলে যায় । রাতে শ্যামলীর মা বলে তো মামা কে বলা উচিৎ ছিল আফজাল যে তকে রোজ রাস্তায় জালায় । শ্যামলী একটু রাগ করে বলল মা তুমি না বেশি কথা বল । মামা কি সারা দিন আমাকে পাহারা দিবে । আর তুমি কি মনে কর আফজল আমাদের ছেড়ে দিবে । কি দরকার আফজল কে আমাদের ধমক দিয়ে । আমি কলেজ থেকে পাশ করলে বিশ্ব বিদ্যালয়ে চলে যাব । তখন আর আমাকে জালাবে না।
শ্যামলীর মা বলে ঠিক আছে মা কিন্তু সাবধান যারা থাকে তারাই ভাল থাকে ।
খুব সকালে মহল্লার হই চই শুনে শ্যামলীর ঘুম ভাঙে । কি হইছে জানতে চাইলে একজন
বলে নতুন বাড়ি করছিল যেই লোক তাঁকে নাকি আফজল গুলি করেছে । এখন পুলিশ আসছে এলাকায় । শ্যামলী জানতে পাড়ে একজনের কাছে যে আফজল নিজেই গুলি করেছে । সারা এলাকা পুলিশ সাংবাদিক এসে ভরে গেছে । আফজল কে পুলিশ পাই নাই । আজ আর শ্যামলীর কলেজে যাওয়া হল না। একবার আফজলের বাসায় গিয়ে দেখে আফজলের মা খুব কান্না করছে । কিছুটা সময় থেকে বাসায় চলে আসে । পরের দিন কলেজে যাবার সময় আর আফজল কে পায় না। অনেক বার শ্যামলী মনে মনে আফজল কে খুজে । তিন দিন পড়ে এক গলিতে আফজলের সাথে দেখা । শ্যামলীর জন্য মনে হয় অপেক্ষা করছিল । শ্যামলী কে দেখে বলল
----- মনে একটু শান্তি পেলাম ।
----- সবাইকে অশান্তিতে রেখে একা একা শান্তি পাওয়া খুব ভাল ।
----- বা ! আমার জন্য চিন্তা হয় ।
----- রাস্তার একটা কুকুর যদি প্রতিদিন এক জায়গায় দেখি । আর একদিন না দেখলে
তার জন্যও মায়া হয় ।
----- আমি কি তাহলে সেই কুকুর ।
----- কুকুর হলেও ভাল হত । একটা শিকল দিয়ে বেঁধে রাখতে পারতাম ।
----- বাহ ! কথাটায় মজা পাইলাম । মনে মনে নিজেকে মজনু মনে হচ্ছে ।
----- আমি যাই । কেউ দেখলে ভাববে আমি মনে হয় তোর প্রেমে পরছি ।
----- আমি আফজল ছাড়া তোর কপালে আর কেউ নাই ।
----- ভাল তো কপালে তাল গাছ লাগাও । নাতি পুতি খেতে পাড়বে ।
আফজল একা একা হেসে বলে তুই একমাত্র শ্যামলী আমার সাথে এভাবে কথা বলতে পারিস । খোদার কসম অন্য কোন মেয়ে হলে আমি কি জিনিস বুঝিয়ে দিতাম ।
শ্যামলী একটু হেসে বলে ঝামেলা শেষ কর । নিজের দিকে দেখ চেহারা কি অবস্তা ।
শ্যামলী বাসার দিকে চলে আসে । বল্টু আফজল কে বলে বস ভাবী কিন্তু আপনাকে পছন্দ করে । আফজল বলে পছন্দ না করে যাবে কোথায় ।
দিন দিন এলাকায় আফজল খুব ভয়ঙ্কর হয়ে যাচ্ছে । কেউ কেউ সব কিছুতেই আফজলের নাম করে অপরাধ করছে । আবার একটু খুন তাও আফজলের নাম।
গত এক বছরে পুলিশ তাঁকে ধরতে পারছে না। মাঝে মাঝে শ্যামলীর সাথে কথা হয় রাস্তায় । শ্যামলী মনে মনে আজকাল আফজল কে ভাবতে থাকে । আফজল আর যাই হউক তাঁকে কোন দিন বাজে কথা বলে নাই । আজ শ্যামলীর জন্ম দিন । একটা সুন্দর শাড়ি পরেছে । নিজের হাতে একটু পোলাও রান্না করেছে । শ্যামলী গেইট থেকে বের হয়ে দেখে তার গেইটে কেউ না কেউ পাহারা দেয় । তাদের একজন কে বলে এই তোর বস কোথায় ? একজন বলল ভাবী বসের কথা কি কোন দিন কাউকে বলা যায় ।
শ্যামলী বলল একটা থাপ্পড় দিয়ে দাঁত ফেলে দিব । আমাকে নিয়ে চল বলছি । শ্যামলী কে নিয়ে ঐ ছেলে এক বাসার ছাদে যায় । শ্যামলীকে দেখে আজ আফজল যেন আসমান থেকে পরেছে । শ্যামলী বলে এমন করে চাইতে হবে না । নাও মাস্তান এটা খেয়ে আমার
জীবন ধন্য কর । আফজল আজ পোলাও খেয়ে একটু কান্না করে দিল । শ্যামলী একি কান্না করছ কেন ?
----- শ্যামলী তুই যে কোন ছেলে কে বিয়ে কর আমাকে না।
----- কেন তকে না। আমি তকেই বিয়ে করব ?
----- না শ্যামলী ? আই এম সরি । আমাকে ক্ষমা কর । তোর সুন্দর জীবন আমি নষ্ট
করতে চাই না।আমি একটা নষ্ট ছেলে । দেখ ঐ ঘরে আমি একটা মেয়ে এনে রেখেছি ফুর্তি করার জন্য । শ্যামলী বলে আমি কাউকে দেখতে চাই না।
তুমি হাজিরা দিয়ে জাবিন নাও । তার পড় দেশের বাহিরে চলে যাও । আমি লিখা পড়া শেষ করি । পড়ে অন্য অন জেলায় চলে যাব । যেখানে তোমাকে আমাকে কেউ চিনবে না।শ্যামলীর মা মেয়ে কে খুব বুঝতে চেষ্টা করে । কিন্তু শ্যামলী বলে মা জীবন আমার
আর আমি আমার জীবনের ভাল মন্দ বুঝি ।
দিনে দিনে অপরাধ বেঁড়েই চলছে আফজলের । শ্যামলীর পরীক্ষা শেষ । কলেজ থেকে
বাসা পর্যন্ত শ্যামলীকে সবাই ভয় পায় । এমন কি রিক্সা ওয়ালা পর্যন্ত সালাম দেয় ।
সবাই মনে মনে বলে এত সুন্দর একটা মেয়ে কিনা সন্ত্রাসী একটা ছেলে কে ভালবাসে ।
পুলিশের খাতায় তার নাম শীর্ষ ১০ এ চলে আসে । সবাই আফজল কে এখন এক নামে চিনে । আর নাম বলার আগে ছোট বড় সবাই তাঁকে ভাই বলে ডাকে । স্থানীয় থানায়
আফজলের ইনফ্রমা আছে । কিছু কিছু পুলিশ আফজলের সাথে গোপনে যোগাযোগ রাখে।তাই তাঁকে কেউ ধরতে পাড়ে না।
শ্যামলীর মামার কাছে আফজলের কেইস ফাইলটা আসে । তার সিনিয়র অফিসার বলে
জীবিত বা মৃত এই কেইস টা শেষ কর । জীবিত ধরলে ও তাঁকে ক্রোস ফায়ার দিতে হবে । তোমাদের ব্ল্যাক কুব্রা টিপ এই কাজটা করতে হবে । এটা তোমাদের টিমের জন্য
একটা চ্যালেঞ্জ । শ্যামলীর মামা বেশ মিঃ জি এম গুলজার কিছুতেই মনে করতে পারছে না এর আগে আফজল কে কোথায় দেখেছে । বাসার ঠিকানা চোখে পড়তেই মনে পড়ে যায় শ্যামলীদের বাড়ির বাসার কথা ।
রাতেই শ্যামলীর বাসায় গুলজার আসে । শ্যামলী কে বলে মা শ্যামলী তোমার এলাকার
সেই মাস্তান ছেলের কি খবর । শ্যামলীর মা বলে ভাই আর বলিস না । শ্যামলী তো ঐ গুন্ডা ছাড়া আর কাউকে বিয়ে করবে না।
---------গুলজার বলে কেন ? আপা ছেলে কি খুব বেশি খারাপ ?
-------- হ্যা ,রোজ পুলিশ তাঁকে খুজে ?
-------- গুলজার শ্যামলীর মা কে বলে আরে আপা বাদ দাও । আজকালের ছেলেরা একটু এমন সাহসী না হলে চলে না। মা শ্যামলী আমার সাথে একদিন দেখা করাও ।
দেখি আমি ওকে একটা ভাল বুদ্ধি দিব ।
শ্যামলী তার মামা কথা বিশ্বাস করে । দেখা করে আফজলের সাথে । আফজল বলে শ্যামলী তুমি যখন বলছ তাহলে দেখা করব । শ্যামলী বলে আমি সাথে থাকব ।
গুলজার তার টিম কে প্রস্তুত রাখে । গুলশান একটা ফুডের দোকানে শ্যামলী আর আফজল আসে । আফজল একটা সাদা মাঞ্জাবি পড়ে আসে । শ্যামলী আফজলের হাত ধরে রাখে । আফজল মনে মনে চিন্তা করে আমি ভাল হয়ে যাব । শুধু শ্যামলীর জন্য ভাল হয়ে যাব । একটা পিজা খেতে খেতে শ্যামলীর মামা চলে আসে । ফাস্ট ফুডের দোকান চার দিক পুলিশ ঘিরে ফেলে । শ্যামলী কিছু বলার আগেই শ্যামলীর মামা বলে মা তুমি আমার গাড়িতে যেয়ে বস । আফজল কোমর থেকে পিস্তল বের করার আগেই
তাঁকে পুলিশ ধরে ফেলে । আফজল কে কালো কাপড় দিয়ে চোখ বেঁধে গাড়িতে তুলে ।
একটা গাড়ি শ্যামলী কে বাসায় পৌঁছে দেয় ।
গুলজার তার বস কে ফোন করে স্যার আফজল আমার গাড়িতে । এরেস্ট করা হয়েছে । বস বলে সুট । বনশ্রী শেষ মাথায় নিয়ে তাঁকে সুট করা হয় ।
রাতের ১০ টার খবরে শ্যামলী জানতে পাড়ে ক্রস ফায়ারে আফজল নিহত ।।
শ্যামলী একটা চিৎকার করে মামা বলে...........................।

