নাজ পাগলের কাছে এসে বলল ভাইয়া ঘুম কেমন হল । নাদিয়া আপু বলল আপনি নাকি
ছাদে সারা রাত হেটেছেন । ভোর বেলা এসে ঘুমিয়েছেন । দুলা ভাই লন্ডন থেকে চলে
এসেছে । আপনি ঘুমে ছিলেন তাই ডাকে নাই। পাগল নাজ কে বলল- তুমি একটা কাজ কর
নাজ আমার জন্য ভাল করে লাল চা নিয়ে এসো । নাদিয়া কে বলল - হাসপাতালে
যাওয়ার সময় যেন আমাকে নিয়ে যায় ।
আর তোমাদের বাড়ির উত্তর পাশে পুকুরটা
তে গোসল করা যাবে । নাজ বলল - বলেন কি ? ঐ পুকুরে কেউ গোসল করে না। দেখেন
না কত ময়লা পরে আছে । পাগল বলল - আজ অনেক সুন্দর রোদ । তোমাদের বাড়িটা অনেক
সুন্দর । আমি বিকালে মাজারে যাব । নাজ বলল - নাদিয়া আপুর সাথে যাবেন । আপু
ঘুরতে পছন্দ করে । পাগল বলল- তুমি কি পছন্দ কর ? আমি যা পছন্দ করি তা
আপনাকে বলা যাবে না । পাগল হেসে বলল - এর মানে খুব সুন্দর তুমি যা পছন্দ কর
তা সমাজ ভাল ভাবে দেখে না। তাই তুমি গোপন করছ । নাজ বলল- হা কিছুটা হয়েছে ।
পাগল বলল তুমি যা পছন্দ কর । তা অনেকই করে না । নাজ যার যা পছন্দ তা
কিন্তু তার চরিত্রের সাথে আস্তে আস্তে মিশে যায় । তুমি যা গোপনে পছন্দ কর
তা কিন্তু তোমার মনের স্বভাবের একটা অংশ । নাজ বলল - বলেন কি ভাইয়া । হ্যা
নাজ তুমি পছন্দ বিশ্বাসে জন্ম নিলে তখন খারাপ কিছুও ভাল মনে হয় । নাজ বলল
আমি যা পছন্দ করি আপনি বলতে পারবেন ।
পাগল বলল- মানুষ যা গোপন করতে চায় তা দ্রত প্রকাশ পায় । ঠিক আছে আমি বলব তুমি চা নিয়ে এসো ।।
নাজ চা বানাতে চুলায় আগুন দিতেই । নাজ এর ছোট মামা রইস মিয়া এসে বলে নাজ ঐ
লোকটা নাকি বাসায় । তা বাড়ী কোথায় কিছু জানা গেল । দেখতে তো রাজপুত্রের মত
। মনে হয় অনেক শিক্ষিত । মানুষ বেশী শিক্ষিত হলে কিন্তু পাগল হয় । মামা ঐ
ভাইয়া বাংলা ঘরে আছে । তোমার যা জানার তার কাছে যাও । নাদিয়া ঘুম থেকে উঠে
রান্না ঘরে এসে বলল - মামা খুব ভাল হবে তুমি তো দুই দুই বার মেম্বারি ফেল
করেছ । দেখ লোকটা তোমার কাজে লাগবে । আর মামা সন্ধ্যা চলে আসবে শাহ পরান
যেতে হবে । একটা বিয়ের দাওয়াত আছে , তুমি না আসলে হবে না। দুলা ভাই শিলা কে
নিয়ে রাতে বাসায় আসবে । রইস মিয়া বলল - আচ্চা আমি তাহালে মেহমান তার সাথে
দেখা করে আসি ।
রইস মিয়া বাংলা ঘরে এসে দেখে পাগল একটা বই পড়ছে । রইস মিয়া সালাম দিয়ে বলল - কিতা রে বা ভাল আছ নি ।
--- হ্যা আমি ভাল আছি । আপনি ?
--- আমারে আপনে চিনতা না। আমি নাজু নাদিয়া আর নাজ এর ছোট মামা ।
--- ও ! তাই ! মামা বসেন ।
--- তুমি আমাদের যা উপকার করেছ । তা আমাদের পক্ষে তোমার ঋণ শোধ
কারর মত না।
--- মামা জগতে প্রতিটা প্রাণীই প্রতিটা প্রাণীর কাছে ঋণী ।
--- ভাইগ্না বেটা তোমার কথা ঠিক বুঝলাম । আমরা কি ভাবে অন্য প্রাণীর কাছে
ঋণী । আল্লাহ্ সব কিছু মানুষের জন্য সৃষ্টি করেছে ।
---- মামা গাছ আমাদের অক্সিজেন ফল ফুল বীজ দেয় । আমরা গাছ কে
কার্বনডাই অক সাইড দেই । ঠিক তেমন করে দুনিয়ার সব প্রাণী কোন
না কোন ভাবে অন্য প্রাণীর উপর নির্ভরশীল ।
---- আচ্চা ভাইগ্না মশা আমাদের কি উপকারে আসে বল তো দেখি ।
---- মা মসার কামুরে অনেক অসুক হয় , অসুক হলে ডাক্তার , তার পর চিন্তা করুন
একমাত্র মাসার জন্য মশারী । কত মানুষ সেই মশারী বানিয়ে জীবিকা করছে ।
--- আসলেই তো আমি এভাবে চিন্তা করি নাই । আপনার সাথে পরিচয় হয়ে ভাল
হয়েছে । তা আপনার নাম নাম জানা হল না।
নাদিয়া চা নিয়ে এসে বলল মামা যার নাম তার নাকি মুখে বলা ভাল না। আমরা দুই
বোন মিলে চিন্তা করেছি । ভাইয়া গত কাল থেকে সে তার নাম বলছে না। তাই একটা
নাম আমরাই দিয়ে দিব । শিলা আমাকে বলছে খালা মনি মামার জন্য একটা নাম ঠিক
কর । পাগল বলল মন্দ হয় না। এই দুনিয়ায় মানুষ নামের জন্য কত কি করে ।
রইস মিয়া বলল - আপনি ঠিক বলছেন আমি নাম কামাবার জন্য দুই বার মেম্বারি
তেদাঁড়াইলাম । যদি ফেল করেছি । আর মানুষ কে বুঝতে পারি না। পাগল বলে
মামা আসলেই পাশ করতে চান ।
--- হ্যা । পাশ না করলে তো সমস্যা । মানুষ যখন বলে মেম্বার । একটু লজ্জা লাগে ।
--- মামা আজ থেকেই আপনি পাশ ।
--- আজ থেকে মানে বুঝলাম না। নির্বাচন তো মেলা দেরি আরও এক বছর ।
--- পাগল বলল -পাশ করার কাজ এখন থেকে শুরু ।
--- নাদিয়া বলল ভাইয়া নির্বাচন অনেক কঠিন কাজ ।
--- নাদিয়া মামা যদি কথা শুনে । তাহালেই পাশ ।
--- এটা কিভাবে ভাইগনা !!
--- মামা দেশের মানুষ ধর্ম বিশ্বাস করে কিন্তু ধর্ম পালন করে কম । ঠিক কিনা ।
--- হ্যা ।
আপনি যদি ধর্ম বেশী পালন করেন তাহালে আপনাকে কিছু ভাল মানুষ ভোট দিবে।
আর ধর্ম কম মানলে । যারা কম মনে তারা ভোট দিব । আপনি আজ থেকে কত জন ভোটার আছে এবং কারা ভোটার হবে আপনার এলাকার তাদের একটা তালিকা
বানান । তার পর দেখবেন আমি এমন ম্যাজিক দেখাব । যে ভোট আসার আগেই মানুষ
বলবে। এবার রইস মিয়া কে মেম্বার বানাব । আপনি বলবেন তখন । না আমি দাঁড়াব
না। তখন তারাই আপনাকে জোর করে দারাবে । আপনি টাকা ও সম্মান দুইটাই পাইবেন
।।
নাদিয়া বলল ভাইয়া বিকালে হাসপাতাল যাবার কথা ছিল । ডাক্তার বলল আজ রিলিজ দিবে । সন্ধ্যায় একটা বিয়ের দাওয়াত আছে । আপনি যাবেন ।
--- আমি পাগল মানুষ বিয়েতে গেলে না জানি কে কি বলে । আমি বরং হাসপাতালে
যাই । রইস মিয়া বলল না হাসপাতাল আজ বাসায় আসবে । শিলা বাসায় আসলে
বুঝবে । সে যে কত জ্ঞানী মেয়ে ।। নাদিয়া বলল আচ্ছা ভাইয়া একটা কথা আমি
দেখলাম আপনি সারা রাত রুম থেকে বের হয়ে এই শীতে ছাদে । আকাশের দিকে চেয়ে
আছেন । রহস্য টা কি ? পাগল বলল- একটা কথা বলি নাদিয়া তুমি কেন রাত জেগে ।
--- ভাইয়া আমার ঘুম আসে না।
--- ঠিক আছে আজ ঘুম আসবে ।
রইস মিয়া বলল ভাগিনা আমি এখন চলি । রাতে বিয়ে তে দেখা হবে।
---------------------------------------------------------------------------
নাজু স্বামীর পাশে বসে শিলার দিকে তাকিয়ে বলে । ও নেগেটিভ রক্ত না হলে আজ
কি হত আল্লাহ্ জানে । নাজুর স্বামীর নাম খালেক মজুমদার । মুজমদারিতে তাদের
বিশাল বাড়ী । পিতার বাড়ী রেখে তার পাশেই তিনি আলাদা বাড়ী করে থাকে । নাজু
তার স্বামীকে বলল - মানুষটা অনেক ভাল । খুব সুন্দর করে কথা বলে । কিন্তু
কেন জানি মনে হয় ওর মধ্য কিছু পাগলামি আছে। ও তার নাম বলে না। কোথায় থেকে
আসছে তাও বলে না। শিলা ওর মাকে বলল - মা ঐ মামা মনে হয় অন্য গ্রহ থেকে
আসছে । এর মধ্য ডাক্তার এসে বলল আপু ঐ মানুষটা কি আজ আসবে ।
--- কে ! ঐ পাগল টা । কেন
--- না আসলে ঐ মানুষ টার সাথে আমার কথা আছে ।
--- খালেক সাহেব বলল - যে কোন সময় বাসায় আসবেন । আমাদের বাসায় আছে ও
। ওকে আমার ও দেখার খুব ইচ্ছা । আসার পর থেকে সবার মুখে ওর প্রশংসা
শুনছি ।
--- ডাক্তার বলল - আমি ওর কথার কাছে হেরে গেছি । শিলা বলে আব্বু তুমি কি
জান । আমি ঘুমিয়ে দেখলাম ঐ পাগল মামা আমার জন্য ফুল এনেছে । ঘুম থেকে
উঠে দেখি সত্যি ফুল এনেছে ।
---- ডাক্তার বলল শিলার অবস্তা ভাল বড় স্যার দেখলে রাতেই বাসায় নিতে পারবেন
। তবে আমি আপনাদের বাসায় আসব ।।
-----------------------------------------------------------------------------
নাজ নাদিয়া রইস মিয়া এর আগত পাগল মিলে শাহ পরান একটা বিয়ে বাড়িতে এসেছে ।
সবাই খাবার আর বউ দেখা নিয়ে ব্যস্ত । বর চলে এসেছে কিছুক্ষণ আগে ।
খাবার টেবিল থেকে পাগল না খেয়ে উঠে যায় বিয়ের বরের সামনে । কাজী তখন
বরের সই নেয়ার অপেক্ষা করছে । সবাই ছবি তুলছে । নাদিয়া পাগলের পিছনে পিছনে
আসে । নাদিয়া বলে ভাইয়া তুমি কোথায় যাও । পাগল বরের সামনে চোখ
লাল
করে তাকিয়ে চাইল । পাগল কে দেখে বর চিৎকার করে উঠে পাগলের পায়ে যেয়ে পরল ।
বিয়ে বাড়ির সবাই হতবাক হয়ে চেয়ে আছে । কে এই মানুষ বর কেন
তার পা ধরে আছে
Wednesday, January 27, 2016
অ-মানব @ ১৩ পর্ব
নাদিয়ার সাথে এসে পাগল শিলার সামনে আসে । শিলার দিকে তাকিয়ে বলল
যার অনেক কাজ বাকী সে যেতে পারবে না। এই দুনিয়ায় প্রতিটা মানুষ কোন না কোন
কাজে এসেছে । শিলার মা বলল – ভাই আপনি খুব সুন্দর করে কথা বলেন । নেন এই
চেয়ারে বসেন । আপনার জন্য খাবার আনা হচ্ছে । পাগল বলল- আসলেই খুব খুদা
লেগেছ । নাদিয়া বলল – ভাই আপনার আসলেই বাড়ী কোথায় । পাগল বলল – দেখুন আমি
মিথ্যা বলি না। আমার কোন বাড়ী নেই । আমি একজন যাযাবর । যে খানে রাত সেখানেই
ঘুমিয়ে পরি । নাদিয়া নাস্তা দিল । চা দিল ।
শিলার মা বলল – ভাই দুনিয়ায় যার কেউ নাই । তার আল্লাহ্ আছে । আল্লাহ্ আজ আপনাকে পাঠাইছে । আপনার যতদিন মনে চাইবে । আমার বাসায় থাকবেন । আমার বাসা এই শহরে লিচু বাগান । বিমান বন্দর রোড । নাদিয়া তুই ভাইকে নিয়ে বাসায় যা । বাংলা ঘরে সুন্দর একটা বিছনা করে দে। ভাই তুমি যেমন আমাদের চেন না। আমাদের জন্য তোমার রক্ত দিলে । আমিও তোমাকে চিনি কিন্তু আজ হতে তুমি আমার ভাই । নাদিয়া বাসায় নিয়ে যা। পাগল শিলার মাথায় হাত বুলিয়ে বলল মা মনি তারা তাড়ি ভাল হয়ে উঠ । নাদিয়া পাগল কে রিক্সা করে তার বাসার দিকে যাচ্ছে । পাগল বলল অনেক শীত লাগছে কি আপনার ।
— হ্যা
— নাক টা চাদর দিয়ে ঢেকে বসুন । কান ঢেকে দিন । আর চিন্তা করুন
আপনি ভাল আছেন ।
—- নাদিয়া হেসে বলল আপনি খুব মজার মানুষ । এই সিলেটে অনেক পাগল আমি
দেখেছি কিন্তু আপনার মত দেখি নাই ।
— পাগলটা নাদিয়ার দিকে চেয়ে একটু হেসে বলল পাগল দেখা যায় না । পাগল কে
অনুভবে বুঝে নিতে হয় । নাদিয়া আপনার কাছে বিশ টা টাকা হবে ।
— হ্যা হবে এই নেন ।
পাগল আম্বার খানা পয়েন্টে নেমে বিশ টাকা দিয়ে ফুল কিনল । নাদিয়া তার ফুল কিনা দেখে হেসে বলল কাকে দিবেন ।
— কেন আপনাকে দেব । গোলাপ আপনার খুব পছন্দ । নাদিয়া গত সাতদিন এই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় ফুল দেখে । কিনতে মনে চায় কিন্তু সময়ের জন্য কিনতে পারে না। ফুল গুলো পেয়ে খুব খুশি হল । নাদিয়া বলল কি নামে ডাকি আপনাকে
— পাগল একটু হেসে বলল আমার নাম অনেক বড় আপনার পক্ষে মনে রাখা সম্ভব
না । বরং আপনার যা ইচ্ছা ডাকুন । নাদিয়া হেসে বলে পাগল আপনি ।
— পাগল হেসে বলে এই নামটা আমার খুব প্রিয় দু জন মিলে এক সাথে হেসে দিল ।
ঝলমলে রোদ উঠছে । শীতের দিনে রোদ সবাই পছন্দ করে । নাদিয়া বলল আজ তিন দিন পড়ে সূর্যের মুখ দেখলাম । পাগল আকাশের দিকে চেয়ে বলে আকাশ আর
মানুষ এই দু এর কোন সীমা নেই ।। সিক্সা চলে আসে বাসার সামনে ।
মিলি ছাদে বাচ্চা কুলে নিয়ে বসে আছে । এমন সময় পাশের বাড়ির রেজিয়া বলে
আপা পাগল টা কোথায় । মিলি বলল ওকে পাগল বল না তো রেজিয়া । অ আল্লাহ্ বান্দা ।
—- আপা আপনি বলেন আল্লাহর বান্দা । আসলেই ঐ লোকটা একটা
সয়তান । জানেন আমি ওর ভয়ে জানালা খুলি না। খালি জানালার দিকে
চেয়ে থাকে ।
—- দেখ রেজিয়া তুমি যা বললে আর বল না । এত অল্প সময়ে কাউকে খারাপ বলা
চলে না। জোছনা এসে বলল – মামী আসলে রেজিয়া অ্যান্টি শুধু শুধু বেশী কথা
বলে ।
— মিলি বলল শুন রাজিয়া পাগলের সাথে যদি কথা বলে থাক । তাহালে মনে
রেখ এটা তোমার কপাল ।। এই বলে মিলি ছাদ থেকে তার ঘরে চলে
যায় । জোছনা ছাদের গাছ গুলোতে পানি দিতে থাকে ।
রেজিয়ার দেবর রেজিয়া কে ডেকে বলে ভাবি কাল কে তোমার ছবি তুলতে হবে । আগের ছবি দিয়ে তোমার পাসপোর্ট করেছি । এই নাও পাসপোর্ট । রেজিয়া পাসপোর্ট পেয়ে মহা খুশি । মনে মনে বলে পাগলের কথা কি ঠিক ? দেবর কে বলে আচ্ছা একটা কথা বলি তুমি যে অফিসে কাজ কর সেই অফিসের বস এর বউ কে কি তুমি চেন ?
রেজিয়ার দেবর এমন একটা ভাব নিল । দেখ ভাবি বস মানেই বস । আর তাদের বউ রা আরও বড় বস । আমি বসের বউ কে চিনি না। তবে শুনেছি ঐ মহিলা নাকি খুব খারাপ । রেজিয়ার দেবর জানে এক মহিলা অন্য মহিলার প্রশংসা শুনতে পছন্দ করে না। রেজিয়া তার দেবরের ফোনটা ভাল করে চেক করে । দেখে পরিচিত সব নাম্বার থেকে ফোন এসেছে ।। রেজিয়া আর দেবর মিলে তাদের বিদেশ যাওয়ার সব সময় ঠিক করে নেয় । প্রথমে তারা থাইল্যান্ড যাবে সেই খান থেকে অন্য দেশে ।
পাগল বিকেলে মেডিক্যালে আসে নাদিয়ার সাথে । নাদিয়ার ছোট বোন বলে – ভাইয়া আপনি এখানে বসুন । আমার নাম নাজ । আমরা তিন বোন । আমি নাজ । নাদিয়া আর নাজু আপু সবার বড় । সাথে সকালে তারা দু জন আমার মামা হয় । দুলা ভাই আজ লন্ডন থেকে আসবে রাতে ।। আপনি শুধু নাম নিয়ে রহস্য করছেন কেন ? আপনার নাম কি বলব বলেন । আমাদের ভাই তার নাম থাকবে না। শিলা ঘুম থেকে
উঠে পাগলের দিকে চেয়ে বলে – আম্মু আমি ওর নাম জানি ।
— শিলার মা মেয়ের দিকে চেয়ে । তাই মা মনি কি নাম বল শুনি ।
— মা আমি স্বপ্নে তাকে দেখছি । আমার জন্য সে আকাশ থেকে আসছে । কই মামা
আমার ফুলটা দাও । পকেট থেকে একটা অপরাজিতা ফুল দিল শিলার হাতে ।
শিলা বলল আজ ফুটেছে আমাদের বাগানে তাই না মামা ।
— হা মা । রাতেই ফুটেছে তোমার জন্য তাই নিয়ে এলাম । নাজ বলল শিলা
তুমি কি ভাবে জানতে । যে ভাইয়া ফুল নিয়ে আসবে ।
— খালা মনি আমি স্বপ্নে মামা কে দেখছি । মামা আমাদের বাসায় জানালা দিয়ে
এই ফুল ছিরেছে আমার জন্য ।
— নাদিয়া হেসে বলল তোমার সব স্বপ্ন সত্য হোক । ডাক্তার বলেছে কালকে তোমাকে
রিলিজ দিয়ে দিবে ।
— পাগলটা শিলার মাথায় হাত রেখে বলে বাসায় গিয়ে তোমার জন্য অনেক অনেক গাছ লাগিয়ে দিব । তোমার বাগান কে অনেক সুন্দর বাগান করে দিব । শিলার মা নাজু বলে ভাই তোমার কথা শিলার আব্বু কে বলেছি । সে বলেছে তোমার যখন যা লাগবে আমাকে বলবে । নাদিয়া চা দেয় পাগল কে । নাজ বলে ভাইয়া একটা কথা বলব আপনাকে ।
— হ্যা বল শুনি ।
— ডাক্তার কে আপনি টিপ সই দেখতে বললেন । আপনি চলে যাওয়ার পর
সে কাগজ টা ছিরে ফেলে । পড়ে অন্য একটা কাগজে সে নিজেই তার
ঠিকানা লিখে নিজেই সই করে রাখে । কি ছিল আপনার টিপ সই এ ।
— ডাক্তার আমাকে একটা ভুল কাগজে টিপ সই নেয় । আসলে ঐ কাগজটার পিছনে
একটা চিঠি ছিল । যা তোমার জানা দরকার নাই । নাজু বলে ঠিক অন্যের বিষয়
না জানা ভাল । নাদিয়া বলে আপা আমি বাসায় যাই । ভাইয়া কি পড়ে আসবে না
কি আমার সাথে যাবে । নাজ বলে তুমি নিয়ে এসেছ তুমিই নিয়ে যাও ।
পাগল মানুষ টা ছাদে দাড়িয়ে কুয়াশার মধ্য আকাশের দিকে চেয়ে আছে । নাজ নাদিয়া ছাদে আসে পাগল কে ঘরে না পেয়ে ।
— ভাইয়া আকাশে কি দেখেন ।
—- নাদিয়া কে বলে আমি আকাশ দেখি না । দেখি একটা গতি । আমরা
যদি একবার সেই গতির দেখা পেয়ে যাই । তাহালে অনেক অনেক
দূরে কোথাও ।
নাজ বলল – ভাইয়া কালকে ডাক্তার আপনাকে একটু দেখা করতে বলেছে ।
নাদিয়া বলল – লোকটা আপনার কথায় খুব চিন্তায় পড়ে গেছে ।
পাগল নাদিয়া কে বলল – যার মধ্য চিন্তা আছে সে নিজেকে বদলাতে পারে আর যার মধ্য চিন্তা নাই সে অন্ধকার থেকে বের হতে পারে না । নাদিয়া চিন্তাশীল হও । নাজ তুমি পড়তে যাও । পরীক্ষার অল্প দিন বাকী আছে । নাজ নাদিয়া ছাদ থেকে যাওয়ার
সময় দেখে খুব সুন্দর করে পাগল আসন করে বসেছে আর তার চার পাশে অনেক গুলো জোনাক পোকা আলো জালছে । নাদিয়া নাজ কে বলে অবাক করা একটা মানুষ
চলমান——-
শিলার মা বলল – ভাই দুনিয়ায় যার কেউ নাই । তার আল্লাহ্ আছে । আল্লাহ্ আজ আপনাকে পাঠাইছে । আপনার যতদিন মনে চাইবে । আমার বাসায় থাকবেন । আমার বাসা এই শহরে লিচু বাগান । বিমান বন্দর রোড । নাদিয়া তুই ভাইকে নিয়ে বাসায় যা । বাংলা ঘরে সুন্দর একটা বিছনা করে দে। ভাই তুমি যেমন আমাদের চেন না। আমাদের জন্য তোমার রক্ত দিলে । আমিও তোমাকে চিনি কিন্তু আজ হতে তুমি আমার ভাই । নাদিয়া বাসায় নিয়ে যা। পাগল শিলার মাথায় হাত বুলিয়ে বলল মা মনি তারা তাড়ি ভাল হয়ে উঠ । নাদিয়া পাগল কে রিক্সা করে তার বাসার দিকে যাচ্ছে । পাগল বলল অনেক শীত লাগছে কি আপনার ।
— হ্যা
— নাক টা চাদর দিয়ে ঢেকে বসুন । কান ঢেকে দিন । আর চিন্তা করুন
আপনি ভাল আছেন ।
—- নাদিয়া হেসে বলল আপনি খুব মজার মানুষ । এই সিলেটে অনেক পাগল আমি
দেখেছি কিন্তু আপনার মত দেখি নাই ।
— পাগলটা নাদিয়ার দিকে চেয়ে একটু হেসে বলল পাগল দেখা যায় না । পাগল কে
অনুভবে বুঝে নিতে হয় । নাদিয়া আপনার কাছে বিশ টা টাকা হবে ।
— হ্যা হবে এই নেন ।
পাগল আম্বার খানা পয়েন্টে নেমে বিশ টাকা দিয়ে ফুল কিনল । নাদিয়া তার ফুল কিনা দেখে হেসে বলল কাকে দিবেন ।
— কেন আপনাকে দেব । গোলাপ আপনার খুব পছন্দ । নাদিয়া গত সাতদিন এই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় ফুল দেখে । কিনতে মনে চায় কিন্তু সময়ের জন্য কিনতে পারে না। ফুল গুলো পেয়ে খুব খুশি হল । নাদিয়া বলল কি নামে ডাকি আপনাকে
— পাগল একটু হেসে বলল আমার নাম অনেক বড় আপনার পক্ষে মনে রাখা সম্ভব
না । বরং আপনার যা ইচ্ছা ডাকুন । নাদিয়া হেসে বলে পাগল আপনি ।
— পাগল হেসে বলে এই নামটা আমার খুব প্রিয় দু জন মিলে এক সাথে হেসে দিল ।
ঝলমলে রোদ উঠছে । শীতের দিনে রোদ সবাই পছন্দ করে । নাদিয়া বলল আজ তিন দিন পড়ে সূর্যের মুখ দেখলাম । পাগল আকাশের দিকে চেয়ে বলে আকাশ আর
মানুষ এই দু এর কোন সীমা নেই ।। সিক্সা চলে আসে বাসার সামনে ।
মিলি ছাদে বাচ্চা কুলে নিয়ে বসে আছে । এমন সময় পাশের বাড়ির রেজিয়া বলে
আপা পাগল টা কোথায় । মিলি বলল ওকে পাগল বল না তো রেজিয়া । অ আল্লাহ্ বান্দা ।
—- আপা আপনি বলেন আল্লাহর বান্দা । আসলেই ঐ লোকটা একটা
সয়তান । জানেন আমি ওর ভয়ে জানালা খুলি না। খালি জানালার দিকে
চেয়ে থাকে ।
—- দেখ রেজিয়া তুমি যা বললে আর বল না । এত অল্প সময়ে কাউকে খারাপ বলা
চলে না। জোছনা এসে বলল – মামী আসলে রেজিয়া অ্যান্টি শুধু শুধু বেশী কথা
বলে ।
— মিলি বলল শুন রাজিয়া পাগলের সাথে যদি কথা বলে থাক । তাহালে মনে
রেখ এটা তোমার কপাল ।। এই বলে মিলি ছাদ থেকে তার ঘরে চলে
যায় । জোছনা ছাদের গাছ গুলোতে পানি দিতে থাকে ।
রেজিয়ার দেবর রেজিয়া কে ডেকে বলে ভাবি কাল কে তোমার ছবি তুলতে হবে । আগের ছবি দিয়ে তোমার পাসপোর্ট করেছি । এই নাও পাসপোর্ট । রেজিয়া পাসপোর্ট পেয়ে মহা খুশি । মনে মনে বলে পাগলের কথা কি ঠিক ? দেবর কে বলে আচ্ছা একটা কথা বলি তুমি যে অফিসে কাজ কর সেই অফিসের বস এর বউ কে কি তুমি চেন ?