Monday, May 16, 2016

অনু গল্প @ একটি চিঠি ও কানিজ নিগার ।


মেয়েটি অনেক সুন্দরী । আর মেয়ে মানুষ যদি একটু গায়ের রং ফর্সা হয় । নাকটা একটু
লম্বা হয় । চোখ গুলো একটু মায়াবী হয় । মাথার চুল যদি বনলতার হয় তাহলে যে কেউ এই মেয়ের প্রেমে পড়বে । এমনি এক মেয়ে নাম কানিজ নিগার । কানিজ নিগার মানে
সবাই এক নামে চিনে । তার বাবা আবার এলাকায় খুব নাম ডাক । তাই কানিজ নিগার
কে সহজে কেউ প্রেমের অফার দিতে পাড়ে না। এবার কানিজ এস এস সি দিবে তাঁকে দুই জন স্যার পড়ায় । তারা দুই জনেই মনে মনে পছন্দ করে ।
কানিজ নিগার এখন বুঝতে শিখেছে যে সে সুন্দর তাই তার মধ্যে আলাদা একটা ভাব চলে এসেছে । আজ কাল চোখে কাজল পড়ে । একটু ডান বাম তাকায় ।
কানিজ নিগারের বাসার সামনে আজ কাল ছেলেদের আড্ডা হয় ।। মাঝে মাঝে ছাদে উঠে বিকালে । কানিজ নিগারের মহল্লায় সব চেয়ে ভাল ছেলে সাকিল । সে কোন মেয়েদের দিকে তাকায় না। একটা কলেজে পড়ে । একেই মহল্লায় থাকে তবে সাকিল
তার মামার বাসায় থাকে । সাকিলের বাবা মা গ্রামে থাকে । সাকিল লিখা পড়ায় ভাল বলে মামা তাঁকে শহরে নিজের কাছে নিয়ে এসেছে । সাইন্সে পড়ে । ভাল ছাত্র । একেই এলাকায় সুমন নামের আর এক ছেলে আছে । সুমনের সাথে সাকিলের খুব ভাব । ভাল সম্পর্ক । কানিজের কোচিং এর সময় হলে সুমন তার পিছে পিছে যাবে ।
কানিজ দেখেও না দেখার ভান করে । আর যদি দেখা হয় কানিজ খুব মিষ্টি হেসে বলে সুমন ভাই ভাল আছেন । একেই মহল্লা তাই সবার সাথে সবার কথা কম বেশি হয় ।
সুমন বুঝতে পারলো কানিজ নিগারের বাসার স্যার তার জন্য সমস্যা । কিন্তু দুই স্যার কে কি করে কালার খাওয়াবে চিন্তায় পড়ে যায় । কানিজের প্রেমে পড়ে সুমনের লিখা পড়া খুব খারাপ হচ্ছে । কানিজের বাবা কে দেখে একদিন সুমন বলল - আঙ্কেল কেমন আছেন ।
-----ভাল সুমন । তুমি কেমন আছে ?
----- ভাল আছি কিন্তু একটা কথা আপনাকে না বললে চলে না ?
----- কি কথা সুমন ?
----- আপনি এবার অ্যান্টি কে বইলেন না ? তাহলে ঝগড়া লাগব ।
----- আচ্ছা বলব না। তুমি বল ?
------ আপনার বাসায় দুই জন স্যার আপনার মেয়ে কে পড়ায় কিন্ত একদিন আমি
হোটেলে চা খাচ্ছি দুই স্যারের পিছনে ছিলাম এমন এক কথা শুনেছি ।
----- কি কথা সুমন ?
----- দুই জন বাজি লাগছে যে আপনার মেয়ের সাথে ... আগে প্রেম করবে !!
-----তার পড় সুমন ?
----- না শুনে খুব খারাপ লাগলো । অ্যান্টি শুনলে তো দুই স্যার কে খুব ধুলাই দিবে
তাই আপনাকে বললাম । মাস্টার মানুষের রুচি এমন খারাপ । ছাত্রী নিয়ে কেউ
এমন বাজি ধরে । কানিজ কত ছোট মানুষ । সামনে কত সুন্দর ফিউচার ।
কানিজের বাবা বাসায় এসেই দুই স্যার কে বাদ দিয়ে দিল । নতুন একজন বয়স্ক ভাল স্যার রাখলো । দুই টিচার কিছু ই বুঝে উঠতে পারলো না।সুমন তো মহা খুশি । যাই হউক দারুন কাজ হয়েছে । সুমন কে এমন বুদ্ধি দিয়েছে সাকিল । তাই সাকিল কে
সে মিষ্টি খাওয়াতে নিয়ে গেল ।
সন্ধ্যায় সাকিল খুব পড়ায় ব্যস্ত । সামনে সে মেডিক্যাল বা বুয়েটে ভর্তি হবার জন্য খুব
প্রস্তুতি নিচ্ছে । সুমন সমাজ কল্যাণে অনার্স এ ভর্তি হয়েছে । কানিজের পরীক্ষা শেষ ।
সুমন কিছুইতেই কানিজ নিগার কে বলতে পারছে না তার মনের কথা ।
সাকিল কোন দিন কানিজ নিগার নিয়ে চিন্তা করে নাই ।
সুমনের খালাত বোন কে সুমন অনেক কষ্ট করে ম্যানেজ করেছে যে সে একটা চিঠি কানিজ কে দিতে চায় । যাই হউক । সাকিলের হাতের লিখা ভাল । তাই সুমন সাকিলের কাছে এসে বলল তাঁকে যেন ভাল করে একটা চিঠি লিখে দেয় ।
তখন বিচিত্রা পত্রিকায় প্রেমের চিঠি ছাপাতো । সাকিল সেই বিচিত্রা পত্রিকা আট নয়টা চিঠি দেখে একটা সুন্দর করে প্রেমের চিঠি লিখলো । সুমন তো চিঠি পড়ে মহা খুশি । এমন চিঠি যেই মেয়ে পড়বে তাঁকে প্রেমে পড়তে হবেই ।
সুমন সুন্দর একটা গোলাপি খামে তার জীবনের প্রথম প্রেমের চিঠি খালাত বোনের হাতে
কানিজ নিগারের কাছে পাঠাইলো । তখন সকাল ১১ টা বাজে ।
সাকিলের মন খুব ভাল এক সাথে মেডিক্যাল আর বুয়েটে চাঞ্জ পেয়েছে । আর মনটা একটু খারাপ কারন অনেক টাকা লাগবে । মামার পক্ষে এত টাকা দেয়া সম্ভব না ।
এমনেই মামী তাঁকে বেশি পছন্দ করে না। মামীর ধারনা গরীব মানুষের ছেলে এত লিখা পড়া করে কি হবে ? স্বামীর বোনের ছেলে ডাক্তার হ্ল্র তার কি ? স্বামীর তো টাকা নষ্ট । সাকিল খুব মন খারাপ করে বসে আছে । বিকাল পাঁচটা সুমনের মাকে কানিজ নিগারের বাবা ডেকে নিয়ে গেল সাথে সুমন । কানিজের নিগারের বাবা সুমন কে বলল তোমার কত সাহস আমার মেয়ে কে চিঠি লিখ । আর আপা আপনি তো আপনার ছেলে
কে একটু শাসন করতে পারেন । কানিজ বলল আপনার ছেলে নাকি রাস্তায় দেখা হলেই আমার মেয়ের সাথে ইচ্ছা করে কথা বলে, এটা তো ঠিক না।সুমনের মা খুব লজ্জা পেয়ে সুমনকে এক চর দিল । সুমন চর খেয়ে বলল এই চিঠি কি আমার লিখা নাকি ? আমি তো এই চিঠি দেই নাই ।
------ কানিজের বাবা তাহলে কে দিয়েছে ?
------ আমার বন্ধু সাকিল । হাজী সাহেবের ভাড়াটিয়া ।
------ ঠিক আছে দেখিছি ঐ ছেলের কত সাহস । কানিজের মা তুমি নুরু হাজী সাহেব
কে তার ভাড়াটিয়া ছেলে কে নিয়ে এখনি আসতে বল ?
সুমনের মা বলল আমি বলেছি আমার ছেলে এমন কাজ করতে পাড়ে না। বন্ধুর জন্য
এই কাজ করেছে । কানিজ পাশের ঘরে থেকে সব শুনছে আর হাসছে । সুমন কে সে এক চোখে দেখতে পাড়ে না। নুরু হাজী সাকিল আর তার মামা কে নিয়ে কানিজের বাসায় আসে । কানিজের বাবা তাদের বসতে দেয় । খুব রাগের চোখে সাকিলের দিকে তাকায় । হাজী সাব বলে কি ব্যাপার হটাত ডাকলেন কোন সমস্যা । কানিজ নিগারের
বাপ ছেলে বলে তুমি কি কর শুনি ?
সাকিল কিছু বলার আগেই সাকিলের মামা বলল ভাই জান । আমার বোনের ছেলে । আমার বাসায় থেকে পড়ে এবার সে মেডিক্যাল আর বুয়েটে চান্স পেয়েছে এখন যে কোন একটাতে পড়বে । গরীব ঘরের ছেলে কিন্তু ছাত্র হিসাবে সে খুবেই চমৎকার । ক্লাস ফাইফে , ক্লাস এইট বৃত্তি পেয়েছে । এস এস সি তেঁ ঢাকা বোর্ডে মেধা তালিকায় নাম আছে । আইচ এস সি তেঁ সে ফাস্ট হয়েছে । খুবেই ভাল ছেলে । কোন দিন কারো সাথে কন রকম বেয়াদবি করে নাই ।
কানিজ নিগারের বাবা তো ছেলের কোয়ালিটি শুনে খুবেই অবাক । এক মুহূর্তে কানিজ নিগারের বাপের মাথা থেকে রাগ নেমে গেল । ছেলে কে মাথা থেকে পা পর্যন্ত দেখল
এখন সে নিজে থেকেই বলল - হাজী সাহেব আপনি তো জানেন আমার একটি মাত্র মেয়ে। দেখতে আল্লার রহমতে আমার মায়ের মত হয়েছে । আজ থেকে আমি
সাকিলের সব দায়িত্ব নিলাম । তার সকল খরচ আমার । যদি বিদেশে যেতে চায় আমি পাঠাব । আমি তো এক কথার মানুষ আপনে জানেন । সাকিলের মামা বলল আপনি এই এলাকার সম্মানী ব্যাক্তি এটা আমারা সবাই জানি ।
কানিজ নিগারের বাবা বলল এই ছেলে আমি নিলাম আপনাদের কোন আপত্তি আছে । হাজী সাহেব আর সাকিলের মামা বলল এটা তো আমাদের জন্য সাকিলের জন্য আল্লার রহমত । কানিজের নিগারের মা কে ডেকে বলল আরে তুমি কোথায় গেলে যাও মিষ্টি নিয়ে এসো । সাকিলের ভর্তি কবে ।
সাকিলের মামা বলল আগামী কাল ।
---- আচ্ছা বাবা সাকিল এখন সব চিন্তা আমার ।
সবাই রাতে খেয়ে যাবেন । সাকিলের মামী কে ডেকে আনা হল । সাকিলের মামী বলতে
লাগলো আমি নিজের ছেলের মতো করে ওকে রেখেছি ।
সাকিলের সাথে কানিজ নিগারের বিয়ের তারিখ ঠিক হয়ে যায় ।
সাকিল কানিজ নিগারের বাপের গাড়িতে কানিজ নিগার কে নিয়ে কলেজে নামিয়ে সে তার মেডিক্যাল কলেজে যায় । কানিজ নিগার বলে আচ্ছা সাকিল আমি তোমাকে কোন দিন রাস্তায় তোমাকে দেখি নাই । কিন্তু তুমি আমার জন্য এত সুন্দর চিঠি কি করে লিখলে ? আমি তোমার চিঠি পড়ে প্রথমে ভুল বুঝে ছিলাম । ভাবছিলাম এটা শয়তান সুমনের চিঠি । সাকিল একটু হেসে বলে এমন কিছু শয়তান সুমন আছে বলেই আমার
মত সাকিল রা রাজ্য রাজ কন্যা এক সাথে পায় । কানিজ একটু হেসে বলে তোমার মধ্যে রাজ্য দখলের ক্ষমতা আছে বলেই তো রাজ্য কন্যা তোমার ।
সুমন মাঝে মাঝে এখন ওদের চেয়ে দেখে আর মনে মনে বলে কেন যে আমি সাকিলের নাম নিলাম । শ্যালা সাকিল আসলেই একটা জিনিয়াস । কানিজ নিগারের বাপ জিয়াস কি জিনিস ঠিকেই চিনে । একেই বলে ব্যবসায়ীর চোখ ।

Thursday, May 12, 2016

রহস্য গল্প @ বাঘের বাপ


ইমুর মামার বিয়ে । ছোট মামা বলে কথা তাই তার বিয়েতে যেতে হবে । ইমুর মা আজ মহা খুশি কারন তার ছোট ভাইয়ের বিয়ে । ইমু এ বছরেই কলেজে উঠেছে । 
তার সব কিছু তেই রহস্য । রাঙ্গামাটি থেকে তাদের কিশোর গঞ্জ আসতে হবে । 
রাতে বাসে সবাই রাঙ্গামাটি থেকে ঢাকা ইমুর বড় মামার বাসায় । ইমুর মামাত ভাই রনি আর বোন রিনা । রনি বড় সে ক্লাস এইট আর বোন ছোট সে ক্লাস নাইন । ইমুর
বড় মামার এক শ্যালক আছে নাম কাঞ্চন মামা সে খুবেই মজার মানুষ । কাঞ্চন মামা কে ইমু পাওয়ার পড় তার মনটা ভাল হয়ে গেল । সারা দিন অনেক গল্প সবাই মিলে আর কত কি কেনা কাঁটা । দারুন ব্যস্ত সময় সবাই পার করছে । 
রিনা এসে ইমু কে বলল আচ্ছা ভাইয়া তুমি কি ভুত বিশ্বাস কর ।
----- ইমু একটু হেসে বলল দেখ আগে বিশ্বাস করতাম । এখন আর করি না। 
------ আগে করতে ! এখন আর কর না কেন ?
------ আরে আমি সাইন্স নিয়ে পড়েছি তোদের মত কমার্স না বুঝলি ? 
------ ইস আমার পড়ার ইচ্ছা ছিল । কিন্তু বাবা বলে ব্যাংকার হতে ।। 
------ আমাদের ইচ্ছার কোন মুল্য নেই কোন দাম নেই ।
কাঞ্চন মামা এসে বলল ঠিক বলেছ ভাগিনা । কারন তোমার তোমার বাবার বাবা 
তা তোমার বাবা কে শিখাই নাই । তোমার দাদা যা ভাল মনে করেছে ছেলের জন্য তাই করেছে । এখন তোমার বাবা যা ভাল মনে করবে তাই তোমার করতে হবে । এই জন্যই
এ জাতির আজ এ অবস্তা । সবাই বলল ঠিক বলেছ মামা ।ইমু বলল আচ্ছা ছোট মামা তোমার ছোট সে তোমার আগে বিয়ে করছে কেন ? 
------ আরে তোমাদের ছোট মামা সে তার বাবার কথা মত বিয়ে করছে । আমি তো
আমার বাবার কথা কোন কালেই শুনি নাই। তাই বিয়ে করব আমি আমার ইচ্ছায় ।
তোমার ছোট মামার বিয়েতে খরচ হবে পাঁচ লাখ টাকা আর আমার বিয়েতে খরচ
হবে মাত্র পাঁচ হাজার টাকা । ইমু বলল মানে কি মামা মাত্র পাঁচ হজার টাকা ? 
আরে আমি যাকে পছন্দ করব তাঁকে নিয়ে নিয়ে কাজী অফিসে যাব । বাসায় মিষ্টি নিয়ে
চলে আসব । আমার বিয়ে মানুষ কেন খাবে । দরকার পরলে একদিন এতিম খানায়
সব এতিম অথাবা সব ফকির দাওয়াত করে খাওয়ে দিব । ইমু বলল চমৎকার মামা আমিও তোমার মতো হব । দেশের কত টাকা বাজবে । 
ইমুর আব্বু একটু রাগী মানুষ । বিয়ের সব কেনা কাঁটা শেষ করে একটা মাইক্রো নিয়ে
রাত নয়টায় ঢাকা থেকে রওনা দিল । নরসিংদী ইটা খোলা দিয়ে মঠ খোলার রাস্তা দিয়ে মাইক্রো যাচ্ছে । ঢাকার রাস্তায় অনেক ভীর থাকায় খুব রাত হয়ে গেল । 
তখন রাত একটা কি দেড়টা বাজে । কিশোর গঞ্জ শহর আরও ১৫ কিমিঃ দূর হবে । গ্রামের রাস্তা তবে পাকা । হটাৎ গাড়ি নষ্ট । স্টার্ট নিচ্চে না। খুব অন্ধকার চার দিক ।
ইমু আর কাঞ্চন মামা মিলে মোবাইল এ গেইম গেলছে । বড় মামা আর ইমুর আব্বু গাড়ি চালক খুব চেষ্টা করছে । কিন্তু আশপাশে কেউ নাই । আর কোন গাড়ি ও আসছে না। এমন সময় হাতে লাঠি ভর দিয়ে একটা বৃদ্ধা মানুষ কোথায় থেকে যেন আসছে । মাথায় একটা পাগড়ী বাঁধা । গাড়ির কাছে এসে বলল - বাবাজিরা কোন গ্রামে যাবেন ।
ইমুর বাবা বলল চাচা এত রাতে কোথায় থেকে আসলেন । আর কোথায় যাবেন ।
বৃদ্ধা বলল - রাতে ঘুম আসে না। তাই একা একা হাটি । এখন বয়স হয়েছে ।
আমি বৃদ্ধা মানুষ আমার কথা কে দাম দেয় । তাই রাতের বেলা হাটি ।
ইমুর বাবা বলল ধারে কাছে কোথাও গাড়ির ম্যাকানিক পাওয়া যাবে ।
বৃদ্ধা বলল কি হইছে গাড়ি ? 
চালক বলল আরে চাচা নষ্ট হয়েছে দেখছেন না। না হয় কি কেউ রাতের বেলায় 
গাড়ি থামায় । বৃদ্ধা বলল আমি বয়স্ক মানুষ এতো কিছু কি বুঝি । 
ইমুর মামা একটু বিরক্ত হয়ে বলল - আপনার নাম কি চাচা ।
বৃদ্ধা বলল আরে মিয়া আমার নাম শুনলে তো ভয় পাইবা । আমাকে সবাই বাঘের বাপ বলে ডাকে । 
------ ও আপনি বাঘের বাপ । আগে বলবেন তো । নাম শুনে আমার ভয় লাগছে ।
------ বৃদ্ধা বলল আরে মিয়া এই আশপাশ যদি জমি দেখ সব আমার । আমি ধান 
পাহারা দেই । কেউ যেন চুরি ডাকাতি না করে ।
------ ডাকাতের কথা শুনে ইমুর মামা আর বাবা সবাই একটু ভয় পেল । কাঞ্চন মামা 
গাড়ি থেকে নেমে বৃদ্ধা কে বলল চাচা বলুন যাওয়ার উপায় । আপনি সম্মানী মুরুব্বী মানুষ । আপনি আমাদের এই এলাকার আশা । 
----- বৃদ্ধা বলল আগেই ভাল করে বললে হত । এই মিয়া গাড়ির ড্রাইভার যাও গাড়ি টে
উঠ । চাবি লাগাও । ড্রাইভার চাবি লাগিয়ে স্টার্ট নিয়ে লিল । বৃদ্ধা লোকটা বলল 
পোলাপান আদব কায়দা নাই । বাঘের পাপের সামনে দিয়ে গাড়ি চালায়ে যায় । 
গাড়ি সবাই চুপ করে রইল । গাড়ি কিশোর গঞ্জ শহরে আসলো । শহর একদম নীরব । শহর থেকে ইমুদের গ্রামের বাড়ি আরও ১০ কিমি দূর । তখন গাড়ি যাচ্ছে আরও প্রায়
তিন কিলোমিটার বাকি ঠিক এমন সময় ইমুর বড় মামা বলল বুইরা বেটা কি ধমক দিল দেখলেন এই কথা বলার সাথে সাথে গাড়ি বন্ধ । ড্রাইভার বলল সাব কেন লোকটাকে ছোট করে দেখছেন । রাইত বিরাইতের ব্যাপার । এখন মানুষ পাব কোথায় । ইমুর মামা গাড়ি থেকে নেমে বলল - ঐ লোকটা ছিল কুফা । নাম নেওয়া মাত্র গাড়ি 
বন্ধ । ইমু বলল মামা আপনি একটা মানুষ কে না জেনে কুফা বলছেন এখন কিন্তু সত্যি
সত্যি কুফা লাগলো । ইমুর মামা সিগারেট ধরালো । চালক খুব চেষ্টা করে বলল স্যার মেকানিক ছাড়া সম্ভব না। কাঞ্চন বলল দুলা ভাই জায়গা তা তো ভাল না । এই খানে ডাকাতি হয় । কিছুই করার নাই । 
প্রায় এক ঘণ্টা হয়ে গেল । ইমুর মামা খুব চেষ্টা করছে মোবাইল করে । কিন্তু সবার মোবাইল বন্ধ । কাজেই নয়া বাজার । সেই খানে আলি মিস্ত্রি থাকে কিন্তু তার মোবাইল ও বন্ধ । ইমুর বাবা বলল ভাইজান লাঠি ভর করে কে জানি আসছে । 
আরে সেই বাঘের বাপ । ইমুর মামা একদম চুপ । একটু একটু ভয় ও পাচ্ছে । 
সেই বৃদ্ধা বলল - কি হইছে একবার না ঠিক করে দিলাম । ইমুর মামা বলল বাবা ভুল হয়েছে । বাচ্চা গুলো নিয়ে কষ্ট করছি । 
বৃদ্ধা বলল বাঘের বাপের নাম আদবের সহিত নিতে হয় । এখন তো গাড়ি ঠিক হবে না। ইমু বলল দাদা ভাই আপনি কি হেঁটে হেঁটে এত পথ আসলেন ।
----- আরে নাতি রাতের বেলা যাচ্ছ রাস্তায় চোর ডাকাত যদি কেউ ধরে তাহলে
তাই দেখতে আসলাম । 
----- দাদা আমাদের বাড়ি সামনের বাজারের পড়েই । 
----- আচ্ছা দেখি এই আখ খেতে আমার দুই নাতি পাহারা দেয় তাদের পাই কিনা ? 
ইমুর বড় মামাকে বলল গাড়ি ধক্কা দিয়ে বাজার পর্যন্ত দিলেই হবে তো । 
ইমুর বড় মামা বলল জি চাচা হবে । বৃদ্ধা বলল আচ্ছা দাড়াও নাতি গো ডাকি 
এই বলে ডাকতে শুরু করল । ওরে মলাই মঙ্গল এই দিকে আয় । এমন সময় আখ খেত থেকে দুই জন বের হয়ে আসলো । বাঘের বাপের সামনে এসে চুপ করে দাঁড়ালো 
বাঘের বাপ বলল নাতি গাড়ি টা ধাক্কা দিয়ে বাজারের পোল পর্যন্ত নিয়ে যাও । বাঘের
বাপ ইমুর মামাকে বলল বাবা গাড়ির ভিতরে যাও । দুই জন মিলে গাড়ি ধাক্কা দিতে লাগলো । কিছু দূর যাইতেই গাড়ি চালু হয়ে গেল । ইমুর মামা কিছু টাকা দিতে চাইলে তারা নিল না। গাড়ি বাজারের ভিতরে আসতেই আবার নষ্ট । কোন মানুষ নাই । 
সারা বাজার চুপ চাপ , এমন কি কুকুর পর্যন্ত নাই । এমন সময় এক নাইট গার্ড রমজান মিয়া এসে বলল কোন বাড়িতে যাবেন । 
ইমুর মামা বলল ঐ যে সামনের তালুকদার বাড়িতে । রমজান মিয়া বলল তাহলে গাড়ি থাক চলুন এগিয়ে দিয়ে আসে । গাড়ি রেখে সবাই নামলো । রমজান মিয়া বাড়ির সামনা
পর্যন্ত হেঁটে এগিয়ে দিয়ে আসলো । 
ইমুর মামা রমজান কে বলল ভাই ভিতরে আসুন । রমজান বলল আরে বাজার
খালি তো , মলাই আর মঙ্গল চোর আমাকে চ্যালেজ দিছে এই বাজারে চুরি করবে
কিন্তু আমিও চ্যালেঞ্জ গ্রহন করেছি । আপনারা জান সকালে কথা হবে , বিশ্রাম করুন গিয়ে ।
সকাল বেলা তো সবাই অবাক কারন রমজান নাইট গার্ড আজ থেকে ১০ বছর আগে
এই বাজারে নাইট গার্ড হিসাবে ছিল । কে বা কারা তাঁকে মেরে ১০ বছর আগে সব দোকানে চুরি করে নিয়ে যায় । অনেক দিন পড়ে মলাই আর মঙ্গল চোর সেই খুনের
জন্য পুলিশে কাছে ধরা খায় তাদের ফাঁসি হয় । মলাই আর মঙ্গল খুব শক্তি শালী মানুষ 
ছিল তারা চোরি ডাকাতি করত । 
ইমু এই সব শুনে খুব ভয় পাইল , বাঘের বাপ কে কেউ চিনতে পারলো না। তবে 
৭০ থেকে ৮০ বছর আগে এক সাহসী কৃসক ছিল বাঘের বাপ । সে রাতে বেলা হেঁটে হেঁটে জমি পাহারা দিত । কেউ রাতে কোন বিপদে পরলে তাঁকে বাড়ি পর্যন্ত হেঁটে পৌঁছে দিত । এই কথা এক বয়স্ক মানুষ বলেছে । এর পড় থেকে ইমুর মামা আর সন্ধ্যার পড়
ঘর থেকে বের হয় না......।

Sunday, May 8, 2016

একটি ছায়র গল্প


আপনি অফিসে যেয়ে শুনলেন যে আপনারা চাকুরী নাই । আর হিসাহের গড়মিল জনিত কারনে আপনার নামে মামলা হয়েছে । কিন্তু আপনি জানেন এই সবের কিছুই আপনি করেন নাই । বাসায় এসে দেখলেন আপনার স্ত্রী আপনাকে ডিভোর্স পেপার দিয়েছে ।
কারন অফিস থেকে জেনেছে আপনি চুরি করেছেন আর সেই জনিত কারনে চাকুরী চলে গেছে । আর আপনাকে আগামী এক মাসের মধ্যে অফিসে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা জামা দিতে হবে না হয় জেল হয়ে যাবে । যেহেতু আপনি অনেক কষ্ট করে ঢাকায় একটা ফ্ল্যাট কিনিছেন তাউ তা আপনার স্ত্রীর নামে । স্ত্রী দেখল এটা বেচা ছাড়া টাকা দেয়া সম্ভব না। তাই সে আগেই সিদান্ত নিল আপনাকে তালাক দেয়ার । বাসার দারোয়ান আপানকে আর বাসায় প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। আপনার দরকারি জিনিস পত্র সব একটা ব্যাগে দারোয়ান আপনাকে দিয়ে দিল । তাই নিয়ে এক বন্ধুর বাসায় যাচ্ছেন । এমন সময় একটা দুর্ঘটনা ঘটলো ।
আপনি ঢাকা মেডিক্যাল পুলিশের গাড়ি এনে ভর্তি করালো । আপনার আপন জন রা শুনল কিন্তু কেউ খবর নিতে আসলো না। সময় গড়িয়ে একমাস । আপনার টাকার অভাবে ঢাকা মেডিক্যালর বারান্দায় আর আবার পুলিশ এসে আপনাকে নিয়ে গেল জেলে । আপনার অবস্থা চরম অবনতি হয়েছে । মামলা চালাবার টাকা নেই । তিন মাস হয়ে গেল আপনি জেলে । কেউ আসে নাই আপনাকে দেখতে ।
এর মধ্যে খবর পেলেন আপনার স্ত্রী অন্য একজন কে বিয়ে করছে । আপনি সব আশা ভরসা আর বিশ্বাস শেষ । এর মধ্যে জেলে আপনার জামিনের কাগজ এসেছে । আপনি
খুব অবাক হলেন কে আমার জাবিন কারলো । জেল গেইট থেকে বের হয়ে দেখলেন
যাকে আপনি সব চেয়ে অবহেলা করেছেন । যার কথা সব সময় ভুল মনে হত । যার সাথে রাগ করে আপনি তাঁকে না জানিয়ে বিয়ে করে সুখী হতে চেয়েছিলেন । যাকে
প্রায় বলতেন আমি লিখা পড়া শিখেছি , আমি আমার ভাল মন্দ খুব বুঝি আপনি আমাকে নিয়ে চিন্তা করার কোন দরকার নেই ।
সেই অবহেলিত ব্রৃদ্ধা পিতা আপনার জন্য দাঁড়িয়ে জেল গেইটে । আপনাকে বুকে
জরিয়ে বলছে বাবা কোন চিন্তা করিস না। আমি বেঁচে আছি । আমি জানি আমার ছেলে
নিরপরাধ । আপনাকে পরম মমতায় জরিয়ে ধরল শক্ত করে ।
তখন আপনার কেমন লাগবে । যার বাবা বেঁচে আছে তার ছায়া বেঁচে আছে !!!

Wednesday, March 23, 2016

ছোট গল্প @ নায়িকা দেখা


@@@@@@@@@@@@
সাভার মনো মিয়ার বাড়িতে তখন সিনেমার শুটিং হয় । সিনেমা মানেই ব্যাপক বিনোদন । সাভার বংশী নদীর পারে মনো মিয়ার বাড়ি , এখনো সবাই চেনে ।
সাভার বাজারের মিষ্টি খুবেই ভাল এর দাম কম । ১৯৮৪ সাল । তখন ঘরে ঘরে আজকের মত টেলিভিশন নাই । মাসে একটা সিনেমা দেখাত বাংলাদেশ টেলিভিশন ।
রোজার মাসে কোন সিনেমা বা ছবির গান প্রচার হত না। যে দিন বাংলা সিনেমা হবে
সেই দিন তো, যার বাসায় টেলিভিশন আছে তার বাসায় ঈদ বলা চলে ।
তখন ওয়াসিম এর অলিভিয়া র সিনামে মানেই সুপার হিট ।
সাভার থানায় তখন বদলি হয়ে আসে আজিজ নামে এক পুলিশ । সাভার থানার সামনে একটা বিশাল পুকুর । আজিজ মিয়া মাঝে মাঝে পুকুরে চুরি করে মাচ্ছ ধরে । পুকুরে একদম কর্নারে তখন একটা বিশাল গাছ ছিল সেখানে হাজার হাজার কলা বাদুর পাখি থাকত । আজিজ মিয়া সেই গাছের আড়ালেই বড়শী ফেলে রাতে মাছ ধরত । থানার ওসি সাহেব তাকে খুব পছন্দ করত । কারন সে ও সি সাহেবের যে কোন গোপন কাজ গোপনে ই করে দিত ।
আজিজ মিয়ার বউ একদিন না কোন কিছু না বলেই থানায় আসে । আজিজ মিয়া বুঝতে পারে শাশুড়ির সাথে মানে আজিজ মিয়ার মায়ের সাথে কোন কিছু নিয়া নিয়া ঝগড়া হয়েছে । আজিজ মিয়ার বউ আবার আজিজ মিয়ার মামাত বোন । ফুফু ভাইজি এক জাত তাই ঝগড়াটা একটু বেশি ।
আজিজ মিয়ার বউ কে আজিজ মিয়া অনেক ভালবাসে । কারন তাকে বিয়ে করতে তার বাবার কতবার যে পা ধরতে হয়েছে এক মাত্র আল্লাহ্‌ ছাড়া কেউ জানে না। আজিজ মিয়ার বউয়ের নাম রোজিনা । আজিজ মিয়া সখ করে রোজি ডাকে ।
থানার পাশের একটা বাসা নিয়ে নিল । ওসি সাব সব ব্যবস্তা করল । থানা থেকে দুইটা চোকি পর্যন্ত ওসি সাব দিয়েছে । বাসার সামনেই নদী আশ পাশ বেশি হিন্দু বাড়ি
আজিজ মিয়া পুলিশের চাকুরী করে ব্যবহার খুব ভাল তার রোজিনা খুব খুব ভাল অল্প দিনে আশ পাশের সবার সাথে একটা ভাল সম্পর্ক হয়েছে ।।
একদিন আজিজ পুলিশের বউ জানতে পারল সাভারে নাকি সিনেমার শুটিং হয় ।
যেই শুনল আর তার ঘুম নেই । কি করে সে তার স্বামী কে বলে সে সিনেমার শুটিং
দেখবে । কোন ভাবেই সাহস করতে পারছে না। এই দিকে খুব গরম । রাতে হাট পাখা দিয়ে জামাইকে বাতাস করতে করতে একবার বলল এই । এই খানে কোথাই নাকি
নায়ক নায়িকা রা সিনেমা করতে আসে । আজিজ মিয়া বলল এখন অনেক রাত ঘুমাও
সকালে ডিউটি আছে । রোজি আর সাহস পেল না কিছু বলার ।
বিকালে আজিজ মিয়া একটা মিল্লাত ফ্যান কিনে বাসায় আসে । গ্রামের মেয়ে রোজি
ফ্যানের বাতাসে মনের মত ঘুমায় । এখন আর হাত পাখা লাগে না। কিন্তু সে
শুটিং দেখার কথা মন থেকে ভুলতে পারছে না। নায়িকারা কি সুন্দর । তার মনে
খুব সখ কাজ থেকে সে নায়ক নায়িকা দেখবে । রোজি তার মাকে আর ভাইকে
চিঠি লিখে সে খুব ভাল আছে । আজিজ একটা নতুন ফ্যান কিনেছে । অনেক মজার বাতাস । তার বাসায় বিজলী বাতি আছে। প্রতিদিন মিষ্টি খেতে পারে । এক সের মিষ্টির দাম কুড়ি টাকা । আর এই খানে খুব কাছেই সিনেমার শুটিং হয় । তবে তারে এখনো নেই নাই ।
রোজির খুব জ্বর । সকাল থেকে কিছুই খায় নায় । আজিজ মিয়া সাভার বাজারে
সাহা বাবুর ফার্মেসি থেকে জব্রের দাওয়াই এনেছে । কিন্তু জ্বর ভাল হচ্ছে না।
ডাক্তার বলল অধিক চিন্তা থেকে এই অসুক । আজিজ মিয়া চিন্তা ই পরে গেল
রোজি কি এমন চিন্তা । রোজির মা ও ভাই চলে আসছে ।
জ্বর তো কমার নাম নাই । আজিজ মিয়া রোজির মাথায় হাট দিয়ে বলে এবার জ্বর কমলে তোমাকে মনো মিয়ার বাড়িতে শুটিং দেখাতে নিয়া যামু ।
রোজি চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে বলে তুমি মিছা কথা বলছ না তো । আমি কিন্তু রোজ স্বপ্নে দেখি আমি নায়ক নায়িকা । রোজির ভাই রতন বলল দুলা ভাই আমাকে ও নিতে হবে । তিন দিনের মধ্যে জ্বর চলে যায় ।
আজিজ মিয়া ওসি সাহেব কে বলে স্যার আমার বউ শুটিং দেখতে চায় ।
ওসি বলল ঠিক আছে আগামী পরশ আবার শুটিং আছে । থানায় পুলিশ চাইছে ।
তুমি বউ নিয়ে যাইও । আমি ঐ বাড়ির ম্যানেজার কে বলে দিব ।
আজিজ পুলিশ তার বউ কে বিকালে বাসায় এসে বলে কাল তারা মনো মিয়ার বাড়িতে
সিনেমার শুটিং দেখতে যাবে । এই কথা শুনার পর রোজির আর রাতে ঘুম নাই । সারা রাত চিন্তা করছে সে নায়িকা দেখবে । নায়িকা মানেই স্বপ্নের মানুষ তারা ।
খুব সকালে উঠে সবার জন্য নাস্তা বানিয়ে নিজে নিজেই যাওয়ার জন্য রেডি হয়ে গেল ।ছোট ভাই কে সে রেডি করে নিল । আজিজ মিয়া বলল তুমি চিন্তা কর না। আমি রিক্সা পাঠাইয়া দিমু তুমি আর রতন চলে এসো । রোজি এখন রিক্সার জন্য অপেক্ষা করছে তার ভাই কে নিয়ে । অনেক রোদ আর গরম । রিক্সা চলে আসে তাদের নিতে
। রোজি রিক্সায় চরে রিক্সা চালক কে বলে আপনি চিনেন মনো মিয়ার বাড়ি ।
রিক্সা ওয়ালা বলে কি যে কন আপা এই সাভারে সবাই মনো মিয়ার বাড়ি চিনে ।
রিক্সা ওয়ালা একটা গান গায় , মনো মিয়া বাড়িতে বিয়ার বাজনা বাজে ।
রোজি কে নিয়ে রিক্সা চলে আসে মনো মিয়ার বাড়িতে ।
মানুষ আর মানুষ । আজিজ পুলিশ তার বউ কে নিয়ে গাছ তলায় দারা করায় ।
চার দিক মানুষ আর মানুষ । রোজি বোকার মত ছেয়ে আছে । এমন সময় একটা
শুটিং শুরু হল । একজন বলল ক্যামেরা একস্যান । রোজি তার স্বামী কে বলে
ঐ ব্যাটা তো বদমাইশ তারে এত লোক বাসাত করে কেন । আজিজ বলে এটা এ টি এম সামসুজামান । রোজি বলে দেখ টেলি ব্যাটা । আজিজ বলে টেলি সামাদ ।
রোজি আজিজ কে বলে বার বার খালি অ্যাকশান অ্যাকশান বলে কেন ।
আজিজ বলে আমি কি পরিচালক যে বলব । চার দিক মানুষ আর মানুষ । মনু মিয়ার
বাড়ির ভিতরে শুটিং হবে তাই রোজি কে নিয়ে আজিজ মিয়া বাড়ির ভিতরে যায় ।
শুটিং চলছে । রোজি বলে বার বার খালি অ্যাকশান অ্যাকশান বলে কেন ।
গরমে প্রায় খারাপ অবস্তা । বাড়ির ভিতরে গিয়ে দেখে চিত্র নায়িকা ববিতা আর নতুন আর আনোয়ারা । রোজি খুব অবাক হয় । জিবনে এত কাছে থেকে কোন দিন দেখবে ভাবতে পারে না। আজিজ মিয়া কে দেখে সাভার বাজারের এক ক্যামেরা ম্যান
বলল । ভাই ভাবির সাথে একটা ছবি তুলে দেই । রোজি এই কথা শুনে মহা খুশি । ক্যামেরা ম্যান ববিতা আর নতুন পিছনে দারাইয়া একটা ছবি । ববিতার সাথে একটা
ছবি । এমন করে প্রায় পাচ টা ছবি তুলে ।
রোজি ববিতা কে বলে আপা আমি কি আপনাকে একটু ছুঁয়ে দেখতে পাড়ি । ববিতা
একটু হেসে তাকে জরিয়ে ধরে বলে ভাই আমি তোমার মত একজন মেয়ে মানুষ ।
রোজি জিবনে চিন্তাও করে নাই যে ববিতা তাকে জরিয়ে ধরবে ।
রোজি তো মহা খুশি । শুটিং দেখা শেষ করে বাসায় আসে । আজ সে মহা খুশি । নিজের চোখে সে ববিতা কে দেখেছে তাকে জরিয়ে ধরল । ছবি তুলল ।
পরের দিন রোজি তার হাতে সেই ছবি গুলি পায় । ছবি দেখে সে খুবেই অবাক । সে তার বাড়িতে সবার কাছে চিঠি লিখে সাথে একটা করে ছবি দেয় । আজিজ মিয়া দুই দিন পড় পড় স্টুডিও তে ছবি ধুলাই করে আনতে যায় । আজিজ মিয়া বউ কয়দিন পরে গ্রামে যায় । সেই সময় গ্রামের সবাই তার কাছে জানতে চায় নায়িকা কেমন দেখল । রোজি সবাই কে রাতে আসতে বলে । গ্রামের প্রায় তখন সকল বয়সের
মেয়েরা চলে আসে রোজির বাড়িতে । রোজি সেই ছবি গুলো নিয়ে , হারিকেন জ্বেলে
চাঁদের আলোর নিচে সবাই কে নিয়ে শুরু করে নায়িকা দেখার গল্প........................।