রেজিয়ার দেবর এমন একটা ভাব নিল । দেখ ভাবি বস মানেই বস । আর তাদের বউ রা আরও বড় বস । আমি বসের বউ কে চিনি না। তবে শুনেছি ঐ মহিলা নাকি খুব খারাপ । রেজিয়ার দেবর জানে এক মহিলা অন্য মহিলার প্রশংসা শুনতে পছন্দ করে না। রেজিয়া তার দেবরের ফোনটা ভাল করে চেক করে । দেখে পরিচিত সব নাম্বার থেকে ফোন এসেছে ।। রেজিয়া আর দেবর মিলে তাদের বিদেশ যাওয়ার সব সময় ঠিক করে নেয় । প্রথমে তারা থাইল্যান্ড যাবে সেই খান থেকে অন্য দেশে ।
পাগল বিকেলে মেডিক্যালে আসে নাদিয়ার সাথে । নাদিয়ার ছোট বোন বলে – ভাইয়া আপনি এখানে বসুন । আমার নাম নাজ । আমরা তিন বোন । আমি নাজ । নাদিয়া আর নাজু আপু সবার বড় । সাথে সকালে তারা দু জন আমার মামা হয় । দুলা ভাই আজ লন্ডন থেকে আসবে রাতে ।। আপনি শুধু নাম নিয়ে রহস্য করছেন কেন ? আপনার নাম কি বলব বলেন । আমাদের ভাই তার নাম থাকবে না। শিলা ঘুম থেকে
উঠে পাগলের দিকে চেয়ে বলে – আম্মু আমি ওর নাম জানি ।
— শিলার মা মেয়ের দিকে চেয়ে । তাই মা মনি কি নাম বল শুনি ।
— মা আমি স্বপ্নে তাকে দেখছি । আমার জন্য সে আকাশ থেকে আসছে । কই মামা
আমার ফুলটা দাও । পকেট থেকে একটা অপরাজিতা ফুল দিল শিলার হাতে ।
শিলা বলল আজ ফুটেছে আমাদের বাগানে তাই না মামা ।
— হা মা । রাতেই ফুটেছে তোমার জন্য তাই নিয়ে এলাম । নাজ বলল শিলা
তুমি কি ভাবে জানতে । যে ভাইয়া ফুল নিয়ে আসবে ।
— খালা মনি আমি স্বপ্নে মামা কে দেখছি । মামা আমাদের বাসায় জানালা দিয়ে
এই ফুল ছিরেছে আমার জন্য ।
— নাদিয়া হেসে বলল তোমার সব স্বপ্ন সত্য হোক । ডাক্তার বলেছে কালকে তোমাকে
রিলিজ দিয়ে দিবে ।
— পাগলটা শিলার মাথায় হাত রেখে বলে বাসায় গিয়ে তোমার জন্য অনেক অনেক গাছ লাগিয়ে দিব । তোমার বাগান কে অনেক সুন্দর বাগান করে দিব । শিলার মা নাজু বলে ভাই তোমার কথা শিলার আব্বু কে বলেছি । সে বলেছে তোমার যখন যা লাগবে আমাকে বলবে । নাদিয়া চা দেয় পাগল কে । নাজ বলে ভাইয়া একটা কথা বলব আপনাকে ।
— হ্যা বল শুনি ।
— ডাক্তার কে আপনি টিপ সই দেখতে বললেন । আপনি চলে যাওয়ার পর
সে কাগজ টা ছিরে ফেলে । পড়ে অন্য একটা কাগজে সে নিজেই তার
ঠিকানা লিখে নিজেই সই করে রাখে । কি ছিল আপনার টিপ সই এ ।
— ডাক্তার আমাকে একটা ভুল কাগজে টিপ সই নেয় । আসলে ঐ কাগজটার পিছনে
একটা চিঠি ছিল । যা তোমার জানা দরকার নাই । নাজু বলে ঠিক অন্যের বিষয়
না জানা ভাল । নাদিয়া বলে আপা আমি বাসায় যাই । ভাইয়া কি পড়ে আসবে না
কি আমার সাথে যাবে । নাজ বলে তুমি নিয়ে এসেছ তুমিই নিয়ে যাও ।
পাগল মানুষ টা ছাদে দাড়িয়ে কুয়াশার মধ্য আকাশের দিকে চেয়ে আছে । নাজ নাদিয়া ছাদে আসে পাগল কে ঘরে না পেয়ে ।
— ভাইয়া আকাশে কি দেখেন ।
—- নাদিয়া কে বলে আমি আকাশ দেখি না । দেখি একটা গতি । আমরা
যদি একবার সেই গতির দেখা পেয়ে যাই । তাহালে অনেক অনেক
দূরে কোথাও ।
নাজ বলল – ভাইয়া কালকে ডাক্তার আপনাকে একটু দেখা করতে বলেছে ।
নাদিয়া বলল – লোকটা আপনার কথায় খুব চিন্তায় পড়ে গেছে ।
পাগল নাদিয়া কে বলল – যার মধ্য চিন্তা আছে সে নিজেকে বদলাতে পারে আর যার মধ্য চিন্তা নাই সে অন্ধকার থেকে বের হতে পারে না । নাদিয়া চিন্তাশীল হও । নাজ তুমি পড়তে যাও । পরীক্ষার অল্প দিন বাকী আছে । নাজ নাদিয়া ছাদ থেকে যাওয়ার
সময় দেখে খুব সুন্দর করে পাগল আসন করে বসেছে আর তার চার পাশে অনেক গুলো জোনাক পোকা আলো জালছে । নাদিয়া নাজ কে বলে অবাক করা একটা মানুষ
চলমান——-
Sunday, January 24, 2016
অ-মানব’- (৯ম পর্ব)
সেলিনা জাহান প্রিয়া: মিলি ঘুম থেকে উঠে কিছু টাকা হাতে নিয়ে পাগলের কথা মত গণক মহিলার কাছে ।
গণক মহিলা মহিলা জানে মিলি বিভিন্ন সময় তাঁর কাছে অনেক কিছু জানতে আসে ।
মিলি বলল – খালাম্মা ভাল আছেন ।
—- আরে মিলি যে আসো আসো । আল্লাহর কি ইচ্ছা তোমার কথা বলতে বলতে চলে আসলা ।
—- আমার কথা কেন খালাম্মা ।
—- তোমার বাসায় নাকি একজন পাগল জাগা দিয়েছিল ।
—- হ্যা , তাই তো আপনার কাছে আসলাম । একটু গণনা করে দেখেন তো আসলে মামলা কি?
—- তাহালে মিলি একটু বসও । ওজু করে এসে বলল ।মিলি চিন্তা কর না- বলছি । চোখ বন্ধ করে
বলতে লাগলো । মিলি আগে সালামি দাও । মিলি ৫০০ টাকা দিল । বল মিলি কিজান্তে চাও ?
—- খালাম্মা । আমার বাসার পাগল টা ভাল না কি কোন মতলব আছে ।
—- চোখ বন্ধ করে তজবি হাত উপর করে বলছে । ছেলেটা পাগল । তবে মাথা ভাল হলে কিছু
খারাপ
হবে । তবে মাথা ভাল হবে না।
—- পাগল ছেলেটা কি লিখা পড়া জানে ।
—- আরে না মিলি কিছুই জানে না।
—- আচ্ছা খালাম্মা আর একটা কথা আমার স্বামী আর আমি কি সন্তানের মুখ দেখতে পারব ।
—- মিলি মা সব কপাল । তোমার সাথে একটা যে মানুষ টার বিয়ে হয়েছে । সে কোন দিন বাবা
হতে
পারবে না। আমার গণনা । ভুল হতে পারে না। তোমার যে বয়স মা। তুমি এই স্বামী ছেরে আর
তো বিয়ে ও করবে না। যদি স্বামী ছেরে বিয়ে কর । নতুন সংসারে বাচ্চা হতে পারে । আমার গণনা
ভুল হতে পারে না। মিলি মা আর কিছু জানতে চাও ।
—- না খালাম্মা আর কিছু না। মনে মনে মিলি বলে । স্বামী ছাড়তে পারব না। ৩৫ বছর বয়সে
স্বামী ছারলে মানুষ কি বলবে ? মিলি গণক খালার বাসা থেকে রাস্তায় আসতেই দেখা তুতুলের
সাথে
কি তুতুল বিকালে বাসায় আসো । জী মিলি খালা আমি আসব । আমাকে একটা কর্ক কিনে দিবে
ব্যাট খেলব । ঠিক আছে তুতুল এসো । বাড়ির পাশের দোকানদার মিলি কে দেখে বলল – আপা
আমার বউ কে আপনার একদিন ডাক্তারের কাচ্ছে নিয়ে যেতে হবে । মিলি বলল – ঠিক আছে আমার কাছে আসতে বল । আমি কথা বলে নিবে । মিলি কে এলাকার সবাই যে কোন কাজে ডাকে ।।
পাগলের জন্য সকালের খাবার নিয়ে জোছনা ছাদে এসে দেখে পাগল রোদের মধ্য বসে আছে । জোছনা বলল– পাগল ভাই আসেন খাবেন ।
— দিনের বেলায় জোছনা দেখা যায় !
— আপনে যে কি বলেন ভাই জান ? আমি কি চাঁদ যে রাতে উঠবো ।
— হ্যা ঠিক তো । জোছনা !
—আচ্ছা পাগল ভাই আপনি পায়ে জুতা পরেন না কেন ?
— পাগল বলে জুতা পড়ি না ।
— না । আপনি মিছা কথা বলছেন ।
—- সত্য কোনটা জোছনা ?
— সেইটা আপনে ভাল জানেন ।
—- পাগল একটু হেসে বলল জোছনা মানুষ অনেক সত্য জানে শুধু স্বার্থের নেশায় সে সত্য
গোপন
করে । তারা মনে করে সত্য গোপন করলে তা কেউ জানবে না। কিন্তু এটা জানে না । সত্য
আলোর মত যা প্রকাশিত হবে । তুমি অনেক ছোট বুঝবে না। আর গত কাল তুমি ঘরে একা
বসে
যে চিন্তা করেছ এটা করবে না। কারন তুমি ছোট আর সত্য জানতে অনেক সময় বড় হতে
হয় ।।
—- আচ্ছা পাগল ভাই আমার বাবা মা কি আসবে ।
—- অপেক্ষা কর আসবে ।
জোছনা ছাদ থেকে নেমে চলে যায় । পাশের বাড়ির রেজিয়া জানালা দিয়ে দেখ পাগল কি করে। পাগল মনে মনে হাসে । পাগলের হাসি দেখে রেজিয়া বলে পাগলের সুখ মনে মনে তাই সে একা একা হাসে ।।
আজিজ মিয়ার মনটা ভাল না । কিন্তু তার মনের মধ্য ভয়টা এখনো শেষ হয় নাই । ছাদে যেতে পারছে না । না জানি মিলি কিছু বলে । যাই হোক তবু সে ছাদে গেল পাগলের মতিগতি বুঝার জন্য । পাগল ছাদের এক কোনে পাগল দাড়িয়ে । আজিজ মিয়া পাগলকে বলল- কি পাগল মামু ভাল আছ না কি?
—– পাগল ঘাড় ফিরিয়ে একটা হাসি দিয়ে বলল , আজ পর্যন্ত কোন পাগল বলে নাই সে খারাপ
আছে ।
একমাত্র পাগলেই কোন দিন মন্দ থেকে না ।
—–আসলে তুমি কে ?
—- আমি কে এটাই জানার চেষ্টা করছি !
—- পাগল মামু তোমার কি কোন নাম নাই ।
—- রাস্তার কত জন পাগল তার নাম বলতে পারে ।
—- দেখ আমি একটা ব্যাপারে তোমার কাছে এসেছি ?
—– পাগলের কাছে কি কোন জ্ঞান থাকে । যদি জ্ঞানেই থাকত আমার তাহলে কি কেউ আমায়
পাগল
ডাকত !
—– দেখ আমি জানি তুমি পাগল না । কারন পাগল রা যুক্তি দিয়ে কথা বলে না।
—– হ্যা আমি পাগল না তবে আমি মানুষ ও না ।
—- তুমি পাগল ও না মানুষ ও না তাহালে তুমি কে ?
—- দেখুন আপনি কি আমাকে জানতে এসেছেন । নাকি আপনার সম্মান বাচাতে এসেছেন তা
পরিষ্কার করুন ?
—- হ্যাঁ আমার সম্মান বাচাতে এসেছি ।
—- দেখুন এটাই উত্তম । তাই হউক ।
—– তাহালে আমার স্ত্রী কে তুমি বলবে না ।
—- পিছনে মিলি খালা আসছে । আজিজি চেয়ে দেখে । মিলি ছাদের কর্নারে দিকে আসছে ।আজিজ
মিয়া এমন একটা ভাব ধরল যে পাগল কে খুব ভালবাসা দিচ্ছে । মিলি বলল স্বামী কে –
—– এই তুমি ছাদে কি কর । আজ অফিস নাই তোমার ।
—– অফিস আছে তবে ফোনে বলেছি আসতে একটু দেরি হবে
—– যাও তুমি অফিসে যাই । আসার সময় ওর জন্য দুইটা প্যান্ট আর দুইটা টি সার্ট নিয়ে আসবে ।
—– আচ্ছা ঠিক আছে । তা তোমার পাগলের চুল দাড়ি যে অবস্তা ।
— এটা নিয়ে তোমার ভাবতে হবে না। তুমি যাও । আজিজ মিয়া চলে যায় । মিলি বলে এই
মানুষটা সহজে ছাদে আসে না । নিশ্চয় কোন মতলবে । বুঝতে পারছ । মনে হয় অমাকে
ঘুস দিতে এসেছিল । আমাকে দেখে পালাইছে ।
—– না মিলি খালা তেমন মনে হয় না। আচ্ছা গণক মহিলার কাছে গিয়েছিলেন ।
—– হ্যা সকালে গিয়েছিলাম । ৫০০ টাকা দিয়ে জানে আসলাম ।
—- কি আপনাকে আবার বিয়ে করতে বলেছে ?
—- হ্যাঁ ঠিক তুমি জানলে কি ভাবে ?
—– গণক রা মানুষের মনের দুর্বলতা নিয়ে খেলে । দুনিয়ার প্রতিটা মানুষ । কোন না কোন ভাবে
কষ্টে আছে । কারন মানুষ কে স্রষ্টা পরীক্ষা মূলক প্রাণী হিসাবে দুনিয়ায় পাঠাইছে । তাই
মানুষ কে জন্ম থেকে মৃত্য পর্যন্ত শুধু পরীক্ষা দিতে হচ্ছে ।
—– বাহ ! সুন্দর কথা । আচ্ছা পাগল ছেলে বলত ঐ মহিলা আমাকে বলল আমি আবার বিয়ে
করলে মা হব , এটা কি তো সে মিথ্যা বলেছে । ডাক্তার আমাকে বলেছে যে আমি কোন দিন
মা হতে পারব না ।
—– হ্যা খালা মনি এটাই সত্য । তবে আপনি মা ।
—– কি ভাবে আমি মা ? সবাই মা বলে তাই আমি মা ।
—– না ! আমি যদি একটা কথা বলি তাহালে কি মেনে নিবেন । আচ্ছা দেখুন আপনি না হয় মা হতে
পারবেন না। কিন্তু আপনার স্বামীর তো বাবা হবার অধিকার আছে ।
—- আরে পাগল আমি অনেক বার চেষ্টা করেছি । আজিজ কে বিয়ে করাতে ।
—- আজিজ মামা আপনাকে অনেক ভালবাসে । তাই না ।
—- হ্যা ভাল বাসে । কিন্তু আমার কোন কথা শুনে না।
—- আপনি কি মা ডাক শুনতে চান । যদি শুনতে চান তাহালে বলি ।
—– মিলির চোখে পানি টল টল করে ঝরছে । বল পাগল ! শুনি তোর কথা !
—– খালা মনি স্রষ্টা অনেক সময় অন্যের মধ্য দিয়ে তার প্রিয় মানুষ কে সুখি করে । হয়ত এটাই
তিনি ভাল জানেন । আমাদের জানা পরিবর্তন শীল । আর স্রষ্টার জানা অপরিবর্তন শীল ।
তাই স্রষ্টার প্রতি জিবনের প্রতি প্রেম আর ভালবাসা বিলিয়ে আপনি স্রষ্টার অংশ হয়ে মানুষের
কাজ করুন ।
—— মিলি বলল তুমি কি মানুষ না অন্য কিছু আমাকে বলত । জিবনে এত সুন্দর করে কেউ কোন
দিন বলে নাই
——- মিলি খালা আপনি ঘরে জান । আমি আপনাকে আপনার সন্তানের কাছে নিয়ে যাব ।
কিন্তু আপনি এই কথা কাউকে এখন বলবেন না ।
—– আমার সন্তানের কাছে । ঠিক বুঝলাম না ।
—– মিলি খালা । আজিজ মামার সন্তান কি আপনার সন্তান না ।
—- মানে আজিজ বিয়ে করেছে ।
—– হ্যা । কিন্তু ঐ মেয়েটা কে এখন সে মেনে নিচ্ছে না। কারন ঐ মেয়েটার আগে একটা বিয়ে হয়ে
ছিল । বিয়ের সময় মেয়েটা ঐ কথা লুকিয়ে রাখে । আগের স্বামী মামলা করে । কিন্ত পুলিশ
দেখল আগের স্বামী প্রতারক । তাই তার বউ এসে তাকে মুক্ত করে দিয়ে যায় । মিলি খালা
ছেলেটা অনেক সুন্দর মনে হয় তিন বছরের । আর মেয়েটা এখন কুল হারা ।
—– তুমি কি শুনালে আমাকে ? আমি ওদের আনতে যাব । তোমাকে নিয়ে । কাউকে বলব না।
চলমান———
ধারাবাহিক গল্প # অ- মানব # ১২ তম পর্ব
মিলির ঘর আলো করে মিলি পুত্র এলো । কিন্তু মিলির মায়া লাগছে পাগলটার জন্য । কোথায় গেল না বলে । আসলে ও কি পাগল । মিলি অনেক প্রশ্নের উত্তর অজানা । কিন্তু মিলিকে অল্প সময়ে দিয়ে গেছে অনেক না বলা কথা । আজ মিলির খুব মনে পড়ছে কেমন ছিল ওর মা । বাবা কোন দিন মিলি কে বলে যায় নি তার মায়ের কথা । বাবা সব কিছু আমার নামে করে দিল । এই মা হয়ত আমাকে সব দিয়ে সে তার ভুলের অনুশোচনা করছে । আমি কিন্তু আমার এই মায়ের মত ভুল করব না। পাগলটাই ঠিক বলেছে নিজের বলে কিছুই তার নেই । অনেক ভাবনায় মিলি ঘুমেয়ে
পড়ে । জোছনা মিলির মায়ের কাছে বলে নানু আব্বুর গরুটা কি হবে । মিলির মা হেসে বলে হবে । জোছনা খাটে বসে পাগলের শিক্ষা দেয়া চোখ বন্ধ করে দেখতে চায় ও বাবার গরুটা ।জোছনা কিছু ক্ষণ পড়ে দেখে ওর বাবা দুইটা গরুর বাচ্চা কিনেছে । জোছনা একটা হাসি দিয়ে ঘুমেয়ে পড়ে ।
মিলি খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে ছাদে যায় । পাগল বোতল কেটে কি সুন্দর করে নাম না জানা পথের ধারের কিছু লতা পাতা লাগিয়েছে । যেন এক দিনেই মনে মত একটা বাগান । কছু গাছ যে এত সুন্দর লাগে মিলি তো অবাক শিশির পড়ে জমে আছে তাতে । মিলি অনেক বছর পড় এই শহরে নিজের হাতে শিশির নিল ।
জোছনার বাপ সকালে হোটেল থেকে নাস্তা নিয়ে আসার সময় , নাপিত ছেলেটা এক বিশাল হাসি দিয়ে বলল । ভাই ঐ মানুষটা কি বাসায় আছে । জোছনার বাপ বলল কেন? নাপিত বলল - ঐ লোক আমার পাচ বছরের কাজ । পাঁচ মিনিটে করে দিয়েছে ।
----------------------------------------------------------------------
পাগল টা কমলা পুর থেকে একটা লোকাল ট্রেনে সারা রাতে চলে এসেছে সিলেটে । এখন কেউ দেখলে তাকে পাগল বলবে না । পড়নে দামী জুতা জামা কাপড় । ট্রেন থেকে নেমে সোজা হাটা দিল শহরের দিকে । শীতের দিন বলে হয়ত শহর একটু নিরব।
দুই জন মহিলা রিক্সা না পেয়ে খুব তারা তাড়ি হাঁটছে । রাস্তার চায়ের দোকানে খুব বেশী ভীর । সকালে সিলেটের মানুষ মনে হয় চা একটু বেশী খাঁয় । পাগল টা চায়ের দোকানে সামনে এসে দাঁড়ালো । ঐ দুই জন মহিলা ঐ চায়ের দোকানের সামনে এসে একজন কে বলল - তোমার কোন আক্কল জ্ঞান নাই । রক্ত মিলে না ।
বাচ্চা বাচাইতে চাইলে রক্ত লাগব । বসে থাকা দু জন মানুষ বলল - ও নেগেটিভ রক্ত
তো চাইলে ও মিলে না। পাগল ওদের দিকে তাকিয়ে বলল - চিন্তা করবেন না । আমার রক্তের গ্রুপ ও নেগেটিভ । একজন মহিলা ফোন করে কাকে জানে বলছে - ও মা আল্লাহ্ মিলাইয়া দিছে । এর মধ্য পাগল কে চা দিতে বলছে । পাগল চা খেতে খেতে একটা গাড়ি চলে আসলো । মহিলা ও পুরুষ সবাই গাড়িতে উঠল পাগল কে নিয়ে ।
একজন বলল - সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় । ভাইসাব আপনের খুনের গ্রুপ নেগেটিভ কিল্লা ? পাশের মহিলা বলল - আল্লাহ্ যারে জিমান দিছে । অগুতা অনেক দামী ।
পাগল হেসে বলল- যখন স্রষ্টা মনে করে তার তাকে বাচাবে তখন তার ব্যবস্থা তিনি করেন । তবে চেষ্টা মানুষ কে করতে হবে ।
একজন বলল- আপনার বাড়ী কোথায় ? পাগল বলল আগমন জানি প্রস্তান হব জানি । তাই বাড়ী নিয়ে কোন চিন্তা নেই ।
--- আপনার কথা ঠিক বুঝলাম না।
--- এই যে বিশাল সাগর । এত মাছ পোকা জলজ প্রাণী এদের কোন বাড়ী আছে ।
--- না , নাই
--- তাহালে আমার ও বাড়ী নাই ।
হাসপাতালের সামনে থেকে নেমেই । চলে গেল ল্যাবে । ডাক্তার রক্তের গ্রুপ করে দেখল ঠিক আছে । ইতিমধ্য অনেক মানুষ চলে এসেছে যে রক্ত পাওয়া গেছে শুনে । এই শীতের মধ্য একজন ডাব । একজন হাতে জুস নিয়ে দাড়িয়ে আছে ।
ডাক্তার বলল - আপনি এই কাগজে সাক্ষর করেন । পাগল বলল - আমার টিপ
সই নেন । আমি লিখতে জানি না। ডাক্তার বলল- আপনাকে দেখে মনে হয় না যে আপনি শিক্ষিত না। এই বার পাগল হেসে বলল - আপনি কি শিক্ষিত ?