Tuesday, February 23, 2016

এক নয়নের গল্প

সকাল থেকে আকাশটা মেঘ মেঘ । আর যে গরম একটু বৃষ্টি হলে ভাল হত । রিক্সা টা সাইড করে টং দোকান থেকে এক কাপ চা একটা নুনতা বিস্কুট আর এক গ্লাস পানি খেয়ে নিল । শরীরের ঘামটা মুছে একটা খেপের জন্য অপেক্ষা করছে । পড়নে লঙ্গি খালি গা একটা গামছা শরীরে ঝুলানো । এর মধ্য একজন ডাক দেয় এই খালি মহা খালি যাবে । মালিবাগ থেকে মহা খালি ভাড়া টা চুকিয়ে যাত্রী তুলল । কিছু দূর যেতেই যাত্রী ভদ্র লোক বলল ড্রাইভার তোমাকে চেনা চেনা লাগছে । তোমার নাম কি ?
---৫৫ বছরের চালক বলল আমার নাম রমিজ ।
--- ৩০ বছরের যুবক বলল । তোমার নাম রমিজ ।
--- হা স্যার আমার নাম রমিজ ।
--- তোমার বাড়ি
--- আমার বাড়ি কিশোর গঞ্জ জেলার করিম গঞ্জ থানার খুদি জঙ্গল বাড়ি ।
কেন স্যার ? আপনার বাড়ি কোথায় ।
--- আপনার এলাকায় ।
--- স্যার রিক্সা চালকে খুব কম মানুষ আপনে করে বলে । আগে তুমি
বলছেন আর এখন আপনি করে বলছেন !
---- আমি মহা খালি যাব না । আপনি আমাকে খিলগাঁও নিয়ে যান ।
ভাড়া যা চান দিব । একটু ভুল করে চলে আসছি । আপনার ছেলে মেয়ে
সংসার নাই ।
--- না স্যার । কিছুই নাই । এখন
--- কেন বিয়ে শাদী করেন নাই ।
---- স্যার এই বিষয় নিয়ে কোন কথা বলব না ।
--- কেন
--- মানুষের জিবনে অনেক ঘটনা আছে । কিছু বলা যায় কিছু বলা যায় না।
---- ঢাকা কোথায় থাকেন ।
---- মিরহাজারি বাগ ।
--- কে কে আছে ।
---- আমি আর আমার বুড়া মা ।
---- ভাল । তাহলে বলবেন না ।
---- না স্যার । বলব না ।
---- আমাকে কি চেনা যায় ।
---- ঘার ফিরিয়ে দেখল আর একবার না স্যার চিনতে পারলাম না।
---- ভাল করে দেখেছেন ।
--- জি স্যার । দেখেছি । কিন্তু চিনতে পারি নাই । আপনার বাড়ী কি
আমাদের জেলায় ।
--- হ্যা । আপনাদের জেলায় । তা বাড়িতে যান না কত বছর ।
---- এই তো তেইশ বছর হল ।
--- কারো কথা মনে পড়ে না ।
--- আমার খবর কেউ নেয় না । আমি কার খবর নিব । স্যার আপনি কে ?
কি করেন ? মনে হয় সরকারি চাকুরি করেন ।
--- হে আপনি ঠিক বলেছেন । আমি ইঞ্জিনিয়ার । রিক্সা চালানোর আগে
কি করতেন ।
-----রিক্সা চালাবার আগে জুট মিলে চাকুরি করতাম পলাশ থানায় ।
----- তার পর ।
----- তার পর আর বলতে চাই না । আপনি খারাপ মনে করবেন ।
----- না মনে করব না বলুন ।
----- চাকুরি করা অবস্তায় এক স্যারের কথায় জুট মিলের কিছু পাট ট্রাকে তুলে দেই । পড়ে পুলিশ চুরির অভিযোগ আমাকে এরেস্ট করে । যে স্যারের কথায় কাজ করলাম সেই স্যার আমাকে পুলিশে দেয় । ৫ বছর জেল খেটে বের হই ।
গ্রামে যেয়ে আর স্ত্রী পুত্র কে পাই না ।  শ্বশুর বাড়ি যাই তারাও বলে জানে না। জুট মিল এলাকায় যাই । তাদের আর পাই না । পরে চলে যাই চিটাগাং । সেই খানে ১২ বছর থাকি । পরে ছোট ভাই ঢাকা নিয়ে আসে । এখন সে বিয়ে
করে আলাদা আর আমি মা কে নিয়ে আলাদা থাকি ।
---- আপনি ছেলে কে আর পান নাই্ন?
---- না আর পাই নাই । অনেক বার তার মামাদের সাথে যোগাযোগ করেছি । বিচার বসাইছি কিন্তু তারা আসে নাই সেই বিচারে  । তারা আরও বলে আমার নামে মামলা করবে আমি নাকি ওদের বোন কে মেরে ফেলেছি । স্যার কাউকে বলতে চাই না । মানুষ হিসাবে
আমি খুব খারাপ । মিথ্যা মামলা জেল খাটা মানুষ  কিন্তু মানুষ মনে করে আমি চোর  । সব মিলাইয়া আজও খুব কষ্ট পাই ।
স্যার আমার বউ কিন্তু  অনেক সুন্দর ছিল । আমি বিয়া করেছিলাম নান্দাইল ।
এটা ।
--- আপনার ছেলের নাম কি ছিল ?
--- আমার ছেলেটা তার মায়ের রঙ পাইছিল নাম রাখছিলাম নয়ন । নয়ন
ছিল স্যার নয়নের মত সুন্দর  । মেইল গেইটে ছুটির সময় আমার জন্য চলে আসত আমার ছেলে । কুলে করে তাকে বাসায় নিয়ে যেতাম । আমার ছেলে নাবিস্কু চকলেট খুব পছন্দ করত ।
রিক্সার যুবক বলল- আপনার জীবন টা যেই লোক নষ্ট করল তাকে কি আপনি এখন চিনবেন ?
---- স্যার কেয়ামত পর্যন্ত চিনব । তবে ঐ লোক টাকে আমি ভুলব না কোন দিন  ।
---- আপনি  তাকে পেলে  কি করবেন ?
---- আমি কি আর করব ?  গরীব মানুষ । তবে একটা চর দেয়ার ইচ্ছা  আছে ।
স্যার আমি আমার জীবনের কথা কাউকে বলি না। আজ ও বলতে চাই নাই ।  কিন্তু কথার ফাকে চলে আসছে ।
কথায় কথায় রিক্সা চলে এসেছে খিলগাঁ । গরমে শরীর দিয়ে ঘাম বেয়ে পড়ছে রমিজের  ।
রিক্সায় বসা ছেলেটা রিক্সা থেকে নেমে রমিজ মিয়ার দিকে ফেল ফেল করে তাকিয়ে আছে   আর চোখের পানি রাখতে পারছে না । রমিজ মিয়া বলে স্যার আপনার চোখে পানি কেন ?  যুবক রমিজ মিয়া কে জরিয়ে ধরে বলে আমি
আপনার ছেলে নয়ন । রমিজ মিয়া বলে স্যার আমার সাথে মিছা কথা বলে কেন আমাকে কষ্ট দিচ্ছেন । নয়ন রমিজ মিয়া কে বলে আমার সাথে বাসার  ভিতরে একটু  আসুন । আপনার সব প্রশ্নের উত্তর মিলে যাবে । নয়ন চোখের মুছতে মুছতে  দারোয়ান কে ডেকে বলল এই রিক্সা টা খেয়াল রাখো । রমিজ মিয়া কে  সাথে বিশাল একটা দালানে উঠে নয়ন। লিফট থেকে নেমে একটা ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে সাথে রমিজ মিয়া  । রিক্সা চালক রমিজ মিয়া অবাক হয়ে  দেখে তার বউ সীমা । সে নিজের চোখে বিশ্বাস করতে পারছে না । ছেলে বলে এখন তো বিশ্বাস হল যে আমি আপনার ছেলে নয়ন । নয়ন তার মাকে বলে ।।
মা আমাকে কোন চোরে জন্ম দেয় নাই । আমি কোন চোরের ছেলে না । রমিজ মিয়া কে পাশের ঘরে নিয়ে যায় । রমিজ মিয়া  দেখে বিছানায় একটা প্যারালাইস মানুষ শুয়ে আছে । রমিজ মিয়া বলে বাবা মরা মানুষ কে কি আর বলব ।  তবে এই মানুষটা যাই করুক তোমাকে মানুষের মত মানুষ করেছে । আল্লাহ তাকে মাপ করুক । রমিজ মিয়া বুঝতে পারল সব কিছুই ।
নয়ন তার মাকে বলল - মা তোমাকে দেখার মত তোমার আরও দুই ছেলে আছে । রমিজ মিয়া এখন ঠিক বুঝে গেছে এই ম্যানেজার তার বউ কে পাওয়ার জন্য  মিথ্যা চুরির  মামলা   করে ছিল  । রমিজ মিয়া  ফ্ল্যাট বাসা থেকে বের হয় । শেষ বারের মত আর একবার তার বউ কে দেখে বলে দোয়া করি ভাল থাক রাজ রানি হয়েছ  । নয়ন তার বাবার সাথে নীচে নামে । রমিয়াজ মিয়া তার ছেলে কে বলে বাবা আমার জন্য তোমার মা কে ভুল বুঝ না। মানুষের জীবন কখন কি হয় আল্লাহ্‌য় জানে । নীচে নেমে দেখে খুব বৃষ্টি হচ্ছে । রমিজ মিয়া রিক্সা বের করে  । ছেলে এসে বলে বাবা তুমি রিক্সায় বস আমি তোমাকে চালিয়া নিয়ে যাই । ছেলে কে বুকে জড়িয়ে বলে তুমিই আমার বাবা এই রিক্সাওলা বাপরে যে তুমি নিজের বুকে নিয়েছ । আল্লাহ যে তোমার মুখটা আবার দেখাইছে এতেই আল্লাহর কাছে আমি সুখি । আমার মা  তার নাতি কে দেখলে একটা চিৎকার দিয়ে বলবে আমার নয়ন ভাই ।   ছেলে কে জোর করে রিক্সায় বসায়ে বলে নয়ন হুড তুলে দেও বাবা তোমার ঠাণ্ডা লাগবে । নয়ন বাবার রিক্সায় বসে  । তার বাবা তাকে বার বার পিছন ফিরে দেখে আর  বৃষ্টির জল আর  রমিজ মিয়র  চোখে জল  নতুন করে একটা  ভালবাসার বন্যা হয়ে হাসে । নয়ন বলে বাবা আমি কোয়াটার পেয়েছি তুমি আমি আর দাদি এক সাথে থাকব ।নয়নের বাপ বলে বাপজান তুমি যা বলবে তাই হবে...........................।।

Saturday, February 13, 2016

গল্প @ একটি বই ও প্রেমের চিঠি ।


হিমেল একটা বেসরকারি বিশ্ব বিদ্যালয়ে পড়ে । ময়মনসিংহ শহরে ভাটি কাঁসার এলাকায় তার বাড়ি । বাবার একমাত্র পুত্র । খুব আদরের । ছাত্র হিসাবে খুব ভাল ।
কিন্তু তার মাতৃ ভাষা সে সহজে বদলাতে পারে নাই । বিশেষ করে সে কথা বললে বুঝা যায় তার বাড়ি ময়মনসিংহে । বন্ধুরা তাঁকে খুব পছন্দ করে তার সরলতার জন্য । মাঝে মাঝে সম বয়সী বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে চলে আসে ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ে । বাংলায় পড়ে রেনু । খুবেই চমৎকার একা মেয়ে বাড়ি জামাল পুর ।
বিশ্ব বিদ্যাল্যের হলে থাকে । হিমেলর সাথে অন্য সবার মত স্বাভাবিক পরিচয় ।
রেনু একদিন হিমেল কে ফোন করে । হিমেল কিছুটা অবাক হয় । কারন রেনু তাঁকে
ফোন করার কথা না। হিমেল হ্যালো বলতেই রেনু বলে তুমি হিমেল । আমি রেনু বলছি । আজ আমাদের একটা কবিতার আসর হবে । তুমি চলে আসবে । আর মনে করে পাঙ্গাবি পড়ে আসবে । হিমেল কিছুটা খুশি হয় । কিন্তু মাঞ্জাবি কোথায় পাবে । কারন সে তা পড়ে না। যাই হউক রেনুর মত মেয়ে বলেছে । রেনুর চোখের ভাষা একদম অন্য রকম । সেই পুরাতন যুগের মেয়েদের মত তার চোখে র একটা আর্ট আছে । হিমেল কি রঙের পাঞ্জাবী কিনবে তাই নিয়ে চিন্তায় পড়ে গেছে । তবে হিমেল কিন্তু রেনুর প্রেমে পড়ে নাই । সে বন্ধুদের প্রেম দেখে হতাস । বন্ধুরা প্রেম করে
সকালে বিকালে ভাগ করে । আর মেয়েরা প্রেম করে প্রাইভেট টিচারের মত ঘণ্টা দেখে । আসলেই যুগ মানুষকে কতটা বেহায়া বানায় আজ কালের তরুণ তরুণীদের দেখলে
বুঝা যায় । হিমেল এবার ফোন করে রেনু কে বলল- রেনু কোন পছন্দ আছে মানে কি
রং এর কিবন । রেনু হাসতে হাসতে বলে হিমেল একটু বদলাও । তুমি যে কি না। একটা পাঞ্জাবী কিনার জন্য আমাকে ফোন করেছ রং বলে দিতে তা কিন্তু ঠিক আছে আবার কিন্তু কোন দিন বল না যে গার্ল ফ্রেন্ড পছন্দ করে দিতে । শুন হিমেল একটা
ফিরোজা কালার কিনবে আর আসার সময় সাহাবাগ থেকে ১১ টা গোলাপ কিনবে । টাকা লাগলে বল আমি বিকাশ করব ।
হিমেল মনে মনে বলে মেয়েটা একটু মাথা নষ্ট আছে । আচ্ছা যাই হউক । দেখি ওদের কবিতা উৎসব ।
কবিরা সব তাদের কবিতা পড়ছে । রেনু দেখছে হিমেলের কোন খবর নাই । ফোন করছে রিং হচ্ছে কিন্তু হিমেল রিসিভ করছে না। রেনু মনে মনে বলে সব শয়তানের মধ্য একটা ফেরেশতা ছিল । গ্রিন রোড থেকে নাকি এত সময় লাগে । সবাই গোল করে ঘাসের মধ্যে বসে আছে । মিথিলা তুই আমার দুঃখ হবি কবিতা
খুব সুন্দর করে আবৃতি করছে । হিমেল এসেই হাতে তালি দিল । রেনু বাসার জায়গা করে দিল । হিমেল তাদের সাথে অল্প সময়ে ই খুব ভাব হয়ে যায় । বিশেষ করে মিথিলা । শমসের । নাগরি । আর পথিক সুজনের সাথে । শুদ্ধ করে কথা শেখার কাজ নেয় মিথিলা । অল্প দিনেই একটু একটু কবি আর শুদ্ধ করে কথা বলা শিখছে হিমেল । চলা বলা আর পোশাকেও আসছে একটা পরিবর্তন । পথিক সুজন তো রীতিমত অবাক হিমেল এত সুন্দর করে কথা বলছে যে তাঁকে আর বুঝা যায় না যে সে মিঃ ময়মনসিংহের ।
এখন মিথিলা সাথে তার খুব ভাব । আজিজ মার্কেট আর ধানমণ্ডি তাদের প্রায় দেখা যায় । রেনু একদিন জানতে চায় হিমেলের কাছে মিথিলার সাথে তার ভাবের কারন কি ?
--- হিমেল বলে সে তোমার মত বন্ধু
--- আর কিছু না ?
--- হা আর কিছু । জানতে চাও ।
--- হা ।
--- আমার সকাল দুপুর বিকেল হিমেল হাওয়া । না বলা কথা । ঐ নীল আকাশ
--- রেনু হিমেলের চোখে দিকে চেয়ে কিছু না বলে হলে চলে যায় ।
হিমেল ওর চলে যাওয়া দেখে । হিমেল কাউকে ভালবাসতে চায় না। কিন্তু রেনুকে সে খুব পছন্দ করে । রেনু এভাবে তাঁকে বলবে চিন্তা করে নাই । রেনু অন্য দশটা মেয়ের মত না। কিন্তু কেন আজ এমন প্রস্ন করলো ।
মিথিলা কে কিছুই বলে না। মিথিলা লালমাটিয়া মহিলা কলেজে পড়ে । বিকেলে রাপা প্লাজার সামনে দাড়িয়ে রিক্সার অপেক্ষা করছে । রেনু কে দেখে ডাক দেয় । রেনু একটা মিষ্টি হাসি দেয় ।
-- কেমন আছিস মিথিলা
-- ভাল রে রেনু । আজ কাল আসিস না কেন । তুই অ নাই আর হিমেল অ নাই ।
একটা খবর জানিস কি
-- কি খবর মিথিলা ।
--- আজকাল হিমেল আমার ফোন ধরে না ।
---- রেনু বলে কেন ফোন ধরবে না। মনে হয় কোন কাজে ব্যস্থ ।
--- হিমেল এর বি বি এ মনে শেষ রেনু ।
--- আমি জানি না ।
--- কি বলিস রেনু । জানিস তকে খুব মিস করে । চল উপরে যাই । কফি খাওয়া যাবে
--- মিথিলা আমি চা খাব । একটু সামনে রিজভি তে চা খেতে খুব মজা ।
-- চল যাওয়া যাক । তা আজ কাল শাড়ি পড়িস ।
-- আর বলিস না আমার কাজিন গিফট করল । ইটালি থাকে । আমাকে খুব
পছন্দ করে ।
-- ভাল রেনু । আমার এক কাজিন অ্যামেরিকায় থাকে । বেটা অনেক বড় বড় কথা
বলে । এস এস সি পাস । এমন ভাব ধরে মনে হবে । সব জান্তা শমসের ।
-- কি মিথলা চা কেমন ।
-- চমৎকার । শুনলাম পথিক নাকি বই বের করছে ।
-- হা । বইটির মাঝে নাকি আমাদের সুখ দুঃখ লুকিয়ে ।
--মিথিলা আমি এখন আসি ।
-- আচ্ছা যা । কিন্তু হিমেলের সাথে দিখা হলে বলিস । মিথিলার দাম কিন্তু কম না।আষাঢ় মাস অনেক বৃষ্টি । মিথিলা বারান্দায় দাড়িয়ে গান শুনছে । অনেক দিন যাবত একটা চাপা দুঃখ তার মধ্য । মায়া লাগে হিমেলের জন্য । কেন হিমেল তাঁকে
বুঝতে চাইল না। ভালবাসি কথাটা হিমেল কে বলতে ও পারলাম না।
রেনু ভুল বুঝল খুব গোপনে । তাই সে মিথিলার সাথে আর যোগাযোগ করে না।
পথিক সুজন সবার সাথে কম বেশি কথা বলে । কিন্তু সব চেয়ে অবাক হয় কেন জানি
হিমেলর সাথে কোন যোগাযোগ নেই ।
হিমেল ভালই আছে । এখন সে খুব বেশ আছে । সবার সাথেই মিশে । কিন্তু মিথিলা আর রেনুর বন্ধু মহলে না। উত্তরা একটা ভার্সিটিতে এম বি এ করছে ।
চাকুরি করার কোন ইচ্ছা নেই । ব্যবসা করবে । মাঝে মাঝে সময় পেলে ময়মনসিংহ
শহরে চলে আসে । উত্তরা থেকে মাত্র দু ঘণ্টা লাগে ।
খুব সুন্দর তার কথা বলার ধরন । কৃষি বিশ্ব বিদ্যালয়ের নদীর পারে বসে একা একা
একটি কবিতা আবৃতি করছে । হ্মপুত্র নদী আর দুরের ভাসমান চর । নদী পারাপার বসে দেখছে । খুব দূর থেকে ব্রহ্মপুত্র নদীর উপর ব্রিজ দিয়ে ট্রেন যাচ্ছে । হিমেল তার ফোন নাম্বারটা পরিবর্তন করেছে । কিন্তু নাম্বার গুলো সবার সেভ করা আছে । ফোনটা বাজতে লাগলো । পথিক সুজন ফোন করেছে ।
হ্যালো হিমেল তোমার জন্য একটা বই পাঠালাম । পড়ে দেখ । তোমার নাম্বার পেলাম
রেনুর কাছ থেকে । সে অনেক কষ্ট করে উত্তরা থেকে তোমার নাম্বার যোগার করেছে । ভাল মন্দ কথা শেষ করে বলল - তোমার মোবাইল নাম্বার দেয়া আছে সুন্দর বন কুরিয়ারে । মনে করে নিয়ে নিও ।
তিন দিন পরে বই টা কুরিয়ার থেকে নেয় । বই টা বাসায় এনে রেখে দেয় সেলফে ।
বাবার ব্যবসা আর একটা মাছের খামার নিয়ে সময় ভালই কাটে হিমেলের । মাঝে মাঝে হিমেলের বাবা আর হিমেল মিলে রাজনীতি নিয়ে বেশ জমে । হিমেলের বাবার
সাথে একটা বিষয় নিয়ে হিমেলের খুব বিরোধ চলছে । বাবার খুব ইচ্ছা হিমেল তার বোনের মেয়ে কে বিয়ে করুক । মেয়েটা ডাক্তারি পড়ছে । অনেক বুদ্ধিমতী একটা মেয়ে । নাম সেফা । সেফা ময়মনসিংহ মেডিক্যাল এ পড়ে । সেফালি কে ছোট করে
সেফা ডাকে । হিমেল তার ফুফু কে একদম সহ্য করে না। কারন তার ফুফুর জন্য তার মা তাঁকে ছোট বেলায় রেখে চলে যায় । হিমেল জানে না তার মা কোথায় আছে ।
আসলেই মন থেকে সে তার মায়ের কাছে যেতে চায় না। কারন তার মা তাঁকে নিয়ে যায় নাই । বড় হবার পড় জেনেছে মায়ের বিয়ে হয়েছে । কিন্তুবিদেশ থাকে । আরব দেশে স্বামীর সাথে । একদিন গিয়েছিল মামা রা কেউ আর গ্রামে থাকে না। গ্রামের মানুষ জানে না। কে কোথায় । হিমেলের বাবা আর ফুফু জানে কিন্তু বাবার কাছে
কোন দিন মায়ের ঠিকানা চাইতে পারে নাই । ফুফু তাঁকে ঠিকানা দেয় না। ফুফুর কাছে জানতে পেরেছে মায়ের বিয়ে হয়ে গেছে । হিমেল তার মায়ের কথা বেশি মনে নেই । মায়ের কোন ছবি ও তার কাছে নেই ।
শরতের আকাশ । ব্রহ্মপুত্র নদীর পলি মাটিতে কাশ ফুলে ছেয়ে গেছে । হিমেলের বাবা
বই পড়তে খুব পছন্দ করে । বই কেনা বই পড়া তার খুব ভাল লাগে । সেফা বাসায়
এসেছে । সাথে সেফার মা । দুই ভাই বোন আলাপে ব্যস্ত ।
হিমেল বসে টি ভি দেখছে । তাদের সাথে কবিতা আসরের একটি মেয়ে অভিনয় করছে । বাস্তবে মেয়েটা তেমন সুন্দর না হলেও অভিনয় দারুন । কবিতা আর কথা বলার ধরন ছিল অন্য রকম । সেফা ঘরে এসে বলল-
--- বা তুমি নাটক দেখ ।
--- এ দেখি না শুনিও ।
-- যাই হউক তুমি হলে একটা নিরামিষ মানুষ । তোমাকে দিয়ে কিছু হবে না।
-- হবে জানিস । তবে তোর মাকে বলতে পারিস না ।
-- মা কে বলে কি হবে । তোমার বাবার যে ই টাকা ।
--- তোমার মা সেফা এত টাকা টাকা করে । জিবনে টাকায় কি সব।
--- জানি না । আমাদের একটা ফয়সালায় আসা দরকার ।
--- আমি সেফা তোমাকে পছন্দ করি না। তোমার মা । আমার ফুফুর মেয়ে তুমি
এর বাহিরে কিছুই না । এই যে নাটক দেখছ । এই মেয়েটা একটা কথা বলেছিল
আপন থেকে পড় ভাল । তোমার মা জানে আমার মা কোথায় । তোমার মাকে
বললে বলে আরব দেশে থাকে । তোমার মা একটা মিথ্যা বাদী ।
--- আমি কি তোমার এই উপকার করতে পারি ।
--- আগে কর ।
--- অনেক দিন আগে একটা মহিলা আমাদের বাসায় এসেছিল । অনেক সুন্দর ।
আম্মুকে একটা ফোন নাম্বার দিয়েছিল । বাসায় খুজে দেখি পাই কিনা । ঐ মহিলা
আমার হিমেল আমার হিমেল বলছিল ।
--- তাই !
-- হ্যা যদি পাই তাহলে দিব ।
হিমেল কে ডেকে তার বাবা বলল - আমার সিদান্ত আমি বদলাব না। হিমেল কিছু না বলে চলে আসে তার এক বন্ধুর বাসায় । দুলাল হিমেল কে বলে । জিবনে একটা প্রেম করলি না। ঢাকা ছেরে চলে আসলি । আবার তুই তোর বাবা কে না করতে পারছিস না। জিবনে কি কিছুই মুখ খুলে বলতে পারবি না।
হিমেল একটু হেসে বলে তোর মত হলে পারতাম । বাবা তো আমাকে সব কিছু চাইবার আগেই দিয়ে দিত । আর কেন জানি বাবা আমাকে খুব বিশ্বাস করে।
আর তুই বলছিস মুখ খুলে বলার জন্য । আমার তো রাগ দেখাবার কেউ নাই ।
দুলাল যার মা নেই তার কিছুই নেই । মা থাকলে আজ বলতে পারতাম । বাবা কে কি করে বলি ।
--- হিমেল তুই কি কাউকে পছন্দ করিস ।
--- শুন যাকে পছন্দ করতাম । সে কিছু না শুনেই অন্য একজন জরিয়ে সন্দেহ করতে শুরু করে । তাই আর তাঁকে ভাল লাগার কথা বলি নাই ।।
--- কাজটা কি ভাল করেছিস । মানুষ মাত্র ভুল হতে পারে । তোমার উচিৎ ছিল
বিষয় টা পরিষ্কার করা । একমাত্র মেয়েরা ছেলেদের চাইতে আগে ম্যাচিউরিটি আসে
মেয়েদের । আর তুই তো মেয়েদের কাজ থেকে ১৪ মাইল দূর । এক সময়
আমরা তকে হাফ লেডিস বলতাম । টা মেয়েটা কোথাকার ।
--- জামাল পুর ।
--- তাহলে তো কাছে ই । চল কাল যাই ।
--- আমি চিনি না । সুধু জানি মেলান্দ ।। আর কিছু না।
--- মোবাইল নাম্বার ।
--- আছে কিন্তু বন্ধ ।
--- কি করে জানিস বন্ধ ।
--- একটা সিম থেকে আগে মাঝ রাতে ফোন দিতাম । ও হ্যালো হ্যালো বলে । একসময়
বলত । তুমি কি হিমেল । আমি কোন কথা না বলে ফোন বন্ধ করে রাখতাম ।
একদিন দেখি ফোন বাজে না। পড়ে অনেক নাম্বার থেকে ফোন দেই । কিন্তু
বন্ধ ।
--- আর কোন উপায় ।
--- থাক । আর কোন উপায় নাই । আর আমি বাবার মনে কষ্ট দিতে চাই না। কারণ বাবা আমার দিকে তাকিয়ে আর কখনও বিয়ে করে নাই। দুলাল বল্ল-আসলেই তুই অনেক মহৎ বাবার দিকে চেয়ে ভাল লাগার ভাল মানুষটা কে আর খুজলি না। তবে কেন জানি মনে হয় হিমেল তুই এক সময় খুব সুখী হবি। হিমেলের ফোনটা বাজছে তাকিয়ে দেখে সেফার ফোন তাই হিমেল ফোনটা কেটে দেয়। সেফার মোবাইল থেকে হিমেলের মোবাইলে একটা ম্যসেজ আসে । হিমেল ম্যাসেজ টা পরে দেখে একটা নাম্বার আর কিছু লেখা নেই। হিমেল সেফা কে ফোন সে আর রিসিভ করে না। সেফার পাঠানো নাম্বারে হিমেল ফোন করতেই একজন ভদ্র মহিলা রিসিভ করে বলে -
-- হ্যালো কে বলছেন কাকে চান।
--- কণ্ঠ শুনে হিমেলের শরীরের লোম কুপ গুলো কাটা দিয়ে উঠে ।
-- ঐ প্রান্ত থেকে আবার হ্যালো ।
-- হিমেল বলে হ্যালো । এই নাম্বার কি রত্না নামে কেউ আছে ।
-- হ্যা বলছি । কে আপনি ।
--- হিমেলের চোখ দিয়ে পানি পড়ছে । এই প্রথম সে তার মায়ের কণ্ঠ শুনছে । কান্না ভরা কণ্ঠে বলল- আমি হিমেল ময়মনসিংহ থেকে । হিমেল নামে কাউকে চিনেন ।
-- ফোন টা যেন নিরব হয়ে যায় । বলে তুমি কে ।
--- আমি হিমেল ।
--- আমার ছেলে হিমেল । সত্যি তুমি বাবা হিমেল । আমি তোমার মা রত্না । ফোনে
মা আর ছেলে মিলে নিরবে কাদতে থাকে । হিমেল জেনে যায় । তার ফুফু তাঁকে মিথ্যা
বলেছে । রাতেই মায়ের সাথে দেখা করার জন্য হিমেল বাসে উঠে ঢাকার । তার মা তার মামাদের সাথে সাভার রাজাসন থাকে ।
হিমেল রাতে বাসায় না আসায় হিমেলের বাবা খুব চিন্তায় পড়ে যায় । হিমেল তো কোন দিন না বলে কোথাও যায়না । খুব চিন্তায় পড়ে যায় ।
হিমেল আজ সত্যি তার মাকে খুজে খুব খুশি । হিমেলের মা এই সাভারে একটা স্কুলে চাকুরি করে । হিমেল জানতে পারে সব কিছুর মুলে তার ফুফু । হিমেল ফোন বন্ধ করে
রাখে । হিমেলের বাবা সব জায়গায় ছেলে কে খুজে । গত ৭ দিন কোথাও তাঁকে পাওয়া যাচ্ছে না। হিমেল মাঝে মাঝে রাতের বেলায় কিছু লিখত । ঠিক ডাইরি বলা চলে না। তাই তার বাবা বুক সেলফে সেই ডাইরি খুজতে লাগলো । এক সময় চোখ
গেল একটা বুক সেলফে একটা প্যাকেট । প্যাকেট খুলে দেখে বই । বই উলটাতে একটা
চিঠি পড়ে । খুব পাতলা কাগজে লিখা তবে অনেক কয়টা পাতা ।
চিঠিতে লিখা - প্রিয় হিমেল । অভিমানি ছেলে । আমার ভুলের জন্য ক্ষমা কর । আসলে পথিক সুজনের নামে আমিই বইটা পাঠালাম । মিথিলা সাথে তোমার কোন সম্পর্ক নাই যখন জানলাম তখন তুমি আমার কাছ থেকে দূরে । অনেক কষ্ট করে
তোমার নাম্বার পেলাম । আমি তোমার উতরের অপেক্ষা করছি । একবার তো বলতে
পারতে যে তুমি আমাকে পছন্দ কর । ভাল বাস । আর তুমি এত কম কথা বলতে
যা আমার খুব ভাল লাগত । আমাকে ফোন কর । এটা আমার নাম্বার । হিমেল আমি জানিনা কেন তুমি এত চুপ চাপ । আসলে আমার জিবনে দেখা সব চেয় আমার ভাল লাগা ছেলে তুমি । দেখ তুমি তোমার ব্যাপারে কিছুই বল নেই । আমি তাই তোমার জন্য অপেক্ষা করব । জানি না এ অপেক্ষার শেষ কোথায় । তবে কেন জানি মনে হয়
তোমার বুকে একটা পাথর চাপা কষ্ট আছে । তোমার সেই কষ্ট আমি বুঝার আগেই আমি তোমাকে ভুল বুঝলাম ।
---
হিমেল কে কোথাও না পেয়ে হিমেলের বাবা ভেবে নেয় । তাহলে আমার ছেলে তার আমার উপর অভিমান করেছে । হিমেলের বাবা কাচির ঝুলি দুলালের সাথে দেখা করে। কিন্তু দুলাল হিমেল কোথায় আছে বলে না। সেফা তার মাকে বলে দেয় যে সে হিমেলের কথা । শেষ পর্যন্ত হিমেলের বাবা বিষয় টা বুঝতে পারে । মসজিদের ইমাম হিমেলের বাবা কে বলে ছেলে যদি মায়ের কাছে যেয়ে থাকে তবে ভালই করেছে । আপনার এখন বয়স হয়েছে । ছেলের দিকে তাকিয়ে । আগামি জীবন সুন্দর করুন। হিমেল এ যুগের ছেলে তার পরও তার মাঝে মানসিক শক্তি অনেক বেশি । আপনার
মুখের উপর কোন কথা বলে না। একটা ছেলে এম বি এ করা । কি সুন্দর সে তার বাবার আদেশ মেনে চলে ।
হিমেল নিয়ে সাভার বাজারে অন্ধ মার্কেটের সামনে দাড়িয়ে রিক্সার অপেক্ষা করছে ।
রিক্সা না পেয়ে ম্যান সড়কে আসতেই হিমেলের বাবা একটা মাইক্রো থেকে নামে । হিমেলের মাস দূর থেকে স্বামীর পুত্র হারা মুখটা চোখের সামনে ভেসে উঠে । হিমেল কে বলে তোমার
বাবা মনে হয় তোমাকে খুজতে আসছে । যাও ডাক দাও । হিমেল তার বাবা কে ডাক দিতেই হিমেল কে দেখে । কাছে আসতেই অবাক হয়ে তার স্ত্রীর দিকে দেখছে ছেলের হাত ধরে দাড়িয়ে । কেউ কিছু বলছে না। হিমেল বলে
---আব্বু তুমি কি আমাকে খুজতে এখানে এসেছ ।
--- না । তোমাকে না। বাবা পকেট থেকে চিঠিটা বের করে দেয় ।
--- হিমেল চিঠি নিয়ে বলে পড়ে পড়ছি । বল তুমি কাকে নিতে আসছ ।
--- আমি তোমার মা কে নিতে আসছি ।
--- তাহলে আমাকে না।
--- তুমি তো এখন তোমার মায়ের ছেলে । তাই তোমার মাকে নিলে ছেলেটা ফ্রি পাব
--- আম্মু যদি না যায় ।
--- তাহলে চিঠি টা পড় । মেয়েটার সাথে আমার কথা হয়েছে । সে তোমার জন্য
অনেক অপেক্ষা করছে । আগামি সপ্তাহে ওর বিয়ে । আমি তোমার মাকে ছারা
ঐ পরিবার ঐ মেয়ে কে আনতে পারব না। যার বাবার বউ থাকে না । তার
ছেলের কাছে ভাল মানুষের মেয়ে দেয় না। রত্না ছেলের কাছ থেকে নিয়ে চিঠিটা পড়ে । হিমেল আর চিঠি পড়তে পারে না। হিমেল জানে না। কার চিঠি ।
রত্না বলে বাবা হাতে তো সময় নেই । কবে ঐ মেয়ের কাবিন ।
--- হিমেলের বাবা বলে । আগামি কালকে তারা তারিখ ফেলবে । আগামি সপ্তাহে যে কোন দিন বিয়ে । হিমেল বলল- আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। তোমার কার বিয়ে
নিয়ে । কথা বলছ । মা তোমার চোখের পানি মুছে ফেল । আব্বু কিন্ত কান্না দেখলে খুব রাগ করে ।
রত্না বলে স্বামীর দিকে চেয়ে বলে । তোমার মত করবে ছেলের জীবন না কি গাড়িতে উঠবে । হিমেল বলে মামাদের না বলে আমারা কার বিয়ে কোথায় যাচ্ছি ।
হিমেলের মা বলে হিমেলের বাবা কে ও ছেলে কিছুই জানে না। হিমেলের বাবা বলে
মায়ের ছেলে তো একদম তোমার মত কিছুই বলবে না। প্রতিবাদ করবে না। নীরবে
সরে যাবে । ঠিক তোমার মত ।
-- আমার ছেলে আমার মত হয়েছে । এটাই আমার সফলতা । এত কাল রেখেও
ছেলে কে তোমার মত বানাতে পাড়লে না। এটা আমি মা হিসাবে আনন্দিত ।
হিমেল বলল আচ্ছা মা আমরা কোথায় যাচ্ছি ।
-- গেলেই বুঝবে । রত্না বলল তাও তো নাম্বার টা । রত্না নাম্বার টা নিয়ে ফোন
করল - হ্যালো
-- আমি হিমেলের মা । তুমি কে ।
--- আমি রেনু ।
--- ও ভাল আছ মা। তোমার মাকে একটু দাও । আমরা রাস্তায় । তোমার মাকে বল
বল । আমরা আসছি । সাথে আমার ছেলে আর ছেলের বাবা । রেনু ফোন টা দেয়
রেনুর মা কে ।
-- আপা সালাম নিবেন । আমি হিমেলের মা । আপনার মেয়ে তো বলেছে ।
--- হ্যা ।আপা । কিন্তু
--- আপা কোন কিন্তু নাই । আমার একমাত্র ছেলে । আপাদের মেয়ের রানির মত
থাকবে । শুধু শ্বশুর একটু রাগী । ভাল চা বানাতে পারলেই হবে । বাকি কথা
এসেই বলছি ।
হিমেল বলে মা, তুমি কি ফুফুর সাথে কথা বললে
--- আমি রত্না তোমার ফুফুর ঐ নাক বুচা মেয়ে কে আমার ছেলের বউ করব না।
ডাক্তার হউক আর যাই হউক । তোমার ফুফু একটা লোভী মেয়ে । তোমার বাবা
হয়ত দেখ ঐ মেয়ের পড়ার সব খরচ দিচ্ছে ।
--- হিমেলের বাবা বলল - দেখ তোমার ছেলে তুমি যা ভাল মনে কর ।
হিমেল বলল তবে যাচ্ছি কোথায় । হিমেলের বাবা বলে এখন রাত না চোখ আছে
রাস্তার সাইন বোর্ড দেখ ।
হিমেল রাস্তার সাইন বোর্ড দেখতে দেখতে জামাল পুর । তার পড় মেলান্দ ।
একজন কে জিজ্ঞাসা করল । বেপারী বাড়ি কোনটা ।
একটা বড় পুকুরে সামনে এসে গাড়ি থামল । বাড়ির লোক জন তাদের কে নিয়ে
বসতে দিল । হিমেল কিছু বুঝে উঠার আগে একটা ঘুমটা দিয়ে মেয়ে তাদের বসার ঘরে মেয়ের ভাবি নিয়ে আসলো । হিমেল সামনে একটা চেয়ারে বসল । হিমেলের মা মাথার ঘুমটা সরালো । বা অপূর্ব আমার ছেলের পছন । হিমেল মায়ের জন্য মুখ দেখতে পারছে না । হিমেলের বাবা বলে রত্না একটা সরে দাড়ও । হিমেল চেয়ে দেখে
তার প্রথম ভাল লাগার সেই রেনু । হিমেলের চোখ দিয়ে পানি ঝড়তে থাকে । রেনুও কাদতে থাকে । রত্না হিমেল কে বলে কি মেয়ে পছন্দ হয়েছে ।
--- মা কি করে খুজে পেলে ।
--- ছেলের হাতে মা চিঠি টা দেয় ।