--- হ্যা আমি শিক্ষিত না হলে কি ডাক্তার হতে পারতাম ?
--- পাগল বলল - আপনি কিছু বিষয় পড়েছেন যা অন্য লোকের আবিস্কার ।
আপনি হলেন সেই সব অবিস্কারকের অনুসারী । যদি আপনি শিক্ষিত
হতেন তাহালে সব জানতেন । চায়না পড়তে পারেন ডাক্তার ?
--- ডাক্তার বলল না
--- তাহালে আপনি বলবেন আমি বাংলা ইংলিশ জ্ঞান জ্ঞাত । কিন্তু আপনি শিক্ষিত
না । মানুষ এখনো শিক্ষিত হতে পারে নাই । মানুষ যদি শিক্ষিতই হতো তাহালে
দুনিয়ায় শিক্ষিত মানুষ গুলো এত পাপ জুলুম অত্যচার করত না।
--- ডাক্তার চুপ হয়ে গেল ।আর কোন কথা বলল না। সামনে ফরম রেখে বলল
আপনার নাম বলুন লেখি ।
---- পাগল বলল আমি রক্ত দিতে এসেছে নাম দিতে না। যদি হয় একটা টিপ সই দিব
। যা খুশি লিখে নেন ।
---- ডাক্তার বলল টিপ নেয়ার মত কিছু নাই । মানে কালি নাই ।
---- পাগল বলল ঠিক আছে আমি দেখছি বলে একটা মেয়ের ব্যাগ হাতে নিল । মেয়ের
ব্যাগ থেকে একটা আই লাইনার নিয়ে বুড়ো আঙ্গুলে লাগিয়ে কি সুন্দর টিপ
দিল । রক্ত দিতে দিতে বলল - ডাক্তার আপনার এই হাসপাতালে আপনি
সহ ১১ জন ও নেগেটিভ রক্তের লোক আছে । কিন্তু ডাক্তার আপনি শুধু রক্ত
নিয়েই গেলেন । কিন্তু আপনি আজ পর্যন্ত কাউকে এক ব্যাগ রক্ত দেন নাই ।
--- ডাক্তার বলল আমার রক্ত ও নেগেটিভ আপনাকে কে বলল ।
--- ডাক্তার আমি তো আপনার মত না । আমি কিন্তু শিক্ষিত তবে আমি চলে যাবার
পড় । আমার টিপ সই দেখে নিবেন ।
পাশ থেকে একজন বলল এই ডাক্তারের রক্ত ও নেগেটিভ ? পাগল বলল হ্যাঁ কিন্তু
তোমার রক্তের গ্রুপ কি ? জি আমার জানা নেই ? আগে নিজের টা জানতে চেষ্টা কর
তার পর অন্যের টা জানিও ।। পাগল তার রক্ত দেয়া শেষ করলো ।
বাচ্চা বলতে একজন ১৪ বছরে মেয়ে অপারেশনে প্রচুর রক্ত ঝরেছে । ডাক্তার ভাবতেও পারে নাই । এত ছোট একটা টিউমার অপারেসানে রক্ত লাগবে ।
যে চার জন সাত সকালে পাগল কে নিয়ে এসেছে এদের একজনের মহিলার নাম নাজু । অন্য জনের নাম নাদিয়া । তাদের বোনের মেয়ে হল শিলা । শিলার মায়ের নাম নাজু । নাজু ডাক্তারের সাথে কথা শেষ করে । দুই বোন কে ডেকে বলল - রক্ত দেয়া মানুষ কোথায় । নাজু বলল - আপা লোকটা জানি কেমন । কারো দিকে তাকায় না। কিন্তু খুব চমৎকার কথা বলে । এই হাসপাতালে নাকি ১১ জন মানুষের ও নেগেটিভ রক্ত আছে কিন্তু তারা নাকি কেউ রক্ত দেয় না।
--- ওরা ডাক্তার । আর ডাক্তার মানেই মমতা কম । তুই দেখ লোকটা কোথায়
আমার সাথে দেখা না করে যেন যায় না। শিলা রক্ত নেয়া শেষ হলে হয়ত
আল্লাহর রহমতে ভাল হবে ।। যা যেয়ে দেখ মানুষটা কোথায় ।
পাগল শীতের মধ্য একটা ডাব খেল । ডাক্তার বলল - ভাই আপনার নামটা যদি
বলতেন । পাগল এবার বলল আজ পর্যন্ত কেউ আমাকে নাম দেয় নাই । যাযাবর আর
পাগলদের নাম কেউ মনে রাখে বলে জানি না। পাশ থেকে একজন নার্স হাসছে । পাগলটাও নার্সের দিকে চেয়ে হেসে বলে - যারা কষ্ট পেতে জন্ম হয় তারা অল্পতে হাসতে পারে । নার্স বলল - আপনি কি মনে করেন আমি কারো দারা কষ্ট পাব ।
পাগল বলে কারো দারা না । বিশ্বাস দারা মানুষ কষ্ট পায় ।
পাগল কে লক্ষ্য করে বলল ভাই নাদিয়া বলল - আপনি আমার বোনের সাথে দেখা না করে কোথাও যাবেন না । পাগল বলল - কে আপনার বোন । ডাক্তার বলল - যেই রোগী কে রক্ত দিলেন সেই রোগীর মা। পাগল বলল - আপনার বোন বলবেন - আমি দেখা না করে কোথাও যাব না। নাদিয়া বলে আসুন আমার সাথে । পাগল কে নিয়ে
নাদিয়া হাসপাতালে হেটে শিলার রুমের দিকে যাচ্ছে । নাদিয়া বলল - আপনি নাকি খুব অদ্ভুত মানুষ । নাম বলেন না। আমার বোন বলল । আমার তিন বোন কোন ভাই নাই । বড় বোনের বিয়ের সাত দিন পর বাবা মারা যায় । আমাদের দুলাভাই মানে যাকে আপনি রক্ত দিলেন তার বাবা আমাদের ছোট বেলা থেকে লালন পালন করেছে । আমরা গত কাল বিকাল থেকে রক্ত পাগলের মত খোঁজতে ছিলাম । আমি
এই সকালে গিয়েছিলাম একজনের কাছে তার রক্তের কথা শুনে । কিন্তু সে নাকি ঢাকা গিয়েছে । আমাদের একটা মাত্র বোনজি । ওর কিছু হয়ে গেলে আপা দুলাভাই কে মনে হয় বাচাতে পারতাম না। আপনি কোথায় থেকে আসলেন । এ যেন আল্লাহ্ আমার দুলাভাইরের জন্য নিজের হাতে আপনাকে পাঠাইছে । পাগল বলল- দেখুন সব ভাল কাজের একটা পুরষ্কার আছে । এটা হয়ত তাই । আমি কি মনে করে মিলি খালা কে না বলে হাঁটতে হাঁটতে কমলা পুর চলে আসি । আর কি মনে করে ট্রেনে উঠি আমি নিজেই জানি না। সব চেয়ে মজার কথা সারা ট্রেনে আমি ঘুমিয়ে আসি আমার কাছে কেউ টিকেট পর্যন্ত চায় নাই । আসল কথা কি জানেন । এদেশের মানুষ সুন্দর চেহারা আর ভাল পোশাক দেখলে মনে করে , না জানি কত বড় অফিসার ।। আর ভয় পাওয়ার
কারন হল । যে টিকেট চাইবে সে তো সরকার কে প্রতিদিন দশ বিশ টাকায় কিনে ।
এটাই আজব দেশ যে খানে সত্য দেখার পর চশমা পড়ে মানুষ বলে কিছুই দেখি নাই ।।
পাগলের কথায় নাদিয়া একটু হাসে । যেন অনেক দিন পর নাদিয়ার মুখে সূর্য উঠেছে........................।
চলমান -------------------------
ধারাবাহিক গল্প # অ- মানব # ১১ তম পর্ব ।।
সেলিনা জাহান প্রিয়া
--------------------------------------------------------------
সন্ধ্যা সময় পাগল মানুষটার জন্য জোছনা চা নাস্তা নিয়ে ছাদে এসেছে । পাগলের দিকে চেয়ে বলে এত পানি ও তেলের খালি বোতল কেন কাটছেন । পাগল জোছনাকে বলল- তুমি এত হাসি খুশি কেন ।
---- পাগল ভাই জানেন আমার মা বাবা আসছে । এই যে আপনার জন্য পুলি পিঠা নিয়ে
আসলাম । মায়র হাতের পিঠা কি যে মজা । আমি একাই অনেক পিঠা খেয়েছি ।
---- তা তোমার বাবা মা ভাল আছে ।
----- ভাল তো দেখা যায় । আমার বাবা তো তেমন কোন কাজ করে না। তাই মায়ের সাথে
প্রায় একটু ঝগড়া হয় । তবে আমার বাবা মিলি মামী রে খুব ভয় পায় ।
----- জোছনা আসলে তোমার বাবা তাকে ভয় পায় না। সম্মান করে । আমাদের গ্রামের
মানুষ শহরের মানুষের চেয়ে অনেক বুদ্ধিমান ।
---- কেমনে বুদ্ধি মান পাগল ভাই ।
---- গ্রামের মানুষ শাকসবজি মাছ মাংস খায় একদম তাজা আর ঐ খানে অক্সিজেন হল
সীসা মুক্ত । মানুষ বেশীর ভাগ কাজ করে পরিশ্রম করে । তাই তাদের মন ও শরীর
শহরের মানুষের চেয়ে ভাল । বোকা মানুষ গুলো শহরে পড়ে থাকে ।।
---- আপনার কথার আগা মাথা কিছুই বুঝি না পাগল ভাই ।। এখন এত গুলো বোতল কেন
কাটলেন । আবার দেখি কিছু টিনের পট ও কেটেছেন ।
---- জোছনা কাজ শেষ হলে দেখবে । তোমার বাবাকে বলবে এক বস্তা ভাল মাটি এনে দিতে ।
পাগল বোতল কেটেই যাচ্ছে । জোছনা নাস্তা রেখে চলে গেল সিঁড়ি দিয়ে ।
-----------------------------------------------------
মিলি ফোনের অপেক্ষা করছে । কখন থানা থেকে ফোন আসবে । মিলির মা মিলির কাছে বসে মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে । জোছনা আর তার মা রান্না নিয়ে ব্যস্থ । জোছনার বাবা টি ভি দেখছে । সবাই কেমন জানি চুপচাপ । বাসা একদম নিরব । আজিজ মিয়া বাসায় এসে দেখে সবার মন খারাপ । মিলি কে বলে -- কি হয়েছে । তোমাদের পাগল কি ডাকাতি করে পালাল নাকি ।
মিলি স্বামীর দিকে খুব মায়ার দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল
---- ডাকাত যে কে আজো তা জানি না ।
---- তা তোমার পাগল কোথায় ? পালাইছে না কি ?
---- পালাই নাই । জামা কাপড় জুতো এনেছে ?
---- ওহ ! সময় পাই নাই । ভাবলাম তোমার পাগল আছে কি না!!
---- দেখ তুমি এখন যাবে এবং সব কিছু কিনে নিয়ে আসবে ।
আর জোছনা শুন তোর বাবা কে বলল ছাদ থেকে ওকে নিয়ে সেলুনে যেতে । মাথার চুল দাড়ি ঠিক করে নিয়ে আসতে । মার কাছ থেকে টাকা নিয়ে যেতে বল । আর তুমি
ওর সব কিছু ভাল দেখে কিনিও । আজিজি মিয়া ঘরে চা খেয়ে সবার দিকে এক নজর দেখল । কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না। তাই জোছনা কে বলল - সবাই এত মন মরা কেন ? জোছনা বলল -
বলা যাবে না। মামী ও পাগল ভাইয়ের নিষেধ । আজিজ মিয়া কিছুই বুঝে উঠতে পারলো না। মিলি
তার মায়ের সাথে বসে কথা বলছে । জোছনার বাবা পাশের একটা রুমে খাট বিছাচ্ছে । আজিজ মিয়া বলল তোমারা কি ঢাকায় থেকে জাবা নাকি । জোছনার বাপ বলল - না ভাই জান । আপা বলল তাই করছি । আপার নাকি কে আসবে । আজিজ মিয়া মিলির কাছে জানতে চায় আবার কে আসবে । মিলি রাগের চোখে বলে আজিজ তুমি যাও তো । যখন কেউ আসবে তখন দেখতে পাবে । আমাকে শুধু শুধু বিরক্ত কর না তো । আজিজ মিয়া কিছু না বলে চলে যায় । মিলি নতুন ঘরটা ভাল করে দেখে নিজেই নিজের চোখে পানি মুছে । জোছনা মিলির কাছে এসে কাঁদতে থাকে । মিলি জোছনা কে বলে ফোন যেন আমি ছাড়া কেউ না ধরে ।।
------------------------------------------------------------------------
পাগল মানুষটা নিয়ে জোছনার বাপ সেলুনে গেছে । সেলুনের নাপিত বলে
এটা কারে নিয়ে আসছেন । এ দেখি দয়াল বাবা মজনু । প্রেমে কি ছিকা টেকা খাইছে নাকি । পাগল নাপিদের দিকে চেয়ে বলল
--- তুমি মনে হয় প্রেমের ব্যাপারে মহা জ্ঞানী । নিজের চক্রায় তেল দাও ।
--- আরে ভাই মাইন্ড করেন কে ।
---- মাইন্ড করি নাই । আমি মাইন্ড করলে তো তোমার খবর আছে ।
---- নাপিত হেসে বলে । কি খবর ভাই পাগল ।
--- আমি মিলি খালা কে জেয়ে বলব তুমি আমাকে কি কি বলেছ । গালে স্নো মেখে
রাখো । থাপ্পড় খাওয়ার জন্য ।
--- সরি ভাই । ভুল হয়েছে । মিলি খালা কে কিছু বলবেন না।
--- না তুমি অনেক বেড়ে গেছ । এমন সময় দোকানের মালিক এসে নাপিত কে
দুই চর দেয় । আর বলে মিলি আপা যদি শুনে যে তুই তার মেহেমানের সাথে
এমন করিস । তাহালে মহল্লার সব পোলা পাইন তরে আমারে সাইজ করবে ।।
নাপিদের চুল কাঁটা শেষ হলে পাগল নাপিদের কানে কানে বলে - বাসায় যাওয়ার
সময় পাশের দোকান থেকে মহা জনের মেয়ের জন্য একটা বড় ফেয়ার অ্যান্ড লাভলী
কিনে নিয়ে যাবি । আর বলবি আমার চোখে দেখা সব চেয়ে সুন্দর মেয়ে তুমি ।
পাগল জোছনার বাপ কে সাথে নিয়ে রাস্তায় আসে শীতের রাতের আকাশ কে আরেক বার দেখে । জোছনার বাপ পাগকে বলে নাপিত কি বললেন । পাগল এক গাল হেসে
বলল কাল কে আপনি সকালে নাপিদের দোকানে যাবেন । দেখবেন আমি কি বলেছি ।
পাগল ছাদে ফিরে এলো । মিলি এসেই বলল -
----- আমাকে থানায় যেতে বলেছে এই মাত্র ফোন এলো । আমার বান্ধবির ভাই
ওদের থানায় নিয়ে এসেছে ।
---- পাগল আবার আকাশের দিকে তাকায় , একটু হাসে তার পড় মিলি কে বলে
যাও । কিন্তু আমার কথা কাউকে বল না । তাহলে কিন্তু আমার আবার
পালাতে হবে ।
--- ঠিক আছে আমি থানায় যাচ্ছি । তোমাকে অনেক সুন্দর লাগছে । গরম পানি
লাগলে জোছনা কে বলিও । আর ঐ বাড়ির রেজিয়া কিছু বললে আমাকে বলিও ।
ওর সাথে কোন কথা বলিও না।
মিলি থানায় এসেই দেখে একটা খুব শান্ত মেয়ে । বাচ্চা কুলে নিয়ে বসে আছে । তাকে কেন থানায় আনা হয়েছে তাও সে জানে না। মিলি বাচ্চাটা কুলে নিয়ে বলল - তুমি কি আজিজ মিয়ার স্ত্রী । মেয়েটি মাথা নাড়া দিল । মিলি থানা থেকে বিদায় নিয়ে বাচ্চা ও বাচ্চার মাকে নিয়ে বাসায় আসে । মিলির মা বাচ্চা কে জড়িয়ে বুকে নেয় । জোছনা খুব খুশি । মিলি বাচ্চার মায়েকে বুকে জড়িয়ে বলে তুমি আমার বোন । কারো কোথায় দুঃখ নিবে না। আজ হইতে এই বাড়ী আর এই সংসার আমাদের । আজিজ মিয়া বাসায় এসে নিজেই খুব ভয় পেয়ে গেল । কিন্তু দেখল খুব স্বাভাবিক সবাই । মিলি বলল- যাও আমি তোমাকে আজ ঐ পাগলের জন্য মাপ করে দিলাম । আজিজ মিয়া ছাদে যায় পাগলকে সরি বলবে বলে । পাগল মানুষটা এত বড় একটা সমস্যা সমাধান করে দিল । আসলেই পাগলটা যাদু জানে ।। ছাদে এসে দেখে পাগল নাই ।
ছাদের ঘর খালি । আজিজ মিয়া জোছনা কে ডেকে বলে কি রে পাগলটা কোথায় । মিলি আসে । এসে দেখে ছাদে পাগল নাই । মিলি চেয়ে থাকে ছাদের চার পাশ । কি সুন্দর করে গাছ লাগানো । এত সুন্দর করে বোতল গুলো কেটে গাছ লাগাল । মনে হয় এটা অন্য ছাদ না অন্য কোন জায়গা । মিলি বলে অনেক রাত কোথায় গেল পাগলটা । রাত একটা বাজে পাগলটা হাঁটতে হাঁটতে চলে এসেছে কমলা পুর ।
চলমান-------------------------
Saturday, January 23, 2016
কবিতার রাজপুত্র
---- সেলিনা জাহান প্রিয়া-
কবিতার রাজপুত্র চলে এসো হিমশীতল বিকেলে
তোমার পঙ্খী রাজে চরে পারিদেব সাত সমুদ্র
শত নদী পাহাড় শস্য শ্যামল বন বনানী আজ,
নতুন সকাল দেখব আমি বর্ণালী হাওয়ায় উড়ে
আকাশ থেকে ঝড়বে আলো মনের জানালায় ।
আকাশ ছুয়ে মেলব ডানা সাদা মেঘ হয়ে আমি
হয়তোবা এই ছুটে চলা অন্তহীন কবিতার রাজপুত্র
খোজা খুজি কতোদিকে,বে-হিসেবী মনের কথা বলা
মনের অনন্ত আকাংখ্যা সত্য বৈচিত্রময় এ পৃথিবী
অবিরাম বর্ষন, স্বপ্ন দেখানো কর্ষিত ভূমিতে আমি
মায়াবী ধুলী ঝড় কুয়াসার চাদরের রোমাঞ্চ রহস্য
উদ্দীপ্ত সূর্যালোক, সাত সকালে তুমি কবিতার রাজপুত্র ।
আমি একটু বাতাস হয়ে উড়িয়ে উড়ে যেতে চাই
আমার ঘন কালো চুলে একটু বৃষ্টি নামুক অসময়ে
ঢেউ খেলানো চুলে একটু মিষ্টি হাসি তোমায় দেখি
তোমার ঐ বাকা চাহনি স্বপ্নে চেয়ে থাকি কবিতার রাজপুত্র ।
চলে এসো মহা প্রান, আনন্দ সময় একসাথে চলি
দেখো কত কর্মযজ্ঞ পৃথিবীর আলোয় আমি পথ চেয়ে
কতো কাজ নির্ধারিত তোমার জন্য কবিতার রাজপুত্র
তোমাকেই করতে হবে স্বাক্ষর হে কবিতার রাজপুত্র
জীবনের সীমাবদ্ধতায় তুমি নিশ্চুপ থাকতে পারোনা
জেগে ওঠ মহা প্রান জেগে দেখ আমি আলো জ্বেলে থাকি
তোমার লোক জন দাড়িয়ে আছে প্রহরী কিন্তু নাই
কবিতার রাপুত্র নাম জন্মের আগেই থেকেই স্বাক্ষরিত ।
কুঞ্জনে উড়ছে পাখী প্রস্ফুটিত সকাল কবিতার রাজপুত্র
শুরুহচ্ছে এক একটি দিন আলো হয়ে গগনে সূর্য্য দেখি
চলে আসো মহা প্রান জেগে কবিতার রাজপুত্র ।।
শীতের এই কনকনে বাতাসে চলে এসো হিমশীতল বিকেলে
নি:স্তব্ধ পাতার আওয়াজ কুয়াশার চাদরে অবিরত আমার
র্স্পশে যেন মিশে যাই আমি গভীর অন্ত:রালে কবিতার রাজপুত্র
দূরের পথ শুধুই বিস্তৃত যেন গন্তব্য আজও বহুদূর !
নি:শ্বাসের প্রতি ক্ষণে উপলব্ধি জীবনের সীমাবদ্ধতায়
শিশিরের ফোঁটা ছুয়ে যাওয়া কুয়াশার ঝাপসা আলোই
তার দেখা পাওয়া আমার কবিতার রাজপুত্র ।।
তোমার পঙ্খী রাজে চরে পারিদেব সাত সমুদ্র
শত নদী পাহাড় শস্য শ্যামল বন বনানী আজ,
নতুন সকাল দেখব আমি বর্ণালী হাওয়ায় উড়ে
আকাশ থেকে ঝড়বে আলো মনের জানালায় ।
আকাশ ছুয়ে মেলব ডানা সাদা মেঘ হয়ে আমি
হয়তোবা এই ছুটে চলা অন্তহীন কবিতার রাজপুত্র
খোজা খুজি কতোদিকে,বে-হিসেবী মনের কথা বলা
মনের অনন্ত আকাংখ্যা সত্য বৈচিত্রময় এ পৃথিবী
অবিরাম বর্ষন, স্বপ্ন দেখানো কর্ষিত ভূমিতে আমি
মায়াবী ধুলী ঝড় কুয়াসার চাদরের রোমাঞ্চ রহস্য
উদ্দীপ্ত সূর্যালোক, সাত সকালে তুমি কবিতার রাজপুত্র ।
আমি একটু বাতাস হয়ে উড়িয়ে উড়ে যেতে চাই
আমার ঘন কালো চুলে একটু বৃষ্টি নামুক অসময়ে
ঢেউ খেলানো চুলে একটু মিষ্টি হাসি তোমায় দেখি
তোমার ঐ বাকা চাহনি স্বপ্নে চেয়ে থাকি কবিতার রাজপুত্র ।
চলে এসো মহা প্রান, আনন্দ সময় একসাথে চলি
দেখো কত কর্মযজ্ঞ পৃথিবীর আলোয় আমি পথ চেয়ে
কতো কাজ নির্ধারিত তোমার জন্য কবিতার রাজপুত্র
তোমাকেই করতে হবে স্বাক্ষর হে কবিতার রাজপুত্র
জীবনের সীমাবদ্ধতায় তুমি নিশ্চুপ থাকতে পারোনা
জেগে ওঠ মহা প্রান জেগে দেখ আমি আলো জ্বেলে থাকি
তোমার লোক জন দাড়িয়ে আছে প্রহরী কিন্তু নাই
কবিতার রাপুত্র নাম জন্মের আগেই থেকেই স্বাক্ষরিত ।
কুঞ্জনে উড়ছে পাখী প্রস্ফুটিত সকাল কবিতার রাজপুত্র
শুরুহচ্ছে এক একটি দিন আলো হয়ে গগনে সূর্য্য দেখি
চলে আসো মহা প্রান জেগে কবিতার রাজপুত্র ।।
শীতের এই কনকনে বাতাসে চলে এসো হিমশীতল বিকেলে
নি:স্তব্ধ পাতার আওয়াজ কুয়াশার চাদরে অবিরত আমার
র্স্পশে যেন মিশে যাই আমি গভীর অন্ত:রালে কবিতার রাজপুত্র
দূরের পথ শুধুই বিস্তৃত যেন গন্তব্য আজও বহুদূর !
নি:শ্বাসের প্রতি ক্ষণে উপলব্ধি জীবনের সীমাবদ্ধতায়
শিশিরের ফোঁটা ছুয়ে যাওয়া কুয়াশার ঝাপসা আলোই
তার দেখা পাওয়া আমার কবিতার রাজপুত্র ।।
Tuesday, January 19, 2016
ধারাবাহিক গল্প # অ- মানব # ১০ ম পর্ব ।।
সেলিনা জাহান প্রিয়া
*********************************************************************
পাশের বাসার মহিলা রেজিয়া কেন জানি পাগল টা কে খুব ভয় ভয় পাচ্ছে । তাই একটু সাহস করে ছাদের পাশে এলো । মাথার কাপড় টা টেনে চারপাশ দেখে নিল , কেউ আছে কি না । রেজিয়া ভাবলও একটু বকা দিয়ে দেই । পাগলের কথা কেউ কি বিশ্বাস করবে । মিলিদের ছাদ আর রেজিয়াদের চাঁদ মাত্র দুই ফিট দূরত্ব । রেজিয়া
পাগল কে ডেকে বলল
----- এই যে মিঃ পাগল ছাগল এই দিকে আসো । কি নাম তোমার ? সারা দিন
আমার জানালার দিকে চেয়ে থাক কেন ?
পাগল মানুষটা রেজিয়ার কাছে একটা সুন্দর হাসি দিল । বড় বড় চোখ করে তাকাল । তার পড় আকাশের দিকে তাকাল । রেজিয়া এবার বলল- এই পাগল তুমি কি বোবা
নাকি ? কথা বল না কেন ? পাগল এবার বলল-
--- কি জানতে চান ।
--- আমি যা যা বললাম ?