Wednesday, February 10, 2016

গল্প @ আবেদ আলির বিয়ে ।।




আবেদ আলি বয়স ৪২ এর কাছাকাছি । অনেক চেষ্টা করে পরিবারের লোক জন তাঁকে বিয়ে দিতে পারছে না। তাঁর নাকি বিয়ে করতে লজ্জা লাগে । পরিবারের সবাই
তাঁকে অনেক চেষ্টা করে বিয়ে করাতে পারছে না। এই ছোট দুই ভাই তাঁর জন্য বিয়ে করতে পারছে না। আবেদের মা কিছু দিন কথা বন্ধ রাখে । কিন্তু ছেলের তাতে কোন দয়ামায়া মায়ের প্রতি হয় না। ছোট দুই বোনের বিয়ে হয়েছে । তারা ভাল আছে । মা বোন মিলে অনেক পীর ফকির করেও ছেলে কে বিয়ে দিতে পারছে না।
আবেদ আলির এক কথা আমি বিয়া করব না। এই নিয়া সংসারে মাঝে মাঝে ছোট ছোট ঝামেলা হয়তেই থাকে । ছোট ভাইয়েরা অনেক বার তাঁর বান্ধুবিদের ফোন করে
প্রেমের কথা বলতে বলেছে তাঁর ভাইয়ের সাথে। আবেদ আলি কোন মেয়ের সাথে ফোনে কথা বলে না। অচেনা মেয়ের নাম্বার হলেই কেটে দেয় বকা দেয় । খারাপ ব্যবহার করে । তাই কোন মেয়ে তাঁর সাথে কথা বলে না। আবেদ আলির বোনের বাসায় এক সাইকোলজিস্ট ভাড়া আসে । কথা প্রসঙ্গে একদিন সাইকোলজিস্টের কাছে
তাঁর ভাইয়ের ব্যাপারে কথা বলে । সাইকোলজিস্ট বলে একদম সহজ কাজ ।
আবেদ আলির বাপেও বিয়ে করবে । বোন হেসে বলে আমার বাপের না ভাই কে বিয়ে
করান । সাইকোলজিস্ট বলল- আপনাদের বাসার সবার সাথে কথা বলতে হবে । তবে আবেদ আলি সাহেব আসতে পারবে না। যথারীতি দুই বোন দুই ভাই মা বাবা
সাইকোলজিস্টের নিকট আসে । সাইকোলজিস্ট তাদের বলে আপনারা এমন একজন মেয়ে খুজে বের করেন যে আপনার ছেলে কে বিয়ে করতে রাজি । আর ঐ মেয়ে কে যেন আবেদ আলি না চেনে । আবেদ আলির বাবা বলে আমার এক কলিগের মেয়ে আছে । আমার ছেলে কে তারা পছন্দ করে । মেয়েটাও ভাল কিন্তু মেয়েটা আগে থিয়েটার করত । তাই একটু অপছন্দ । এখনো বিয়ে করে নাই । নাটক করা মেয়ে তো তাই কেউ সহজে বিয়ে করতে চায় না। সাইকোলজিস্ট বলে আল্লাহ আপনাদের
সাহায্য কারি নাটক করা মেয়ে হলে তো কথাই নাই । আমাকে মেয়েটার সাথে কথা
বলতে হবে । আবেদ আলি সাইকোলজিস্ট কে নিয়ে ঐ মেয়ের কাছে যায় । মেয়ে কে
সাইকোলজিস্ট কিছু কথা বলে । এবং আবেদ আলির পরিবারের সবার কথা চিন্তা করে মেয়েকে একটা কাজের কথা বলে সাইকোলজিস্ট । মেয়েটা প্রথমে বলে মানুষ কি বলবে । সাইকোলজিস্ট হেসে বলে যারা কথা বলবে তারাই আপনাকে সহযোগিতা করবে । আর বর্ষা কাল নাটকের প্লাটফরম খুব সুন্দর । মেয়ের সাথে কথা শেষ করে
সাইকোলজিস্ট বলে আঙ্কেল এখন আপনি আপনার ছোট দুই ছেলে কে নিয়ে আমার
বাসায় আসেন । আবেদ আলির ছোট দুই ভাই কে নিয়ে সাইকোলজিস্ট তাঁর বাসায় মিটিং করে । দুই ভাই তো মহা খুশি তারা দুই জন মিলে মহল্লার প্রায় ১০০ বন্ধু রেডি করে । আবেদ আলি কোন বিয়ে বা জন্ম দিনে পরিবারের সাথে যায় না। কারণ গেলেই সবাই তাঁকে বিয়ের কথা বলে । সকাল থেকে খুব বৃষ্টি । আবেদ আলির বাসায়
একটা ফোন করে সাইকোলজিস্ট । আবেদ আলির মা জানায় আবেদ আলি বাসায় আছে । সাইকোলজিস্ট বলে আপনি মেয়ের বাসার কথা বলে বাসা থেকে বের হন ।
আবেদ আলি বাসায় একা একা টেলিভিশন দেখছে । আবেদ আলির মা আবেদ কে বলে একটু তোর বোন ডাকছে আমি দেখা করে আসি । বাসা খালি সাইকোলজিস্ট ছোট দুই ভাই কে প্রস্তুতি নিতে বলে । মেয়েটা একটা সুন্দর শাড়ি পড়ে ভাল করে সেজে
আবেদ আলির বাসায় এসে কলিং বেল বাজায় । আবেদ আলি দরজা খুলে দেয় । মেয়েটা প্রায় ভিজে গেছে । বলল ভাই বাহিরে খুব বৃষ্টি আমি একটু বাথরুম ব্যবহার করতে পারি । আবেদ আলি বলে বসায় তো কেউ নেই । মেয়েটা হেসে বলে ছিঃ কি বলছেন আপনি আছেন । আর আপনাকে দেখে মনে হয় না আপনি খারাপ।প্লীজ ভয় লাগলে আপনি দরজাটা খোলা রাখেন । মেয়েটার সরলতা চাহনি আর মিষ্টি হাসি দেখে আবেদ আলি তাঁকে বাসায় প্রবেশ করতে দেয় । মেয়েটা বাথ রুমে যায় । ৫ মিনিটে ই বৃষ্টির মধ্য মহল্লার রংবাজ ছিটকা তারু আর রাসেলের দল বল নিয়ে বাসায় ঢুকে আবেদ আলি কে বলে ছিঃ! " আপনি বি হালায় দুই নাম্বার" । "বাসায় মাইয়া মানুষ নিয়া ফুরতি করেন খালি বাসায়" । ভাবছেন বৃষ্টির দিন কেউ দেখব না। ভাবছেন পলাইয়া কাম সারবেন ! আমরা মহল্লার পোলাপান সব বাসার খবর রাখি । আবেদ আলি বলে কি বলছ ? রাসেল বলে ৫ লাখ টাকা দে । ঐ মহল্লার সবারে ক আবেদ মিয়া বিয়া সাদি না কইরা মহল্লায় আকাম কুকাম করবার লাগছে । তারু একটা চর দেয় আবেদ আলির গালে । মেয়েটা বাথ রুম থেকে আসতেই । তারু বলে আজ হাতে নাতে ধরা খাইছ । মেয়েটা বলে এ সব কি বলছেন । আমি তো এর কোন মানে খুজে পাই না । রাসেল বলে দুই জন রে পিটান দিলে সব কইবা । পুলিশ রিমান্ডে নিলে সবাই বলে তোমরা বি হালায় বলবা । এর মধ্য মহল্লার লোক জন এসে ভরে যায় । আবেদা আলির মা বাবা ভাই বোন সবাই চলে আসে । মেয়েটা সোফায় বসে কাদতে থাকে । একজন বলে পুলিশ নিয়ে আয় ।
এর মধ্য সাইকোলজিস্ট এসে হাজির মেয়ের কাজিন হিসাবে । সবাই কে বলল আমার বোন কে এভাবে খারাপ বানানো হল কেন সে শিক্ষিত মেয়ে । তারু রাসেল অন্য সব বন্ধুরা সাইকোলজিস্টের শিখানো কথা মতে কথা বলতে শুরু করল । মেয়েটা বলছে এখন আমার মরা ছারা কোন গতি নাই । আবেদের বোন বলে হ আমার ভাই যদি খারাপ কিছু করে থাকে তাহলে এই মেয়ে কে আমার ভাই কে দিয়ে বিয়ে করিয়ে দে । আজ যদি বউ থাকত তাহলে এত বাজে কথা শুনতে হত না। আমি আমার শ্বশুর বাড়িতে মুখ দেখাতে পারব না। আবেদের মা পায়ের জুতা খুলে ছেলে কে মারে আর বলে আমার পেটে কি রেখছি । আমি বাসায় নাই তুই মেয়ে কে কেন বাসায় প্রবেশ করতে দিলি । বাবা তারু রাসেল তোমরা খুব ভাল কাজ করেছ । মেয়ের ভাই কই সাইকোলজিস্ট বলে খালা মনি আমি এই খানে । বাবা আমার ইজ্জত বাচাও । তোমার বোনের মা বাবা কে আসতে বল । অন্য দুই ছেলে কে কাজি আনতে বলে । সন্ধ্যা ৭ টায় আবেদ আলির বিয়ে হয়ে যায় । আবেদ আলি বাসর ঘরে মেয়েটাকে বলে
আজ আমার জন্য তুমি অনেক আপমান হলে । মেয়েটা কান্না ভরা কণ্ঠে বলে
আল্লাহ হয়ত আমাদের কপালে এটাই রেখেছে । আমি কোন দিন বিয়ে করব না বলে
প্রতিজ্ঞা করে ছিলাম । আবেদ আলি বলে ঠিক আমিও । তাই আল্লাহ এই দু জন কে
এই কঠিন শিক্ষা দিল । আবেদ আলি মেয়েটার হাত ধরে বলে যা হয়েছে ভুলে যাও ।
বাহিরে সবাই রাতের নান্না মিয়ার পোলাও খাচ্ছে । তারু আর রাসেল কে আবেদ আলির মা বুকে জরিয়ে বলে মহল্লায় দু একটা মাস্তান না থাকলে মহল্লার ভাল কাজ হয় না। সাইকোলজিস্ট এবার বলে খালামনি আমার ফি । খালা মনি বলে বিয়ের সময় দাওয়াত দিও । পোলার বিয়াতে তো আনন্দ করতে পারলাম না বাবা সাইকোলজিস্ট তোমার বিয়েতে কিন্তু আমার আনন্দ হবে তোমার উপহার । খালামনি সাইকোলজিস্ট কে মাথায় হাত বুলিয়ে দেয় ।

লাভ অ্যাট ফাস্ট সাইট



কোন এক শীতের সকাল। ছেলেটা একটা শপিং কমপ্লেক্সের ভিতর এদিক-সেদিক ঘোরাঘুরি করতে থাকে। একসময় তার চোখ পড়ে যায় একা একটা মেয়ে কাকে জানি অনেকক্ষণ যাবত খুঁজছে । মেয়েটা সেল ফোন টা খুলে ব্যাটারি দিকে একটা মুখ ভেংচি কাটলো । মেয়ের হাসিটা ছিল অপূর্ব রকমের সুন্দর , ছেলেটা প্রথম দেখায় মেয়েটার প্রেমে পড়ে যায়। এটাই মনে হয়, Love At First Sight. ছেলেটা সামনে এগিয়ে বলল আমার ফোন থেকে কল করতে পারেন । মেয়েটা কোন কথা না বলে ছেলেটার মুখের দিকে তাকিয়ে একটা হাসি দিল । মেয়ে বলল
 ঃ- আমার নাম্বার মনে নেই । আমার বান্ধবিদের সাথে এসেছি । এত বড় শপিং মল খুঁজে পাচ্ছি না।
 ঃ- কত ক্ষণ যাবত ।
 ঃ- এই যে ৩০ মিনিট ।
 ঃ- এখন বলুন আমি একা মেয়ে মানুষ কি করি ?
 ঃ- আরে এটা কোন সমস্যা । ঐ ফোনের দোকানে চলুন । ওদের কাছে চার্জার আছে ।
 ঃ- আমার কাছে টাকা নেই চারজার কেনার ।
 ঃ- আরে কিনতে হবে না । চলুন আমার সাথে । ছেলেটা মেয়েটা কে নিয়ে মোবাইলের দোকানে যায় সেল ফোন চার্জ দেয় । ছেলেটা একটা চুইং গাম দেয় । মেয়েটা হাসি মুখে গ্রহন করে । মেয়েটা ফোনের পর ফোন দেয় । কিন্তু যাকে ফোন দিচ্ছে সে ফোন রিসিভ করে না। মেয়েটা কে একটা সি অ্যান জি ভাড়া করে দেয় । মেয়েটা শুধু বলে আমার বাসা উত্তরা রাজলক্ষির পিছনে । ছেলেটা রোজ মটর সাইলে উত্তরা যায় কোন দিন সকালে । কোন দিন বিকালে , কোন দিন রাতে । আর মেয়েটা কে খুঁজে । মেয়েটাও প্রায় আসে শপিং মলে মনে মনে ছেলেটাকে খুঁজে । না কারো সাথে কারো দেখা হয় না। ছেলেটা তার বোন কে নিয়ে বিশ্ববিদালেয়ে যায় । ঠিক মেয়েটা তার বড় ভাইয়ের সাথে আসে বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘুরতে । অবাক হয়ে দু জন দু জন কে দেখে । কিন্তু অজানা ভুলে কেউ কারো সাথে কথা বলে না । মেয়েটি ভাবে ওর গার্ল ফ্রেন্ড কষ্ট পাবে । ছেলেটা ভাবে না ওর বয় ফ্রেন্ড যদি মাইন্ড করে । শুধু দু জন দু জনের দিকে চেয়ে থাকে । মেয়েটা যখন গাড়িতে চরে । ছেলেটা বোন বলে কি ব্যাপার ভাইয়া এই মেয়েটার দিকে কেন এভাবে চেয়ে আছো । ছেলেটা বলে
 ঃ- আরে পাগল আমি তো রোজ এই মেয়েটাকে খুঁজি ।
 ঃ- তাহলে কথা বললে না কেন ওর সাথে
 ঃ-ওর সাথে তো দেখা যায় বয় ফ্রেন্ড ।
 ঃ- আমি তোমার কি হই?
 ঃ- তুই আমার বোন ।
 ঃ- তাহলে তো ঐ মেয়েটার ভাই ও হতে পারে !
 ঃ- ঠিক তো । তুই নাম মটর সাইকেল থেকে । এই নে গাড়ি ভাড়া করে যা । ছেলেটা গাড়ি খুঁজতে থাকে। একটা সিগনালে মেয়েটাকে পায় । গাড়িতে চুপ করে বসে আছে । কিছু বলে না, শুধু হালকা ইশারা দেয় । ছেলেটা হাসে মেয়েটা ও য়তহাসে । একসময় দেখে মেয়েটা নেমে গেল বাসার সামনে ও দূর থেকে দেখে । মেয়েটা ঘাড় ফিরিয়ে দেখে । ছেলেটা গেইটের সামনে আসলেই দারোয়ান তাকে একটা কাগজ দেয় তাকে লিখা স্যাম টাইম স্যাম প্লেস । ছেলেটা রাতে আর ঘুম যায় না বারান্দায় দাঁড়িয়ে আকাশ দেখে চাঁদ দেখে , গান শুনে । মেয়েটা ও তাই বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকে । ছেলেটা খুব সকালে শপিং মলের সামনে চলে আসে তখন শপিং মল খুলে নাই । মেয়েটা আগেই চলে আসে, এসে দেখে ছেলেটা দাঁড়িয়ে, মেয়েটা হেসে ছেলেটা ও হাসে। মেয়েটা একটা চুইং গাম বের করে ছেলেটা কে দেয় । [গল্পের এই পর্যায়ে এসে ছেলেটার আর মেয়েটার নামকরণ করা যাক। ধরা যাক ছেলেটার নাম অরন্য আর মেয়েটার নাম প্রিয়া ।] পরশুদিন বিকাল। এক ঘন্টা ধরে মেয়েটা কফিশপে অপেক্ষা করছে ছেলেটার জন্য। ছেলেটার অনুপস্থিতি দেখে একসময় মেয়েটা ডায়াল করে ছেলেটার ফোন নাম্বার। ছেলেটার বোন ফোন রিসিভ করে। 
 - হ্যালো -- অরন্য আছে? ওকে একটু দেওয়া যাবে?"
 - কে বলছো তুমি?" 
-- আমি প্রিয়া" 
- প্রিয়া, তুমি কি জান না ' গতরাতে ভাইয়া রোড অ্যাক্সিডেন্টে করেছে ।
 -- ও এখন কোথায় 
-- হাসপাতালে । প্রিয়া তারা তারি হাসপাতালে আসে । অরন্যের জ্ঞান ফিরে নাই । প্রিয়া অরন্যের কাছে আসে । অরন্যের হাতে হাত রাখে । কিছু সময় পড়ে অরন্য তার হাতের ছোঁয়ায় আস্তে আস্তে চোখ মেলে । এক জন অন্য জনের হাত ধরে রাখে । অরন্য তার পকেট থেকে একটা চুইং গাম বের করে দেয় কিন্তু চুইং গাম খুলে দেখে একটা কাগজ । তাতে লেখা আছে, "কেন জানি তোমাকে আমার অসম্ভব রকমের ভালো লেগে গেছে। আমরা কি কোন একদিন এক সাথে একটা সেলফি ছবি তুলতে পারি ।।

Monday, February 8, 2016

গল্প: ‘অ-মানব’- ( ১৭ তম পর্ব )


রাত তিনটা বাজে । রেজিয়ার ফোনে বার বার ফোন আসতে থাকে । কিন্তু রেজিয়া আর ফোন রিসিভ করে না। নাজু রেজিয়ার ঘরে আসে । পাগল মানুষটা নাজুর সাথে আসে । ই-মেইল টা রেজিয়াকে দেখায় । চেয়ে দেখে রেজিয়া আসলেই ভুল করেছে। রেজিয়া দেখল তার চেয়ে বেশী কথা হয় অন্য একটা নাম্বারে ।
রেজিয়া সেই নাম্বারে কল করে । রাত তিনটায় মেয়েটার ফোন ব্যস্ত । রেজিয়া তার দেবর কে কল করে দেখে সেই ফোন ও ব্যস্ত ।
এক সময় রেজিয়া তার স্বামীর কাছে ফোন করে । স্বামী ফোন ধরে বলে কোথায় তুমি । গত দুই দিন তোমার কোন খোজ পাচ্ছি না। যে খানেই থাক বাসায় চলে এসো । আর আমি অফিস থেকে একটা ফ্ল্যাট পেয়েছি ।
আমর খুব ইচ্ছা এইটা তোমার নামে দিয়ে দিব । মা বলেছিল যে আমি তোমাকে যেন একটা ফ্ল্যাট কিনে দেই । আল্লাহ্‌ আমার মায়ের আশা পুন্য করেছে । আর একটা কথা তুমি বাসায় না থেকে ভালই করেছ । আমার ছোট ভাই তার বসের বউ কে নিয়ে নাকি পালিয়েছে । বাসায় পুলিশ এসেছিল । ভাগ্য ভাল আজ মা বেঁচে নেই ।
মা বেঁচে থাকলে হয়ত এত বড় কষ্ট সহ্য করতে পারত না। রেজিয়া বলে – তুমি কেমন আছ। রেজিয়ার স্বামী বলে আর কেমন থাকি বল । নীচ তলার আপা এসে কি সব বাজে কথা বলে গেল । আমরা নতুন ফ্ল্যাটে উঠে যাব । তুমি তাদের কোন কথা শুন না। এরা মানুষকে কষ্ট দিয়ে আনন্দ পায় । রেজিয়ার চোখ দিয়ে টলটল করে পানি পড়ছে । নাদিয়া একটা লম্বা ঘুম দিয়ে এসে দেখে তাদের মেহেমান কাঁদছে । নাদিয়া নাজু কে ডেকে বলে যা তো আপুর জন্য ভাল করে চা বানিয়ে নিয়ে আয় ।
পাগল টাকে রেজিয়া বলে তুমি আসলেই কোন মানুষ না। কারন আমি তোমাকে যে অপমান করেছি তার পর ও তুমি আমার এত বড় উপকার করলে । কাল বাসায় যেতে যেতে বিকাল হয়ে যাবে । পাগল বলে তোমার কাছে টাকা আছে সকালে বিমানে চলে যাও । যদি ৬ টার কোন ফ্লাইট থাকে তাহলে ৭ টায় ঢাকার বাসায় ।
পাগল কে বলল তাহলে তাই কর আমার জন্য । পাগল বলল কিছু কিছু সময় মানুষকে স্বার্থ পর হতে হয় । তবে সব সময় না। আমাদের সমাজের মানুষ মনে করে যে স্বার্থপর মানুষরা সমাজে সুখের অভিনয় করে । আসলে কোন মানুষ স্বার্থহীন না। যারা স্বার্থহীন তারা পাগল না হয় শিশু । নাজ আদা দিয়ে দুধ চা নিয়ে আসে । ভোরে আসে ফজরের মিষ্টি আযান চার দিক থেকে ভেসে আসে ।
রেজিয়াকে নিয়ে সিলেট বিমান বন্দরে যায় পাগল মানুষটা । যাওয়ার পথে পাগল বলে আজ থেকে রেজিয়া আপু সব সময় মানুষের মাঝে কি ভাল আছে সেই ভাল গুলোর প্রশংসা করবে । তোমার স্বামী যদি জানতে চায় কোথায় ছিলে তাহলে বলবে যে নাজু আপার বাসায় ছিলাম । সে আমার পরিচিত ।
পাড়লে স্বামীর কাছে আবার সব বলে দিও না। আজ থেকে তুমি কিন্তু তোমার দেবর কে চিন না। সে তার পাপের পাপ্য পেয়ে যাবে । তুমি তোমার স্বামীর সেবা করে সেই পাপের ভার স্রষ্টার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিবে। তবে কোন দিন বল না যে তার ভাই তোমার খতি করেছে । কারন মানুষ জন্মত রক্তের ভাই বোন তাদের রাগ দোষ তারা মনে রাখে না। পর সব সময় পর ।। রেজিয়া বলে তোমার জন্য আমি একটা খাম রেখে এসেছি নাজু আপার কাছ থেকে নিয়ে নিও । তোমার মত আমার একটা পাগল ভাই আছে এটাই আমার জিবনের সব চেয়ে বড় পাওয়া ।
পাগল মানুষটা আকাশের দিকে চেয়ে থাকে বিমান শব্দ করে উড়ে যায় । বিমানের দিকে চেয়ে থাকে ।।
সকাল ৭ টা ৩০ মিনিটে বাসায় আসে রেজিয়া । স্বামী দরজা খুলে দেয় । রেজিয়া সরি বলে । স্বামী বলে আজ দুই দিন অফিসে যায় নাই । রেজিয়া বলে তুমি রেডি হও আমি তোমার নাস্তা রেডি করছি । স্বামীর জন্য খুব তারা তাড়ি নাস্তা বানালো । সেই রাতে গত রাতের দুধ চায়ের আদা দিয়ে স্বামী কে দেয় । স্বামী চা মুখে দিয়ে বলে চা টা জানি কেমন ।। রেজিয়া বলে কি ভাল লাগে নাই ।
—–ভাল লেগেছে ।
—– শুন আশার সময় একটা নতুন সিম কিনে এনো । আর এই টাকা গুলো
ব্যাংকে জমা দিয়ে দিও । তবে আমার হিসাবে না। তোমার ব্যাংক হিসাবে ।
—– আরে এক জায়গায় রাখলেই হয় । তোমার যা আমার তা ।
—– রেজিয়া স্বামীকে জড়িয়ে ধরে কেদে দেয় । স্বামী তার মাথায় হাত দিয়ে বলে
তোমরা নারীরা যে কখন কি কর আল্লাহ্‌ জানে । কান্না কর নাতো । রেজিয়ার স্বামী অফিসে চলে যায় । মিলি কে দেখে একটা বাচ্চা কে রোদে তেল মাখছে । রেজিয়া
মিলিকে বলে – আপু কেমন আছ । তোমার বাগান তো অনেক সুন্দর ।
—- শুন রেজিয়া মন সুন্দর হলে সব কিছু সুন্দর । তা গত কয়েক দিন দেখলাম না।
তোমার নীচ তলার আপা আমাকে বলল -তুমি নাকি তোমার দেবরের সাথে
পালাইছ । তোমার বাসায় পুলিশ আসাতে এলাকার মানুষের কাছে তোমার
মুখ রক্ষা হল । ঐ নীচ তলার আপার সাথে যেন তোমার স্বামী কথা না বলে ।
—- রেজিয়া হেসে বলে আপু মনে হয় আমার দেবর কে ওর খুব পছন্দ ছিল ।
—- তা তুমি কোথায় ছিলে ।
—- আপা সিলেট আপার বাসায় ।
—- বল কি ? তা আমাকে নিলেও তো পারতে ।
—- আপা আপনি যখন যাইতে চাইবেন নিয়ে যাব । কিন্তু একটা কথা পাগল টা
কোথায় ।
—- আরে পাগল হল আল্লাহর বান্দা আসে ভাল কাজ করতে । কাজ শেষ চলে যায় ।
—- আপা ঠিক বলেছেন । আপনার পাগলের একটা ছবি আমার মোবাইল এ আছে ।
চাইলেই আপনাকে দিয়ে দিব । মিলি জোছনার কুলে বাবু কে দিয়ে রেজিয়ার মোবাইল ফোনটা হাটে নেয় । পাগল ভাইয়ের ছবিটা দেখে কাঁদতে থাকে । মিলির কান্না দেখে রেজিয়াও কাদে । মিলি বলে খুব অল্প সময়ে ছেলেটা আমাদের মায়া লাগিয়ে কোথায় চলে গেল । রেজিয়া এখন জানে কোথায় আছে কিন্তু পাগল মানুষটা বলে দিয়েছে যেন তার কথা না বলে । মিলি তার বাচ্চা কুলে নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে যায় ।
নাজ নাদিয়া শিলা আর নাজু আপা চেয়ে দেখে পুকুরে মাছ আর মাছ । নাজুর স্বামী বল হে আল্লাহ্‌ এত মাছ বিশ্বাস হয় । মাছ দেখার জন্য মানুষ ভীর করেছে । রইছ মিয়া পাইকার নিয়ে এসেছে । শিলা বলে জিনিয়াস মামা আব্বু হেরে গেল । বিকেলের মধ্য মাছ বিক্রি শেষ । কাদা সরানো কাজ চলছে । নাদিয়া তাদের সব আত্মীয় স্বজনের বাসায় মাছ পাঠায় । রাত আঁটটা বাজে । বারান্দায় বসে আছে শিলার বাবা । পাশে পাগল মানুষটা । পাগল কে বলে শিলার বাবা আসলেই তোমার মাঝে শক্তি আছে। এই পুকুর নিয়ে আমাদের কোন চিন্তা ছিল না। পাগল হেসে বলে
—- দেখুন এই পুকুরে কি জানি একটা রহস্য আছে । আমি তাই এই পুকুর সেচে সেই
রহস্য বের করতে চাই ।
—– আসলে রহস্য কিছু না । ভয় । । ভয় পায় । এই পুকুর কাটার পর থেকে এই বাড়িতে কিছু না কিছু সমস্যা হতে থাকে । আমার বাবার ছোট ভাইয়ের তিন সন্তান পানিতে পড়ে মারা যায় । একেই দিনে । পুকুর কাটার দিন আমার বাবার দুইটা গরু মারা যায় । আমার ছোট চাচা এই পুকুরে ঐ শিমুল গাছে ফাসি দিয়ে মারা যায় । আমার মা প্রায় রাতে একা একা নেমে ডুব দিত । কতদিন যে বাবা তাকে পুকুর থেকে তুলেছে । যুদ্দের সময় পাক বাহিনী এই পুকুরে দুই জন কে ডুবিয়ে মারে । সাত বছর আগে কোথায় থেকে এক পাগল এসে নামে । সে আর উঠে না। তিন দিন পড়ে তার লাশ উঠে ।।
—- পাগল বলে দেখুন সব চেয়ে অবাক লাগে কি জানেন । আপনার মা কেন পুকুরে
নেমে সারা পুকুরে ডুব দিত । আচ্ছা দেখি সব রহস্য বের হবে ।
নাদিয়া আর নাজ তাদের রুমে শুয়ে আছে । বাড়ির পিছনে পুকুরে কুকুর পড়ে গেছে তাই গেউ গেউ করছে । সবাই লাইট নিয়ে পুকুর পারে গেছে । শীত আর কাদায় কুকুর আর উঠতে পারছে না। এত রাতে কে নামবে কাদায় । নাজুর স্বামী বলে এখন কি করি ? পাগল এসে বলল লম্বা দরি নেন । পুকুর থেকে উপরে উঠার কোন জায়গা নেই । সকালে জেলেরা বাঁশের মই দিয়ে নেমে ছিল । আর পানি থাকলে শিমুল গাছের শিকর ধরে উঠা যেত ।
পাগল তাই পাগল একটা দরি ধরে নামলো । কাদা থেকে কুকুর কে তুললো । কিন্তু পাগলের পায়ে কি যেন একটা শক্ত লাগলো । ইটা মনে করে তুলল । না ইটা না । কাদার অনেক গভীরে । যাই হউক হাতে শক্তিতে টান দিয়ে বের করল ।
দেখে একটা লম্বা বক্স । অনেক পুরানো দিনের কাটের বক্স । কাদা সহ হাতে নিয়ে আগে কুকুর তুলে দিল । তার পর সে বক্স নিয়ে পুকুর থেকে উপরে উঠে আসলো । নাজু আপু বলল এত বড় বক্স । তাই বক্সের কাদা পানি দিয়ে পরিষ্কার করতে লাগলো । নাদিয়া বলল – কি জানি আছে । নাজ বলল – মনে হয় জীন ভুত থাকতে পারে । শিলা বলল আমি কিন্তু খালা মনি ভুত ভয় পাই । নাজু বলল যাই আছে দেখা যাবে । আগে ভাল মতে পরিষ্কার করি তো …।
চলমান ——