--- আমি যে আপনার দিকে চেয়ে থাকি এটা সত্য ।
--- কেন চেয়ে থাক ?
--- কোন টা বলব আপনাকে ? দুইটা কারনে চেয়ে থাকি ।
--- দুইটা কারন কি কি ?
--- প্রথম টা খুব মজার । দ্বিতীয় টা খুব নোংরা । তা আগে কনটা শুনবেন ।
--- কোনটাই না ।
--- আর কিছু জানতে চান ।
--- তুমি আমার বাসার দিকে মুখ করে তাকবে না ।
--- ওকে থাকব না। আর কিছু ।
--- এবার বল দেখি প্রথম কথাটা ।
--- আপনি যে ঐ দিন সন্ধ্যায় আপনার দেবর কে চুমু দিলেন খুব সুন্দর ।
--- ছিঃ তুমি মিথ্যা বলছ ।
--- আপনি যে আপনার দেবর কে এত টাকা দিলেন । আপনাকে নিয়ে ভিসা করে
এক সাথে পালাবেন । বাকী টাকা দিয়েন না। কারন আপনার ভিসা দুই টা নকল । আসলে সে তার বসের বউ কে নিয়ে পালাবে । আগে ভিসার কাগজ দেখুন । না হয় কিন্তু আপনি মরবেন ।।
রেজিয়া একটা গালি দিয়ে বলল পাগলের আচ্চা পাগল । মুখে যা আসে তাই বলে । যা বলছি এই পাশ থেকে । পাগল আবার একটু হেসে আকাশের দিকে চেয়ে বলল আকাশ আর মানুষের রং বড় রহস্য ময় । পাগল তার রুমে চলে গেল । রেজিয়া মনে মনে বলল - আসলেই তো পাগল ঠিক দেখেছে । ঠিক বলেছে । আমার দেবরের ব্যাপারে এত বেশী জানে কি ভাবে । আমরা যে বিদেশ চলে যাব এটা তো আমার দেবর আসাদ ছাড়া আর আমি ছাড়া কেউ জানে না। তাহলে পাগল জানল কি করে ?
-------------------------------------------------------
জোছনা দরজা খুলে তো অবাক । সত্যি জোছনার মা বাবা আসছে । মাকে জড়িয়ে জোছনা বলে মা তুমি যে আসবে এটা কিন্তু আমি জানি । মিলি বলল - পড়ে জানিস আগে বসতে দে । জোছনার মা বলল- আপা আপনার কি হইছে মন এত খারাপ কেন । চোখ ফুলা ফুলা অসুক নাকি ? কি রে জোছনা তুই কি তোর মামীর দিকে খেয়াল রাখিস না। জোছনা বলতে লাগলো মা আমাদের বাসায় একটা পাগল
আছে । পাগলে কি জানি বলছে । সেই সকাল থেকে শুধু কাঁদছে । জোছনার বাপ বলল- পাগল এই বাড়িতে আসলো কি ভাবে । জোছনা বলল- মামী ঐ রাস্তা থেকে নিয়ে আসছে । তবে সে অনেক ভাল ।
মিলি বলল- যারে মা জোছনা তো বাবা মাকে খাবার দে । আর পাগল কে বলল আমার সাথে দেখা করতে ।। মিলি তার মায়ের কাছে যায় । মাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে থাকে - মিলির মা বলে
--- আমার এমন হাসি খুশি মেয়েটা কানলে ভাল লাগে না। কি হয়েছে বল শুনি ?
--- মা আজিজ একটা বিয়ে করেছে । ঐ ঘরে একটা বাচ্চা আছে ।
--- মিলি এটা তোকে কে বলেছে ?
--- পাগল
--- তুই পাগলের কথা বিশ্বাস করে কাঁদছিস ।
--- মা ও পাগল না। আসলে ও অন্য রকম মানুষ । ও মিথ্যা বলে না। কিন্তু আমি চিন্তা করছি
আজিজ কেন আমাকে বলে না। আমি থানায় ফোন করে সব জেনেছি । আমার বান্ধবির ভাই
এ এস পি রেজা কে ফোন দিয়েছিলাম । রেজা একটু আগে আমাকে ফোন করে বলল মিলি আপু
তুমি যা যা বলেছ সব ঠিক আছে । সন্ধ্যায় ঐ মেয়ে আর বাচ্চা কে থানায় আসতে বলেছে আমার
কথা মত । মা এই বাড়ী ঘর তো আমাদের । কার জন্য রেখে যাব । আমি আজিজ কে কিছু
বলব না । বস্তি থেকে একটা শিশু তো সুন্দর পৃথিবি দেখবে ।
---- মিলির মায়ের চোখে পানি ।
---- মিলি বলে মা তুমি কান্না করছ কেন ? আল্লাহ্ তো আমাকে একটা সন্তান দিয়েছে । হউক না তা
সতীনের ঘরে ।
---- মিলির মা বলল সত্য কি ভাবে সামনে আসে তাই চিন্তা করছি ?
---- হ্যাঁ মা তাই তো । যদি পাগল না আসতো জানতেই পারতাম না।
---- মিলির মা বলল এর চেয়ে একটা সত্য আজ ৩৫বছর ধরে আমার মনে জ্বলে জ্বলে শেষ ।
---- কি সেই সত্য মা আমাকে বলল ।
মিলির মা বলতে লাগলো মাগো । আজ হতে প্রায় ৩৫ বছর আগে । তোমার বাবা আমাকে রেখে বিয়ে
করে । আমি ঐ মহিলাকে মেনে নেই না। তখন আমরা দিনাজ পুর লিচু বাগান এলাকায় থাকি । তোমার বাবা চাকুরির সুবাদে ঐ খানে থাকা । আমি একদিন খবর পেলাম ঐ মহিলা মা হতে চলছে ।
আমি হিংসায় শেষ হতে লাগলাম । কিছুতেই তোমার বাবাকে মেনে নিতে পারছি না। আমার বিয়ের ১৪ বছরে তোমার বাবাকে সন্তান দিতে পারি নাই । ঐ মহিলা হাসপাতালে ভর্তি হয় । একটা ফুট ফুটে
মেয়ে হয় । কিন্তু মেয়েটার মা মারা যায় । তোমার বাবার কাছে তখন চিকিৎসার টাকা ছিল না । কিন্তু আমার কাছে ছিল । আমিও টাকা দেই নাই । যাই হউক । কয়দিন পড়ে আবার খবর এলো
বাঁচাটা খুব অসুস্থ বাচবে না। ঢাকা নিতে হবে । আমাকে আমার মা বলল , হারাম জাদি নিজের পেটে তো বাচ্চা হবে না। যাও আল্লাহ্ দিছে সেটাও নিতে পারবি না। আমার পেটে একটা ডাইনি জনম নিছে ।
আমি সেই দিনেই ঐ মেয়েটাকে নিয়ে ঢাকা শিশু হাসপাতালে যাই । তাকে ভাল করতে আমার তখন ১০ ভরি স্বর্ণ বিক্রি করি । আল্লাহর রহমতে মেয়েটি ভাল হয় । তোমার বাবা ঢাকা বদলী হয় ।
--- মা তাহালে ঐ মেয়েটি ?
--- মিলির মা মিলিকে জড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করে । আর বলে মা মিলি ঐ মেয়েটি তুই ।
মা আর মেয়ে মিলে খুব চিৎকার করে কান্না করতে লাগলো । জোছনা , আর জোছনার মা বাবা মিলি
আর মিলির মায়ের কান্না দেখে তাড়াও কাদতে লাগলো । কান্নার শব্দ শুনে ছাদ থেকে পাগল ঘরে আসলো । মিলি পাগলের হাত ধরে কান্না করছে । পাগল হাসতে লাগলো আর হাসতে লাগলো ।
চলমান------------------------
Monday, January 18, 2016
রহস্য গল্প- মোবাইল ফোনের ম্যাসেজ ( দুর্বল মনের মানুষরা পড়বেন না )
--------------------------------------------
ঃ- সেলিনা জাহান প্রিয়া
মোবাইল ফোনটা একটা ম্যাসেজ এলো তখন ভোর পাঁচ টা কিন্তু ম্যাসেজ রিং টুন কেন জানি একটু ভৌতিক মনে হল । লাইট টা জ্বালিয়ে একটু পানি খেয়ে নিল । রাতে রিং টুন অফ করে ঘুমায় ।
ম্যাসেজ টা অনেক সুন্দর - হাই পিউ । তুমি রাতে মেরুন গাউন পড়ে ঘুমাও । চশমা টা খুলে ঘুমাবে । নাইট ড্রেস আর হালকা গোলাপি লিপজেল তোমার কে দারুন লাগে ।
অফিসে যাওয়ার সময় ছাতা নিও বৃষ্টি হবে । গুড ডে ।
মুখ টা একটু বাকা করে বলল- কত রকমের পাগল আছে জানি না। শীতের দিনে বাংলাদেশে বৃষ্টি এটা একটা পাগল ছাড়া কিছুই না।
আর ঘুমাতে পারল না পিউমনি । একটু কফি বানয়ে খেয়ে নিল । বনানীর লেকে লাইট আলো কুয়াশার জন্য দেখা যায় না। যে ম্যাসেজ দিল মনে মনে আবার একটু বকা দিল । যত সব পাগল ছাগল ।দাত ব্রাশ শেষ করে । হালকা একটু ব্যায়াম করে নিল । খুব সচেতন মেয়ে । একটা ভাল চাকুরি করে । নিজের টাকায় ছোট একটা ফ্ল্যাট নিয়েছে বনানী । মা ভাইদের সাথে লন্ডন থাকে । বড় বোনের সাথে একটা বিষয় নিয়ে মনমালিন্য । রুটিন বাধা জিবন । সকাল ৭ টা আবহাওয়া খুবেই খারাপ । গভীর সমুদ্রে নাকি নিম্ন চাপ । খবরে দেখাচ্ছে । দরজা জানালা সব বন্ধ । শীতের নীল সুয়েটার পড়ে অফিসের জন্য বের হল । উত্তরা অফিস। গাড়ি থেকে নামতেই বৃষ্টি আর বৃষ্টি । এমন জায়গায় নামলো
যে ভেজা ছাড়া উপায় নাই। অফিস থেকে কোন মতে শরীর মুছে ছুটি নিয়ে বাসায় ।
বেলা এগারটা আবার একটা ম্যাসেজ অবাক হল নাম্বারটা টা দেখে ! +১০১ ।
এবার লিখা তোমার ঘরটা অনেক সুন্দর আমার ভাল লেগেছে তবে শীত কাল বলে কি টবে মানি দিবে না।
পিউ এবার আর একটু অবাক হল । ঠিক তো টবে পানি দেয়া হয় না অনেক দিন । বারান্দায় গেল । টবে পানি দিল । বৃষ্টি হল কিন্তু টব পর্যন্ত পানি আসে না। যে অল্প একটু বৃষ্টি । পিউ তার গোল্ডেন কালার আই ফোনটা দেখছে । ভাবছে কেউ হয়ত রহস্য করছে । কিন্তু কে করবে তার সাথে। চিন্তা করে পায় না । পিউ ভাবতে লাগলো । ভালই তো । দেখি আর কি কি বলে আই ম্যাসেজ ।
সাথে সাথে রিপ্লে চলে এলো । হ্যালো পিউ আমি তোমাকে অনুসরণ করি ২৪ ঘণ্টা । পিউ এবার হেসে বলল দারুন মজা তো - তা কে আপনি জানতে পারি । ম্যাসেজ এলো আমি রহস্য ।পিউ বলল আপনি রহস্য ! এবার আবার ম্যসেজ এলো - তোমার কি বিশ্বাস হয় না। সেল ফোনের দিকে চেয়ে পিউ পিউ একটু ভয় পেল । এর মধ্য ফোন বাজছে ।
---হ্যালো কে
--- আরে পিউ নাম ভাসেনাই ।
--- অহ! সরি কেয়ে ।
--- কি হল তকে এমন শুনাচ্ছে কেন? বৃষ্টি তে গলা বসেছে ।
--- আরে না কেয়া । আমার মনে হয় কিছু সমস্যা হচ্ছে ।
--- কি রকম ।
--- আর বলিস না। ফোনে আবল তাবল ম্যাসেজ আসে । \
--- এত সুন্দর মেয়ে তুই । একটা ছ্যাকা খেয়ে আর ছেলে দের বিশ্বাস করিস না। এটা ঠিক না। একজন
মানুষ খারাপ হতেই পারে তাই বলে জগতের সবাই না।
---- আমি ভাই প্রেম করব না । বুঝলে ।
--- কেন করবি না । তুই কি ম্যাদার তেরেসা হবি পিউ ।
---- তাহালে কি তোর মত হতে বলছিস ?
--- আমি কেমন ?
--- তুই তো তসলিমার নাছরিনের নানী ।
--- কি ভাবে ।
---- এই যে তুই বস কে আর বসের ভাই কে এক সাথে দিল্লির লাড্ডু দেখাচ্ছিস ।
---- শুন লাড্ডু দেখুক কিন্তু দিল্লির লাড্ডু অনেক দামী । শুন পিউ এরা হল সব রাম ছাগল । ঘরে
বউ আছে তার পড় ও বলে চলুন না কেয়া একটু কফি খেতে । ভালই লাগে যখন আমার হাত ধরে
বলে কেয়া তোমাকে অনেক মিস করি আবার বাসায় গিয়ে বউ কে বলে জান তুমি আছো বলেই
জিবন কত সুন্দর ।।
---- শুন কেয়া । তাই তো তুই তসলিমার নানী । নানীর চরিত্র তসলিমার চেয়ে একটু ভাল ছিল ।
---- পিউ কাল তো অফিস বন্ধ । বড় দিনের । কি করবি ।
--- তোর তো অনেক ছেলে বন্ধু একটা আমাকে হাওলাদ ডে হাবাগোবা দেখে ।
---- হাবা গোবা কেন ।
---- বদল টাইমের ছেলে গুলো মেয়েদের জন্য যে কোন রিক্স নিতে পারে । আর চালাক গুলো চামে কেটে
পড়ে ।।
---- পিউ তোর তো ভালই জ্ঞান ।
---- হাবে না তোর মতো একটা বান্ধবি আছে । যে দশটা প্রেম করে । একদিন দেখবি তুই প্রেমের কি
জ্বালা
---- পিউ আমি প্রেম করি না । প্রেমের ভাব ধরি । যার যত ভাব তার তত মুল্য ।
---- কেয়া তুই তোর ভাব নিয়ে থাক । আমি ফোন রাখি । একটু পিংক সিটিতে যাব ।
---- কেন রে ? কে আসবে না কি ?
---- ওহ আসবে জাতীয় চাচা । আমি তো দেখতে বিদিশার মতো ।
---- পিউ তুই যা বলিস না। রাখি কাল ফোন দিস ।
পিউ ফোনটা রেখে রান্নার কি কি আছে দেখছে । একটা ম্যাসেজ এলো হ্যালো পিউ আমি তোমাকে
দেখছি । ম্যাসেজটা পড়ে একটু হেসে বলল - মন ভড়ে দেখ । দেখতে আর পয়সা লাগেনা । আমাকে
দেখছ ! তাহালে বল দেখি আমি কি করছি । ম্যাসেজ এলো । পিউ তোমার পড়নে একটা ফতুয়া কমলা সাদা কালার । টবে টাইস টা সাদা । এখন তুমি রান্না ঘরে ।
পিউ ভয় পেল । রান্না ঘর থেকে তাকে কেউ দেখা সম্ভব না। তবে কি তার ঘরে কোন গোপন ক্যামেরা কেউ বসালও । না আমি মনে মনে যাই বলি সে তাই উত্তর দেয় । আবার ফোন হাতে নিয়ে
বলল - আচ্ছা মিঃ রহস্য আমি আজ রাতে কি করব । সাথে সাথে উত্তর এলো তুমিও আজ রহস্য হয়ে
আমার কাছে ফিরে আসবে । পিউ বলল ঠিক আছে ।আমার জন্য অপেক্ষা কর ।
ম্যাসেজ এলো তাই তো করছি । পিউ কোথায় জানতে পারি । ম্যাসেজ এলো গুলসান এক এ । শুটিং ক্লাবের ঠিক সামনে ।।
পিউ এবার ফোন করল এবার কেয়া কে -
---------হ্যালো কেয়া
------ কি রে পিউ বল ।
---- শুন আমি হয়ত পাগল না হয় ছাগল । আমার সেল ফোনে কিছু ভৌতিক ম্যাসেজ আসে ।
আমি কি করি ? কি খাই ? কি পরি ? সব বলে দেয় । রাতে একটু ভয় ভয় লাগছে ।
তুই চলে আয় একসাথে থাকব ।
----- আচ্ছা ২০ মিনিট লাগবে । থাক । একসাথে পিংক সিটি তে যাব ।
----- ওকে কেয়া ।
ফোন শেষ করতেই ম্যাসেজ । হ্যালো পিউ । তোমার একটা সুন্দর নাম আছে । আমি কি সেই নামে
ডাকব তোমায় । পিউ রেডি হতে হতে বলল - ডাকো । আবার ম্যাসেজ - আমার কাছে আসবে শীতের রাতে তবে একটা শাড়ি পড়লে ভাল হতো । পিউ মনে মনে একটা শাড়ি পড়ার চিন্তা করছিল । এবার পিউ ভাবছে এটা তার মনের খেয়ালের উত্তর । তার বেখ্যায়ালি মন এ উত্তর দিচ্ছে । এবার সে তার প্রিয় শাড়ি পড়লো । হাতে কিছু কাঁচের চুরি । কপালে একটা ছোট কালো টিপ । আবার ম্যাসেজ - তোমাকে আজ বসন্তের রানির মতো লাগছে । এবার স্বর্গে এক সাথে বসন্তে নীল আকাশের মেঘের সাথে তোমাকে দেখাব স্বর্গের একটা মহল । কি বল ।
একটু একটু ভয় নিয়ে বলল পিউ - অপেক্ষা কর আবার পালিও না । আমি কিন্তু পালানো মানুষ পছন্দ করি না। পিউ ধরে নিয়েছে সে যা দেখছে । সব ভুল । এটা তার ভাবনা । কেয়া চলে এসেছে
পিউ তার ম্যাসেজ দেখাল কেয়া কে । একটা রিক্সা নিয়ে গুলসান পিংক সিটির দিকে যাচ্ছে । কেয়া
বলে কি রে কোন ম্যাসেজ নেই । তুই আমাকে মাঝে মাঝে বোকা বানাস । এটা ঠিক না। পিউ বলল -
আমার মনে হয়েছে যে এটা আমার ভাবনা । না হয় ম্যাসেজ গুলি গেল কই । কিন্তু কেয়া সকালের
বৃষ্টি । টবের পানি , গোলাপি লিপজেল , আমার শাড়ি পড়া , সব জানি কেমন লাগছে ।
কেয়া বলল - একা একা থাকলে এমন হয় । এটা একধরনের মানসিক সমস্যা ঘুমালে ঠিক হয়ে যাবে । তাদের দু জনের মারকেতিং শেষ । ধান সিঁড়ি নান রুটি কাবাব বেশ মজা করে খেল । কেয়ার একটা ফোন এলো । তার এক বন্ধু এসেছে গুলসান ফুয়াং ক্লাবে । কেয়া বলল চল পিউ তকে একটা হাবলোর সাথে পরিচয় করাই । পিউ বলল - তুই তো জানিস ছেলে মানুষ আমার একদম পছন্দ না ।
ওদের প্রেম মানেই হাত ধরা কিস করা । আমার নোংরামি ভা লাগে না। কেয়া বলল- আচ্ছা চল - ৫ মিনিটের মধ্য চলে আসবো । দু জন মিলে একটা রিক্সা নিল । শুটিং ক্লাবের কাছে আসার একটু
আগে একটা ম্যাসেজ আসলো । পিউ দেখ এবার তো বিশ্বাস হল+১০১ নাম্ভার । কেয়া দেখল
সত্যি ম্যাসেজ । পড়তে লাগলো পিউ - হ্যালো জবা । পিউ এর শরীরের সব কটা লোম কুপ কাঁটা দিয়ে উঠল । এই নামে কেবল তাকে আকাশ ডাকতো । যে তার ভালবাসা । যে কিছু না বলে হারিয়ে গেছে । কই সুন্দর করে লিখা জবা আমি স্বর্গের পালকি নিয়ে দাড়িয়ে তোমাকে নিতে এসেছি ।
ম্যাসেজটা পড়া শেষ । একটা গাড়ি খুব জুড়ে ধাক্কা দিল রিক্সা টা কে । কেয়া দূরে ছিতকে পড়লো । পিউ এর উপর দিয়ে চলে গেল গাড়িটা খুব দূরত । মানুষের ভীর লেগে গেল । কেয়ার কিছুই হয় নাই । কেয়া পিউ এর সেল ফোনটা হাতে নিয়ে দেখে কোন ম্যাসেজ নাই । শুধু দেখে একটা আলোর
পালকি তে পিউ কে ! কে জানি তুলে নিয়ে যাচ্ছে । কিন্তু পিউ এর নিথর লাশটা মাটিতে পড়ে আছে ।।
ঃ- সেলিনা জাহান প্রিয়া
মোবাইল ফোনটা একটা ম্যাসেজ এলো তখন ভোর পাঁচ টা কিন্তু ম্যাসেজ রিং টুন কেন জানি একটু ভৌতিক মনে হল । লাইট টা জ্বালিয়ে একটু পানি খেয়ে নিল । রাতে রিং টুন অফ করে ঘুমায় ।
ম্যাসেজ টা অনেক সুন্দর - হাই পিউ । তুমি রাতে মেরুন গাউন পড়ে ঘুমাও । চশমা টা খুলে ঘুমাবে । নাইট ড্রেস আর হালকা গোলাপি লিপজেল তোমার কে দারুন লাগে ।
অফিসে যাওয়ার সময় ছাতা নিও বৃষ্টি হবে । গুড ডে ।
মুখ টা একটু বাকা করে বলল- কত রকমের পাগল আছে জানি না। শীতের দিনে বাংলাদেশে বৃষ্টি এটা একটা পাগল ছাড়া কিছুই না।
আর ঘুমাতে পারল না পিউমনি । একটু কফি বানয়ে খেয়ে নিল । বনানীর লেকে লাইট আলো কুয়াশার জন্য দেখা যায় না। যে ম্যাসেজ দিল মনে মনে আবার একটু বকা দিল । যত সব পাগল ছাগল ।দাত ব্রাশ শেষ করে । হালকা একটু ব্যায়াম করে নিল । খুব সচেতন মেয়ে । একটা ভাল চাকুরি করে । নিজের টাকায় ছোট একটা ফ্ল্যাট নিয়েছে বনানী । মা ভাইদের সাথে লন্ডন থাকে । বড় বোনের সাথে একটা বিষয় নিয়ে মনমালিন্য । রুটিন বাধা জিবন । সকাল ৭ টা আবহাওয়া খুবেই খারাপ । গভীর সমুদ্রে নাকি নিম্ন চাপ । খবরে দেখাচ্ছে । দরজা জানালা সব বন্ধ । শীতের নীল সুয়েটার পড়ে অফিসের জন্য বের হল । উত্তরা অফিস। গাড়ি থেকে নামতেই বৃষ্টি আর বৃষ্টি । এমন জায়গায় নামলো
যে ভেজা ছাড়া উপায় নাই। অফিস থেকে কোন মতে শরীর মুছে ছুটি নিয়ে বাসায় ।
বেলা এগারটা আবার একটা ম্যাসেজ অবাক হল নাম্বারটা টা দেখে ! +১০১ ।
এবার লিখা তোমার ঘরটা অনেক সুন্দর আমার ভাল লেগেছে তবে শীত কাল বলে কি টবে মানি দিবে না।
পিউ এবার আর একটু অবাক হল । ঠিক তো টবে পানি দেয়া হয় না অনেক দিন । বারান্দায় গেল । টবে পানি দিল । বৃষ্টি হল কিন্তু টব পর্যন্ত পানি আসে না। যে অল্প একটু বৃষ্টি । পিউ তার গোল্ডেন কালার আই ফোনটা দেখছে । ভাবছে কেউ হয়ত রহস্য করছে । কিন্তু কে করবে তার সাথে। চিন্তা করে পায় না । পিউ ভাবতে লাগলো । ভালই তো । দেখি আর কি কি বলে আই ম্যাসেজ ।
সাথে সাথে রিপ্লে চলে এলো । হ্যালো পিউ আমি তোমাকে অনুসরণ করি ২৪ ঘণ্টা । পিউ এবার হেসে বলল দারুন মজা তো - তা কে আপনি জানতে পারি । ম্যাসেজ এলো আমি রহস্য ।পিউ বলল আপনি রহস্য ! এবার আবার ম্যসেজ এলো - তোমার কি বিশ্বাস হয় না। সেল ফোনের দিকে চেয়ে পিউ পিউ একটু ভয় পেল । এর মধ্য ফোন বাজছে ।
---হ্যালো কে
--- আরে পিউ নাম ভাসেনাই ।
--- অহ! সরি কেয়ে ।
--- কি হল তকে এমন শুনাচ্ছে কেন? বৃষ্টি তে গলা বসেছে ।
--- আরে না কেয়া । আমার মনে হয় কিছু সমস্যা হচ্ছে ।
--- কি রকম ।
--- আর বলিস না। ফোনে আবল তাবল ম্যাসেজ আসে । \
--- এত সুন্দর মেয়ে তুই । একটা ছ্যাকা খেয়ে আর ছেলে দের বিশ্বাস করিস না। এটা ঠিক না। একজন
মানুষ খারাপ হতেই পারে তাই বলে জগতের সবাই না।
---- আমি ভাই প্রেম করব না । বুঝলে ।
--- কেন করবি না । তুই কি ম্যাদার তেরেসা হবি পিউ ।
---- তাহালে কি তোর মত হতে বলছিস ?