Thursday, February 4, 2016

‘অ-মানব’- (১৬তম পর্ব)


নাদিয়া খুব অবাক হয়ে দেখছে সেই ভোর বেলায় পুকুরে পানি সেচের মেশিন লাগিয়েছে । এই শীতের মধ্য ভোর বেলায় পাগল মানুষটা পুকুরের ভাসমান ময়লা পরিষ্কার করছে। আশপাশের সবাই বলছে খুব ভাল হবে । গত ৪০ বছরে এই পুকুর পরিষ্কার করা হয় না। চার দিক ময়লা আর নোংরা পানি ।
শিলার বাবা আর শিলা দাড়িয়ে হাসছে । নাদিয়া ঘুম থেকে উঠে বলে- মিঃ জিনিয়াস আর কোন কাজ নেই । ভালই তো । আপনি কি জানেন এই পুকুরে জীন আছে । ৪০ বছর আগে এক ই পরিবারের তিনভাই বোন পানিতে পড়ে মারা যায় । জিনিয়াস পাগলটা হেসে বলে পুকুরে পড়ে মারা যায় না মেরে ফেলে তা কিন্তু আজ পর্যন্ত অমীমাংসিত । নাদিয়া বলে এটা কেমন কথা।
নাদিয়ার দিকে তাকিয়ে পাগলটা বলে গাছ গুলো কিন্তু এখনো পুকুর পারে দাড়িয়ে । নারিকেল আর লিছু গাছ গুলো । যে দিন গাছ কথা বলবে সেই দিন হয়ত এর সমাধান হবে । এই শীতে ভেজা শরীর নিয়ে এই মানুষটার কোন খেয়াল নেই । তার সাথে আরও ৪ জন লেবার নেমেছে । রইস মিয়া বলল নাদিয়া যেই কাজ আমরা চল্লিশ বছরে পারি নাই সেই কাজ দুই দিনে শুরু করেছে । শিলা পুকুর পারে দাড়িয়ে বলছে মামা তুমি উঠে এসো । লেবার তারা এই কাজ করবে ।। বাসার আশ পাশের সবাই দেখছে পুরো পুকুর সাতার কেটে যাচ্ছে । নাজু বলল – ভাই তুমি উঠে এসো । শিলা তার বাবা কে বলল এবার কিন্তু আব্বু আমাদের পুকুরে একটা পাকা ঘাট বেধে দিবা । পাগল বলল তোমার আব্বুর টাকা লাগবে না । পুকুরের মাছ বেঁচে হয়ে যাবে । শিলার বাবা বলে হাসতে হাসতে মাছ পাবে কিন্তু যেই টাকার মাছ পাবে সেই ডিজেল লাগবে সেই খরচ তো উঠবে না।নাজু তার স্বামী কে বলে আমার ভাই এই শীতের মধ্য পানিতে নেমে তোমাদের না পারা কাজ করছে আর তুমি টাকার হিসাব করছ। পাগল বলে আপা করতে দাও মাছ বেচা টাকা সব কিন্তু আমার । পাগল কে শিলা বলে আচ্ছা নিও । এখন উঠে এসে কিছু খাবার খাও। তোমার প্রিয় চা নিয়ে এসেছে নাজ। পাগল নাজ কে বলে— নাজ দুধ চা তাই না ।
—- হ্যা ভাইয়া সকাল বেলা তো ?
—- নাজ আমার দুধ চায়ে একটু আদা দাও ।
—– কি বলেন ভাইয়া । দুধ চায়ে আদা ।
—– হা দুধ চায়ে আ্দা তবে আদা দিয়ে লিকার টা একটু ফোঁটাতে হবে ।
—– ঠিক আছে দেখি ভাইয়া ।
নাজ চা আবার বানাতে চলে গেল । নাদিয়া দুধ চায়ে আদার কথা শুনে বলে ভাইয়া তোমাকে মানুষ শুধু শুধু পাগল বলে না।
— নাদিয়া শুনো যারা আমাকে পাগল বলে তারা হল সব এক ধরনের মূর্খ মানুষ ।
এই সব মূর্খ মানুষের জন্য এই দুনিয়ায় , এই সমাজে , ও পরিবার যত সব কষ্ট আর অশান্তিতে পরে থাকে। নাদিয়া তোমাকে যদি বলা হয় তুমি তোমার বাবার সম্পদের কোন অংশ পাবে না। তাহলে কি তুমি ঐ লোকটাকে পাগল বলবে না।
—- হ্যা পাগল বলব ।
—- দেখ তুমি যদি বাংলাদেশের গ্রাম গুলোতে যাও দেখবে বেশীর ভাগ তাদের বোনদের সম্পত্তি দেয় না। বোন রা কত কষ্ট করে ভাইয়েরা তা দেখে দেখে না। আমাদের সমাজে কিছু ভণ্ড লেবাস ধারী ধর্ম গুরু বলে ওয়ারিশ নিলে অমঙ্গল হবে। তারা তাদের ধর্মের কিতাব কে তাদের সামনে আনে না। সমাজ শুধু নামে ধর্ম পালন করে । কেউ যদি কারো হক মেরে দেয় সেই কি ধার্মিক ?
—- নাদিয়া আর কোন কথা বলে না। চুপ করে যায় । কারন নাদিয়ার মামা রইস মিয়াই তাদের মায়ের সম্পদ দিচ্ছে না। বলে বাপের সম্পদ নিলে পাপ হবে। বোন ভাগ্নি আসবে বেড়াবে । নাদিয়া একটু নিজে নিজে হেসে দিল ।। পাগল পানি থেকে উঠে এসে নাজের কাছ থেকে চা নিয়ে বলল বাহ! দারুন চা। নাজ বলে ভাইয়া অনেক মজা আমি এখন থেকে দুধ চায়ে আদা দিয়েই খাব । নাদিয়া নাজের কাছ থেকে একটু চায়ে চুমুক দিয়ে বলে দারুন তো ! পুকুরের পানি কমছে সেচ পাম্পের শব্দ বেশ হচ্ছে। শিলার বাবা আরও দুটা সেচ পাম্প এনে দিল । পাগল হেসে বলল- আমার দুলা ভাই গরীবের দুঃখ বুঝে ।।
রেজিয়া কে সিলেটের গাড়িতে তুলে দেয় তার দেবর । রেজিয়া তার সকল টাকা তুলে তার নিজ ব্যাংকে রাখে । রেজিয়ার স্বামী সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে দেখে রেজিয়া নাই । তার ফোন বন্ধ । রাতে তাদের মধ্য ঝগড়া হয় । কিন্তু রেজিয়া এভাবে চলে গেল ।
তার ভাই কে ডেকে বলে তুই কিছু জানিস । ভাই বলল আমি কিছুই জানি না। আজ রাতে আমি চলে যাব । ভাবীর এ সময়ে এভাবে চলে যাওয়ার কোন মানে হয় না। রেজিয়ার দেবর রাতের ১১ টায় সিলেটের গাড়িতে উঠে । তার ভাই তাকে বিদায় দেয় । এ দিকে বউ রাগ করে চলে গেছে এখনো তার সাথে যোগাযোগ করে নাই ।
রেজিয়া সিলেট মাজারের কাছে একটা হোটেলে উঠেছে রাতে সিলেট মাজারে ভিতরে পুকুরের মাছ দেখছে । পিছন থেকে কেউ একজন বলল – আপু সিলেট কখন আসলেন ? রেজিয়া পিছন ফিরে দেখে ঐ পাগল মানুষটা মিলির বাসার ছাদে যাকে দেখে ছিল । রেজিয়া একটু ভয় পায় । প্রথমে না চেনার ভান করে । পাগল বলল আপু জিবনে ভুল করছেন । ফিরে যান । আপনার স্বামীর বিশ্বাস কে নষ্ট করার কোন অধিকার আপনার নাই । প্রতিটা মানুষ কিছু বিশ্বাস নিয়ে বেঁচে থাকে । সহজ সরল মানুষের বিশ্বাস নিয়ে খেলতে হয় না। রেজিয়া বলে দেখুন জীবন আমার । আর আমার জিবনের ভাল মন্দ আমি ভাল করে বুঝি ।
— পাগল হেসে বলল আপু জীবন আপনার এ কথা সত্য । কিন্তু আপনার জিবনের সাথে পরিবারের সমাজের অনেক মানুষের জীবন জড়িত । আচ্ছা রেজিয়া আপু আপনি শুধু একটা কাজ করুন । আপনার দেবর কে ফোন করে বলুন যে আপনি
টাকা আনতে পারেন নাই । আর যে টাকা এনেছেন তা ভিসা আপনি হুন্ডি করে কারো নামে পাঠাবেন না। আগে আপনি মালয়েশিয়া যাবেন তার পর সিন্দান্ত নিবেন ।
— রেজিয়া পাগলের কথা মত তার দেবর কে ফোন দিল ।
— দেবর ফোন তুলে বলল জান পাখি আমি বাসে উঠেছি ।
— ঠিক আছে কিন্ত আমার পাসপোর্ট কোথায় ।
— ভিসার জন্য জমা । কাল ভিসা হবে আমার বন্ধু পাঠিয়ে দিবে কুরিয়ারে ।
— এক দিন থেকে তুমি কেন নিয়ে আসছো না ?
— দেখ সিলেটে তো অনেক কাজ । তোমাকে নিয়ে তো শেষ করতে হবে ।
— কি এমন কাজ যে ভিসা না নিয়েই চলে আসতে হবে ।
— শুনো তুমি শুধু শুধু রাগ করছ । আমি সিলেট এসে সব বলি ।
— এখন বললে সমস্যা কি?
—- না কোন সমস্যা না । মালয়েশিয়ায় কালকের মধ্য ৩০ লাখ টাকা পাঠাতে হবে
তাই ।
—- আমার কোন টাকা আমি কাউকে দিব না। টাকা দিয়ে কারো সাথে প্রেম করব না। মালয়েশিয়া যেতে দু জনের মাত্র চার লাখ হলেই চলবে । আমি আমার টাকা অন্য কারো নামে পাঠাতে পারব না ।
— রেজিয়ার দেবর বলল তুমি হোটেল থেকে বের হবেনা। কি আবল তাবল বলছ ।
তুমি কি মনে কর । আমি কি বেঈমান নাকি ।
রেজিয়া ফোন কেটে পাগল কে বলে – আমাকে হোটেল থেকে বের হতে নিষেধ করেছে। আসলেই তো যে তার আপন ভাইয়ের বউ কে নিজ স্বার্থের জন্য ব্যবহার করে । একদিন তো অন্য কোন স্বার্থের জন্য আমাকে আবার ব্যবহার করবে । চলুন আগে হোটেল ছারি । রেজিয়া কে নিয়ে হোটেল ছেরে পাগল তাকে নিয়ে চলে আশে । নাজু আপুর বাসায় । নাজু আপুকে ডেকে গোপনে সব কথা বলে । নাজু বলে ভাইয়া তুমি চিন্তা কর না। দরকার হলে আমি ওকে ঢাকা যেয়ে দিয়ে আসব ।
পাগল বলে রেজিয়া আপু তোমার দেবরের মোবাইল নাম্বার টা দাও । একটা মেইল করি আমার এক পরিচিত জন কে সে আমাকে এক ঘণ্টার মধ্য কল লিস্ট পাঠাবে । তখন তুমি আরও পরিষ্কার হবে যে তুমি ভুল করছিলে ।
বারান্দায় বসে সবাই আলাপ করছে । রেজিয়া এসে তাদের সাথে বসল । নাদিয়া বলল
রেজিয়া কে
—- ভাইয়া কে কি করে চিনেন ?
—- তোমারা কি করে চেন বোন ?
—– ও মা আমাদের ভাইইয়া । জিনিয়াস ভাইয়া । কেন আমরা চিনব না।
—– রেজিয়া বলে আমাদের এলাকায় সবাই তাকে রহস্য পাগল মানুষ হিসাবে জানে
খুব অল্প সময় ছিল । এই অল্প সময়ে আমাদের কিছু মানুষকে সে মানুষ হতে শিখিয়েছে ।
চলমান————————–