--- আমি কেমন ?
--- তুই তো তসলিমার নাছরিনের নানী ।
--- কি ভাবে ।
---- এই যে তুই বস কে আর বসের ভাই কে এক সাথে দিল্লির লাড্ডু দেখাচ্ছিস ।
---- শুন লাড্ডু দেখুক কিন্তু দিল্লির লাড্ডু অনেক দামী । শুন পিউ এরা হল সব রাম ছাগল । ঘরে
বউ আছে তার পড় ও বলে চলুন না কেয়া একটু কফি খেতে । ভালই লাগে যখন আমার হাত ধরে
বলে কেয়া তোমাকে অনেক মিস করি আবার বাসায় গিয়ে বউ কে বলে জান তুমি আছো বলেই
জিবন কত সুন্দর ।।
---- শুন কেয়া । তাই তো তুই তসলিমার নানী । নানীর চরিত্র তসলিমার চেয়ে একটু ভাল ছিল ।
---- পিউ কাল তো অফিস বন্ধ । বড় দিনের । কি করবি ।
--- তোর তো অনেক ছেলে বন্ধু একটা আমাকে হাওলাদ ডে হাবাগোবা দেখে ।
---- হাবা গোবা কেন ।
---- বদল টাইমের ছেলে গুলো মেয়েদের জন্য যে কোন রিক্স নিতে পারে । আর চালাক গুলো চামে কেটে
পড়ে ।।
---- পিউ তোর তো ভালই জ্ঞান ।
---- হাবে না তোর মতো একটা বান্ধবি আছে । যে দশটা প্রেম করে । একদিন দেখবি তুই প্রেমের কি
জ্বালা
---- পিউ আমি প্রেম করি না । প্রেমের ভাব ধরি । যার যত ভাব তার তত মুল্য ।
---- কেয়া তুই তোর ভাব নিয়ে থাক । আমি ফোন রাখি । একটু পিংক সিটিতে যাব ।
---- কেন রে ? কে আসবে না কি ?
---- ওহ আসবে জাতীয় চাচা । আমি তো দেখতে বিদিশার মতো ।
---- পিউ তুই যা বলিস না। রাখি কাল ফোন দিস ।
পিউ ফোনটা রেখে রান্নার কি কি আছে দেখছে । একটা ম্যাসেজ এলো হ্যালো পিউ আমি তোমাকে
দেখছি । ম্যাসেজটা পড়ে একটু হেসে বলল - মন ভড়ে দেখ । দেখতে আর পয়সা লাগেনা । আমাকে
দেখছ ! তাহালে বল দেখি আমি কি করছি । ম্যাসেজ এলো । পিউ তোমার পড়নে একটা ফতুয়া কমলা সাদা কালার । টবে টাইস টা সাদা । এখন তুমি রান্না ঘরে ।
পিউ ভয় পেল । রান্না ঘর থেকে তাকে কেউ দেখা সম্ভব না। তবে কি তার ঘরে কোন গোপন ক্যামেরা কেউ বসালও । না আমি মনে মনে যাই বলি সে তাই উত্তর দেয় । আবার ফোন হাতে নিয়ে
বলল - আচ্ছা মিঃ রহস্য আমি আজ রাতে কি করব । সাথে সাথে উত্তর এলো তুমিও আজ রহস্য হয়ে
আমার কাছে ফিরে আসবে । পিউ বলল ঠিক আছে ।আমার জন্য অপেক্ষা কর ।
ম্যাসেজ এলো তাই তো করছি । পিউ কোথায় জানতে পারি । ম্যাসেজ এলো গুলসান এক এ । শুটিং ক্লাবের ঠিক সামনে ।।
পিউ এবার ফোন করল এবার কেয়া কে -
---------হ্যালো কেয়া
------ কি রে পিউ বল ।
---- শুন আমি হয়ত পাগল না হয় ছাগল । আমার সেল ফোনে কিছু ভৌতিক ম্যাসেজ আসে ।
আমি কি করি ? কি খাই ? কি পরি ? সব বলে দেয় । রাতে একটু ভয় ভয় লাগছে ।
তুই চলে আয় একসাথে থাকব ।
----- আচ্ছা ২০ মিনিট লাগবে । থাক । একসাথে পিংক সিটি তে যাব ।
----- ওকে কেয়া ।
ফোন শেষ করতেই ম্যাসেজ । হ্যালো পিউ । তোমার একটা সুন্দর নাম আছে । আমি কি সেই নামে
ডাকব তোমায় । পিউ রেডি হতে হতে বলল - ডাকো । আবার ম্যাসেজ - আমার কাছে আসবে শীতের রাতে তবে একটা শাড়ি পড়লে ভাল হতো । পিউ মনে মনে একটা শাড়ি পড়ার চিন্তা করছিল । এবার পিউ ভাবছে এটা তার মনের খেয়ালের উত্তর । তার বেখ্যায়ালি মন এ উত্তর দিচ্ছে । এবার সে তার প্রিয় শাড়ি পড়লো । হাতে কিছু কাঁচের চুরি । কপালে একটা ছোট কালো টিপ । আবার ম্যাসেজ - তোমাকে আজ বসন্তের রানির মতো লাগছে । এবার স্বর্গে এক সাথে বসন্তে নীল আকাশের মেঘের সাথে তোমাকে দেখাব স্বর্গের একটা মহল । কি বল ।
একটু একটু ভয় নিয়ে বলল পিউ - অপেক্ষা কর আবার পালিও না । আমি কিন্তু পালানো মানুষ পছন্দ করি না। পিউ ধরে নিয়েছে সে যা দেখছে । সব ভুল । এটা তার ভাবনা । কেয়া চলে এসেছে
পিউ তার ম্যাসেজ দেখাল কেয়া কে । একটা রিক্সা নিয়ে গুলসান পিংক সিটির দিকে যাচ্ছে । কেয়া
বলে কি রে কোন ম্যাসেজ নেই । তুই আমাকে মাঝে মাঝে বোকা বানাস । এটা ঠিক না। পিউ বলল -
আমার মনে হয়েছে যে এটা আমার ভাবনা । না হয় ম্যাসেজ গুলি গেল কই । কিন্তু কেয়া সকালের
বৃষ্টি । টবের পানি , গোলাপি লিপজেল , আমার শাড়ি পড়া , সব জানি কেমন লাগছে ।
কেয়া বলল - একা একা থাকলে এমন হয় । এটা একধরনের মানসিক সমস্যা ঘুমালে ঠিক হয়ে যাবে । তাদের দু জনের মারকেতিং শেষ । ধান সিঁড়ি নান রুটি কাবাব বেশ মজা করে খেল । কেয়ার একটা ফোন এলো । তার এক বন্ধু এসেছে গুলসান ফুয়াং ক্লাবে । কেয়া বলল চল পিউ তকে একটা হাবলোর সাথে পরিচয় করাই । পিউ বলল - তুই তো জানিস ছেলে মানুষ আমার একদম পছন্দ না ।
ওদের প্রেম মানেই হাত ধরা কিস করা । আমার নোংরামি ভা লাগে না। কেয়া বলল- আচ্ছা চল - ৫ মিনিটের মধ্য চলে আসবো । দু জন মিলে একটা রিক্সা নিল । শুটিং ক্লাবের কাছে আসার একটু
আগে একটা ম্যাসেজ আসলো । পিউ দেখ এবার তো বিশ্বাস হল+১০১ নাম্ভার । কেয়া দেখল
সত্যি ম্যাসেজ । পড়তে লাগলো পিউ - হ্যালো জবা । পিউ এর শরীরের সব কটা লোম কুপ কাঁটা দিয়ে উঠল । এই নামে কেবল তাকে আকাশ ডাকতো । যে তার ভালবাসা । যে কিছু না বলে হারিয়ে গেছে । কই সুন্দর করে লিখা জবা আমি স্বর্গের পালকি নিয়ে দাড়িয়ে তোমাকে নিতে এসেছি ।
ম্যাসেজটা পড়া শেষ । একটা গাড়ি খুব জুড়ে ধাক্কা দিল রিক্সা টা কে । কেয়া দূরে ছিতকে পড়লো । পিউ এর উপর দিয়ে চলে গেল গাড়িটা খুব দূরত । মানুষের ভীর লেগে গেল । কেয়ার কিছুই হয় নাই । কেয়া পিউ এর সেল ফোনটা হাতে নিয়ে দেখে কোন ম্যাসেজ নাই । শুধু দেখে একটা আলোর
পালকি তে পিউ কে ! কে জানি তুলে নিয়ে যাচ্ছে । কিন্তু পিউ এর নিথর লাশটা মাটিতে পড়ে আছে ।।
Friday, January 15, 2016
বন্ধু চিরদিন
-- সেলিনা জাহান প্রিয়া ---
আমি তোমাকে ভালবাসি
বিশ্বাস কর আমি তোমার
প্রেমিক বা প্রেমিকা না ।
আমি তোমার খোঁজ খবর রাখি
তুমি কেমন আছ রোজ জানতে চাই
কিন্তু আমি তোমার ভালবাসা না ।
তোমার সাথে আমার রক্তের বন্ধন নাই
তুমি আমার কোন পরম আত্মীয় না
তোমার সাথে আমি প্রান খুলে হাসি
আমার জমানো কষ্ট গুলি ভাগ করি
রোদ বৃষ্টি শীতে এক সাথে ছুটাছুটি ।
এক কাপ বা পানি এক পাত্রে পান করি
তুমি কোন জাত কি ধর্ম বিভেদ নাই
উঁচু নিচু পোশাক অর্থের দেয়াল নাই
নদী পাহার সমুদ্র বা অন্ধকার পথ
নারী না পুরুষ কোন সমস্যা নাই
কারন তুমি আমার একজন বিশ্বাসী বন্ধু ।
একজন বন্ধুর হাত মায়ের মতো কোমল
শাসন বন্ধুর হয় পিতার মতো উজ্জল
আনন্দ গুলো বোনের মতো পরশ ভুলায়
সহযোগিতা একদম ভাইয়ের মতো
ভালবাসা প্রেমিক প্রেমিকার চেয়ে
অনেক অনেক গুন বেশী স্বাধীন
বন্ধু তুমি বন্ধু আমি চির দিন ।।
ধারাবাহিক গল্প। অ-মান ৮ম পর্ব ।
সেলিনা জাহান প্রিয়া ।
জোছনা চা নিয়ে বলল। মামী পাগলকে কি চা দিব ? আজিজ মিয়া বলল যা তো জোছনা যা, চায়ের সাথে কিছু মুড়ি ও দিয়া আয় । পাকিস্তান ২৮৫ রান । আজ তিন শত রানের উপরে করবে । মিলি খেলা দেখেছে আর ভয় পাচ্ছে । জোছনা কে বলল যা চা নিয়ে যা । গিয়ে বল ভারতে অবস্তা ভাল না। আর শুন এটাও বলিস যে ভারত হারলে সকালেই বরিশালের লঞ্চে উঠতে হবে । আজিজ মিয়া মনে মনে আল্লাহ্ কে ডাকছে । কারন পাকিস্তান জিতলেই পাগলের হাত থেকে সে বাজবে । তাহলে থানার বিষয় টা কেউ জানবে না। জোছনা চা নিয়ে ছাদে গিয়ে দেখে পাগল খুব সুন্দর করে চাদের দিকে চেয়ে ধ্যানে বসে আছে । জোছনা কি বলবে ভেবে পাচ্ছে না। পাগল মানুষ কি থেকে কি বলে ? চা নিয়ে পাগলের পিছনে দাড়িয়ে । পাগল বলল --চাদের আলো এসেছ চা নিয়ে
-- আপনি দেখলেন কি ভাবে ।আমি তো আপনার পিছনে ।
--- তোমার পায়ের শব্দ শুনে বিঝতে পারলাম ।
---সব মানুষের পায়ের শব্দ তো এক রকম হয় ।
-- চাদের আলো । শুন মানুষের পায়ের শব্দ তাঁর শরীরের ওজনের সাথে কম বশী
হয় ।
--- তাই বলে আমি কি করে বুঝলেন । আমি ছাড়া তো অন্য কেউ হতে পারে ।
--- তোমার সাথে তোমার মুখের স্নো দিয়েছ সেটার গন্ধ বাতাসে এসেছে ।
--- আচ্ছা পাগল ভাই । বলেন তো কি স্নো দেই ।
--- তিব্বত স্নো ।
--- হ্যা একদম ঠিক । আমার মায়ে দিত। এখনো দেয় । এটা দিলেই আমার মায়ের
মুখটা ভাসে ।। কত দিন হল মাকে দেখি না। আমার বাড়ির জন্য মনটা কাদে ।
--- মাকে দেখতে চাও তুমি ।
--- কিভাবে দেখব ।
--- আমার সামনে এসে আমার মত করে বস । হ্যা । তুমি চা নিয়ে এসেছ । আগে
বলবে না।
--- আপনে আমাকে দেখলেন চা দেখলেন না।
--- যাদের শ্বাস চলে তাদের দেখা যায় । তুমি চুপ করে বস । এখন চোখ বন্ধ কর ।
আর মনে মনে ভাবতে থাক তুমি গ্রামের বাড়িতে আছ । ভুলে যাও তুমি আমার
সামনে ওকে । জোছনা চোখ বন্ধ করে বলছে । আমাদের কাঁঠাল গাছে নতুন মুচি আসছে । মা ঢাকা আসবে বাবার সাথে তাই পিঠা বানাইতাছে । আমার ভাই শীতের মধ্য আমার দেয়া
একটা সুয়েটার পড়ে আছে । ওর পায়ের ঘা টা নাই । তাহলে বাবা ওরে ডাক্তার দেখাইছে । দেখ দেখ বাবা আবার মায়রে বক্তাছে । বাবা মায়ের বলে ঢাকা আসলে গরু কিনার টাকা চাইতে ।
জোছনা যেন সত্যিই তাঁর বাড়িতে চলে গেছে ।পাগল টা চা খাওয়া শেষ করে বলল -
-- চাঁদের আলো , তাকাও , আস্তে আস্তে , তাকাও ।
--- জোছনা তাকিয়ে প্রথমে চুপ করে থাকিয়ে বলে । আমি কি ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম ?
--- না । চাঁদের আলো তুমি ঘুমাও নেই । তুমি যা জেনেছ তা কিন্তু কাউকে বল না।
--- আচ্ছা পাগল ভাই মা কি কাল কে আসবে বাবার সাথে ।
--- তুমি যা দেখেছ তা তোমার চিন্তা । বাবা কে একটা গরু কিনে দিলে উপকার হয় । তাই না ।
--- গরুর অনেক দাম ।
--- চিন্তা কর না তুমি যাও । তোমার দরকার হবে মিলি খালার ।
--- আপনার ভারত নাকি হারবে মামী বলছে ।
জোছনা এই কথা বলে চলে যায় । পাগল আবার ধ্যানে বসে পড়ে। ঘরে সাবাই খেলা নিয়ে ব্যস্ত । জোছনা ভাবতে থাকে । আমি কি দেখলাম । আমার ভায়ের শরীরে যে সুয়েটার এই টা আমি কয়দিন আগে দিয়েছি । আজিজ মিয়া মিলি কে বলে দেখ তোমার ভারতের ১০ ওভারে দু জন নাই । জোছনা চিন্তায় পড়ে গেল যদি মামী হারে তাহালে তো পাগল কে যেতে হবে । মিলি চুপ করে তাঁর ঘরে গিয়ে ছাদে যে ভাবে বসে ছিল । ঠিক সেই ভাবে বসে খেলা শেষ অবস্তা চিন্তা করছে । মিলি দেখছে ৪ বলে
১০ দরকার । আরও একটা উইকেট পড়ে গেল । ৩ বলে ১০ দরকার । নতুন খেলোয়াড় প্রথম বলেই
ছয় । এখন ২ বলে চার লাগবে । আবার বল করতেই ৪ মেরে দিল । ৩১৭ রানে ভারত জিতে গেল । মিলি চিৎকার দিল । মামী আপনে জিতে গেছেন । মিলি খেলা রেখে জোছনার ঘরে এসে দেখে জোছনা
হাসছে । মিলি বলল - আমি হারলে তো খুশি । জোছনা বলে - ভুল হইছে । আমার মনে হয় আপনি ই জিতবেন ,
-- হ্যা পাগলের কথা তাই না জোছনা ।
--- মামী আমার মনের কথা ।
--- তাহালে আয় খেলা দেখি ।
খেলা চলছে । দারুন জমেছে । ৪ বলে ১০ দরকার । বল করতেই উইকেট পড়ে গেল । মিলি খুব হতাশা
ইস আর একটু হলেই জিতে জেট । জোছনা বলল মামী - পরের বলে ৬ তাঁর পর ৪ । আমার মন বলছে ।
আজিজ মিয়া বলল- পাগলের টিকেট কাট । পাকিস্তানের বল । এটা আনাড়ি পিলিয়ার । বল মারতেই ৬
আর দর কারকার ২ বলে চার । মিলি একটু সাহস পেল । বল করল এবং ৪ রান । মিলি আর জোছনা একসাথে জিতে গেছি । আজিজ মিয়া মাথা নিচু করে বলল- তোমার পাগল জাদু করেছে । যাই ঘুমাতে ।পাগলের দল জিতে গেল । জোছনা বলল মামী আমি কি পাগল কে বলে আসব । যে আমরা জিতে গেছি ,
--- হ্যা বলে আয় । যে তাঁর যাওয়া লাগবে না। ফ্রিজ থেকে মিক্রম পুরের দই মিষ্টি নিয়ে যা প্লেটে করে । এক বোতল পানি দিয়ে আয় ।
জোছনা ছাদে এসে দেখে পাগল সেই কুয়াশার মধ্য বসে ধ্যান করছে । মিলি এখন খুব আস্তে আস্তে এসে পিছনে দাঁড়ালো । পাগল হেসে বলল - মিষ্টি আর দই আমার খুব প্রিয় ।
--- পাগল ভাই । আপনের সাথে জিন আছে ।
--- জীন আছে । হ্যা এই শীতের মধ্য একটা ফতুয়া পড়ে বসে আছেন ।মামী দেখলে আপনার খবর
আছে । জানেন না তো । আশপাশের সবাই মামী কে ভয় পায় । মামীর খুব সাহস ।
--- অনেক সাহস ।
--- হ্যাঁ অনেক সাহস ।
--- তাহালে তেলাপোকা দেখলে তোমাকে ডাকে কেন ।
--- হ , তেলাপোকা খুব ভয় পায় ।
--- তুমি ভয় পাওনা কেন ।
--- আমি তো গ্রামের মানুষ তাই ।
--- ওহ জোছনা তাই তাহালে তুমি মিলি খালার মায়েরে ভয় পাও ।
--- মাগো ! আপনে আসতে না আসতে দেখি সব জেনে গেছেন । আচ্চা যাই । পানির বোতল আপনার ঘরে রেখে গেলাম । ছাদের লাইট নিভিয়ে দিয়েন ।। দরজা ভাল করে লাগিয়ে ঘুমিয়েন ।
পাশের ছাদ থেকে চোর আসতে পারে । আমি যাই । খেলায় ভারত জিতেছে ।
পাগল উঠে দাঁড়ায় । পাশের বাসার এক মহিলা বার বার দেখছে । পাগল কে । সে আর তাঁর স্বামী কে বলছে- মিলি ভাবির স্বভাব আর ভাল হল না । চিনা না জানা নাই । একটা পাগল কে বাড়িতে জায়গা দিছে । মিলি ভাবির বুঝা উচিৎ । এত বড় মেয়রটাকে দিয়ে আবার এত রাতে খাবার পাঠাইছে । কখন যে কি হয় । কে জানে । ভদ্র মহিলার স্বামী বলে - মিলি আপা অনেক ভাল। ৩০ বছর যাবত চিনি । যে কোন মানুষের দুঃখ কষ্টের সময় তাকে পাওয়া যায় । তোমাদের মত না সারা দিন স্নো পাউডার মাখে । সে যেটা ভাল মনে করেছে। তাই করেছে । কত মানুষ তো পাগল কে দেখল । কিন্তু মিলি আপা তাকে আশ্রয় দিয়েছে । আল্লাহ্ তাঁর ভাল করবে ।
এই পাশের বাসার মহিলার নাম রেজিয়া । তাঁর কাজ মানুষের ভুল গুলো প্রচার করা । মিলি কিন্তু
তাকে খুব পছন্দ করে । যে কোন আচার বানালে তাকে আগে দিবে । মিলির আর খারাপ কথা প্রচার
করে কিন্তু মিলি তা কানে নেয় না। মিলি বলে আসলে তাঁর মনে কোন দুঃখ আছে । হয়ত তাই আবল তাবল করে । পাগল টা কে রেজিয়া আবার দেয়ে দেখল । এবার ধ্যান থেকে উঠে আবার দু হাত দুই দিকে মেলে ধরে আকাশের দিকে তাকিয়ে । রেজিয়া এবার জানালা লাগিয়ে দিল ।
রাত ১ টা বাজে পাগল দেখলো চার দিক কুয়াশা পড়ছে । এবার এসে ঘরে গেল ।
মিলির স্বামী ভয়ে ভয়ে বিছানায় গিয়ে শুয়ে পরল । এমন ভাব ধরল যে সে ঘুমিয়ে গেছে। মিলি বলল - ঘুমের অভিনয় করে লাভ নেই । আমি তোমাকে থানা পুলিশ নিয়ে কিছু জিজ্ঞাসা করব না।
কারন পাগলের কথা নিয়ে তোমার সাথে আমি রাগ করতে পারি না। তুমি আমার স্বামী কেন পাগলের কথায় তোমাকে অবিশ্বাস করব । নারী হয়ে জন্মালে অনেক সময় আগুন খেয়ে হজম করতে হয় । কাছে এসো মাথায় হাত বুলিয়ে দেই বলে মিলি স্বামীর মাথায় হাত বুলাচ্ছে ।
জোছনা আর মিলির মা এক রুমে থাকে । মিলি শুয়ে শুয়ে বলছে দাদি জানো - আমার মা কাল কে আসবে । আমার মন বলছে । কিন্তু একটা কথা দাদি । আমার বাবা একটা গরু হইলে খুব ভাল হইত ।
-- মিলির মা জোছনা কে বলে এখন আমার পা গুলি টিপে দে । তোর বাবা অনেক ভাল মানুষ ।
আমার বাবার বাড়িতে তোর দাদার সাথে ছোট বেলা আসতো । আমার একটা ভাইয়ের সাথে খুব
খেলত । আমাদের একটা গাভি গরু ছিল মাজে মাজে ঘাস কেটে নিয়ে আসতো । আমি তখন লতাম তোর বাবাকে যে একটা গরুর বাচ্চা দিব । সেই লোভে তো বাবা আমার অনেক কাজ করে দিত । তুই ভাল কথা মনে করছস । এখন তুই ঘুমা । যদি তোর বাপ আসে আমারে মনে করে দিস আমার সেই বাড়ির কথাটা ।।
সুন্দর শীতের সকাল খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে পাগল মানুষটা একটা ছাদে হাঁটাহাঁটি করে গত রাতে যেই ভাবে দাড়িয়ে ছিল ঠিক সেই ভাবে আগের জায়গায় এসে দাঁড়ালো । মিলির বাসার কেউ এখনো ঘুম থেকে উঠে নাই । পাশের বাসার ভদ্রলোকের অফিস এবার গাজিপুর । তাই একটু সকালে যেতে হয় । প্রতিদিন সকালে রেজিয়া বেগম স্বামীরর জন্য গরম ভাত রান্না করে হট পটে ভড়ে দেয় । সকালে তাই চুলা জালাতে গিয়ে জানালা খুলে বোকার মত চেয়ে আছে । আর মনে মনে বলছে পাগলটা সারা রাত এই শীতের মধ্য দাড়িয়ে আছে । এটা কি মানুষ না ভুত নাকি জীন । ভয়ের রান্না ঘরের জানালা লাগিয়ে দিয়েছে............।।
--- চলমান ।।
জোছনা চা নিয়ে বলল। মামী পাগলকে কি চা দিব ? আজিজ মিয়া বলল যা তো জোছনা যা, চায়ের সাথে কিছু মুড়ি ও দিয়া আয় । পাকিস্তান ২৮৫ রান । আজ তিন শত রানের উপরে করবে । মিলি খেলা দেখেছে আর ভয় পাচ্ছে । জোছনা কে বলল যা চা নিয়ে যা । গিয়ে বল ভারতে অবস্তা ভাল না। আর শুন এটাও বলিস যে ভারত হারলে সকালেই বরিশালের লঞ্চে উঠতে হবে । আজিজ মিয়া মনে মনে আল্লাহ্ কে ডাকছে । কারন পাকিস্তান জিতলেই পাগলের হাত থেকে সে বাজবে । তাহলে থানার বিষয় টা কেউ জানবে না। জোছনা চা নিয়ে ছাদে গিয়ে দেখে পাগল খুব সুন্দর করে চাদের দিকে চেয়ে ধ্যানে বসে আছে । জোছনা কি বলবে ভেবে পাচ্ছে না। পাগল মানুষ কি থেকে কি বলে ? চা নিয়ে পাগলের পিছনে দাড়িয়ে । পাগল বলল --চাদের আলো এসেছ চা নিয়ে
-- আপনি দেখলেন কি ভাবে ।আমি তো আপনার পিছনে ।
--- তোমার পায়ের শব্দ শুনে বিঝতে পারলাম ।
---সব মানুষের পায়ের শব্দ তো এক রকম হয় ।
-- চাদের আলো । শুন মানুষের পায়ের শব্দ তাঁর শরীরের ওজনের সাথে কম বশী
হয় ।
--- তাই বলে আমি কি করে বুঝলেন । আমি ছাড়া তো অন্য কেউ হতে পারে ।
--- তোমার সাথে তোমার মুখের স্নো দিয়েছ সেটার গন্ধ বাতাসে এসেছে ।
--- আচ্ছা পাগল ভাই । বলেন তো কি স্নো দেই ।
--- তিব্বত স্নো ।
--- হ্যা একদম ঠিক । আমার মায়ে দিত। এখনো দেয় । এটা দিলেই আমার মায়ের
মুখটা ভাসে ।। কত দিন হল মাকে দেখি না। আমার বাড়ির জন্য মনটা কাদে ।
--- মাকে দেখতে চাও তুমি ।
--- কিভাবে দেখব ।
--- আমার সামনে এসে আমার মত করে বস । হ্যা । তুমি চা নিয়ে এসেছ । আগে
বলবে না।
--- আপনে আমাকে দেখলেন চা দেখলেন না।
--- যাদের শ্বাস চলে তাদের দেখা যায় । তুমি চুপ করে বস । এখন চোখ বন্ধ কর ।
আর মনে মনে ভাবতে থাক তুমি গ্রামের বাড়িতে আছ । ভুলে যাও তুমি আমার
সামনে ওকে । জোছনা চোখ বন্ধ করে বলছে । আমাদের কাঁঠাল গাছে নতুন মুচি আসছে । মা ঢাকা আসবে বাবার সাথে তাই পিঠা বানাইতাছে । আমার ভাই শীতের মধ্য আমার দেয়া
একটা সুয়েটার পড়ে আছে । ওর পায়ের ঘা টা নাই । তাহলে বাবা ওরে ডাক্তার দেখাইছে । দেখ দেখ বাবা আবার মায়রে বক্তাছে । বাবা মায়ের বলে ঢাকা আসলে গরু কিনার টাকা চাইতে ।
জোছনা যেন সত্যিই তাঁর বাড়িতে চলে গেছে ।পাগল টা চা খাওয়া শেষ করে বলল -
-- চাঁদের আলো , তাকাও , আস্তে আস্তে , তাকাও ।
--- জোছনা তাকিয়ে প্রথমে চুপ করে থাকিয়ে বলে । আমি কি ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম ?
--- না । চাঁদের আলো তুমি ঘুমাও নেই । তুমি যা জেনেছ তা কিন্তু কাউকে বল না।
--- আচ্ছা পাগল ভাই মা কি কাল কে আসবে বাবার সাথে ।
--- তুমি যা দেখেছ তা তোমার চিন্তা । বাবা কে একটা গরু কিনে দিলে উপকার হয় । তাই না ।
--- গরুর অনেক দাম ।
--- চিন্তা কর না তুমি যাও । তোমার দরকার হবে মিলি খালার ।
--- আপনার ভারত নাকি হারবে মামী বলছে ।
জোছনা এই কথা বলে চলে যায় । পাগল আবার ধ্যানে বসে পড়ে। ঘরে সাবাই খেলা নিয়ে ব্যস্ত । জোছনা ভাবতে থাকে । আমি কি দেখলাম । আমার ভায়ের শরীরে যে সুয়েটার এই টা আমি কয়দিন আগে দিয়েছি । আজিজ মিয়া মিলি কে বলে দেখ তোমার ভারতের ১০ ওভারে দু জন নাই । জোছনা চিন্তায় পড়ে গেল যদি মামী হারে তাহালে তো পাগল কে যেতে হবে । মিলি চুপ করে তাঁর ঘরে গিয়ে ছাদে যে ভাবে বসে ছিল । ঠিক সেই ভাবে বসে খেলা শেষ অবস্তা চিন্তা করছে । মিলি দেখছে ৪ বলে
১০ দরকার । আরও একটা উইকেট পড়ে গেল । ৩ বলে ১০ দরকার । নতুন খেলোয়াড় প্রথম বলেই
ছয় । এখন ২ বলে চার লাগবে । আবার বল করতেই ৪ মেরে দিল । ৩১৭ রানে ভারত জিতে গেল । মিলি চিৎকার দিল । মামী আপনে জিতে গেছেন । মিলি খেলা রেখে জোছনার ঘরে এসে দেখে জোছনা
হাসছে । মিলি বলল - আমি হারলে তো খুশি । জোছনা বলে - ভুল হইছে । আমার মনে হয় আপনি ই জিতবেন ,
-- হ্যা পাগলের কথা তাই না জোছনা ।
--- মামী আমার মনের কথা ।
--- তাহালে আয় খেলা দেখি ।
খেলা চলছে । দারুন জমেছে । ৪ বলে ১০ দরকার । বল করতেই উইকেট পড়ে গেল । মিলি খুব হতাশা
ইস আর একটু হলেই জিতে জেট । জোছনা বলল মামী - পরের বলে ৬ তাঁর পর ৪ । আমার মন বলছে ।
আজিজ মিয়া বলল- পাগলের টিকেট কাট । পাকিস্তানের বল । এটা আনাড়ি পিলিয়ার । বল মারতেই ৬
আর দর কারকার ২ বলে চার । মিলি একটু সাহস পেল । বল করল এবং ৪ রান । মিলি আর জোছনা একসাথে জিতে গেছি । আজিজ মিয়া মাথা নিচু করে বলল- তোমার পাগল জাদু করেছে । যাই ঘুমাতে ।পাগলের দল জিতে গেল । জোছনা বলল মামী আমি কি পাগল কে বলে আসব । যে আমরা জিতে গেছি ,
--- হ্যা বলে আয় । যে তাঁর যাওয়া লাগবে না। ফ্রিজ থেকে মিক্রম পুরের দই মিষ্টি নিয়ে যা প্লেটে করে । এক বোতল পানি দিয়ে আয় ।
জোছনা ছাদে এসে দেখে পাগল সেই কুয়াশার মধ্য বসে ধ্যান করছে । মিলি এখন খুব আস্তে আস্তে এসে পিছনে দাঁড়ালো । পাগল হেসে বলল - মিষ্টি আর দই আমার খুব প্রিয় ।
--- পাগল ভাই । আপনের সাথে জিন আছে ।
--- জীন আছে । হ্যা এই শীতের মধ্য একটা ফতুয়া পড়ে বসে আছেন ।মামী দেখলে আপনার খবর
আছে । জানেন না তো । আশপাশের সবাই মামী কে ভয় পায় । মামীর খুব সাহস ।
--- অনেক সাহস ।
--- হ্যাঁ অনেক সাহস ।
--- তাহালে তেলাপোকা দেখলে তোমাকে ডাকে কেন ।
--- হ , তেলাপোকা খুব ভয় পায় ।
--- তুমি ভয় পাওনা কেন ।
--- আমি তো গ্রামের মানুষ তাই ।
--- ওহ জোছনা তাই তাহালে তুমি মিলি খালার মায়েরে ভয় পাও ।
--- মাগো ! আপনে আসতে না আসতে দেখি সব জেনে গেছেন । আচ্চা যাই । পানির বোতল আপনার ঘরে রেখে গেলাম । ছাদের লাইট নিভিয়ে দিয়েন ।। দরজা ভাল করে লাগিয়ে ঘুমিয়েন ।
পাশের ছাদ থেকে চোর আসতে পারে । আমি যাই । খেলায় ভারত জিতেছে ।
পাগল উঠে দাঁড়ায় । পাশের বাসার এক মহিলা বার বার দেখছে । পাগল কে । সে আর তাঁর স্বামী কে বলছে- মিলি ভাবির স্বভাব আর ভাল হল না । চিনা না জানা নাই । একটা পাগল কে বাড়িতে জায়গা দিছে । মিলি ভাবির বুঝা উচিৎ । এত বড় মেয়রটাকে দিয়ে আবার এত রাতে খাবার পাঠাইছে । কখন যে কি হয় । কে জানে । ভদ্র মহিলার স্বামী বলে - মিলি আপা অনেক ভাল। ৩০ বছর যাবত চিনি । যে কোন মানুষের দুঃখ কষ্টের সময় তাকে পাওয়া যায় । তোমাদের মত না সারা দিন স্নো পাউডার মাখে । সে যেটা ভাল মনে করেছে। তাই করেছে । কত মানুষ তো পাগল কে দেখল । কিন্তু মিলি আপা তাকে আশ্রয় দিয়েছে । আল্লাহ্ তাঁর ভাল করবে ।
এই পাশের বাসার মহিলার নাম রেজিয়া । তাঁর কাজ মানুষের ভুল গুলো প্রচার করা । মিলি কিন্তু
তাকে খুব পছন্দ করে । যে কোন আচার বানালে তাকে আগে দিবে । মিলির আর খারাপ কথা প্রচার
করে কিন্তু মিলি তা কানে নেয় না। মিলি বলে আসলে তাঁর মনে কোন দুঃখ আছে । হয়ত তাই আবল তাবল করে । পাগল টা কে রেজিয়া আবার দেয়ে দেখল । এবার ধ্যান থেকে উঠে আবার দু হাত দুই দিকে মেলে ধরে আকাশের দিকে তাকিয়ে । রেজিয়া এবার জানালা লাগিয়ে দিল ।
রাত ১ টা বাজে পাগল দেখলো চার দিক কুয়াশা পড়ছে । এবার এসে ঘরে গেল ।
মিলির স্বামী ভয়ে ভয়ে বিছানায় গিয়ে শুয়ে পরল । এমন ভাব ধরল যে সে ঘুমিয়ে গেছে। মিলি বলল - ঘুমের অভিনয় করে লাভ নেই । আমি তোমাকে থানা পুলিশ নিয়ে কিছু জিজ্ঞাসা করব না।
কারন পাগলের কথা নিয়ে তোমার সাথে আমি রাগ করতে পারি না। তুমি আমার স্বামী কেন পাগলের কথায় তোমাকে অবিশ্বাস করব । নারী হয়ে জন্মালে অনেক সময় আগুন খেয়ে হজম করতে হয় । কাছে এসো মাথায় হাত বুলিয়ে দেই বলে মিলি স্বামীর মাথায় হাত বুলাচ্ছে ।
জোছনা আর মিলির মা এক রুমে থাকে । মিলি শুয়ে শুয়ে বলছে দাদি জানো - আমার মা কাল কে আসবে । আমার মন বলছে । কিন্তু একটা কথা দাদি । আমার বাবা একটা গরু হইলে খুব ভাল হইত ।
-- মিলির মা জোছনা কে বলে এখন আমার পা গুলি টিপে দে । তোর বাবা অনেক ভাল মানুষ ।
আমার বাবার বাড়িতে তোর দাদার সাথে ছোট বেলা আসতো । আমার একটা ভাইয়ের সাথে খুব
খেলত । আমাদের একটা গাভি গরু ছিল মাজে মাজে ঘাস কেটে নিয়ে আসতো । আমি তখন লতাম তোর বাবাকে যে একটা গরুর বাচ্চা দিব । সেই লোভে তো বাবা আমার অনেক কাজ করে দিত । তুই ভাল কথা মনে করছস । এখন তুই ঘুমা । যদি তোর বাপ আসে আমারে মনে করে দিস আমার সেই বাড়ির কথাটা ।।
সুন্দর শীতের সকাল খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে পাগল মানুষটা একটা ছাদে হাঁটাহাঁটি করে গত রাতে যেই ভাবে দাড়িয়ে ছিল ঠিক সেই ভাবে আগের জায়গায় এসে দাঁড়ালো । মিলির বাসার কেউ এখনো ঘুম থেকে উঠে নাই । পাশের বাসার ভদ্রলোকের অফিস এবার গাজিপুর । তাই একটু সকালে যেতে হয় । প্রতিদিন সকালে রেজিয়া বেগম স্বামীরর জন্য গরম ভাত রান্না করে হট পটে ভড়ে দেয় । সকালে তাই চুলা জালাতে গিয়ে জানালা খুলে বোকার মত চেয়ে আছে । আর মনে মনে বলছে পাগলটা সারা রাত এই শীতের মধ্য দাড়িয়ে আছে । এটা কি মানুষ না ভুত নাকি জীন । ভয়ের রান্না ঘরের জানালা লাগিয়ে দিয়েছে............।।
--- চলমান ।।
Wednesday, January 13, 2016
ধারাবাহিক গল্প । অ- মানব । ৭ম পর্ব
--- সেলিনা জাহান প্রিয়া ----
আকাশের দিকে চেয়ে বলে হে আকাশ এই মানুষ গুলো কি জানে এই মহা আকাশের শেষ নেই । এই মহাকাশের ধুলি কনার চাইতে এই পৃথিবী অনেক ছোট ।। চোখ বড় বড় করে একটা নক্ষত্রের দিকে আঙুল তুলে বলে জ্বলে জ্বলে এমন করে কি দেখ ।। আমাদের এই গ্রহ এর কত দিন বাকি আছে সব সবুজ পড়ে আগুন হতে । বাকি আছে । বাকি আছে । হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ । বাকি বলে একটু জুড়েই হেসে উঠল ।।
মিলি খালার বাসার কাজের মেয়ের নাম জোছনা । তখন বেদের মেয়ে জোছনা সিনামে খুব মার্কেট পায় । জোছনার বাপে নতুন বিয়ে করে। সেই নতুন বউ কে নিয়ে কিশোর গঞ্জ রঙ মহল এ বেদের মেয়ে জোছনা সিনেমা দেখে । সিনেমা দেখে তারা দুজনেই বলে তাদের মেয়ে হলে নাম রাখবে জোছনা । তাদের প্রথম মেয়ে হয় । তাঁর নাম রাখে জোছনা । জোছনার চোখ গুলো অনেক
সুন্দর । তাঁর চেয়ে সুন্দর তাঁর কথা বলার ধরন । মিলি খালা কে সে মামি ডাকে । মিলি খালা জোছনা কে বলে -- যা তো মা পাগল টারে এক বালতি গরম পানি দিয়ে আয় । এর দেখত তোর খালুর কোন কাপড় টা হয় । আর না হয় পায়জামা আর ফতুয়া দিয়ে আয় । আর বল গোসল যেন তারা তাড়ি সেরে নেয় ।
জোছনা ভয়ে ভয়ে ছাদে আসে । এদিক সেদিক ভাল করে দেখে । এই শীতের মধ্য আকাশের দিকে চেয়ে আছে । জোছনার আবার পাগল কে খুব ভয় পায় । কারন জোছনার নানা মরার আগে পাগল হয়ে মরছে । জোছনা তাঁর নানার কাছে গেলে জোছনার হাত ধরে কাপড় দিত । ছেপ দিত । থুথু দিত । তাই জোছনা পাগল কে খুব ভয় পায় । গরম পানির বালতি গোসল খানায় রেখে । ভয়ে ভয়ে বলে
--- এই যে পাগল । পাগল ওর দিকে চেয়ে হেসে বলে
--- চাঁদের আলো ।
--- না । আমার নাম বাপে মায়ে সখ করে জোছনা রাখছে । অন্য কোন নামে ডাকলে আমার কষ্ট
লাগে । আমারে আমার নামেই ডাকবেন ।
--- আচ্ছা বাবা তাই হবে । তবে আমাকে ভয় পেও না । আমি কিন্তু ভুত না।
--- আমি কিন্তু ভুত ডরাই না। পাগল ডরাই ।
--- ভুত ভয় পাও না। কিন্তু পাগল ভয় পাও কেন?
--- পাগল দেখছি কিন্তু ভুত দেখি নাই । তাই ভুত কে ভয় পাই ।
--- তাই বুঝি গো
-- হ্যা তাই । আমি ভুত যা দেখি না তা কিন্তু ভয় পাই না।
--- আল্লাহ্ কে কি ভয় পাও জোছনা ।
--- না আল্লাহ্ কে ভয় পাব কেন । আমার নানি জান কইছে আল্লাহ্ যার সাথে আছে তাঁর কোন
ভয় নাই । কারন আল্লাহ্ আমাদের অনেক ভাল বাসেন ।
--- তাহালে আল্লাহর জন্য কি করেন ।। এই যে আপনি আচার চুরি করে খেয়ে অন্য ছেলেদের নাম
দেন এটা কি আল্লাহ্ আপনাকে সাজা দিবে না জোছনা ।।
--- হ্যা । সাজা দিবে , তাই মাঝে মাঝে আমার আল্লাহ্ কে ভয় হয় ।
--- তাহালে আপনি আল্লাহ্ কে না দেখে ভয় পান ওকে
--- ওকে পাগল ভাই
--- কিন্তু আমাকে ভয় পাবে না । কেমন । তোমার চুরি করা আচার ছাদের রুমের খাটের নিচে ।
আমি ঐ খান থেকে একটু খেলাম । এটা কি খালাকে বলব ।
--- না পাগল ভাই বলো না। তুমি সব খেয়ে নাও । আর গরম পানি দেয়া আছে গোসল করে
নাও ।এই নাও কাপড় । আমি যাই । বলে চলে গেল জোছনা ।।
আজিজ মিয়া ঘরে প্রবেশ করে মিলি কে বলল তোমার পাগল কি গেছে ? নাকি এখনো আছে । পাগল থাকলে আমি যাই । মিলির মা বলল - বাবাজি রাগ করে কি হবে । পাগল , পাগলের জায়গায় । তুমি তোমার জায়গায় । তুমি শিক্ষিত মানুষ । পাগলের সাথে রাগ করে বাড়ী ছারলে মানুষ তোমাকে পাগল বলবে । জোছনা -বলে হে নানু ঠিক বলেছে । আসলে লোকটা পাগল না। মনে হয় ।মনের কষ্টে বাড়ী থেকে পালাইছে । আমার নানাও একবার নানিরে রেখে পালাইছিল । অনেক দিন পর নানা জান আসে । কিন্তু পাগলের মতো ফিরে আসে । মিলি একটু রেগে বলল - জোছনা বেশী কথা বলিস । যা রান্না ঘরে যা । খাবার গরম কর । আর মা তোমার জামাই কে বলে দাও । ঐ দিন সারা রাত কোথায় ছিল । তাঁর কোন অভিনয় আমার কাছে মুল্য নেই । আর এটা কোন নাট্য মঞ্চ না। যে অভিনয় শেষ সাবজেক্ট
শেষ । আর বল যেন চুপচাপ কাপড় চেঞ্জ করে যেন খাবার টেবিলে আসে । এর পর যদি এর কোন কথা বলে তাহালে ওর বেরিয়ে যেতে হবে না। আমিই বের করে দেব । এবং পুলিশ দিয়ে আমি ধরিয়ে
আনব । মিলির মা বলে - দু জন মিলে এক পাগলের কথায় সারা ঘর পাগল করলে তো হবে না।আজিজ মিয়া দেখল পাগল ঘরে নাই । চুপ চাপ কাপড় চেঞ্জ করে । খাবার টেবিলে । জোছনা কিছু খাবার নিয়ে ছাদে যাবে কিন্তু মিলি কে বলে খাবার রাখ আমিই নিয়ে যাব । এর তুই যেয়ে দেখ পাগল টা গোসল করেছে কি না ? জোছনা বলল - জী মামি আমি দেখে আসছি । আজিজ মিয়া বলল ছাদের রুম টা ভারা দিতে দিলে না। এখন পাগলের আড্ডা খানা বানালে । মিলি বলে- মিঃ ভয় পেয়েন না। আমার বাড়ী আমি ভাড়া দিব নাকি পাবনা বানাব সেটা আমার ব্যাপার ।
আজিজ মিয়া চিন্তায় পড়ে গেল । কিন্তু পাগলের সাথে হাজত খানায় সে তো কোন কথা বলে নাই । এর কেন সে থানায় ধরা পরেছিল তা তো হাজত খানায় কেউ জানে না। মনে মনে আজিজ মিয়া বলে যে ভাবেই হউক , মামালা টা শেষ করতে হবে । মিলি যদি জানে তাহালে আমার চাকুরি আর আরামে থাকা সব শেষ । কিন্তু মিলির আগে ঐ পাগল ব্যাটারে সামলাইতে হবে । কারন মিলি সহজে কোন কিছু ভুলে না।
মিলি ছাদে এসে অবাক বাহ ছেলেটা গোসল করার পর তো অনেক সুন্দর লাগছে । আসলেই ওর চেহারায় একটা মায়া আছে । মিলি কে দেখে হেসে বলল -
-- আরে খালা আপনি কেন কষ্ট করলেন । জোছনায় খবার আনলেই হতো ।
--- না বাবা । তুমি আজ প্রথম এই বাড়িতে । তাছারা তোমাকে আমি ভাবলাম পাগল । কিন্তু
তোমার মধ্য কোন পাগলামিই যে দেখি না।
--- আসলে আপনি তো আর পাগলের ডাক্তার না। ডাক্তার হলে ধরতে পারতেন ।
--- কি যে বল । আমি কে পাগল আর কে ভাল মানুষ টা চিনতে পারি ।
--- হ্যাঁ খালা মনি টা ঠিক । আপনি পাগল চিনতে পারেন কিন্তু সব পাগল না। এই যে আমি সবার
চোখে পাগল কিন্তু আপনি বলছেন আমি ভাল । এই দেখুন কি শীত কিন্তু আমার শীত লাগেনা।
আপনার গরম পানি ছাড়াই গোসল করেছি । আপনার দেয়া ফতুয়া পড়েছি ।কিন্তু শীত তো
লাগছে না।
--- হ্যাঁ । তোমার শীত না লাগার কারন কিন্তু আমি জানি ।
--- কি জানেন খালা মনি ।
--- যাদের সাথে জিন থাকে তাদের শীত লাগে না। গরম লাগে না। খুদা লাগে না। তোমার মত
শরীরে ময়লা লাগে না ।।
--- খালা মনি আমার কিন্তু খুব খুদা লাগে ।
-- হ , অনেক জিন তো আমদের মত গরিব , তারা আবার খাবার দিতে পারে না। আচ্চা বাদ দাও
তোমার সাথে মনে হয় গরিব জিন থাকে ।
-- খালা মনি ছেলেদের সাথে জিন থাকে না। পরী থাকে ।
--- আমার মনে হয় তোমার সাথে পরী আছে । তবে তুমি জান না । আমাদের মহল্লায় এক মহিলা
গণনা করে বলতে পারে । একশত এক টাকা নেয় ।
--- তাই খালা মনি । তাহালে আপনি সকালে গিয়ে তাকে বলবেন । যে আপনার স্বামীর কোন ছেলে
মেয়ে হবে কি না ?
--- এত বছর আপনার বিয়ে হয়েছে একটা বাচ্চা নাই । দেখুন কি বলে । আর বলবেন আমার বাসায়
একটা পাগল আসছে তাঁর সাথে যে পরী আছে এটা ভাল না খারাপ ।।
-- আচ্ছা বলব নে তুমি খুব বেশী করে খাও । আর সকালে কি নাস্তা খাইবা । হাতের রুটি না
দোকানের পারাটা ।
--- হাতের রুটি ই ভাল । একটু চা হলে খারাপ হয় না। এখন কি করবেন ।
--- তোমার জন্য চা পাঠাব । আর ভারত পাকিস্তান খেলা হবে । দেখব ।
--- আপনি কোন দল করেন ।
--- ভারত ।
--- আজ কিন্তু ভারত জিতব ।
--- কিন্তু ভারত তো অন্য দুই খেলায় হারছে । পাকিস্তান খুব শক্তি !! আজিজ মিয়া তো বাজি ধরতে
চায় । ও ভাল কথা । আমি তো আসল কথা ই ভুলে গেছে । আজিজ মিয়া মানে আমার স্বামী কে
পুলিশে ধরেছিল কেন ?
--- আসলে জানলে তো আপনি সব সময় আজিজ সাহেব কে এটা বলে কষ্ট দিবেন ।
--- কষ্ট দিব না। কিন্তু জানতে চাই । আমার মনে হয় ও কি জানি সব সময় আমার কাছথেকে
লোকায় ?
-- খালা মনি মানুষ যাকে ভাল বাসে তাঁর কাছ থেকেই তাঁর অন্যায় লোকায় । তবে কিছু কিছু
অন্যায় অনেক সময় সুখ বয়ে আনে ।
--- বাবা পাগল তোমার কথা ঠিক বুঝলাম না।
--- যেমন ধরেন আপনি একটা গাছের ডাল কাটলেন । গাছতা কিন্তু কষ্ট পেল কিন্তু আপনি সেই
কাটা ডালে কলব করলেন । আর কলবের জন্য একটা নতুন গাছের জন্ম হল ।
--- আসলেই তো ।
--- কিছু জানাতে সুখ থাকে কিছু জানাতে কষ্ট থাকে
--- আপনি সুখ চান না কি কষ্ট ?
--- আমি পাগল সুখ চাই । সুখ ছাড়া জিবনের মুল্য কি ? তাহালে আর জানতে চাই না কেন আমার
স্বামী কে পুলিশে ধরেছে । আমি জানলে যে ও কষ্ট পাবে । তাহালে না জানাই ভাল ।
-- কিন্তু খালা মনি আপনে জানলে খুব খুশি হবেন । কিন্তু তাকে বলবেন না । আমি আপানকে
জানাব । খালু জি কে বলবেন । পাগলটা চুপ আছে । কোন কথা বলে না।
মিলি খালা ঘরে এসে খেলা দেখতে বসল । আজিজ মিয়া খুব ভয়ে ভুয়ে আছে । একবার মিলি কে বলল কি বাজি লাগবা আজ । মিলি বলে তোমার কি মনে হয় ভারত হেরে যাবে ।
--- হ্যা , কোথায় পাকিস্তান কোথায় ভারত । খেলার কিছু বুঝ ।
--- হ্যা বাজি আজিজ সাহেব । যদি পাকিস্তান জিতে সকালে পাগল বিদায়
--- আর ভারত জিতলে তুমি ঐ পাগলে কে আর বের করতে পারবে না। ওকে বাজি
--- হ্যাঁ বাজি । আজিজ মিয়া জানে পাকিস্তান খুব ফর্মে আছে জিতবেই পাকিস্তান ............
চলমান--------------------------
Tuesday, January 12, 2016
-ধারাবাহিক-অ-মানব - ৫ম পর্ব
-------shelina jahan priya
। তুতুল তো আবাক হয়ে মিলি খালার কাছে গেল ।
--খালা মনি তোমার খাবার তুমি নিয়ে যাও । লোকটা বলে যার খাবার তাকে আসতে বল ।
-- আচ্ছা দে আমি নিয়ে যাই । পাগল বলে কথা । মিলির মা ঘর থেকে বলে খুবেই ভাল কাজ মা ।
যাও পাগল টা সেই সকালে আসছে । আমি দুবার দেখেছি । আল্লাহ্ যে কোন মানুষ কে কখন কিসের জন্য পাঠায় এক মাত্র মাবুদেই জানে ।। মিলির মায়ের বয়স এখন প্রায় সত্তরের কাছা কাছি ।। মিলি
খাবার নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নামছে । মিলির স্বামী সাথে সিঁড়িতে দেখা । কি কোথায় যাও মিলি
-- আরে তুমি উপরে যাও । আমি আসছি মাত্র দুই মিনিট যাব আর আসব ।
-- টা যাও কোথায় ।
-- আরে ঐ মোরে । দেখ না একটা পাগল সকাল থেকে আছে । মনে হয় কিছুই খাই নাই । তাই একটু
খাবার দিতে যাই ।
--- এলাকায় কি তুমি একমাত্র নারী । না কি আর কোন মহিলা নাই । যত সব । যাও দেখ গেলেই
বলবে আপা খবার দিলেন । কয়টা টাকা দেন । জামা দেন । কাপড় দেন । আর মহল্লার সবাই
জানে তুমি হলে নিজের খেয়ে অন্যের মহিষ তাড়াও ।
--- মিলি স্বামীর কথায় একটু কষ্ট পেল তবু সে খাবার নিয়ে পাগলের কাছে আসলো । অনেক লোক
তাকে ঘিরে দাড়িয়ে আছে । মিলি বলল
-- - আই সবাই যাও । দেখি দেখি এটা কি টেলিভিশন নাকি
যে ভীর করে আছ । সবাই সরে দাড়াও । মিলি এবার পাগলের কাছে এসে বলল - তোমাকে দেখে তো
মনে হয় না পাগল । ভাব ধরে সকাল থেকে এই খানে দাড়িয়ে আছো কেন । তোমার ভাগ্য ভাল যে তারু মিয়া নাই । থাকলে যে কয়টা বারি মারত । পাগলামি কই পালাইত ।
--- মিলির দিকে তাকিয়ে পাগল বলল-- যে চলে যায় সবাই তার ভয় দেখায় । আর যারা বেঁচে আছে
তারা কই কোন ভয়ের কারন না।
--- কথা তো সুন্দর । নাও এই গুলো খাও ।
--- না আমি আপানার খাবার খাব না। এটা আপনার স্বামী কে খেতে দিন । কারন আপনার স্বামী আপনার কাজে খুব বিরক্ত । আর বলে দেন আমি তার মত স্বার্থ পড় না। কারন গত রাত সে আমার সাথে পুলিশ লকাপে ছিল । মিলি তো শুনে অবাক । বল কই পাগল ভাই । তুমি তাকে চেন ।
-- সেটা তাকে বলল ।। পাগলের কথা কেউ কই বিশ্বাস করে ।। যদি তুমি কর সেটা তোমার উধারতা । তবে কারো কথা সব না শুনে কাউকে অবিশ্বাস কারা ঠিক না, আমাদের সমস্যার মুল অবিশ্বাস । পাগলের কথা শুনে মিলি চুপ হয়ে যায় । ঠিকেই তো গত রাতে সে দেরি করে বাসায় আসছে । ইস আল্লায় মনে তোমাকে পাঠাইছে । আমার বাবা কে এক দিন রাতে পুলিশে ধরে। পরের দিন সকালে আমরা বাবা কে বের করে নিয়ে আসি । কিনতু আমরা স্বামী আজিজ মিয়া বলে আমি নাকি একজন চোরের মেয়ে । আজ বের হবে কে চোর ।
পাগল হেসে বলে জগতের চোর তো আমারাই সৃষ্টি করি । কে যে চোর কে যে ভাল একমাত্র সৃষ্টি যার সেই জানে ।।
--- রাখ তোমার জ্ঞানী কথা । খাবার টা খেয়ে নাও । আমি জানি তোমার মধ্য কি জানি একটা আছে । আমাকে কিন্তু এলাকার সবাই সম্মান করে ।।
-- আমার জন্য কেন কষ্ট করবেন । আমি খেলেই কি না খেলেই কি?
-- দেখ আমার সমানে কেউ না খেয়ে থাকতে পারবে না। এলাকায় আমার সম্মান আছে । তাছারা তুমি আজ একটা সত্য কথা বলেছ ।। তোমাকে আমার একটু দরকার ।। পাগল ভাই তুমি আমার সাথে একটু এসো । পাগলের হাত ধরে মিলি বেগম পাগল কে নিয়ে
তার বাসার দিকে যাচ্ছে ।। মহল্লার সবাই তাই দেখে হাসছে ।। পাশের বাসার একজন বলেই ফেলল -
এক পাগল নিয়ে যায় আরেক পাগল ।।
**************
সামছু পুলিশ কে নিতে তার বাসার সামনে গাড়ি আসছে । আলেয়া বেগম বলল- কই গো তুমি ঐ যে গাড়ি আসছে ।। সামছু মিয়া গাড়ি করে বনানি অফিসে যায় । বড় সাহেবের রুমে গিয়ে ছালাম দিয়ে বলে স্যার আমাকে আসতে বলেছিলেন ।
--- আরে সামছু সাহেব আসুন । বসুন । তা কেমন আছেন ।।
--- স্যার ভাল আছি । আপনি ভাল আছেন ।।
--- হ্যা ভাল আছি । আপনার কাছে আমি অনেক বড় ঋণী মানুষ। আমার ম্যানেজমেন্ট কে আপনার
কথা বললে সবাই অবাক হয়েছে । সবাই বলল যেন আপনি যে উপকার করেছেন তার যেন ১%
আমি আপনার জন্য করি ।।
--- স্যার আপনার নামি দামি মানুষ । আপনাদের কথার কিছু আমি বুঝি না। আর আমি স্যার অংকে খুব একটা ভাল না। পুলিশের চাকুরি তো এখানে অংকের চেয়ে পলিটিক্স বেশী । আমি স্যার দুইটাই কাচা । ২৪ ঘণ্টা পুলিশ কে কাজ করতে হয় । কিন্তু বেতন দেয় পিয়নের চেয়ে কম ।।
--- হ্যা সামছু সাহেব যারা সব বিষয় কাচা তারাই সুখি । এই যে আমরাদের এত আছে । আমরা
সুখি হতে পারি না । সুখের অভিনয় করি ।।
--- স্যার সুখ কি আমি জানি না । তবে আমি একজন সুখি মানুষ দেখছি ।
--- তাই । সখি মানুষ ।
--- হ্যা স্যার তবে সে কি মানুষ না অন্য কিছু জানি না।
--- তার জন্যই আমি এখন আর ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করি না ।
--- ভাল । আসলে চিন্তা করলে যে রেজাল্ট না করলে তার চেয়ে ভাল ।।
--- জী স্যার , ঠিক দামি কথা ।
--- আচ্ছা সামছু সাহেব । এই নেন এটা ১% চেয়ে অনেক কম । করন আমি ১% দিতে পারছি না।
আর আপনার জন্য দুই টা ফোন একটা আপনার একটা আপনার স্ত্রীর । আর খামটায় একটা
পে-অডার আছে । বাসায় গিয়ে দেখুন ।। ভাল কিছু করুন ।। আমার ভিজিটিং কার্ড এটা
রাখুন। যে কোন দরকারে আমাকে ফোন দিবেন ।। কারন ১% কিন্তু অনেক কেবল দেয়া শুরু ।
সামছু পুলিশ খামটা নিয়ে ওদের অফিসের গাড়িতে বাসার দিকে রাওনা দিয়েছে । মনে মনে মোবাইল
ফোনের দিকে তাকিয়ে খুব হাসছে । অনেক দিনের ইচ্ছা তার আলেয়া কে একটা মোবাইল ফোন কিনে দিবে । কিন্তু পারছে না। আর কয়দিন পড় মানুষ ২০০০ সাল উজ্জাপন করবে ।। আর মাত্র কয়টা দিন ।। মনে মনে হাসছে জিবনে যা সে কল্পনা করতে পারে না। মনে পড়ছে তার ছোট ভাই মোবাইল নিয়ে আসার কথা মনে পড়ছে । তার ছেলে মোবাইল ধরেছিল বলে অ চাচী ধমক দিয়েছিল । ক্লাস নাইনের ছেলে কি কেউ ধমক দেয় ।। পাগল টার কথা খুব মনে মনে পড়েছে । শীত বলেই কিছুই না । না কি সে জামা কাপড় কিনতে পারে না। এবার দেখা হলে সুন্দর করে একটা প্যান্ট শার্ট বানিয়ে দিব । দামি দেখে জুতা কিনে দিব। মনে মনে অনেক কথা বলতে বলতে গাড়ি বাসার রাস্তায় চলে আসে । গাড়ি থেকে নেমে বাসায় এসে খাটে বসে কাদতে থাকে সামছু পুলিশ ।।
আলেয়া বেগম রান্না ঘর থেকে তাড়াতাড়ি এসে আচলে হাত মুছে স্বামীর মাথায় হাত দিয়ে কি হয়েছে
কান্না করছ কেন?
-- কান্না করছি না । টা সুখের হাসি । আমার মত পুলিশ কে মানুষ এত সম্মান দেয় । ভাবতে পারি না। আলেয়া বেগমের হাতে খাম টা দেয় মোবাইল দেয় , ফোন পেয়ে আলেয়া বলে - আমার লাগবো না ফোন । ছেলে কলেজে যাবে । ছেলেই ব্যবহার করবে । ফোনটা দেখলে আমার ছেলে যে কি খুসি হবে। আচ্ছা খামে কি । এ দেখি পাতলা খাম ।
--- খামে পে - অডার
--- পে- অডার কি ?
--- নগদ টাকার মত কিন্তু ব্যাংকে জমা দিয়ে টাকা তুলতে হয় ।
--- কত টাকা গো ।
--- আলেয়া আমি দেখি নাই কত টাকা । মোবাইল ফোন পাইয়া মন ভড়ে গেছে ।।শুন ফোন দুইটা
বেচলে তোমার অপারেসান টাকা হয়ে যাবে ।
--- না ফোন বেচা লাগবো না। উপহারের জিনিস বেচতে হয় না। আলেয়া বেগম খামটা খুলে ছেলে
কে দেয় । দেখত বাবা কত টাকা লিখা । ইংলিশ এ লিখা তো আমি পড়তে আরব না। ছেলে
পে- অডার দেখে বলে মা । কি রে কত টাকা ।
---- আব্বু তুমি দেখ । মনে হয় ভুল দেখতাছি ।
--- আরে বাবা ভুল কেন । দেখ না কত টাকা ...........................।।
চলমান ------------------------
ধারাবাহিক গল্প -- অ-মানব-- ( ৬ পর্ব)
---সেলিনা জাহান প্রিয়া------
--- আরে বাবা ভুল কেন । দেখ না কত টাকা ...........................।।
-- ছেলে বলে বাবা আসলেই কি এত টাকা ?
সামছু পুলিশ আজ নিজেই অবাক হল ১৭ লাখ টাকা । সামছু অনেক আগে মায়ের
মুখে গল্প শুনছে যে রাস্তায় পাগলদের মাঝে অনেক আল্লাহর অলি থাকে । সেই সব অলি নাকি মাঝে মাঝে কিছু অতি ভাল মানুষের সাথে দেখা হয় । তাহালে সামছু মনে মনে ভাবে সে হয়ত অতি ভাল মানুষ । কারন জিবনে সে কাউকে জোর করে টাকা নেই নাই । পুলিশের চাকুরি করে মানুষ কত ছয় নয় করে । কিন্তু সামছু কোন দিন করে নাই । সে তাঁর মায়ের কথা মনে করে কোন দিন খারাপ কাজ করতে পারত না। যাই হোক বউয়ের চিকিৎসা তা ভাল হাসপাতালে করাবে । পে - অডার টা হাতে নিয়ে বলে । আল্লাহ্ হয়ত তাঁর বান্ধাদের সততার পুরুস্কার এভাবেই দেয় । আলেয়া বেগম বলে তুমি তো আমার সাথে কোন মজা করছ না ।।
--- না মজা করব কেন !
-- কালকেই টাকা তুলে তোমাকে আগে মেডিক্যালে ভর্তি করে দেব । যে হে তু পাগলা
বাবার উছিলায় আল্লাহ্ টাকা দিয়েছে । সামছু পুলিশ এখন ঐ পাগল টাকে পাগলা
বাবা ডাকা শুরু করেছে । সামছু পুলিশের স্ত্রীও পাগালা বাবা বলতে শুরু করেছে ।
আসলে মানুষ যদি হটাৎ করে কিছু অস্বাভাবিক কিছু দেখে বা পেয়ে ফেলে তখন
হয়ত কোন ঘটনা কে অনেক রঙ দেয় । সামছু পুলিশ এই পাগল কে- কি রঙ দেয়
এক মাত্র খোদায় জানে ।।
********************
মিলি পাগল কে নিয়ে তারা বাসার ভিতরে গেলে মিলির মা বলে - এত সুন্দর ছেলে কিন্তু মাথা নষ্ট হলে
সেই মানুষের কোন দাম নেই । মিলি লক্ষ করলো জামা কাপড়ে কোন ময়লা নেই । হাত পা খুবেই পরিষ্কার । খালি পায়ে হাটে কিন্ত কোন ময়লা নেই পায়ে । মিলি মা কে বলে-
-- মা আজ একটা চোর ধরা খাইবে ।
-- কোন চোর ধরা খাইবে ।
-- তোমার জামাই বুঝলে ।।
-- হ খেয়ে কোন কাজ নাই । এমন ভাল ছেলে আর কই পাইবি । তোর মত একটা পাগল মেয়ে নিয়ে যে
সংসার করে এতেই বেশী ।
--- আমি পাগল । আর তোমার মেয়ের জামাই হল সাধু মানুষ । তাই না। তোমার মত শাশুড়িদের জন্য
মেয়ে গুলো কষ্ট পায় ।
-- পাগল চুপ করে বসে আছে । আর মা মেয়ের কথা শুনছে । আজিজ মিয়া ঘরে অন্য রুম থেকে পাগল কে দেখে বোকা বনে গেছে। কারন যে রাতে তাকে পুলিশ ধরে ছিল ।ঐ পাগল ঐ দিন থানার লকাপে এক সাথে ছিল । আজিজ মিয়া একটু আগে যে মিলি কে বলল - পাগল দেখ কত কি চাইবে? আসলে সে
এমন পাগল না। পাগলের সামনে এসে এমন অভিনয় শুরু করলো যে তাকে সে প্রথম দেখেছে । পাগল আজিজ মিয়ার দিকে চেয়ে বলল- অভিনয় খুব সুন্দর কিন্তু আমি মিলি না ।
-- অভিনয় মানে
-- দেখুন সে দিন রাতে কিন্তু আপনি যা যা করেছেন আমার সব মনে আছে । আপনি যেই যেই ফোন নাম্বারে পুলিশের ফোন থেকে কথা বলেছেন আমার কিন্তু সব নাম্বার মনে আছে ।
--- আজিজ মিয়া মিলির দিকে সরল একটা চাহনি দিয়ে সব গুলো দাত বের করে এমন এক হাসি দিল যেন পাগল যা বলছে তা সবেই পাগলামি । আজিজ বলতে লাগলো মিলি ওকে খাবার দাও । খুব ভুল পাগল মনে হয় । পাগলে কত কই বলে । পাগলের কথা পাগলেই ভাল জানে । না পাগল ভাই মনের মত করে খবার খাও । পাগল বলল মিলি খালা তোমার আচার থেকে আমাকে একটু মিষ্টি জলপাই আচার দাও । মিলি তো অবাক । কারন জলপাইয়ের আচার এবার সব চাইতে ভাল হয়েছে । এটা সে কাউকে দেয় নাই । মাঝে মাঝে গভীর রাতে একটু একটু খাঁয় । মিলি এবার বলল তুমি আমার আচারের কথা কি করে জানো । আর আমাকে তুমি খালা বলছ কেন ?
-- পাগল মনে হয় আজ প্রথম হাসল । মিলি খালা এই নামে তোমাকে খুব সুন্দর লাগে ।
-- মিলির মা বলল পাগলেও মানুষ চেনে ।
-- পাগল এবার বলল আমি যদি মানুষেই চিনতাম । তাহলে নিজেকে মানুষ বলে ভাবতাম । এই যে মিলি খালা । আমার দিকে একটু দেখেন । আপনি আমাকে চিনেন না । জানেন না। শুধু একবার শুনছেন , রাস্তার মোরে একটা লোক সকাল থেকে আকাশ দেখছে । আর ভাবতে লাগলেন আমি পাগল । ঠিক আছে আমি পাগল কিন্তু আমার জন্য এই আশপাশের কেউ খাবার নিয়ে এলো না। কিন্তু আপনি এলেন ।
--- হ্যা আসব না । আমার এলাকায় একটা মানুষ না খেয়ে থাকবে আর আমি তাকে দেখব না।
--- তাহালে মিলি খালা । এই এলাকায় আপনিই মানুষ আর সব নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত । ঐ যে পশু পাখির মত নিজের খাবার জন্য । দেখেন না পশুরা খাবার ঘুম আর জন্ম দেয়া ছারা কোন কাজ আছে । ঐ পশু গুলোই অন্য পশুর কোন কাজে আসে না।
-- মিলির মা বোকার মত পাগলের কথা গুলো শুনতে লাগলো ।।মিলির স্বামী পাগল কে বলল - তুমি
যদি মিলি কে খালা বল তাহালে আমি তোমার খালু । কি বল? পাগল বলল খালু না ডেকে মামা
ডাকি কি বলেন ?
-- হ্যা ডাক । মিলি একটু রাগ করে বলল - বাবা পাগল একটা কথা সত্য করে বলল তো । মিলির স্বামী বলল আরে পাগলের কথা শুনে কি লাভ ? পাগল বলল - মামা আপনি মিথ্যা বলছেন । আমি যে পাগল তা আপনি কি করে জানেন ? আমাকে কি চিনেন ?
-- আজিজ মিয়া বলল -না তোমাকে চিনি না। তবে তোমার কোন মতলব আছে ।
-- আমার না আপনার তা বের করা উচিৎ ।।
মিলির মা বলল -মিলি পাগলে খাবার শেষ হলে বিদায় দে । কোন কথা থেকে কোন কথা বলে । পড়ে লাগবে একটা ঝামেলা ।
--- মা ঝামেলা হলে আমার হবে কিন্তু পাগল মিথ্যা বলে না।
-- পাগল মিলি খালা কে বলল , খালা তোমার আচার গুলো ছাদ থেকে নিয়ে এসো । সন্ধ্যা হয়ে গেল যে ।
মিলি তো আচারের কথা ভুলেই গিয়েছিল । আচার মানেই তাঁর সব কিছু ।
-- তাই তো । মা তুমি ওকে চা দাও । আমি আচার আনি । রাতে ও আমাদের সাথে খাবে । মিলি
স্বামী পকেট থেকে ৫০০ টাকা দিয়ে বলল - পাগল মামু এই নাও টাকা । বিদায় হও । এটা পাবনা
না ।
-- পাগল বলল আমি কি পুলিশ নাকি ? ঐ রাতের মতো টাকা দিয়ে কিনে নিবেন । দেখুন ঐ মহিলার ঠিকানা আমি শুনেছি ।।
মিলি তো তাদের কথা শুনে আচার আনা এবার ভুলে গেল । আজিজ মিয়া কি পাগলের মত ক্তহা বলছ । এই বাসা থেকে বের হও । মিলি বলল - আমার বাসা কে থাকবে কে বের হবে এটা বলার মালিক আমি ।
--- তাহালে স্বামী হিসাবে আমার কোন দাম নাই ।
--- থাকবে কি ভাবে । একজন পাগলের সাথে কি ভাবে কথা বলতে হয় । তুমি ভুলে গেছ । মিলির
মা বলল - আমি আগেই বলেছি একটা সমস্যা হবে । মিলি বলল আমি আগে পাগলের কথা শুনব ।
উ সত্য বলছে । আর সত্য শুনতে মানুষ ভয় পায় । পাগল বলল খালা এটাই সত্য । আমরা সত্য
শুনতে ভয় পাই । মিলির স্বামী বলল তুমি পাগল নিয়েই থাক আমি যাই । পাগল বিদায় করে আমাকে ফোন কর । দেখি কে থাকে বলে হন হন করে চলে গেল বাসা থেকে বের হয়ে । মিলির মা বলল - তোরা ঝগড়া না করে আর পারলি না । পাগল বলল মিলি খালা চল তোমার আচার নিয়ে আসি । আর তোমার জন্য একটা খুশির সংবাদ আছে । যা তোমার জিবনের সব আশা পুন্য হয়ে যাবে । মিলি কে নিয়ে পাগল আচার আনতে ছাদে যায় । মিলি বলে আরে পাগল তোমার খালু একটু পরেই আসবে কিন্তু তাকে পুলিশ ধরেছে কেন । খালা কাল কে বলি ।
--- হা তাই বল কিন্তু তুমি এই ছাদের ঘরে থাকবে ,। আমি হিমু খালা কে বলছি তোমার জন্য এই চিলেকোঠা । এখন আকাশ দেখ তুমি আমি তোমার জন্য কিছু খাবার আর কাপড় পাঠাই । মিলি তাঁর প্রিয় আচার গুলো নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নেমে যায় । পাগল মানুষটা ছাদের এক কোনে যেয়ে আকাশের দিকে অপলক চোখে চেয়ে হাত দুটি দু পাশে মেলে দেয় ।
চলমান ------------------------
Monday, January 11, 2016
আমি আছি
---- সেলিনা জাহান প্রিয়া-----
তোমার হাতে আমার ধূসর,
বিবর্ণ শব্দগুলোর পুষ্প হ’য়ে ফুটে
আমি রচিতে চাই সহস্র কবিতা কাব্য,
মজে তোমার প্রেমে আমি মৃত্যু চাই ।
আমার অস্তিত্বের সাথে মিশে আছো
নীলরঙা আকাশের মতো শাড়ি হয়ে
হাওয়ার তালে উড়ন্ত আঁচলে তুমি
বুনো ফুলের গন্ধের নেশার মতো ।
অশান্ত মনে যদি আবার খোঁজ আমায়
আমাকে দেবার জন্য কোন ফুল চাই না
তোমারই ভালোবাসাটা রেখ অন্তরে
আমারই জন্য তোলে দিও এই অন্তরে।
যদি আমার হৃদয়ের কঠোরতা জানতে চাও
এসো তুমি পাথরের কাছে এই জাফলং এ
জানবে তখন আমার হৃদয় নির্মম কতটা
পাথর বেয়ে বয়ে যায় শীতল জল হয়ে ।
তাই তো এত অপেক্ষা চাঁদনি রাত
একটুও মেঘ নেই আকাশের সীমানায়
নেই কোনো কুয়াশা, যদিও রাতটি শীতের!
এখনো বাকি আছে অনেক কিছু পাওয়ার।
এত ভালোবাসা কি ভাবে কুরিয়ার করি
নিঝুম দ্বীপের সবুজের ঠিকানায় বল ?
কি ভাবে হলুদ খামে ভরি বসন্তের সঞ্চিত মন
অবাঞ্চিত সময়ের সবটুকু দায়ভার পিছু ডাকে ।
তুমি কারে খোঁজো প্রতিদিন ধূসর বিবর্ণ শব্দে
এই আ
নীলরঙা আকাশের মতো শাড়ি হয়ে
হাওয়ার তালে উড়ন্ত আঁচলে তুমি
বুনো ফুলের গন্ধের নেশার মতো ।
অশান্ত মনে যদি আবার খোঁজ আমায়
আমাকে দেবার জন্য কোন ফুল চাই না
তোমারই ভালোবাসাটা রেখ অন্তরে
আমারই জন্য তোলে দিও এই অন্তরে।
যদি আমার হৃদয়ের কঠোরতা জানতে চাও
এসো তুমি পাথরের কাছে এই জাফলং এ
জানবে তখন আমার হৃদয় নির্মম কতটা
পাথর বেয়ে বয়ে যায় শীতল জল হয়ে ।
তাই তো এত অপেক্ষা চাঁদনি রাত
একটুও মেঘ নেই আকাশের সীমানায়
নেই কোনো কুয়াশা, যদিও রাতটি শীতের!
এখনো বাকি আছে অনেক কিছু পাওয়ার।
এত ভালোবাসা কি ভাবে কুরিয়ার করি
নিঝুম দ্বীপের সবুজের ঠিকানায় বল ?
কি ভাবে হলুদ খামে ভরি বসন্তের সঞ্চিত মন
অবাঞ্চিত সময়ের সবটুকু দায়ভার পিছু ডাকে ।
তুমি কারে খোঁজো প্রতিদিন ধূসর বিবর্ণ শব্দে
এই আ
মাকে ? সামনে খোঁজো !পেছনে তাকাও
কেন ডানে বাঁয়ে ফিরে ফিরে চাও বার বার
আমিতো আছি তোমার কাছে তোমার মনের মাঝে।
কেন ডানে বাঁয়ে ফিরে ফিরে চাও বার বার
আমিতো আছি তোমার কাছে তোমার মনের মাঝে।
Saturday, January 9, 2016
রহস্য গল্প -- মাঝ রাতের ল্যান্ড ফোন
--------------- সেলিনা জাহান প্রিয়া ------
একদিন রাত দুই টায় ল্যান্ড ফোনটা বেজে উঠলো, এত রাতে কে ফোন করল । আজ কাল
তো তেমন কেউ ল্যান্ড ফোনে ফোন করে না । আমার মোবাইল কি তাহালে বন্ধ । না
মোবাইল ফোন তো চালু । আবার ও ফোন বেজে উঠল । ফোনের কাছে গিয়ে এক গ্লাস পানি
খেয়ে নিলাম । নিশ্চয় কোন দুরসংব্দ হবে । আমাদের সাবাই তো বাসায় । বাচ্চারা
অন্য রুমে । তাহালে কে ফোন করল । না এখন ফোন রিসিভ করব না। ফোন আবার বেজে
উঠল । ঘড়িতে রাত দুই টা পাঁচ মিনিট । যাই হোক ফোন টা ধরি । খুব আস্তে ফোন
টা ধরলাম ।।হ্যালো কে বলছেন ?
ওপার থেকে অসম্ভব মিষ্টি একটা কণ্ঠ ভেসে এলো যেন স্বর্গের কথা বলছে । খুব সুন্দর করে বলল-
রাতের গভীরে কেউ কেউ জেগে থাকে তারা মানুষ না তারা ঐ দূর আকাশের নক্ষত্র ।
খুব হতচকিয়ে গেলাম আবার পুলকিত ও হলাম ভয়ানক ভাবে । কি মিষ্টি করে কথা বলে । বলল সুপ্রিয়া তোমার হাতের কাঁচা মেহিদির গন্ধ টা অনেক মিষ্টি । আজই বুঝি পড়েছ । আমি অবাক বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো এমন অচেনা কল কিন্তু সত্যি ই তো আজ সন্ধ্যা হাতে বাঁটা মেহেদী পড়েছি। কার না ভাল লাগে এমন সুন্দর করে কথা বললে । আমি আবার বললাম কে কাকে চান । খুব স্পষ্ট করে আমাকে এ চাইলো যেন কত কালের চেনা জানা ।তার পরিচয় জিজ্ঞেস করলাম,বিস্তারিত কিছু বললো না । বলল তুমি অনেক শান্ত বুদ্ধিমতি মেয়ে আমি জানি ।
--- আচ্ছা তাই ! একটু হেসে বললাম ।
--- যাই হোক এত বছর পড়ে হাসতে শিখেছো । এটাই কম কিসের ।
--- আশ্চর্য হলাম আমি ।আশ্চর্য হবার শুরু সেদিন থেকেই ।
প্রত্যেক রাতে ঠিক দুইটায় কলটা আসতো । মন্ত্রমুগ্ধের মতো নেশাগ্রস্তের মতো কথা বলতাম ভোর রাত পর্যন্ত ।হয়তো একেই বলে মায়া , মরুময় জীবনের কিছু কথা তাঁর সাথে মিশতে থাকে ।
দিন দিন অবস্থা আরো ভয়াবহ হলো, প্রতিদিন ওর কলের জন্য অপেক্ষা করতাম ।
ওর কল না আসা পর্যন্ত হাসপাশ করতে থাকতাম, এভাবে চলল এক সপ্তাহ ।
কখনো ওর ফোন নাম্বার জানতে চাইনি, ঠিকানা তো অনেক পরের ব্যাপার ।
দিন যেন যাচ্ছে ঝড়ের গতিতে, একি চরম এক মনমুগ্ধতা ! কিন্তু আশ্চর্য আমি জানতে চাইনা ও কে
ঘোরের মধ্যে কাটছে সময় । রাত দুটা ফোন বেজে উঠল । আমি ফোনটা হাতে নিতেই বলল সুপ্রিয়া এত রাতে তুমি কপালে টিপ পড়েছ কেন । আজ তো চাঁদ মেঘের কুলে ঘুমিয়ে । আমি জানালা দিয়ে দেখি সারা আকাশ মেঘে ভড়ে গেছে । আমি বলল লাম তুমি কি নক্ষত্রের মাঝে বসে বসে তাই দেখছ ।
--- না আমি তোমাকে দেখছি ।
--- এত দেখলে তো প্রেমে পড়ে যাবে ।
--- না তোমার প্রেমে পড়া যাবে না।
--- কেন আমার প্রেমে পড়া যাবে না।
--- এই যে তুমি এত সুন্দর । তোমার চোখ । নাক। চুল । আর তোমার কথা । এই গুলোর মাঝে
আমি প্রেমে পড়তে চাই না। কারন তোমার প্রেমে পড়লে তোমার চুলে হাত ভুলাতে মনে চাইবে । আর
তোমার চুলে হাত দিলে তুমি সব চেয়ে বেশী অপছন্দ কর ।।
--- আজ আবার বললাম কে তুমি ।
--- আমি তো আমিই । যে তোমার কবিতায় নাই । গল্পে নাই । আমি সেই ।
--- আজ পরিচয় না দিলে কিন্তু ফোন রাখব ।
--- আমি জানি সুপ্রিয়া ফোন তুমি রাখবে । কিন্তু তোমার কলেজের ব্যাগটা কি এখনো আছে । কলেজে তোমার ব্যাগটা ছিল অন্য রকম । রাঙ্গাটির উপজাতিদের ব্যাগ ।
--- আরে পাগল সে অনেক দিনে আগের কথা । তোমার কি মানে আছে তা । আমাকে সবাই চাকমা
বলত । আর আমি দুষ্টমি করে বলতাম আমার নাম সুপ্রিয়া দেওয়ান চাকমা ।
--- হ্যা মনে আছে । আর সুপ্রিয়া চাকমা নামের একটা মেয়ে ছিল । সে খুব রাগ করত ।
--- হ্যা তাহালে তুমি আমার কলেজের কোন বন্ধু
--- সুপ্রিয়া তুমি অনেক বুদ্ধিমতী মেয়ে ।
--- না আমি যদি বুদ্ধিমতী হই । তাহালে তো তোমাকে খুঁজে বের করতাম । একদিন এসো কথা বলি চা খাই ।
কতদিন যে ওর সাথে দেখা করতে চেয়েছি, ও এড়িয়ে গেছে, বলেছে পরে, সময় হলে ।
আমি ও অপেক্ষা করছি,শুধু এক সুন্দর রহস্য মানুষটা কে দেখার জন্য ।আর মনে মনে বুনে চলেছি স্বপ্নের এক কারুকাজের প্রেমের গল্প । এভাবে সপ্নের ঘোরে আরো তিন দিন কেটে গেল । পেরিয়ে গেলো চোখের পলকে ।কল্পনা করতাম কত শত কিছু, হয়তো ও ওর কণ্ঠ আমার খুব চেনা । কিন্তু কেন জানি সেই চেনা অচেনা হয়ে গেল । অনেক সময় অনেক কিছু সময়ের রহস্যে হারিয়ে যায় ।
এখন রাত দুটা আমি জানি ফোন আসবেই । ঠিক ফোন আসলো । আমি আজ ওর রহস্য বের করব । আমি জানতে চাই ও কে । কেন আমাকে রোজ একেই সময় ফোন করে । আমাদের বাসার ল্যান্ড ফোনটা অনেক পুরানো নাম্বার । আজ কাল সবাই মোবাইল এ কল করে । কিন্তু ও আমার মোবাইল
নাম্বার টা চায় না । আমি ওর নাম নেয়া মাত্র ফোন বাজতে লাগলো । আমি হাসি দিয়ে ফোনটা তুললাম ।
--- হ্যালো
--- এত হাসছো কেন । তোমার হাসি থেকে এলাচির সু- গন্ধ আসচ্ছে ।
--- এই তুমি ভুত নাকি ।
--- ভুত । তুমি যা খুব ভয় পাও । আমি কি তোমাকে আজ আবার ভুত সেজে ভয় দেখাব ।
--- তাহালে এলাচির গন্ধ কি ভাবে পেলে । আমি কিন্তু সত্যি এখন এলাচি খাচ্ছি ।
--- এটা তোমার অনেক দিনের অভ্যাস । কলেজের রাস্তার মোরে পানের দোকানে এলাচি তোমার
খুব প্রিয় ।
--- হ্যা আমার না । সব মেয়েদের ঐ দোকানের পান খুব প্রিয় ছিল ।
--- তোমার খেতে ইচ্ছা হয় ।
--- হলে কি হবে , তুমি তো আর আনবে না।
--- হ্যা পান এনে আবার তোমার হাতের চুল টান খাই ।
--- কে তুমি । আমি ভুত ।
--- যাও দুষ্টমি কর না। আমি কলেজে কাকে চুল টান দিয়েছি , দাড়াও মনে করি ।। এখন তোমাকে
চিনতে আর ভুল হবে না।
--- ঠিক আছে খুঁজে বের কর । কাল ফোন দেব ।।
দিনটা স্পষ্ট ভাবে মনে আছে ১ লা জুন । আমি ভাবতে লাগলাম পান আনার জন্য কাকে চুল টান দিয়েছিলাম । এত দিন আগের কথা । ঠিক মনে পড়ছে না। ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে গেলাম ।।
সেদিন রাতে কোন ফোন কল এলো না ।সারা রাত ছটফট করলাম ঘুম এলো না ।
এভাবে ছটফট করতে করতে সকালে কখন যে ঘুমিয়ে গেলাম মনে ই নেই ।
আজ ৮ দিন হয়ে গেছে একবারো ও ফোন করেনি ।আমার মাথা ঠিক মতো কাজ করছে না ।
কিছুই মনে নাই, কাকে আমি চুল টান দিয়ে ছিলাম । কখন যে কি করি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গেলাম ।অনেক চেষ্টা করলাম,ওর কোন হদিস ই বের করতে পারলাম না ।আজ ১০ দিন হয়ে গেছে একবারো ও ফোন করেনি । আমি তো তাঁর নাম্বার ও জানি না। তাহালে কে ও ।
আমি আমার সেই সময়ের বন্ধুদের খুঁজে খুঁজে ফোন করলাম । সবাই আমার কথায় বলল কোন সাইকোলজিস্টা দেখাতে । কিন্তু আমার রহস্য বের করতে হবে। হা মনে পড়েছে । আমি কলেজে পড়ার সময় ডাইরি লিখতাম । কিন্ত্য ডায়রি তো সব আমাদের বাড়িতে । আচ্ছা মাকে ফোন দেই । রাত তিনটা নাজিরা বাজার ফোন করলাম । কিন্তু সবার ফোন বাজে কেউ ফোন ধরে না।
আসলে এত রাতে সবাই ঘুম । আমার স্বামী ঘুম থেকে উঠে কি হল সুপ্রিয়া ঘুমাবে না । রাত সাড়ে তিনটা বাজে । আজ কাল কি হল তোমার বল তো ।
--- না কিছু না।
--- কিছু না মানে ঠিক আছে কিন্তু তুমি জেগে আছ কেন । গত কয় দিন হল তুমি জেগে থাক ।
শরীর খারাপ করবে ।।
--- আমাকে একটু সাহায্য করতে পারবে ।
--- হা পারব । যদি কফি বানিয়ে দাও ।
--- তোমার কোন কাজটা আমি করি না বলতে পারবে ।
--- একটা কাজ সুপ্রিয়া তুমি কর না।
--- শুনি কোন কাজ করি না।
--- এই মশারী টানানোর কাজটা ।
--- হ্যা । এটা কিন্তু আমার দোষ না। এটা তোমার মায়ের দোষ ।
--- হ্যা তোমার শাশুড়ি আসলেও একজন পাজি মহিলা ।
--- যাও মাকে এভাবে বলে না। আমি কয়দিন যাবত রোজ রাতে একজনের সাথে কথা বলি ফোনে ।
--- কিন্তু দশ দিন হল সে আর ফোন করছে না।
--- কেন ওর প্রেমে পরেছিলে নাকি ।
--- যাও তো । তুমি না সব সময় । সব বিষয় নিয়ে ফান কর । এটা কিন্তু ঠিক না। কোন কিছু
সিরিয়াস ভাবে নাও না।
--- দুই দিনের দুনিয়া আজ মরলে কাল সুন্দরি তুমি অন্য কারো ।
--- আর আমি মরলে তো তুমি পাগল হবে। আর বলবে পাগলে কি না করে ?
--- হ্যাঁ তা ঠিক । সব পাগলেরা বিয়ে করে । শুধু হুমায়ুন স্যারের পাগল হিমু বিয়ে করতে পারে নাই
কারন হিমুর পছন্দের পাত্রি কে স্যারেই বিয়ে করে ফেলেছে ।
--- তাহালে তুমিও কি ঐ বয়সে একটা করবে নাকি ?
--- দেখ এখন রাত চারটা বাজে । বর্ষার কালের রাত খুব মিষ্টি । কিন্তু আমি স্যারের মত হতে
পারব না । বউ রেখে আবার বিয়ে । তুমি মারা গেলে না হয় চিন্তা করব ।। এই যে তোমার
মোবাইল বাজছে । এত রাতে কিন্তু ভুতে ফোন করে ।
--- ভুতে না । আমার মা । হ্যালো মা । শুনতে পাচ্ছ ।
--- হ্যাঁ রে কেন ফোন করছিস । আবার কি জামাই সাথে ঝগড়া করছিস ।
--- মা আমি কি তোমার জামাইয়ের সাথে খালি ঝগড়া করি ।।
--- তাহালে এত রাতে ফোন দিলি কে ?
--- মা আমার কলেজ জিবনের ডাইরি লাগবে । বইয়ের তাকে আছে না।
--- আছেই তো । কোথায় যাবে । তা ডাইরি দিয়ে কি হবে ।
--- কলেজে পড়ার সময় একটা ছেলে আমাকে পান দেয়েছিল । আমি নাকি ওকে চুল ধরে অনেক
জোরে টান দিয়ে ছিলাম ।
--- সুপ্রিয়া মা গো বয়স হয়েছে । সংসারে মন দাও ।
--- আরে আমি বলছি কাল ডাইরি পাঠিয়ে দিও । তুমি না বেশী কথা বল । আমি সংসার করছি না তো কি করছি ।। আমার স্বামী হেসে শেষ । কি হাসছ কেন ?
--- আমার শাশুড়ি যে তোমাকে এত অপছন্দ করে তাই ।
--- তোমার শাশুড়ি আআকে অপছন্দ করে ঠিক আছে কিন্তু আমার শাশুড়ি তো বলে পেটে নাকি
কাল সাপ রেখেছিল ।
--- তোমার শাশুড়ি তো তাই এমন হয়েছে সুপ্রিয়া ।
--- আর তোমার শাশুড়ি একটা বদের হাড্ডি ।। একটা বললে আর একটা শুনে । এই নাও কফি ।
--- ইস আমার শাশুড়ি সিখিয়েছিল বানান তাই পেলাম সুপ্রিয়া এমন কফি ।
--- শুন আমার শাশুড়ি কে দেখে সিখেছি কি করে স্বামী কে শিক্ষা দিতে হয় ।।
হাতের কফি শেষ করে । দু জনেই ঘুমিয়ে গেল । বর্ষার আকাশ জুন মাস বলে কথা বৃষ্টি আর বৃষ্টি
ঘুম থেকে ওঠে দেখে বেলা এগারটা । সুপ্রিয়ার বাসার কাজের ছেলে বাতেন একটা ব্যাগে করে অনেক কয়টা ডাইরি নিয়ে এসেছে । কলেজে পড়েছে দু বছর কিন্তু ডাইরি লিখেছে এই দু বছরে অনেক । ডাইরি বললে ভুল হবে । আসলে নোট বলা চলে । এমন কোন কথা নেই ।। যা তাতে লিখা নেই । প্রতিদিনের ঘটনা । কাজের ছেলে কে বিদায় করে । সে ডাইরি নিয়ে বসল । পুরান দিনের
কত কথা । সব বন্ধু বান্ধবি , মামা চাচা , ভাই বোন । কত তুচ্ছ জিনিস ও সে লিখেছে । এক এক করে পড়ে যাচ্ছে । সারা দিন আর কোন কাজ নেই । গোসল পর্যন্ত করে নাই। কিন্তু পাচ্ছে না । সুপ্রিয়ার স্বামী এসে বলল - দাও আমি সাহায্য করি ।
--- না তুমি ধরবে না। মেয়েদের ডাইরি পড়তে হয় না। তুমি যেয়ে বাঁশি বাজাও ।
--- আচ্ছা । তোমাকে কফি বানিয়ে দেই ।
--- না লাগবে না । আমার শাশুড়ি কষ্ট পাবে । দু জনেই হেসে দিল । কারন দু জনেই দু জনের মাকে
খুব আদর যত্ন করে । যেন আপন সন্তানের মতো ।
সু প্রিয়া পেয়ে গেল । সে কার চুল ধরে টেনে ছিল । স্বামী কে ডেকে বলল ও গো শুনছ । পেয়ে গেছি । আমি পেয়ে গেছি । নারিন্দার সজল ।
--- ভাল করে দেখ । মেয়ে মানুষ তো কত জনের চুল ধরেছ । তা একা সজল বিপদে পরবে কেন ।।
--- তুমি না আর ভাল হবে না । সব কিছু নিয়ে ফান কর ।
--- আরে ভাল করে দেখ । ভুল তো হতে পারে । সজল কে তো আমি চিনি ও লন্ডনে থাকে । তোমার । তোমার কলেজের বন্ধু । আমার সাথে তো তোমাকে দিয়েই পরিচয় । দাড়াও আমি ওর
নাম্বার দিচ্ছি । বলে মোবাইল থেকে লন্ডনের নাম্বার বের করে দিল । সুপ্রিয়া ফোন করল কথা বলে বুঝে গেল না । এটা সজল না। এটা অন্য সজল ।। অল্প কথা বলে আবার ফোন কেটে দিল ।
সুপ্রিয়া আবার ডাইরি পড়তে শুরু করল । পড়তে পড়তে কখন যে সকাল হয়ে গেছে মনে নাই ।
জুন মাসের একটা ডাইরি ঠিক শেষের পাতায় । পেয়ে গেল । একটা হিন্দু ছেলে নাম জয়ন্ত তাঁর জুনিয়ার ছিল । কিন্তু তাঁর সাথে খুব মিশতো । একদিন ভুল দোকান থেকে পান এনেছিল বলে ওকে চুল টেনেছিল। হ্যা জয়ন্ত । খুব মিষ্টি করে কথা বলত । আমার ব্যাগটা ওর খুব পছন্দ ছিল ।
ওর বাসা লক্ষ্মী বাজার । সুপ্রিয়া শাড়ি টা বদল করে । একটা রিক্সা নীল । ডাইরিতে ওর ঠিকানা আছে । ছেলেটা হতাৎ একদিন কলেজে আসা বন্ধ হয় । সুপ্রিয়া আর খবর নিতে পারে নাই । কারন সামনে তার পরীক্ষা । আসলেই আর খবর নেয়া হই নাই । মেয়েরা চাইলে এক সময় সবার খবর
নিতে পারে না । কে কি বলে । অবস্য এখন আর কোন সমস্যা না। সেই কবে ৯২ সালের ঘটনা । এখন ২০১৫ সাল প্রায় দু যোগ । লক্ষ্মী বাজার এসেই একজন কে বলল -
--- ভাই নিপেন দের বাসা কোন টা ।
--- কোন নিপেন । কত নাম্বার ।
-- ২৭/২ জয় গিতা হাউজ ।
--- নিপেন মারা গেছে ১৫ বছর । নিপেনের মেয়ে আর জামাই থাকে ।ঐ সামনের গলি শেষের
আগের পুরান ছোট বাড়িটা ।
খুব সুরু গলি । হিন্দু বাড়ী । সুপ্রিয়া প্রবেশ করে গেইটে নক করতেই একজন মহিলা বের হয়ে
এলো । কে কাকে চাই ।
---- জী এটা কি নিপেন সাহেবের বাড়ী ।
--- হ্যা । বাবা তো অনেক দিন হল মারা গেছেন । কে আপনি ।
--- আমাকে চিনবেন না। আমার নাম সুপ্রিয়া ।
--- আমি জয়ন্তের কাছে এসেছি ।
ঘরের ভিতর থেকে একজন বৃদ্ধা মহিলা বলল মা ভিতরে এসো । বাসার ঘরে বসতে দিল । বৃদ্ধা মহিলা বলল মা আমি জয়ন্তের মা । কি নাম তোমার মা
--- সুপ্রিয়া
--- হ্যাঁ জয়ন্তের মুখে খুব শুনেছি । কলেজ থেকে এসেই বলত সুপ্রিয়া দিদি । খুব নাম নিত
তোমার ।
--- ও কোথায় মাসি মা ।
--- সে কি মা তুমি যান না । মাসি মায়ের চোখে পানি ।
--- মাসি মা । কাদবেন না । গত কয় দিন আগে আমাকে ফোন করত । আর রহস্য করত ।
--- কাদতে কাদতে জয়ন্তের মা বলল - কি বল মা ও কিভাবে ফোন করবে । ও তো মারা গেছে
আজ ২৩ বছর হল । জয়ন্তের মায়ের কথা শুনে সুপ্রিয়ার অবাক হয়ে বলছে কি বলেন মাসি মা !
--- হ্যা মা সত্যি । তবে মনে হয় না । ও মারা গেছে । খুব বৃষ্টি তে ভিজে কলেজ থেকে এসে একটা
ছাতা নিয়ে গেছে ।
--- হ্যাঁ মাসি মা । আমার জন্য । ফেরার পথে বৃষ্টি মধ্য একটা জিপ গাড়ি ওকে ধক্কা দেয় । ঐ খানেই মারা যায় জয়ন্ত ।।
সুপ্রিয়ার চোখ দিয়ে টলমল করে পানি পড়তে থাকে । ঐ দিন খুব বৃষ্টি ছিল । রিক্সা নাই । জয়ন্ত বলল সুপ্রিয়া দিদি একটু দাড়াও । আমার বাসা কাছে । আমি ছাতা এনে দেই । সে দিন ঐ ছাতা দিয়ে গিয়েছিল । ছাতাটাও আর নিতে আসে নাই । চোখের পানি মুছতে মুছতে সে সুরু গলি পেরিয়ে
মেইন রাস্তায় চলে এসেছে । খুব বেশী বৃষ্টি হচ্ছে । রিক্সার হুড ফেলে চোখের পানি আর বৃষ্টির পানি
এক সাথে মিশে যাচ্ছে বুড়ি গঙ্গার দিকে.............................................
অপেক্ষার শীতল প্রেম
---------- সেলিনা জাহান প্রিয়া---
দিন কেটে যায় মেঘের ভেলায়
রাত যে কাটে চাঁদের জোছনায়
গোধুলীবেলায় দমকা হাওয়ার
এলোমেলো কেশে
মুগ্ধ নয়নে তুমি শুধু দেখতে আমায়
তোমায় ছাড়া বিষন্ন মন
সারাক্ষনই কাঁদে ।
তোমার পাশে বসে তোমার সাথে
হাতে রেখে হাত আপন মনে
আঁকাশের ওই তারার সাথে
কাটিয়েছি কত রাত ।
অগভীর রাতে কিছু চিরচেনা স্বপ্নেরা
তবুও ভুল করে ডাকবোনা তোমায়
আমার দেওয়া পুরানো নামটি ধরে
এখনও সেই পুরানো জায়গায় রোজ বিকেলে বসি
সময় পেলে একদিন এসো
গল্প করা যাবে,বসে পাশাপাশি ৷
আজ আমার চোখে আসেনা ঘুম
দুচোখে অস্রু শুধু ঝরে
চোখ দুটি আজ বুজলে পরেই
তোমায় মনে পড়ে ।
যতোই তুষার ঝরে পড়ুক
ঢেকে যাক সব কিছু শুভ্রতায়,
শিউলি শুকিয়ে পড়ে থাক ধূলিতে,
শিশির বিন্দুগুলো গলে মিশে যাক মাটিতে,
তবু, তোমাকে আমি খুজি ফিরি তাদের মাঝে
শুধু পেতে স্বগীর্য় ভাবি আমি একলা বসে
বসন্তের আগুন রাঙা ফুলের মঞ্জরীতে
চাতকের মত তুমি শুধু খুজতে আমায়।
শিরায় শিরায় ধাবমান এক শীতল ফল্গুধারা
নিয়ে যেত স্বর্গরাজ্যে।
খালি পায়ে শিশির ছুঁয়ে তোমায় খুজি,
শিহরন বয়ে যায় আমার স্বত্তায়,
শিশিরের বিন্দু কণায় তোমাকে দেখতে চাই
সারাদিন গাছের ছায়ায় উদাসী দুপুর কেটেছে
যা শুনে ভেবেছি এসেছো
সে শুধু পাতারই আওয়াজ
যদি আমার হাতে রাখ হাত,
খালিপায়ে হেঁটে যাব
কাঁশফুলের পাশ ঘেঁষে
দিগন্ত ছোঁয়া নদীর তীর ধরে
বহুদূর; বহু ক্রোশ পথ।
সোনালি সূর্যের রোদেলা আলোয়
আমার পায়ে মাখা বালুকণা
হবে রূপালি নূপুর।
আসবে তুমি ফিরে
তোমায় খুজে পাবোই আমি
কোটি মানুষের ভীরে ।
Subscribe to:
Comments (Atom)











